আমার প্রিয় পোস্ট
- শত উদাসীন বেকার ঘুরে.....মহাকবি ঝরে পড়ে - হিমালয়৭৭৭
- চাঁদের জন্য গান-- সন্জীব চৌধুরী - কঁাকন
- বিহংগের বয়কট - বিহংগ
- ভাটিতে পড়ে থাকে এক পা ওয়ালা বকের মত দুঃখগুলো - সুলতানা শিরীন সাজি
- বিশ্বাসে - অবিশ্বাসে - চিটি (হামিদা আখতার)
- -পুরাতন কথা- - বাবুয়া
- আমার বামহাতটা কব্জির নীচ থেকে উড়ে গিয়েছিলো ............... - হনলুলু
- আমাদের মাতৃগর্ভগুলি এই নষ্ট দেশে..... - মনজুরুল হক
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৮ (পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা । কথোপকথন ৩৯) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- সুমন প্রবাহনের কবিতা (কাব্যগ্রন্হ : পতন ও প্রার্থনা) ও স্বার্থপর আমরা ! - রেটিং
- তোমাকে চিনেছি ঘাতক - মাহমুদুল হক ফয়েজ
- আমি মানুষ নই - নিয়ন আলোয় বাউল
- আমার কবিতারা না হয় ঘুমিয়ে পড়ুক। - রাতিফ
- বাবা-----যে কথা তোমাকে বলা হয়নি। - অন্তিম
- কষ্ট! কষ্ট!! কষ্ট!!! - কালপুরুষ
- আমার সকাল এবং মর্মস্পর্শী কিছু কথা। ( সতর্কীকরন: উচ্চবিত্তদের জন্য নহে। ) - অন্তিম
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ৯১ ব্লগার রক্তদাতার ঠিকানা। (আপনি কি রক্ত দিতে আগ্রহী?) - ভবঘুরে
- আমার মায়ের সাতটি মিথ্যা কথা - প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
- বাংলা বই পড়ুন - শরীফ উদ্দীন
- পিসি কে আরো ফাস্ট করুন - মোহিত
- My Saviour: Moment of Truth - মুনিয়া
- ১৯৭১ ট্রাজেডিঃ মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক দলিল.... - ভাস্কর চৌধুরী
বাবা-----যে কথা তোমাকে বলা হয়নি।
২৯ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:২২
বাবা,
কেমন আছ তুমি? কোথায় আছ তুমি? শুনেছি মানুষ মারা গেলে তারা হয়ে যায় কিন্তু তুমি-ত তারা হওনি। যদি তারা হতে তবুও তোমায় দেখতে পেতাম কিন্তু তোমাকে-ত আমি দেখতে পাইনা। বলতে পারিনা তোমার জন্য আমার বুকের গহীনটায় কেমন পুড়ে দিবারাত্রি। আচ্ছা, তুমি কি আমায় দেখতে পাও?
এই সেই মাস যে মাসে তুমি শুধু আমাদেরকেই নয় সমস্ত পৃথিবীকেই বিদায় জানিয়েছ। সকল মায়াজাল ছিন্ন করেছ। আচ্ছা সত্যিই কি তুমি আমাদের ছেড়ে যেতে চেয়েছিলে? মৃত্যুর আগ মুহুর্তেও কি আমাদের চেহারা ভেসে উঠেছিল? তুমি মারা যাবার আগে কি যেন বলতে চেয়েছিলে শামীম তা বুঝতে পারেনি। তখনও কি তুমি আমাদের নাম ধরে ডাকছিলে শেষ দেখা দেখার জন্য? মৃত্যু যন্ত্রনা কি খুব বেশি? খুব জানতে ইচ্ছা করে।
তুমি সেদিন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলে তাই অনেক কিছুই দেখতে পাওনি।
তুমি দেখতে পাওনি তোমার জানাযার আগেই মায়ের পড়া ধবধবে সাদা শাড়ির সৌন্দর্যতা। জীবনে এই প্রথম দেখেছি সাদা শাড়ি পড়া নিথর মাকে। হাতে চুড়ি নেই, কানে দুল নেই--এ যেন আমার মা নয়!!! সেই সাদা শাড়ি আজ পর্যন্ত পড়ে চলেছে মা। মার জন্য কোন রঙ্গীন শাড়ি কিনলে পড়ে না। বলে, " এসব আমার জন্য নয়। "--------এ কথার মাঝেও যে কতটুকু ব্যাথা জড়িয়ে আছে যদি তুমি শুনতে!!
বাবা, আজ তোমায় অনেক বেশি মনে পড়ছে। মনে পড়ছে পড়ালেখা রেখে খেলার জন্য যে মার দিতে, আদর করে যখন বাবা বলে ডাকতে, গোসল করিয়ে দিতে। সকাল বেলায় আমায় নিয়ে হাটতে যেতে। বাবা তোমার হাতে অনেকদিন কোন মার খাইনা, খুব ইচ্ছা হচ্ছে মার খেতে।
বাবা, তখন ছোট ছিলাম তাই অনেক কিছুই তোমাকে বলতে পারিনি। কিন্তু আজ বলব------------------
মামা যখন ঈদে আমাদের সবাইকে কাপড় দিত তখন তুমি চুপ হয়ে থাকতে। সবাইকে কাপড় না দিতে পারার অক্ষমতাই তোমার এই চুপ থাকার কারন। কাপড় পেয়ে যতটুকু খুশি হতাম কিন্তু তোমার ঐ মলীন মুখ দেখে ততখানিই কষ্ট পেতাম যা কখনও বলিনি।
এক ঈদে তোমার কাছে বায়না ধরেছিলাম আমাকে পাঞ্জাবী কিনে দিতেই হবে। ঈদের আগেরদিন অনেক ঘুরাঘুরি করেও কারও কাছ থেকে টাকা না পেয়ে দোকানে বাকি চাইলে। দোকান বাকি দিল না, লজ্জায় তোমার মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে চাচাত ভাইয়ের কাছ থেকে ৮০ টাকা নিয়ে আমার পাঞ্জাবী কিনে দিয়েছিলে। সেদিন আমি তোমায় বলতে পারিনি তোমার লজ্জা পাবার বিনিময়ে আমার এ পাঞ্জাবী দরকার নেই।
স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বেতন দেবার যেদিন শেষদিন সেদিন তুমি আমায় স্কুলে পাঠিয়ে বলতে আমি এসে বেতন দেব। কিন্তু বলতে না আমার কাছে টাকা নেই। আমি ভয়ে থাকতাম যদি টাকা না জোগাড় করতে পার। অবশেষে ঠিকই এসে বেতন দিতে তুমি। আমি সেদিন ঠিকই বুঝতাম তোমার হাতে টাকা নেই বলে স্কুলে এসে বেতন দিতে কিন্তু কিছুই বলিনি।
তুমি কোন স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ার কথা বললে আমি বলতাম প্রাইভেট পড়তে আমার ভাললাগেনা। সেদিন তোমার কথা ভেবেই আমি প্রাইভেট পড়তাম না যেন প্রাইভেট খরচের টাকাটা সংসারে ব্যয় করতে পার, যেন তোমার শরীরের ঘাম কম ঝড়ে।
আমি খুব বেশি মাছ ধরতে যেতাম বলে তুমি বলতে, " আমার ছেলে জেলে।" আমি প্রতিদিন মাছ ধরতে যেতাম যেন তোমার বাজার খরচ কমে যায় কিন্তু তোমাকে কোনদিন বুঝতে দেইনি।
বাবা, তুমি যখন মা-এর জন্য কোন শাড়ি কিনে এনে দিয়ে বলতে, " জীবনে-ত কোন কিছুই কিনে এনে দিতে পারিনি এই শাড়িটাই নাও।" তখন মা-এর মুখের হাসিটাই ছিলো অন্য সব দিনের থেকে আলাদা। সেইদিন তোমাদের কাউকেই বলতে পারিনি এমনি করে চোখের সামনে থেকো সারাজীবন।
তোমার চোখে প্রথম পানি দেখি যেদিন মা অসুস্হ হয়ে বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু তোমার হাতে টাকা নেই এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শহরে নিয়ে যাবার মতো। সেদিন আমিও কেঁদে দিয়েছিলাম কিন্তু তোমাকে বলতে গিয়েও বলতে পারিনি, " আমাদের দিন পাল্টে যাবে, তুমি আর কেঁদো না বাবা।"
অনেক কথাই বলার ছিল যা বলতে পারিনি। সবশেষে শুধু এতটুকুই বলতে চাই, " বাবা যেখানেই থাকো, ভাল থেকো।"
ইতি
তোমার অযোগ্য সন্তান
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্মৃতিচারন, স্মৃতিচারন ;
বিবর্ণ বলেছেন:
খুব মন খারাপ হয়ে গেল।
লেখক বলেছেন: আমারও খুব মন খারাপ থেকেই এটি লিখা। জানি না কেমন লিখেছি।
হৃদয়হীনা বলেছেন:
কেন কাঁদালেন?
লেখক বলেছেন: কেন কাঁদালাম জানি না তবে এটি লিখার সময় আমিও কেঁদেছি।
ভাল থাকবেন।
ইউনুস খান বলেছেন:
বাবা, তুমি যখন মা-এর জন্য কোন শাড়ি কিনে এনে দিয়ে বলতে, " জীবনে-ত কোন কিছুই কিনে এনে দিতে পারিনি এই শাড়িটাই নাও।" তখন মা-এর মুখের হাসিটাই ছিলো অন্য সব দিনের থেকে আলাদা।মা'র সেই হাসিটা আমিও দেখতে পাচ্ছি যেন।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
লেখক বলেছেন: মা-এর মুখের সেই হাসিটা আজও আমার চোখে লেগে আছে।
হয়ত এই হাসি আর হয়ত এনে দিতে পারব না তবে উনাকে কোনদিন কাঁদাব না।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভাল থাকবেন।
প্রিয়তি বলেছেন:
আমার প্রিয়তে রাখলাম, আপনার বাবার যেখানেই আছেন যেন ভাল থাকেন।
লেখক বলেছেন: আমায় ধন্য করলেন।
দোয়া করবেন আমার বাবা যেন ভাল থাকে।
জানা বলেছেন:
বাবাকে লেখা এই অসাধারণ চিঠিটা কখনও তঁার কাছে পঁৌছবেনা জানি। কিন্তু সন্তানের বুকের ভেতর বাবার জন্য যে আকুলি-বিকুলি, তা তো বাবা জানবেনই। যেখানেই থাকুন না তিনি! চোখ ভিজে এলো চমৎকার এই লেখাটি পড়ে।
বাবার জন্য প্রার্থনা, অনন্তশান্তি আর অসীম আলো তঁাকে ঘিরে থাকুক অনন্ত ওপার।
আপনাকে শুভেচ্ছা।
ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: যাদের বাবা নেই তারাই একমাত্র জানে বাবা হারানোর ব্যাথা।এমাসেই বাবা মারা গিয়েছিলো তাই বাবার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে।
আমি জানি আমার এ চিঠি বাবার কাছে কোনদিন পৌছবেনা---------তবুও বাবাকে যে কথা বলতে পারিনি তাই ব্যাক্ত করেছি এই চিঠিতে।
অনেক ধন্যবাদ। আপনিও ভাল থাকবেন
সাজুভাই বলেছেন:
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অনুভূতি শেয়ার করার জন্য। চোখ ভিজে এলো লেখাটি পড়ে। আপনার বাবার যেখানেই আছেন যেন ভাল থাকেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
বলতে বাঁধা নেই, লেখাটা আমাকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়ে গেলো।
ভালো থাকুন.........শুভেচ্ছা ।
লেখক বলেছেন: ঠিকই বলেছেন লেখাটি আমার আবেগের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ।
অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম যে কিছু লিখব বাবাকে নিয়ে কিন্তু হয়নি।
তাই জুন মাসের শেষের দিকেই লিখলাম কারন এ মাসেই আমার বাবা মারা গিয়েছিলো।
যাইহোক, ভাল থাকবেন ভাইয়া।
মুহিব বলেছেন:
আপনি তো বাবার জন্য মাছ ধরেছেন। আমি কিছুই করতে পারিনি। আপনাকে শ্রদ্ধা জানাই এত বড় মনের জন্য।
লেখক বলেছেন: মাছ ধরেছি কিন্তু সত্যিকার অর্থে কিছুই করতে পারিনি।
মাঝে মাঝে মনে হয় এখন যদি বাবা বেঁচে থাকত তবে অনেক খুশি হতেন।
বাবা নিয়ে আপনার পোষ্টটি আমি পড়েছি। অসাধারন।
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি উপদেশ দেবার জন্য।
আপনার বোন লিখাটি পড়েছি। খুব ভাল লেগেছে।
ভাল থাকবেন।
সমবেদনা জানাবনা, শুধু বলবো বাবার যোগ্য সন্তান হয়ে ইঠুন!
রাতিফ ভাই'র সাথে একমত।
লেখক বলেছেন: বাবার যোগ্য সন্তান হয়ে উঠতে পারব কিনা জানি না তবে চেষ্টা করব বাবার মত শত কষ্টেও নীতিকে ঠিক রাখতে।
অনেক ভাল থাকবেন প্রাকৃত ভাইয়া।
কালপুরুষ বলেছেন:
লেখাতে কষ্টের ছায়া সুস্পষ্ট। ভাল লাগলো। আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গেল।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কালপুরুষ দাদা।
ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: চিরন্তন সত্য কথা বলেছেন।


















