অনেক আগে ইত্যাদিতে হানিফ সংকেত এর একটা উক্তি আমাকে ভীষণ নাড়া দিয়েছিলো। আগে খবরের ফাঁকে ফাঁকে বিজ্ঞাপন দেখানো হতো! এখনতো খবরগুলো স্পন্সরই করা হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট কোম্পানির নামে। যেমন সিটিব্যাংক খেলার খবর অথবা রবি বাণিজ্য সংবাদ। অন্তত সংবাদকে পণ্যে পরিণত না করার আহ্ববান জানিয়েছিলেন তিনি। কথাটা মনের ভেতর দাগ কেটেছিলো কিন্তু এ নিয়ে সে সময় কারো সাথে কথা বলার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু গতকাল, আবার সেই একই রকম ধাক্কা খেলাম। গতকাল ছিলো ১৬ই ডিসেম্বর, বিজয়ের দিন! অনেক আনন্দের একটা দিন। আমার যে বন্ধুটা গ্রামীনফোনে চাকরী করে খুব খুশিতে আমাকে জানালো, “ জানো! আমার আজ অদ্ভুত সুন্দর একটা দিন কাটলো! গ্রামীনফোনের ঐ অনুষ্ঠানে গেলাম, সংসদ ভবনের সামনে এতোগুলো মানুষ আর দেশবরেণ্য সব শিল্পী মিলে জাতীয় সংগীত গাইলাম! এ অনুভূতি অসাধারণ! ”
আমি কোনকিছু না ভেবেই বল্লাম, “হ্যাঁ! আজব মানুষ আমরা। এদেশে জাতীয় সংগীত ও স্পন্সর করা যায়! ”
কথাটা শুনে সংগে সংগে আমার বন্ধু প্রতিবাদ করলো। বললো, “ গ্রামীনফোন তো তবু এতো মহান একটা উদ্যোগ নিয়েছে যা রীতিমতো প্রশংসনীয়। আর যারা এধরনের ভালো কাজের মর্যাদা দিতে জানে না তারা নির্বোধ।”
ব্যাস! এতোটুকুই ছিলো আমাদেও তর্ক। কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম, এভাবে রেগে যাওয়া হয়তো ঠিক হয়নি। কারন আজকাল সব কম্পানি ই প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্য মানুষের ভালোবাসা আর দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। আপনার সামনে আপনার মায়ের মায়াবী মুখ অথবা দেশপ্রেমকে এগিয়ে দিয়ে এরা দেদারসে তাদের পন্য বিকায়। কথা হলো যদি মেনেই নিতে হয় এসবকিছু তাহলে জাতীয় সংগীত রিংটোন হিসেবে ব্যাবহার করাও তো দোষের কিছু না। বাংলালিংক তো মুক্তিযুদ্ধে ভাই হারানো এক বোনের বিজ্ঞাপন দিলো যা দেখে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু তার সাথে বাংলালিংক কিভাবে নিজেকে লিংকড করলো তা আমার মাথায় ঢোকেনি। এসব আমার কাছে গোলকধাঁধার মতোই লাগে। আমি বুঝিনা কি ঠিক বা কি ভুল হচ্ছে।
আমি বুঝতে পারছি না, আমার ঐ বন্ধুর কাছে কি ক্ষমা চাওয়া উচিত নাকি আমার রেগে যাওয়াটা যুক্তিসংগত!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


