somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবা-----যে কথা তোমাকে বলা হয়নি।

২৯ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা,
কেমন আছ তুমি? কোথায় আছ তুমি? শুনেছি মানুষ মারা গেলে তারা হয়ে যায় কিন্তু তুমি-ত তারা হওনি। যদি তারা হতে তবুও তোমায় দেখতে পেতাম কিন্তু তোমাকে-ত আমি দেখতে পাইনা। বলতে পারিনা তোমার জন্য আমার বুকের গহীনটায় কেমন পুড়ে দিবারাত্রি। আচ্ছা, তুমি কি আমায় দেখতে পাও?

এই সেই মাস যে মাসে তুমি শুধু আমাদেরকেই নয় সমস্ত পৃথিবীকেই বিদায় জানিয়েছ। সকল মায়াজাল ছিন্ন করেছ। আচ্ছা সত্যিই কি তুমি আমাদের ছেড়ে যেতে চেয়েছিলে? মৃত্যুর আগ মুহুর্তেও কি আমাদের চেহারা ভেসে উঠেছিল? তুমি মারা যাবার আগে কি যেন বলতে চেয়েছিলে শামীম তা বুঝতে পারেনি। তখনও কি তুমি আমাদের নাম ধরে ডাকছিলে শেষ দেখা দেখার জন্য? মৃত্যু যন্ত্রনা কি খুব বেশি? খুব জানতে ইচ্ছা করে।

তুমি সেদিন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে তাই অনেক কিছুই দেখতে পাওনি।
তুমি দেখতে পাওনি তোমার জানাযার আগেই মায়ের পড়া ধবধবে সাদা শাড়ির সৌন্দর্যতা। জীবনে এই প্রথম দেখেছি সাদা শাড়ি পড়া নিথর মাকে। হাতে চুড়ি নেই, কানে দুল নেই--এ যেন আমার মা নয়!!! সেই সাদা শাড়ি আজ পর্যন্ত পড়ে চলেছে মা। মার জন্য কোন রঙ্গীন শাড়ি কিনলে পড়ে না। বলে, " এসব আমার জন্য নয়। "--------এ কথার মাঝেও যে কতটুকু ব্যাথা জড়িয়ে আছে যদি তুমি শুনতে!!

বাবা, আজ তোমায় অনেক বেশি মনে পড়ছে। মনে পড়ছে পড়ালেখা রেখে খেলার জন্য যে মার দিতে, আদর করে যখন বাবা বলে ডাকতে, গোসল করিয়ে দিতে। সকাল বেলায় আমায় নিয়ে হাটতে যেতে। বাবা তোমার হাতে অনেকদিন কোন মার খাইনা, খুব ইচ্ছা হচ্ছে মার খেতে।

বাবা, তখন ছোট ছিলাম তাই অনেক কিছুই তোমাকে বলতে পারিনি। কিন্তু আজ বলব------------------

মামা যখন ঈদে আমাদের সবাইকে কাপড় দিত তখন তুমি চুপ হয়ে থাকতে। সবাইকে কাপড় না দিতে পারার অক্ষমতাই তোমার এই চুপ থাকার কারন। কাপড় পেয়ে যতটুকু খুশি হতাম কিন্তু তোমার ঐ মলীন মুখ দেখে ততখানিই কষ্ট পেতাম যা কখনও বলিনি।

এক ঈদে তোমার কাছে বায়না ধরেছিলাম আমাকে পাঞ্জাবী কিনে দিতেই হবে। ঈদের আগেরদিন অনেক ঘুরাঘুরি করেও কারও কাছ থেকে টাকা না পেয়ে দোকানে বাকি চাইলে। দোকান বাকি দিল না, লজ্জায় তোমার মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে চাচাত ভাইয়ের কাছ থেকে ৮০ টাকা নিয়ে আমার পাঞ্জাবী কিনে দিয়েছিলে। সেদিন আমি তোমায় বলতে পারিনি তোমার লজ্জা পাবার বিনিময়ে আমার এ পাঞ্জাবী দরকার নেই।

স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বেতন দেবার যেদিন শেষদিন সেদিন তুমি আমায় স্কুলে পাঠিয়ে বলতে আমি এসে বেতন দেব। কিন্তু বলতে না আমার কাছে টাকা নেই। আমি ভয়ে থাকতাম যদি টাকা না জোগাড় করতে পার। অবশেষে ঠিকই এসে বেতন দিতে তুমি। আমি সেদিন ঠিকই বুঝতাম তোমার হাতে টাকা নেই বলে স্কুলে এসে বেতন দিতে কিন্তু কিছুই বলিনি।

তুমি কোন স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ার কথা বললে আমি বলতাম প্রাইভেট পড়তে আমার ভাললাগেনা। সেদিন তোমার কথা ভেবেই আমি প্রাইভেট পড়তাম না যেন প্রাইভেট খরচের টাকাটা সংসারে ব্যয় করতে পার, যেন তোমার শরীরের ঘাম কম ঝড়ে।

আমি খুব বেশি মাছ ধরতে যেতাম বলে তুমি বলতে, " আমার ছেলে জেলে।" আমি প্রতিদিন মাছ ধরতে যেতাম যেন তোমার বাজার খরচ কমে যায় কিন্তু তোমাকে কোনদিন বুঝতে দেইনি।

বাবা, তুমি যখন মা-এর জন্য কোন শাড়ি কিনে এনে দিয়ে বলতে, " জীবনে-ত কোন কিছুই কিনে এনে দিতে পারিনি এই শাড়িটাই নাও।" তখন মা-এর মুখের হাসিটাই ছিলো অন্য সব দিনের থেকে আলাদা। সেইদিন তোমাদের কাউকেই বলতে পারিনি এমনি করে চোখের সামনে থেকো সারাজীবন।

তোমার চোখে প্রথম পানি দেখি যেদিন মা অসুস্হ হয়ে বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু তোমার হাতে টাকা নেই এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শহরে নিয়ে যাবার মতো। সেদিন আমিও কেঁদে দিয়েছিলাম কিন্তু তোমাকে বলতে গিয়েও বলতে পারিনি, " আমাদের দিন পাল্টে যাবে, তুমি আর কেঁদো না বাবা।"

অনেক কথাই বলার ছিল যা বলতে পারিনি। সবশেষে শুধু এতটুকুই বলতে চাই, " বাবা যেখানেই থাকো, ভাল থেকো।"

ইতি
তোমার অযোগ্য সন্তান


সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৬
১৭টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×