আমার প্রিয় পোস্ট
- আধুনিক সামু'ভাষারীতি ও চর্চা - এসো ভাষা শিখি - লিপিকার
- তারা আসলে লুল !! (ট্রাকভর্তি নারীবাদী ডায়লগে ভর্তি)


- আকাশ_পাগলা
- লুলদা আর আমি দুজনেই কিন্তু কবি - জইন
- পাকমন পেয়ার - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- লুঙ্গি কাহনিী - অরূপ রাহী
- কামার্ত (লুলায়িত) চোখে, উৎসর্গ- লুলদের'কে - ব্যতিক্রমী
- Wish you were here-'RICK' (1943-2008) - ফয়সালরকস
- গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ প্রসঙ্গে।। - মাশা
- সীড ব্যারেটঃ শাইন অন! - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- ইবনে সিনা: একজন কাফের? - উম্মু আবদুল্লাহ
- যারা আইবিএ-তে ভর্তি পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য উপদেশনামা!! - নরাধম
- স্মৃতির পাতা জুড়ে প্রিয় চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত - সীমান্ত আহমেদ
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রেম--- যবনিকা - কৃষক
- ১৪ তারিখ খরগোশটার জন্মদিন
- আউলা
- কোরআনের সংরক্ষণ।-১ - কুম্ভকর্ণ
- সমকামীতা বিষয়ক : পাপ বনাম লব্ধজ্ঞান - শূন্য আরণ্যক
- বেঞ্চমার্ক মুহাম্মদ (স):। লাইফ ইজ বিউটিফুল। ট্রাই করেই দেখুন না। প্লিজ! - পাললিক মন
- বেঁচে থাকো সর্দিকাশি - সৈয়দ মুজতবা আলী - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- আব্রাহাম লিঙ্কনের বিখ্যাত চিঠিটি - মনির হাসান
- বাবা নিয়ে সেরা ১০টি মুভি - সাইফ সামির
- ই-বুক কালেকশনঃ পর্ব-৬ [শুধুমাত্র ১৮+ দের জন্য] - বিডি আইডল
- ক্ষুদ্রঋণের বৃহৎ বাণিজ্য: আনু মুহাম্মদের লেখায় মহাজনের গুমর ফাঁস - ফারুক ওয়াসিফ
- বাংলাদেশী মুদ্রার সচিত্র ইতিহাস - তুষারপাত
- চাটগাঁইয়া বুলি - আরেকটি স্বতন্ত্র ভাষা - আকাশ অম্বর
- নবীনদের জন্য - নাদান
- গ্যাব্রিয়েল'স আরজে থেরাম। - গাব্রিয়েল সুমন
- ইসলামের আধুনিকীকরণ - দুরের পাখি
- মুসলিম কি করিয়া ধর্মনিরপেক্ষ হয়? এমনকি অন্যরা? - পাললিক মন
- মায়ের জন্য গান ।। - শ।মসীর
- ডাডাবাদ থেকে সুররিয়ালিজম: অবিস্মরণীয় সেই শৈল্পিক উত্তোরণ - ইমন জুবায়ের
- আর তো পারি না - তনুজা
- আবোল-তাবোল-৪ (পোশাক হিসেবে লুঙ্গীর ব্যবচ্ছেদঃ নারী ব্লগারদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত!) - তায়েফ আহমাদ
- (ফান পুসট) নতুন ভাষা -- যুক্তাংলা - ডিমওয়ালা
- চাচামিঞার জাবর কাটা!! - চাচামিঞা
- ভি-স্যাট এর অপর প্রান্ত.. আর্থ ষ্টেশন (যারা সবসময় যন্ত্রপাতি খুলে দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য..) - রাব্বি !
- দেশটার পশ্চাৎদেশে বেশ কটি বাঁশ দিয়ে মা মরা, বাপ হারা ছিন্নমূল বিলুপ্তপ্রায় বাম - পাললিক মন
- ফটোগ্রাফির চমচম থুক্কু পঞ্চম পাঠ - ফয়সাল আকরাম
- ফটোগ্রাফির তিরতীয় পাঠ - ফয়সাল আকরাম
- ফটোগ্রাফির দ্বিতীয় পাঠ - ফয়সাল আকরাম
- আমার দশটি পুরানো (৩৬+) কৌতুক - আখসানুল
- স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কর্পোরেট ফাজলামি : শেষ কোথায়? - ফারহান দাউদ
- জনের নির্মম প্রতিশোধ!
- হাসান মাহবুব
- জনের বায়োগ্রাফি ১৮+
- হাসান মাহবুব
- টিউটোরিয়াল - কেমনে হইবেন পেশাদার ব্লগীয় লুল
- নাফিস ইফতেখার
- সুন্দরীদের জীবনচক্র- পর্ব ১ (সম্পূর্ণ আজাইড়া পোস্ট)

- জানজাবিদ
- কে কেন কিভাবে বেনজির ভুট্টোকে খুন করলো? - মাহবুব মোর্শেদ
- শিয়া মাযহাবের উত্পত্তি - মীর আশরাফ-উল-আলাম আশরাফী
- ইসলাম নিয়ে যত তর্ক - বিজন ব্যাথা
- কুরআনের অত্যাশ্চর্য প্রভাব ও প্রাথমিক কুরআনিক প্রজন্ম - শেষ পর্ব - আবূসামীহা
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- ফতোয়া ১৯ - প্রসঙ্গ - তালাক সংক্রান্ত হাদীস - বইপাগল
- কথা দিলাম .... (উত্সর্গ রাহেলাদের) - মনের কথা
- আমি সর্বদা একদিকে কাত হয়ে হেলে থাকি
- সামী মিয়াদাদ
- গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা - রাগিব
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
- ঝামেলামানুষ-২; ভ্যলেরি টেইলর, আপনাকে - জানালা
- সফট্ওয়্যার ইঞ্জিনীয়ার - রোহণ কুদ্দুস
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আত্বসম্মানবোধ!!! - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ: একটি ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থনা! - দেবদারু
- আযানঃ অকল্পনীয় কিন্তু সত্য - আশফাকুর রহমান
- ইসলাম এবং গনতন্ত্র - মাহমুদ রহমান
আগামী ১০০ বছরে ভাষা হিসেবে বাংলা কি টিকে থাকবে, নাকি তার জৌলুস হারাবে?
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এ নিয়ে দু'বার হিন্দী ভাষা এবং এর ব্যবহার নিয়ে ফেইসবুকে আমার সাথে কয়েকজনের তর্ক হল। বিষয়টিকে পরিস্কার করার দরকার বিধায় আমি পোস্ট দিবার ব্যাপারে মনস্থির করলাম।
এর আগে কয়েকটি খন্ড চিত্র তুলে ধরি।
চিত্র-১:
ময়মনসিংহের ফুলপুর নামে একটি উপজেলা আছে। ব্রহ্মপুত্রের ওপারে একটি মফ্বসল এলাকা। সেখানে বাউলা/বওলা গ্রামের বাজারে একটি পুরোনো দ্বিতল ভবনে মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ফিজিবিলিটি সার্ভে করতে গতবছর গেছিলাম। ছাদে দেখি একটি টাটা স্কাইয়ের ডিশ এন্টেনা। গ্রাম্য এলাকায় কেউ ব্যক্তিগতভাবে এটা ব্যহার করে দেখে আশ্চর্য হয়েছিলাম। এরকম বিভিন্ন মফস্বলে এ ধরনের টাটা স্কাই বা ডিশ টিভির ব্যবহার দেখে কৌতুহলি হলাম আসলে এটা কি বা কারা ব্যবহার করে। জানতে পারলাম এটা দিয়ে ক্যাবল অপারেট করা হয়। অর্থাৎ যারা ক্যাবল টিভি অপারেশনের অনুমতি পায়নি একেবারে রুরাল এলাকায়, তারা এর মাধ্যমেই অবৈধভাবে ব্যবসা করতেছে।
টাটা স্কাই বা ডিশ টিভি বা এ রকম ছোট ডিশ এন্টেনা বা ভেরী স্মল এ্যাপারচার টারমিনাল দিয়ে সাধারণত কিউ/কে. ইউ. (Ku- band) ব্যান্ডে সিগনাল ট্রান্সমিট বা রিসিভ করা হয় যেটা দিয়ে প্রচলিত 'সি' (C-Band) এর যে সমস্ত চ্যানেল আছে, সেগুলো অপারেটররা আপলোড করে Ku- band এ ট্রান্সমিট করে থাকে। পরে গ্রাহকরা এই টাটা বা ডিশ টিভির ছোট এন্টেনা দিয়ে রিসিভ করে। এ পদ্ধতিতে আমাদের দেশে অবৈধ অর্থাৎ বিটিআরসি এ পদ্ধতিতে ক্যাবল টিভি এবং এর ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। আমাদের দেশীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো সি ব্যান্ডে অপারেট করে থাকে এবং শহরে কেবল অপারেটররা এই C-Band-ই রিসিভ করে হোম-সার্ভিস দিয়ে থাকে।
চিত্র-২:
আমার এক ভগ্নিপতির বন্ধু দুবাইয়ে একটি বড় রেডিমিক্স (কন্সট্রাকশান রিলেটেড ইন্ডাসট্রি) ফার্মের প্লান্ট ম্যানেজার বা এই টাইপের কিছু একটা। গত বছর তার সাথে দেখা হয়েছিল। দেশে এসেও বেচারা ফোন কান থেকে নামাতে পারে না অফিসিয়াল কলের জন্য। প্রতি ৫ মিনিট পর পর ফোন আসছে দুবাই বা সিঙ্গাপুর থেকে (মাদার কোম্পানি সিঙ্গাপুরের) এবং ভদ্রলোক অনবরত হিন্দীতেই কথা বলে যাচ্ছেন। প্রসঙ্গটা তুলতেই তিনি বললেন যে হিন্দী সেখানে "আনঅফিসিয়াল" সেকেন্ড লেঙ্গুয়েজ। আরবী সবাই পারে না, ইংরেজীতেও অনেকের সমস্যা হয়। কিন্তু হিন্দী টিভি চ্যানেল, মুভি এবং সিরিয়ালের কল্যাণে সবাই পারে বিধাই এটাতে কমিউনিকেট করতে হয়। দুবাইয়ের অন্যান্য অংশের কথা আমি জানি না তবে সেই কোম্পানির অবস্থা স্বচোক্ষে দেখে একটু অবাকই হলাম।
চিত্র ৩:
ব্রডকাস্ট ইন্জিনিয়ারিং এ সুইচ করার পর Ku- band নিয়ে আরও কিছু বাস্তবসম্মত জ্ঞান লাভ করলাম। বায়তুল মোকাররমের ইলেকট্রনিক্স দোকানে এই ব্যান্ডের এন্টিনা দেদারসে বিক্রি হয়। শহরের লোকজন পারসোনাল কাজে নিলেও মফস্বলের লোকজন নিয়ে যায় ব্যবসার জন্য। তারা অবৈধ কেবল অপারেটরের বিজনেস করে। মাঝে মাঝে পুলিশ রেইড দিলে ব্যবসায়ীরা এন্টিনা এবং রিসিভার সরিয়ে ফেলে। কিন্তু পরে আবার যথাস্থানে হাজির হয়।
এই Ku- band এর সুবিধা হচ্ছে একটি রিসিভার দিয়েই আপনি আপনার প্রয়োজন মত চ্যানেল দেখতে পাবেন। অনেকগুলো রিসিভার বা অনেকগুলো সেটেলাইটএর ফ্রিকুয়েন্সি ডাউনলোড করতে হয় না। তাছাড়া একেবারেই ছোট হওয়াতে নাড়াচাড়া বা টিউনিংএও সুবিধা। ছবির মানও বেশ ভাল। বিদ্যুৎও অনেক কম লাগে বিধায় ডিসি ভোল্টেও রিসিভার চলে।
Ku- band এর অপারেটরদের বিভিন্ন প্যাকেজ আছে, আপনি আপনার সুবিধামত প্যাকেজ (কতটা চ্যানেল, কিকি, রেট ইত্যাদি) বার্ষিক বা ষ্নমাসিক ভিত্তিতে কিন্তে পারবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এসব Ku- band এর অপারেটরদের লিস্টিতে কোন বাংলা চ্যানেল নেই। অর্থাৎ বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেলের কোন প্যাকেজ তারা অফার করে না।
তো এখন আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? গ্রামে গঞ্জে দেদারসে মানুষ স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখছে, কিন্তু এর মধ্যে কোন বাংলা চ্যানেল নেই।
এবার একটু হিন্দী চ্যানেলগুলো দেখুন। কি দেখায় সেগুলোতে। যাই দেখাক না কোন, বিঞ্জাপনগুলোর দিকে খেয়াল করুন। এসমস্ত পন্যের কয়টা বাংলাদেশের উপযোগি, যথাযথ ট্যাক্স দিয়ে কয়টা এদেশে আসে এবং এসমস্ত পণ্যের কয়টা আমাদের আসলেই দরকার। আমি অর্থনীতির ছাত্র না এবং এ বিষয়টা ভাল বুঝি না বিধায় গুছিয়ে বলতে পারবো না তবে যদ্দুর জানি সেটা হল এগ্রেসিভ মার্কেটিংএর মাধ্যমে আপনি কিন্তু একজন মানুষকে এমন পণ্য কিনাতে বাধ্য করতে পারেন যেটা তার আদৌ কোন প্রয়োজন নাই। এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আপনি খেয়াল করলেই আপনার আশেপাশেই দেখতে পাবেন।
আমাদের বাজারে যে সমস্ত ভারতীয় পন্য আসছে, তার বিরাট একটা অংশ চোরাই পথে আসে যেটা আমাদের সরকার অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমার মনে হয় আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা/ব্লগার রা এ ব্যাপারে আরও ভাল উদাহরণ দিতে পারবেন। অর্থাৎ শুধু মাত্র শক্তিশালি স্যাটেলাইট চ্যানেলের নিয়ন্ত্রণের সুবাদে অনেক ভারতীয় পণ্য আমাদে বিশাল একটা মার্কেট পেয়ে যাচ্ছে একেবারে বিনা পয়সায়। তাদেরকে পণ্যের প্রচার, উৎপাদন, বিনিময়, এলসি, ইত্যাদি কোন কারণেই আমাদের সরকারকে কোন রকম ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না। (উল্লেখ্য 'সি'-ব্যন্ডের বিদেশী চ্যানেলের অনেক দেশীয় পরিবেশক আছে যারা চ্যানেল দেখানোর কারণে বিটিআরসিকে ট্যাক্স দিয়ে থাকে।)!
এবার আসি ভাষার প্রসঙ্গে। আমার এক বন্ধু একটি দেশীয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ইন্ডাস্ট্রিতে কেমিকেল প্রকৌশলী পদে চাকরী করত। সেখানে প্রচুর ভারতীয় অভিজ্ঞ অপারেটর এবং প্রকৌশলী কাজ করত। মজার ব্যাপার হচ্ছে তারা কেউ ইংরেজীতে কথা বলত না। এমনকি বাংলাদেশীদের সাথেও না। কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল হিন্দী। আমার বন্ধু বা তার কলিগরা ইংরেজীতে কথা বললে তারা বুঝত না বা না বুঝার ভান করত। তাদের ভাবটা এমন ছিল যে "আরে, এরা সবাই তো হিন্দী জানে বা বুঝে, কাজেই সমস্যা কি?"
বাংলাদেশে কত ভারতীয় কাজ করেন তার কোন পরিসংখ্যান নেই। গত বছর বা তারও আগে কোন এক পত্রিকায় পড়েছিলাম যে সংখ্যাটা লাখখানেক হবে। আমার মতে সংখ্যাটা এত বেশী না হলেও ৫০/৬০ হাজার তো হবেই। এদের বায়িং হাইজসহ গার্মেন্টস সেক্টরই তার প্রমাণ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মাত্র ৫-৬ হাজার ভারতীয় সরকারের ওয়ার্ক পরমিট নিয়ে ট্যাক্স দিয়ে কাজ করছে। বাকিরা সব অবৈধ। আমার বন্ধুর ঐ কোম্পানিতে এক জন মেট্রিক পাশ ভারতীয় অপারেটর বুয়েট পাশ প্রকৌশলীর চেয়ে কয়েকগুণ বেশী বেতন পেত। যার ফলে আমরা হারাচ্ছি মূল্যবান পুঁজি এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
ব্যাপারটা যদি শুধুমাত্র অর্থৈতিক কর্মযজ্ঞের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে সেটা দিয়ে এত বড় ব্লগ লিখতাম না। এখন থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে আমাদের সোনালী প্রজন্মের পূর্ব পুরুষরা বুঝতে পেরেছিলেন মাতৃভাষার গুরুত্ব কতটুকু। শুধুমাত্র উর্দুকে তাঁরা রাষ্ট্রভাষা (অফিসিয়াল ভাষা) হিসেবে মেনে নেননি। দাপ্তিরক ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার যদি সীমিত হত বা রোধ হত তাহলে ভাষার যে স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি কিংবা উত্থান-পতন সেটা বাংলা হারিয়ে ফেলত। মৃত নদীর মত হারিয়ে ফেলত তার যৌবন। ভাষার প্রয়োগ সীমিত হলে সেটার তীক্ষ্ণতাও যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা এ অঞ্চলের আপামর জনতার বুঝে এসেছিল। যার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে তাঁরা রক্ষা করেছিলেন ভাষার সৌকর্যকে। যেটার সুফল আজ ভোগ করছি আমরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কি কখনও চিন্তা করে দেখেছি আগামী ৬০ বা ১০০ বছর পর কি হবে? অনেকেই এ ব্যাপারে কনফিডেন্ট যে আগামী ১০০ বছরেও বাংলা ভাষার কোন 'অবনতি' (এই শব্দটা তখনকার পরিস্থিতিতে যে কোন অর্থ বহন করতে পারে।) হবে না। কিন্তু আমরা কি আসলেই এতটা নিশ্চিত? আমাদের শিশুরা যারা হিন্দী টিভি সিরিয়াল, মুভি অহরহ দেখে থাকে, তাদের চিন্তা চেতনা, ভাষার প্রকাশ ভঙ্গি কি এখনকার মতই থাকবে? (ভাষা সময়ে সময়ে বদলায়, কিন্তু সেটা যেন বর্তমান যেই ডিজুস প্রজন্মের ব্যাংলিশ, সেরকম না হয়!)। উপরের যেই চিত্র(২ নং) বর্ণনা করলাম সেটা যদি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, তাহলে আমরা কি আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে আসলেই নিশ্চিন্ত হতে পারি?
পোস্ট পড়ে কেউ যদি আমাকে হিন্দুত্ব বাদ বা হিন্দু বিরোধী বলে মনে করে থাকেন তাহলে আমি ক্ষমা চাইছি। কারণ আমি সেরকম কিছু বুঝাতে চাইনি। আমি বরঞ্চ নিজেকে হিন্দীইজম বা হিন্দীত্ববাদ বিরোধী বলেই দাবী করব। এই বিরোধিতা হিন্দী ভাষার প্রতি নয় বরং হিন্দী ভাষাকে ব্যবহার করে যে চটুল বানিজ্য এবং আগ্রাসি উপনিবেশবাদ চলছে (চিত্র ২ ও ৩) সেটার বিরোধী। এর ফলে শুধু বাংলা কেন, এর আঞ্চলিক ভাষা এবং আদীবাসি ভাষাসমূহও বিপন্নের মুখে পড়বে অবধারিত। কারণ বাংলা শক্তিশালি ভাষা হওয়ায় (ব্যাকরণ, ব্যবহারের ক্ষেত্র, প্রয়োগ ইত্যাদি) আঞ্চলিক এবং উপজাতি ভাষাসমূহ এত বেশী শক্তিশালি না। আর এ সমস্ত আঞ্চলিক ভাষায় বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাণস্পন্দ।
আজ থেকে ৬০ বছর পর আমি বা আপনি হয়ত থাকবো না। বা থাকলেও হুইল চেয়ারে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাচল করতে হতে পারে। তখন আমারই বা আপনার কোন নাতি বা নাতনি আপনাকে চলাচলে সাহায্য করার জন্য আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় যদি বলে,"কুচ পরওয়া নেহি দাদু, মে হুঁ না?" .... তখন আপনার অনুভুতি কি হবে?
এ পরিস্থিতি দেখার আগেই যেন আল্লাহ আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান এই কামনা করি।
(উল্লেখ্য, আমি কোন ভাষাবিদ নয়। উপরোক্ত বর্ণনা আমার নিজস্ব উপোলব্ধি। কোথাও কোন ভুল তথ্য বা তত্ব দিয়ে থাকলে দয়া করে উল্লেখ করবেন। কৃতজ্ঞ থাকব।)
(ফেইসবুকে যাদের সাথে ভাষা নিয়ে তর্ক করেছি, তাদেরকে ধন্যবাদ এই জন্য যে ঐ তর্কটা না করলে এই লেখা লিখতে পারতাম না।)
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অলস ছেলে বলেছেন:
ধন্যবাদ। ভালো লেগেছে। কিছু বলার নেই। আঞ্চলিক সাম্রাজ্যবাদের সাথে নিয়মিত সংঘাতই আমাদের নিয়তি, আর পরিচয় সংকট এই সংগ্রামে আমাদের সবচে' বড় দুর্বলতা, অন্তত আজকের এই সময়ে। এটা সবাই যত তাড়াতাড়ি বুঝবে, তত ভালো। আর না বুঝলে কিছু করার নেই।
লেখক বলেছেন: আর পরিচয় সংকট এই সংগ্রামে আমাদের সবচে' বড় দুর্বলতা
হুমম.... একটু কনফ্লিকশন লেগে গেল। পরিচয় সংকটটা বুঝলাম না! ব্যাখ্যা করলে ভাল হত!
অপ্সরা বলেছেন:
একশোবার টিকে থাকবে, এক হাজারবার টিকে থাকবে, এক লাখবার থাকবে, এক কোটিবার থাকবে।হিন্দিমিন্দি কিছুই করতে পারবেনা বুঝেছো??
একটা জিনিস দিতে ইচ্ছে করছে। দিলাম না আর।
লেখক বলেছেন: টিকে থাকুক সেটা আমিও চাই!
হিন্দিমিন্দি কিছুই করতে পারবেনা
-- আমি এতটা নিঃসন্দেহ নই। আমার মনে হয় একটা ব্যপক পরিবর্তন আসতে পারে যদি আমরা এখনই কোন ব্যবস্থা না নিই!
অট: কি জিনিস দিতে চাইছিলা???
একটু খুইলা বললে বুঝতে পারতাম!
![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ! ![]()
তৈয়ব খান বলেছেন:
খুব চমৎকার লিখেছেন ভাই................
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ! ![]()
ফাহিম আহমদ বলেছেন:
অপ্সপরা বলেছেন,,,,একশোবার টিকে থাকবে, এক হাজারবার টিকে থাকবে, এক লাখবার থাকবে, এক কোটিবার থাকবে।হিন্দিমিন্দি কিছুই করতে পারবেনা বুঝেছো??
একটা জিনিস দিতে ইচ্ছে করছে। দিলাম না আর।
লেখক বলেছেন: ![]()
আমি তো কিছুই বুঝলাম না! আমি মনে হয় টিউবলাইট!!!!
একটু বুঝায়া বলবেন?
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ভাল লিখেছেন। বাংলা তার জৌলুস কতটা ধরে রাখতে পারবে তা নির্ভর করে আমাদের উপর। যেই পদ্ধতিতে ভারতীয় চ্যানেল গ্রামেগঞ্জে দেখা যাচ্ছে সেই পদ্ধতিতে কি দেশীয় চ্যানেল দেখানো সম্ভব নয়। যদি সম্ভব হয় তবে বিটিআরসিএর আইনের নামে সেই পদ্ধতি বন্ধ করে রাখাটা আমার মতে অযৌক্তিক। এইটা আমাদের বড় দোষ।
অন্যদিকে ভারতের সরকারগুলো ভারতীয় হিসেবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নানা রকম চেষ্টা দেখা যায়। তার ফলাফল স্বরূপ আজকের ভারতীয় বাঙ্গালীও বাংলার চাইতে হিন্দি বা ইংরেজীতে কথা শুদ্ধভাবে বলে। আপনার দেওয়া উদাহরণ স্বরূপ তারা যেই প্রদেশেরই হোক না কেন নিজেদের ভাষা হিন্দিকে উপস্থাপন করতে পিছপা হয় না। অন্যদিকে আমাদের সরকারগুলোর বিপরীত ধর্মী অবস্থান। ভাষা আন্দোলন নিয়ে যতই বড় বড় কথা আমরা বলি না কেন, বাংলাভাষা নিয়ে বাস্তবে আমাদের তেমন কোন কিছু করতে দেখা যায় না। আমাদের দেশের বিচারক এখনও তার বিচার ইংরেজীতে দেয়। একটা বিজ্ঞাপন হয় পেপসির। সেখানে মাশরাফি বলে তেষ্টা মিটাতে পেপসি। তৃষ্ণা শব্দটাকে বাংলদেশের কাউকে তেষ্টা উচ্চারণ করতে দেখিনি। ভারতীয় বাঙ্গালিরা এমনটা উচ্চারণ করে। টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ভারতীয়দের নকল করবার প্রবনতা আছে।
এভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই বাংলা তার জৌলুস হারাবে। তবে ১০০ বছর পরে কি হবে আমরা তা বলতে পারি না। হয়ত মাঝেই ঘটে যাবে এমন কিছু যাতে বাংলা তার জৌলুস ফিরে পাবে।
লেখক বলেছেন: আমাদের দেশে স্যাটেলাইটের ফি অনেক বেশী। মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি। এটা "সি" ব্যান্ডের জন্য। কিউ ব্যান্ডের ফি কত আমার জানা নেই। তবে সেটা আরও বেশী হতে পারে। এখন সমাধান হচ্ছে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট লঞ্চ করা, যেটা খরচ ও সময়সাপেক্ষ হলেও অসম্ভব না। সেটা করতে পারলেই মাসিক ভাড়া ৫/৭ লাখ টাকায় নেমে আসবে। টিভি চ্যানেলগুলার পক্ষে কিউ ব্যান্ডে ফ্রিকুয়েন্সি ট্রান্সমিট বা কিউ ব্যান্ডের অপেরটররা সেবা দিতে পারবে।
এতো গেল টেকনিকাল দিক, আইনের ফাঁক গলে যেন অপরাধীরা কাজ করতে না পারে সে দিকটা আরও মনোযোগের সাথে হ্যান্ডেল করলেও অনেক বেইনি কাজ কমানো সম্ভব।
আর সর্বোপরি আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশী। কারণ ভাষঅটা আমাদের। এটা যেন তার জৌলুস না হারায় সেই দিকটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এখন প্রয়োজন পড়েছে ভাষা আন্দোলনের মত করেই আরেকটি আন্দোলন যেটার প্যাটার্ন হবে ভিন্ন, দীর্ঘস্থায়ী এবং বুদ্ধিবৃত্তিক। যেন বাংলা স্ব-মহিমায় টিকে থাকতে পারে আরও দীর্ঘদিন।
জেরী বলেছেন:
ফাহিম আহমদ বলেছেন: অপ্সপরা বলেছেন,,,,একশোবার টিকে থাকবে, এক হাজারবার টিকে থাকবে, এক লাখবার থাকবে, এক কোটিবার থাকবে।হিন্দিমিন্দি কিছুই করতে পারবেনা বুঝেছো??
একটা জিনিস দিতে ইচ্ছে করছে। দিলাম না আর।
লেখক বলেছেন: ![]()
আমি তো কিছুই বুঝলাম না! আমি মনে হয় টিউবলাইট!!!!
একটু বুঝায়া বলবেন?
মন মানে না বলেছেন:
অপ্সরা বলেছেন: একশোবার টিকে থাকবে, এক হাজারবার টিকে থাকবে, এক লাখবার থাকবে, এক কোটিবার থাকবে।
লেখক বলেছেন: আমিও তেমনই আশা করি কিন্তু আমার আশংকা কিন্তু ভিন্ন।!!!!
লেখক বলেছেন:
ধইন্যা! ![]()
দন্ডিত বলেছেন:
এনজেল খরগোশ রে কি দিতে চায়বিষয়গুলার হাত দিনে দিনে লম্বা হইতেছে। আশে পাশের হিন্দি মার্কা পুলাপাইনরে দেখলে জুতাইয়া দাঁত ফালাইয়া দিতে ইচ্ছে করে। শেকড়হীন হয়ে গেলে কচুরীপানাই হতে পারবে। এর চাইতে ভালো কিছু না।
লেখক বলেছেন: "দন্ডিত বলেছেন: এনজেল খরগোশ রে কি দিতে চায়
" খেক খেক.... আমি কিছু বুঝি নাই!
পুলাপাইনের দোষের চেয়ে আমি বলবো আমাদের বা পরিবার এবং পরিবেশের দোষ বেশী। ওদেরকে এ জিনিসগুলো আমরাই দেখাচ্ছি। আমাদের পরিবেশে এ উপাদানগুলো এত বেশী সহজলভ্য যে ওরা সহজে তা গ্রহণ করে ডাইভার্ট হয়ে যায়। এখন প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ।
নিয়ন্ত্রনটা অবশ্যই আমাদের হাতে থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রনহীন কোন কিছুই ভাল না, বিশেষ করে টিনেজার, অল্পশিক্ষিত এবং গ্রামাঞ্চল বা মফ্বসলের নিম্ন বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য!
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন:
আপনার এই আশঙ্কাকে আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ নিয়ে আমি একটা পোষ্টও দিয়েছি। তবে আমি আশাবাদী বাংলা হারাবে না। বাংলাকে অনেবার এরকম বিপদ মোকাবেলা করতে হয়েছে। বাংলার পাশে দাঁড়াবার জন্য মানুষও ছিলো। আগামীতেও থাকবে। সেই মানুষদের আমি ডাক দিয়ে যাই।Click This Link
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ! লিংখটি পরে দেখবো।
আমি আপনার মত এত নিঃসন্দেহ হতে পারছি না। কারণ আমি নিজের চোখে যা দেখেছি তাতে মোটামুটি আতংকিত! এভাবে নিয়ন্ত্রনহীন চলতে থাকলে ঠিকই ৫০ বছরের মধ্যেই আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাবো যেটার জন্য আমাদের কোন প্রস্তুতিই থাকবে না।
অপ্সরা বলেছেন:
ফাহিম জেরীমনি মন মানে না আর দন্ডিত , ভেবে ভেবে বের করো কি দিতে চেয়েছি পাজী খরগোশকে।না পারলে আমার ব্লগীয় বোন ভেবে ভেবে বলি আপুকে ডাকো।
লেখক বলেছেন: ভেভেবকে ডাক দাও। তার কাছ থেকে একটু ব্যাখ্যাটা শুনি.... ![]()
(অটঃ কি দিতে চেয়েছিলা একটু বল না.....[হালকা লুলাইলাম!
])
অবয়ব বলেছেন:
টিকে থাকবে। হয়ত পরিবর্তন হবে, যা স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিকই টিকে থাকবে। আশাবাদী।
লেখক বলেছেন: আশাবাদি হওয়া ভাল। কিন্তু আমি বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাশাবাদী! পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমি নিরাশাবাদীই থাকবো!
লেখক বলেছেন: খেক খেক খেক....... হ! মাইনাস এখন পর্যন্ত পাইলাম না! ![]()
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো আপনার পর্যবেক্ষন ও লেখা।
ভারতীয় এবং পাকিস্তানীদের ক্ষেত্রে একটা ব্যাপার হয়,ওরা ধরেই নেয় আমরা হিন্দী জানি। হিন্দীতে কথা বলা শুরু করে। জানিনা বললে খুব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
যে কোন ভাষায় দক্ষতা হলো একটা ভালো দিক......
কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদেরকে হিন্দী জানতেই হবে।
কোন ভারতীয় খুব অবাক হয়ে যখনই জানতে চায় আমি কেনো হিন্দী জানিনা......অমুকরা তো জানে( বাংলাদেশীর উদাহরন দেয়)।
আমি সবসময়ই বলি তোমাদের দেশের একটা বিশাল অংশের মানুষ বাংলা ভাষাভাষী,তোমাদের কি বেশী উচিত না বাংলা জানার?
খুব অবাক হয়...
আমরা যারা বাইরে থাকি,একধরনের শংকা তো আছেই ,
আমাদের সন্তানদের পর বাংলাটা কি থাকবে নাকি হারিয়ে যাবে?
দেশে বসেও এমন চিন্তাই ভাবচ্ছে আপনাদের.......
কি জানি একদিন সবাই কি ভুলেই যাবে এই বাংলাভাষার দাবীতে এখানে যুদ্ধ হয়েছিল? ভয়টা চেপেই বসে শুধু।
শুভেচ্ছা নিন.....
লেখক বলেছেন: ছোটবেলায় আমিও মিডলইস্ট ছিলাম বাবার চাকরী সুবাদে। আব্বুর এক পাকিস্তানী কলিগ ছিল। সবার সাথে উর্দুতেই কথা বলত। আব্বু চরম আওয়ামীলীগার হওয়া সত্তেও উর্দুই বলত তার সাথে। আমি উর্দু বুঝতাম না। ছোটবেলঅয় ইংরেজীও হালকা পাতলা বলতে পারতাম, আমি তার সাথে ইংরেজী দিয়েই কথা বলতাম, কখনও ভাঙ্গা আরবি চালাতাম।
উর্দুর প্রতি তখন একটা রাগ ছিল আমার পাঠ্যপুস্তকে ৫২ এর ইতিহাস পড়ার কারণে।
ভারতীয় এবং পাকিস্তানিদের ব্যাপারে আপনার অবজারভেশনও পুরোপুরি সঠিক। তারা সবাই মনে করে আমরা হিন্দি বা উর্দু পারি। অনেক বাঙালীই তাদের সাথে সে রকম ভাবেই কথা বলে। কিন্তু আমাদের উচিৎ এ ক্ষেত্রে ইংরেজী ব্যবহার করা।
কারণ তারা আমাদের দেশে এসেও আমাদের সাথে হিন্দীতেই কথা বলতে চায়!
আপনার আশংকাও অমূলক নয়। গতকাল আমার পিচ্চি খালাতবোনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বাংলায় দিয়েছিলাম ফেইসবুকে (সে ইউএস থাকে), পড়তে পারে নি। অথচ সেখুব ভাল বাংলা বলতে ও বুঝতে পারে। পরে খালাম্মার সাহায্য নিয়ে পড়েছে আমি তাকে কি উইশ করেছী। আমার তো মনে হয় তারা জানেই না যে তাদের পূর্ব পুরুষরা ভাষার দাবীতে শহীদ হয়েছীল.....
ভয়াবহ!!
লেখক বলেছেন: ![]()
এখন ও বৃষ্টি ভালবাসি বলেছেন:
আরে ভাই এতো গেল দুবাইর কথা ,লন্ডনে যেটা হয় ,আপনি কোন ইন্ডিয়ান দোকানে গেলেন ,ওখানে এরা প্রথম কথা শুরু করে হিন্দিতে ,সবাই না ,তবে বেশীর ভাগ ।আমাদের কিছু বাংলাদেশী ভাই দের সাথে সুর মেলায় ,হিন্দি পারে সে জন্য একটু ভাব নেয় ।
এই সব দেখলে মন খারাপ হয়ে যায় ।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ। বাংলাদেশীদের হিন্দির সাথে তাল মিলাতে দেখলে মন মেজাজ ২ টাই খারাপ হয়ে যায়!
আর আমাদের টিভির অনুষ্ঠান নির্মাতাদেরও দোষ আছে ... তারা কখনই দর্শকের কথা ভেবে অনুষ্ঠান বানান না ... কয়েকজন মিলে একটা গ্রুপ হয়, তারপর নিজেদের সুখমতো ছাইপাশ কিছু একটা বানিয়ে মানুষকে গেলায় ... হালের ফারুকী এন্ড বেরাদরদের কার্যকলাপ দেখলে সেরকমই মনে হয় ... টিভির আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোও মোটেও বিনোদনধর্মী না ...
একসময় ছিলো যখন তথাকথিত "সুশীল ও রুচিশীল" লোকজনের বাসায়ই শুধু টিভি থাকতো ... কিন্তু এখন টিভির দর্শকের ব্যাপ্তি অনেক ছড়িয়েছে ... সেই তুলনায় সেই পুরোনো সুশীল ইমেজের ভালোচনা অনুষ্ঠানের লুপ থেকে নির্মাতারা বের হয়ে আসতে পারেনি ... টিভিতে হাল্কা চালের অনেক অনুষ্ঠানও এখন প্রয়োজন ... কিন্তু নির্মাতারা এদেশের নিচু আয় ও শিক্ষার দর্শকদের মানুষ মনে করেনা বলেই মনে হয়
লেখক বলেছেন: বাদশা ভাই, টিভি অনুষ্ঠান নির্মাতাদের দোষ দেখলে কিন্তু একটু অবিচার করা হয়ে যায়। এখন সবকিছুই বানিজ্য নির্ভর। দর্শক যেমন চায় সেরকম অনুষ্ঠানই স্পনর্সরা স্পনর্সর করতে চায়। এ ক্ষৈত্রে অনুষ্ঠান নির্মাতার চয়েস অণেক নীমিত থাকে। তার পরও অনেকে ক্রিয়েটিভ কাজ করে যেটার মান একেবারেই খারাপ না।
আমার মূল ভয়টা গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য। তাদের অণেকেই কিন্তু আমাদের চ্যানেল দেখার সুযোগ পাচ্ছে না কিউ ব্যান্ডের কারণে। আর আমাদের চ্যানেলগুলোতেও তাদের উপযোগী বিনোদোনের বড়ই অভাব, সব শহর কেন্দ্রিক, সে জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা দেখছে ভারতীয় চ্যানেল।
আপনার শেষ প্যারার বক্তব্যের সাথে পুরোপুরিই একমত। বিষয়টা অবশ্যই গুরুত্বের দাবী রাখে।
নিয়ন্ত্রণটা কিন্তু আমাদের হাতেই রাখতে হবে। এখন সময় এসেছৈ আকাশটা নিয়ন্ত্রন করারা!
অয়ন আরেফিন বলেছেন:
''কাআ তরুবর পাঞ্চবী ডালচঞ্চল চিএ পইঠা কাল।''
ভাই, এটা কী খুব সহজ ভাষা। এখন ২০০৯ সালে এই ভাষাটা কঠিন হলেও ৯৫০ সালে এটাই ছিল বাংলা ভাষা। কালের যাত্রায় গ্রহণ বর্জন করে বাংলা আজকের রূপ পরিগ্রহ করেছে। তাছাড়া গত ১০ বছরে বাংলা ভাষা শুধু মুঠোফোন বিষয়ক যেসব শব্দপুঞ্জে সমৃদ্ধ হয়েছে তা বিস্ময়কর।
বস্তত, যাই বলা হোক না কেন বাংলা ভাষা কালে গ্রহণ বর্জনের এই ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
চর্যাপদের উপর্যুক্ত কবিতার মত ভাষা যেমন আজকে আর নেই, হয়তো আগামীতেও থাকবে না। যাই থাকুক সে ভাষার নাম হবে বাংলা ভাষা এ বিষয়ে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই।
তবে এটা ঠিক, আগামীতে পৃথিবী ছোট হয়ে আসায় ভাষাসমূহের মধ্যে শব্দগত পার্থক্য কমে আসতে বাধ্য।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
আমি মনে হয় আমার আশংকাটা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। কালের আর্বতে ভাষার যে স্বাভাবিক বিবর্তন, সেটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নাই। আমার আশংকাটা অন্য জায়গায়; যখন সাংস্কৃতিক উপনিবেশবাদের কারণে ভাষা তার স্বাভাবিক গতি হারাবে। বিশেষ করে আমাদের আঞ্চলিক ভাষা তার জৌলুস হারাবে এবং এ আঞ্চলিক ভাষাই আমাদের বাংলা ভাষার মূল প্রাণস্পন্দ।
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন:
কারেন্ট হিন্দি মুভির গান এর কালেকশন ও মুভির নাম জানা থাকে না তাই অনেকের কাছে আমি আনস্মার্ট।যাক আমার বাসায় কখন হিন্দি চ্যানেল চলত না!কলকাতার বাংলাও না।কিন্তু ২ মাস ধরে মা দাদাগীরি আর খনার ভক্ত হয়েছে বিধায় চিন্তা বেড়ে গেছে!
লেখক বলেছেন: "।যাক আমার বাসায় কখন হিন্দি চ্যানেল চলত না!কলকাতার বাংলাও না।কিন্তু ২ মাস ধরে মা দাদাগীরি আর খনার ভক্ত হয়েছে বিধায় চিন্তা বেড়ে গেছে!"
-- সমস্যাটা সেখানেই, আপনি চাচ্ছেন না যে আপনার বাসায় হিন্দি চ্যানেল না চলুক, কিন্তু ঠিক সেটা চলছে। আমার কথাটাও এখানেই যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আপনার মা/দাদীকে নিয়ে আমার কোন চিন্তা নেই। কারণ তারা বয়স্ক এবং প্রজ্ঞা সম্পন্ন, আমার আশংকা আপনার বাসার ছোট শিশুটিকে নিয়ে যে তাঁদের সাথেই বসে হিন্দি চ্যানেল দেখে বাংলার আগেই হিন্দি শিখছে এবং সেই সাথে শিখছে হিন্দি সংস্কৃতিও!
লংকার রাজা বলেছেন:
অনেক ভাল পর্যবেক্ষণ। চিন্তার কারণটা মোটেও অমূলক নয়।দুঃখিত,অন্যদের মত জোড় দিয়ে বলতে পারছি না "একশোবার টিকে থাকবে, এক হাজারবার টিকে থাকবে, এক লাখবার থাকবে, এক কোটিবার থাকবে।"
লেখক বলেছেন: আমিও জোড় দিয়ে বলতে পারছি না... "একশোবার টিকে থাকবে, এক হাজারবার টিকে থাকবে, এক লাখবার থাকবে, এক কোটিবার থাকবে।" আমিও দুঃখিত!
লেখক বলেছেন: আপনার আত্মবিশ্বাস আমাকে উৎসাহিত করবে সন্দেহ নাই তবে ভবিষ্যত নিয়ে নিঃসন্দেহ হতে পারবো না।
ইমতিয়াজ জামিল বলেছেন:
ওদের ধরে নর্দমায় চুবান...@@@
লেখক বলেছেন: কাদের? @@@ ????
লেখক বলেছেন: দাবীর জন্য ধন্যবাদ! বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ তবে আমার মনে হয় অন্য কেউ এ ব্যাপারে আরও ভাল কোন পোস্ট দিতে পারবে। ![]()
জটিল বলেছেন:
বাংলা টিকে থাকবে নিশ্চিত , অন্তত সামু ব্লগে তো অবশ্যই
লেখক বলেছেন: খেক খেক ভ্রাতা, সামু ব্লগে টিকে থাকলেই কি চলবে? হাহাহহা.....
(আপনার ব্লগস্পটের শেষ কমেন্টগুলো কিন্তু আমার করা!!!) ![]()
নার্ড বলেছেন:
জটিল বলেছেন: বাংলা টিকে থাকবে নিশ্চিত , অন্তত সামু ব্লগে তো অবশ্যই
লেখক বলেছেন: সামু ব্লগে টিকে থাকলেই কি চলবে? হাহাহহা.....
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
বাংলা টিকে থাকবেই ।
লেখক বলেছেন: হতে পারে..... খুব বেশী আশাবদী না!
পেঙ্গুইন বলেছেন:
বাংলা পৃথিবীর সেরা ভাষাগুলোর একটি। হিন্দি তার ধারে-কাছেও নেই। ইন্ডিয়ার বেশীরভাগ মানুষ হিন্দি জানে না।
লেখক বলেছেন: সেটা ঠিক.... পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম ভাষা। হয়ত টিকে থাকবে.... কিন্তু তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল। আমরা চাই না বাংলা তেলাপোকা হয়ে টিকে থাকুক !
শব্দহীন পথচারী বলেছেন:
অসাধারন হয়েছে লিখাটা।
লেখক বলেছেন: অনেকদিন পর ব্লগে স্বাগতম! ![]()
লেখক বলেছেন: ভাই আমি হিন্দি ভাষায় একেবারই মুর্খ! যদি একটু বাংলায় তরজমা কইরা দিতেন তাহলে ভাল হইত! ![]()
শব্দহীন পথচারী বলেছেন:
তবে দুয়ার বন্ধ করে রাখলে ত হবে না...তাইলে তো বাতাস আসা বন্ধ হয়ে যাবে...চেষ্টা করতে হবে পরিবেশটাকে ভালো করার আর ভালো রাখার যাতে সুবাতাস আসে....আমাদের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে, নিজেদের ভালো মানের অনুষ্ঠান তৈরী করতে হবে...আর বাইরের খারাপটাকে বর্জন করতে হবে...এটা
আমিও স্বীকার করি ভারতীয় চ্যানেলগুলোর ওই নিম্নমানের সিরিয়ালগুলো আমাদের পরিবারগুলোতে কি কারনে যেনো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।(এই কারনে নিম্নমানের যে এই সিরিয়ালগুলোর কাহিনিতে শিক্ষনীয় কিছু ত নেই, বরং আছে পরকিয়া, সন্দেহ আর পরস্পরকে অবিশ্বাসের সব উজবুকি গল্প) । এই সিরিয়ালগুলো আমাদের মুল্যবোধকে নষ্টই করতে পারে, গড়তে নয়। আশা করছি আমরা এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।
লেখক বলেছেন: দুয়ার বন্ধ রাখার পক্ষপাতি আমি না। তবে তীব্র রোদ বা ধুলা-বালি রক্ষার জন্য পর্দার ব্যবস্থা করার দরকার হয়। আমি সেই পর্দা করার পক্ষপাতি।
বাইরের খারাপ বর্জন আর নিজস্ব ভাল মানের অনুষ্ঠান তৈরী করার কথা সবাই বলে কিন্তু এটা করা এত সহজ না। বর্জন কেন কার সহজ না সেটা আমি পোস্টে কিছুটা বলেছি। আর ভাল অনুষ্ঠান নির্মাণের সমস্যা হল স্পনর্স এবং বাজেট। আমাদের দেশে ইন্ডিয়ান নকল অনুষ্ঠানের জন্য যত সহজে স্পন্সর পাওয়া যায়, দেশীয় ভাল অনুষ্ঠানের স্পন্সর পাওয়া ততই কঠিন। যার কারনে মানুষ ভারতীয় নিম্নমানের অপসাংস্কৃতিক (আমাদের প্রেক্ষাপটে) অনুষ্ঠান গিলছে।
এখান থেকে কিভাবে বের হয়ে আসা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করলে এই পোস্ট সার্থক হবে।
ভাল লিখছিস।
লেখক বলেছেন: আমিও বুঝি নাই আমারে কে কি দিতে চায়???
দুনিয়াতে সবাই হালকা লুল (সৌজন্যে: জেরী) ![]()
ধইন্যা! ![]()
শয়তান বলেছেন:
হাসিলাম একটু
লেখক বলেছেন: একটু হাসিলেন কেন? পুরা হাসেন!!!!!
নির্বাসন বলেছেন:
আগামী ১০০ বছরে দেশ থাকে কি না তার ই নাই ঠিক...
লেখক বলেছেন: হাহাহা .... আপনে ভাই আসলেই হিউমোরাস..... আগে ভূখন্ড নিয়া চিন্তা করার দরকার ছিল..... কমেন্টে+ ![]()
লেখক বলেছেন:
শয়তান বলেছেন:
পুরা হাসলে বায়ু চলে আসবে । খিকজ
লেখক বলেছেন: কাহিনী কিছুই বুঝলাম না! ![]()
লেখক বলেছেন: তুমি কাহা বলিতেছ হামি তো তাহা কিছু মালুম করিতে পারিতেছি না....!!! (শুদ্ধ হইছে?
) ![]()
নাজমুল আহমেদ বলেছেন:
চিত্র: ২
এর অবস্থা ভয়াবহ রকম খ্রাপ। এক বাঙ্গালী আরেক বাঙ্গালীর সাথে হিন্দিতে কথা বলে। আমার এক রিলেটিভের একটা গ্রোসারী আছে সেটার সাইনবোর্ড সহ সব জায়গায় বাংলা লেখা তাপ্ররেও বাঙ্গালীরা সেখানে গিয়ে হিন্দিতে প্রশ্ন করে। মাঝে মাঝে নেট ক্যাফেতে ফোন করতে গেলে শুনা যায় হিন্দিতে দেশের লোকদের সাথে বলতেছে "ক্যাছা হ্যা" বা "মালুম ন্যাহি"। তবে দুবাইতে ৪৩ % ভারতীয় এবং ১৩ % এর উপর পাকিস্থানী তাই দুবাইতে আনঅফিসিয়ালী হিন্দি'টা সেকেন্ড (না বলে ফার্স্ট ও বলা যেতে পারে) ল্যাঙ্গুয়েজ হয়ে গেছে। এখানকার সমস্ত প্রশাসনিক ও অফিসিয়াল কার্যক্রমেও ভারতীয় ও পাকিস্থানীদের আধিক্য। এখানকার আরবীরাও দারুন ভঙ্গিমায় হিন্দি বলতে পারে।
লেখক বলেছেন: হুমম....! সেটাই বেশী খারাপ লাগে যখন দেখি বাঙ্গালীরা প্রয়োজন ছাড়াই নিজেদের মাঝে হিন্দীতে কথা বলে, অথচ হিন্দী বাদে অন্য কোন ভাষা তারা এত আগ্রহ সহকারে শিখে বা ব্যবহার করে না। বিষয়টা কিছুটা হুজুগে... বলিউডের হুজুগ আর তাদেরকে নকল করতে গিয়েই এই অবস্থা।
নাজমুল আহমেদ বলেছেন:
এটা ওদের সফলতা এবং আমাদের ব্যার্থতা। আর আমরা দিনকে দিন আরো ব্যার্থতার দিকেই অগ্রসর হব।
লেখক বলেছেন: এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে সফলতার দকে অগ্রযাত্রা শুরু করার এখনই উৎকৃষ্ট সময়! ![]()
দীপান্বিতা বলেছেন:
লেখাটা ভাল লাগলো......দেখুন এটা আমাকেও ভাবায়......আপনার লেখা দেখে মোটেও আপনাকে হিন্দুত্ব বাদ বা হিন্দু বিরোধী বলে মনে হয়নি......................কিন্তু কথা হচ্ছে যা ছরাচ্ছে বা তা যারা ছরাচ্ছে তাতে তাদের আর্থিক লাভ হচ্ছে, যারা দেখছে তাদেরও ভাল লাগছে, এটাতো বন্ধ সম্ভব যখন বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারাটা পরবর্তি এবং বর্তমান প্রজন্মের সামনে আকর্ষনীয় ভাবে তুলে ধরা হবে। ...........যা হচ্ছে তা রোধ সে ভাবে কি সম্বব! তবে আরেকটা নতুন খাদে নদীর জল টেনে আনার চেষ্টা করতে হবে......আপনার লেখাটা পড়তে পড়তে এটাই মাথায় এলো। লেখক বলেছেন: আপনি বলেছেন, " যারা দেখছে তাদেরও ভাল লাগছে, এটাতো বন্ধ সম্ভব যখন বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারাটা পরবর্তি এবং বর্তমান প্রজন্মের সামনে আকর্ষনীয় ভাবে তুলে ধরা হবে।"
সেটাই, ধারাটা পরিবতবর্তন করতে হবে। এটা করা এত সহজ না। কেন সহজ না সেটার অনেক যুক্তি আছে, অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনৈতিক. কিছুটা অজ্ঞতাও কারণ। এর সমাধান হিসেবে আমার পরামর্শ হল নিয়ন্ত্রণ করা। অর্থাৎ যতদিন আমরা একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে না পারবো, ততদিন পর্যন্ত আকাশটাকে নিষন্ত্রণ করতে হবে আমাদের স্বার্থেই। পৃথিবীর অনেক দেশই এটা করে থাকে। কাজেই আমার মনে হয় আপাতত এটা করা কোন দোষের কিছু হবে না।
বাংলায় = এখানেও একই অবস্হা, আপনার হিন্দী জানা থাকলে কোন অসুবিধা নাই ।
লেখক বলেছেন: ![]()
লালসালু বলেছেন:
অট: কি জিনিস দিতে চাইছিলা??? :``>> :`>
একটু খুইলা বললে বুঝতে পারতাম! :`>
তাড়াতাড়ি খুইলা কন তানাহলে মাথা আউলা হইয়া যাইব।
লেখক বলেছেন: ![]()
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন:
কি ব্যাপার, এখানে দেখি আপনি+আমার ব্লগীয় বোন অপ্সরাদি অনেক আগেই আমাকে ডাকাডাকি করে ফেলেছেন, আর আমার এতদিনে চোখে পড়লো! ভালো লাগলো পোস্টটা। একটা ব্যাপার একটু শেয়ার করি, বিভিন্নরকম ভাষা শেখার এবং সেগুলো ব্যবহার করার ব্যাপারে আমার অসীম পরিমাণ আগ্রহ। আমি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় হিন্দি বলতে, লিখতে ও পড়তে শিখেছি (এছাড়াও আরও দু'একটা ভাষা আছে যেগুলো টুকটাক জানি এবং আরও অনেকগুলো শেখার ইচ্ছে আছে)। কেউ আমার সাথে হিন্দি বলতে এলে মোটেই বিরক্ত হই না বরং ভালোই লাগে, এটা কিন্তু ঠিক ঐভাবে হিন্দিপ্রীতি নয়, কেবল একটা ভাষাপ্রীতি যেটা আমার স্বভাবজাত। কিন্তু এখানে আপনার লেখায় যা পড়লাম (বিশেষ করে আপনার কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুর অভিজ্ঞতা আর সাজি আপার মন্তব্য)--- সত্যি কথা, এখন থেকে কোনও ভারতীয়র সাথে হিন্দি বলতে আমার বাধবে।
লেখক বলেছেন: পাইছি আপনারে.... এইবার একটু খুইলা বইলা জান যে অপ্সরা আমারে কি দিতে চাইছিলো.... ![]()
লেখক বলেছেন: বিভিন্নরকম ভাষা জানার বা শেখার বিরোধী কোন পোস্ট না এটা। আমি বরং এ ব্যাপারটাকে উৎসাহিতই করবো যদি অন্যান্য ভাষার মত হিন্তীও সমান গুরুত্ব পায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে হিন্দী ভাষা এবং আধুনিক হিন্দী বা বলিউডি সংস্কৃতি অন্যান্য ভাষা এমনকি মাঝে মাঝে বাংলার চেয়েও বেশী মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে।
এখন কেউ হয়তো বলতে পারে যে এটা হিন্দীর গুণ বা ভাষাটাই এরকম পরিপূর্ণ যে সবার এটেনশন ড্র করতে পারে, তাহলে আমি এ ব্যাপারে অনেকটুকু দ্বিমত পোষণ করবো। হিন্দীর এই জাঁকজমক বা রমরমা অবস্থা ভাষা হিসেবে এটা শক্তিশালী হওয়ার কারণে না, মূলত প্রচার আর প্রসারের কারণে, টেকনোলোজি এবং বিরাট পুঁজির বিনিয়োগের কারণে। পুঁজিবাদের এগ্রেসিভ মার্কেটিং হিন্দী প্রসারের প্রধান কারণ, সেই সাথে আমাদের অজ্ঞতা এবং দৈন্যতা আরও অগ্রসর করছে এই ভাষা ও সঙস্কৃতিকে।
আল্লাহ রাখা বলেছেন:
অসাধারণ হইছে ভাই...... সরাসরি প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: মাথা নত.. ধইন্যা! ![]()
অন্যরকম বলেছেন:
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্যগুলো দেওয়অর কারণে। গত কয়েকদিন ব্যস্ত ছিলাম, যে জন্য ব্লগেও অনিয়মিত, এজন্য এর রিপ্লাই দেওয়া হয় নি..... আশা করছি শীঘ্রই আপনাদের জবাব দিতে পারবো।
মানুষ বলেছেন:
প্রথমেই তোমারে ধন্যবাদ জানাই পোষ্টটা লেখার জন্য। ১৯৫২'তে ভাষার জন্য যে দরদ ছিল তার দশ ভাগও আজ অবশিষ্ট আছে কি না আমার সন্দেহ লাগে। যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় ভাষা ইংরেজী। সূতরাং এখানে সবাই ইংরেজী বলবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অবাক লাগে দশ জনের একটা দলে যদি নয় জন বাংলাদেশী হয় আর মাত্র একজন ভারতীয় বা পাকিস্থানী হয় তাহলেই শুরু হয়ে যায় হিন্দি/উর্দূ'তে কথা বলা। এদেশে ইংরেজীতে কথা বলাটাকে মেনে নেয়া যায় কিন্তু হিন্দি/উর্দূর ব্যবহার কষ্ট দেয়।
এরকম এক বন্ধু'কে জিজ্ঞেস করেছিলাম নিজের ভাষা নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে কিনা। তার উত্তর আমরা বুদ্ধিমান তাই বহু ভাষার ব্যবহার জানি।
উত্তরটা আপাত শান্তনা দিলেও সুদূর প্রসারী কুফলের আশংকাটা জমেই থাকে।
লেখক বলেছেন: উইঠা পরতেছিলাম, কিন্তু তোমার কমেন্ট পইড়া আবারো লগইন করলাম। ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সময় শুধু দরদই ছিল না, ছিল যুক্তি এবং একটি দূরদর্শি চিন্তা। তাঁরা তখনই বুঝতে পেরেছিলেন যে অন্তত ৫০ বছর পর পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষ তাদের এই ত্যাগের সুফল ভোগ করবে।
আজ আমরা বা আমাদের প্রজন্ম কিন্তু এখন কল্পনাও করতে পারতেছি না যে আগামী ৫০ বছর পর কি হবে!
এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলা ভাষার আগে স্বকীয়তা হারাবে এই ভাষার সমৃদ্ধ আঞ্চলিক ভাষা সমূহ যেগুলা বাংলা ভাষার প্রাণ। ..... আশা করতেছি আঞ্চলিক ভাষার অবস্থা নিয়েও একটা পোস্ট দিবো।
আমিই রূপক বলেছেন:
হিন্দির চিন্তা না করে ইংলিশের চিন্তা আগে করেন। হিন্দি ভাষা যদি বাংলাকে নাও খায় ইংলিশ ভাষা মনে হয় বাংলাকে খেয়েই ফেলবে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার ভাবনাগুলো লিখে ফেলুন এবং ইংলিশ যে বাংলাকে খেয়ে ফেলবে, তার পক্ষে কিছু উদাহরণ এবং তথ্য দিন।
শারফুদ্দীন হোছাইন বলেছেন:
আমি টেনশিত না।
আমার এক সৌদি কলিগ ৬৯% সিলইড্যা ভাষায় কথা বলতে পারে
লেখক বলেছেন: হেহেহে.... কিন্তু সিলোডি ভাষার তো ব্যাকরণ আলাদা!
যাই হোক... তুমি মিয়া জটিল একখান ইনফো দিলা। তবে আরেকজনকে জানি, এক বিখ্যাত বোরকা কোম্পানির মালিকের ছেলে পুরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে। সে তবলীগের কাজে আর ৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের পরে ২০-৩০ বার বাংলাদেশে আসছীল! ![]()
ডেলফ বলেছেন:
কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল।চঞ্চল চীএ পইঠো কাল॥ ধ্রু॥
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ।
লুই ভণই গুরু পুচ্ছিঅ জাণ॥ ধ্রু॥
সঅল সমাহিঅ কাহি করিঅই।
চর্যাপদ । ১০০০ বছর আগের বাংলা ভাষা এমনই ছিলো।
এখনকার কবিরা কি এই শব্দগুলো ব্যবহার করে ? করে না ।
এরপরে আরবী ঢুকেছে, ফারসী ঢুকেছে, ইউরোপিয়ান ভাষাগুলার অনেক শব্দ এখন বাংলা ভাষার সম্পদ হিসেবে বিবেচিত ।
যে জন বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বংগবাণী
.............................. নির্ণয় ন জানি ।
৪০০ বছর আগের বাংলা ভাষা এইটা । এখন এভাবে কি কেউ কথা বলি আমরা ? সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বা ভাষার আগ্রাসন যাই বলেন, ভাষা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে । ইংরেজি ডিকসনারিতে এখন নতুন কিছু বিদেশী ভাষার শব্দ জায়গা পেয়েছে । কথ্য ভাষায় বহুল ব্যবহারের কারনে ।
ঠিক এভাবেই বাংলা ভাষায় বিদেশী শব্দ গুলো ঢুকে যাচ্ছে । ভাষাটা কিন্তু বিদেশী হয়ে যাচ্ছেনা । এইটা বাংলাই থাকছে ।
আর ১৯৫২ তে ভিনদেশী ভাষাটা আমাদের উপরে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছিলো জোর করে । যার ফলে হয়েছিলো রক্তাক্ত প্রতিবাদ এবং বাংলার প্রতিষ্ঠীত অবস্থান । হিন্দি কেউ আমাদের উপরে চাপিয়ে দিতে পারবে না । আর বাংলা ভাষাটাও কখনো হিন্দি ভাষার কাছে বিলীন হয়ে যাবে না।
তবে টুকটাক কিছু শব্দ ঢুকে যাবে ।
খেয়ালটা ওখানেই রাখতে হবে । হিন্দি ভাষার আগ্রাসনটা কোত্থেকে বেশী হচ্ছে । স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো থেকেই ।
লেখক বলেছেন: ধইন্যা! ![]()
মুক্ত মণ বলেছেন:
যখন বাংলাদেশী কেউ হিন্দির দালালি করে, মনেহয় কি দরকার ছিল ২১-শে ফেব্রুয়ারি পালন করা? when their boss said, Urdu and urdu will be the state language of pakistan, we should have said, your wish is our command. হিন্দি speaker-ra সাহস পায় কিভাবে আমাদের সাথে সরাসরি হিন্দি বলার ? আর আপনারা যারা হিন্দি বলে মুনিবদের সন্তুস্ট করে আত্মতৃপ্তি পান, ৭১-রের রাজাকারদের সাথে আপনাদের অমিলটা কোথায়?
লেখক বলেছেন: হুমম
মুক্ত মণ বলেছেন:
I think english will be no harm for Bangla. As a matter of fact, fery few people in our country are confident about their english. Our true enimy is Urdu and hindi.
লেখক বলেছেন: আমার তো মনে হয় আমাদের শত্রু আমরা নিজেরাই! হিন্দী বা উর্দূতে কথা না বললেই হয়।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
হিন্দীরে চুদিনা।
লেখক বলেছেন: আমিও! বলতেও পারিনা, বুঝিও না। দরকারও মনে করি না!
মুনিয়া বলেছেন:
ভাল লাগল পোস্ট।
লেখক বলেছেন: ধইন্যা! ![]()
কামাল প্রেমভরোসা বলেছেন:
ডেলফ erereer komenএর কমেন্টের সাথে সহমত। একমাত্র ডেলফ-ই যুক্তি দিয়ে লিখেছেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















ধন্যবাদ