
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রিপোর্ট প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ সম্পাদককে হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা। গতকাল দলের উদ্যোগে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক কর্তাব্যক্তি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নাম উচ্চারণ করে বলেন, একটা কাগজ বানিয়ে যাচ্ছেতাই লিখে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না। মানুষ প্রতিহত করলে আপনি রাস্তায় বের হতে পারবেন না। আমরা আপনাকে চলতে দেব না। জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণ না হলে মাহমুদুর রহমানকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও আওয়ামী লীগ নেতারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারের এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নামে বিষোদগার করেন। তাকে অনুসরণ করে দলের যুগ্ম সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুল-উল আলম হানিফ এবং সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য ও সরকারের কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী তাদের বক্তৃতায় আমার দেশ সম্পাদকের কঠোর সমালোচনা করে তার প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বেগম মতিয়া চৌধুরী মাহমুদুর রহমানকে উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ক বলে আখ্যায়িত করে বলেন, মাহমুদুর রহমান ও তার দল বিএনপির ২২ জানুয়ারির ষড়যন্ত্রের নির্বাচন না হওয়ায় মনে জ্বালা ধরে আছে। পত্রিকায় নানা খবর পরিবেশন করছে। যা খুশি তাই ছাপতে থাকবে, এটা চলতে পারে না। যা খবর না, তা পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
মাহবুব-উল আলম হানিফ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নাম উল্লেখ করে বলেন, জয়কে খাটো করে দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে মাহমুদুর রহমান তার কাগজে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে জয়ের বিরুদ্ধে নিউজ পরিবেশন করছেন। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে হুশিয়ার করতে চাই, অভিযোগ সত্য প্রমাণ করতে না পারলে আপনাদের জনতার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচার করা হবে।
জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, দেশবাসী যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার তখন একটি পত্রিকা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) আমার দেশ পত্রিকায় দেখলাম জয়কে নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। মাহমুদুর রহমানকে বলতে চাই, ক্ষান্ত হন। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না। মানুষ প্রতিহত করলে আপনি রাস্তায় বের হতে পারবেন না। আমরা আপনাকে চলতে দেব না।
প্রকাশিত খবরের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনি কী জয়কে নিচে নামিয়ে তারেক জিয়াকে উপরে তুলতে চান? গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাস করি। সংবাদপত্র আর সাংবাদিকের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, একটি কাগজ বের করে যাচ্ছেতাই লিখে দেবেন। এটা করতে চাইলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, পেট্রোবাংলার কর্মচারীদের পক্ষ থেকে লিখিত পত্রে বৃহত্তর সিলেটের মুচাইতে বিনাটেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার একটি গ্যাস কম্প্রেসার স্থাপনে ৫ মিলিয়ন বা ৩৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয় জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়সহ মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত চিঠির কপি এবং এর ওপর ভিত্তি করে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালির ওপর ভিত্তি করে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে আমার দেশ-এ ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন তথ্যভিত্তিক ও মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে লেখা প্রতিবেদন নিয়ে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের এ জাতীয় বক্তব্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




