ইমপ্রেস টেলিফ্লিমের আহা! দেখে আসলাম আজকে। স্টার সিনেপ্লেক, বসুন্ধরা গার্ডেন সিটি। জায়গাটা ভালই সিনেমা দেখবার জন্য। কিন্তু, পয়সা একটু বেশিই রাখে। যাইহোক, সিনেমার কথায় আসি। কাহানি ভালই। কিন্তু, সিনেমার স্ক্রিপটে একটু সমস্যা রয়েছে। কেমন অতিরিক্ত নাটকিয়তায় ভরা। অনেকক্ষেত্রে হিন্দি সিরিয়াল টাইপ ডায়লগ আছে।
অভিনয়ের কথা বলতেই হয়। ফজলুল হক বাবু সোলায়মান চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছে। অন্যদিকে হুমায়ুন ফরিদির অভিনয়ও ভাল ছিল। অন্যদের অভিনয়ে তেমন আহামরি কিছু ছিল না।
সিনেমার একটি প্রধান চরিত্র রাবু। মেয়েটার বিয়ে হয় এসএসসির পরেই, আমেরিকা প্রবাসী এক ছেলের সাথে। কিন্তু, সেই ছেলে শেষে ঘাটিয়া নিকলা। মেয়ে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দেশে চলে আসে বাবার কাছে। মেয়ের বাবা পুরানো ঢাকায় নিজেদের অনেক পুরানো এক বাড়িতে একা থাকে। মা মরে গেছে অনেক আগে। তবে অন্য দশটা সিনেমার মত এ ছবিতে মায়ের স্মৃতিচারণ নেই। মেয়েটাদের বাসায় পাশে একটা বড় এপার্টমেন্ট। তারই নিচের এক ফ্লাটে থাকেন মোটামুটি বয়স্ক কিসলু সাহবে (হুমায়ুন ফরিদি) । কিসলু সাহেব বিয়ে করেন নি, বয়স হয়ত ৪০/৪৫ হবে। একা থাকেন, ব্যাংকে টাকা রাখা আছে, সুদের টাকায় জীবন চলে। তা রাবু প্রতিদিন তার বাসায় জানালা থেকে দেখে কিসলু সাহেবের বাসার বারান্দায় এক একদিন এক এক রঙের আন্ডারওয়্যার শুকোতে দেওয়া থাকে। মেয়েটা আগ্রহ জন্মে। সে প্রতিদিনই তাকাতে থাকে। কিসলু সাহেবও খেয়াল করে ব্যাপারটা। তিনিও আগ্রহি হন। তাদের চোখাচোখি, দেখাদেখি চলতে থাকে। এক পর্যায়ে কিসলু সাহেব ফোন করে রাবুকে। ফোনে ফোনে সম্পর্ক আগাতে থাকে। তারা দেখাও করে। রাবু কিসলু সাহেবকে ভালবেসেছিল কিনা জানি না। ভাই, মেয়েদের কাছে কোনটা ভালবাসা আর কোনটা বন্ধুত্ব আল্লাহ্মালুম। ঐ ঝামেলায় না হয় না পড়লাম।
এই ছবিতে রাবু-কিসলু সম্পর্কের ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত, যদিও জীবন সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা খুবই কম। রাবু এক তরুনী অন্যদিকে কিসলু সাহেব একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। তিনি একেবারেই আকর্ষনীয় কেউ না। তাকে নিতান্তই মহল্লাবাসী সাধারণ মুরুব্বি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আরো মজার ব্যাপার তার প্রতি রাবুর আকর্ষণের সূত্রপাত তার রঙবেরঙের আন্ডারওয়্যার দেখে।
এক পর্যায়ে রাবুর বাপ ব্যাপারটা জানতে পারে এবং সোলায়মান (বাবু) কে দিয়ে কিসলু সাহেবকে খুন করায়। কিসলু সাহেব খুনের পরদিনই রাবুর বাপ রাবুকে নিয়ে ঐ বাড়ি ছেড়ে চলে যায় অন্য ভাড়া বাড়িতে। তাদের পুরানোবাড়ি ডেভেলপারের কাছে দিয়ে দেবার পর। এইতো!! সিনেমা শেষ। আরও কিছু পার্শ চরিত্র আছে। সেগুলো, লেখার মত কিছু নয়।
একটা ধাঁধা থেকে যায় শেষে। আমি বুঝতে পারি নাই ঐ অংশটা। শেষে দেখায় কিসলু সাহেব তার বারান্দায় তার সব গুলো আন্ডারওয়্যার বেনীআসহকলা এই ক্রমানুসারে শুঁকোতে দিয়েছেন। এর মানে কি? কিসলু সাহেবের কি খুন হয় নাই? নাকি অন্য কিছু? ভাই কেউ দেখে থাকলে আমারে একটু বুঝায়া দিয়েন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



