somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিঃসঙ্গতা তোমায় ভালবাসি

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর আগে হতে নানা কারনে নিজেকে এই ব্যস্ত ঢাকা শহরে বড় একা লাগত। বন্ধু খোঁজার প্রয়োজন ছিল, যদিও কপালে বন্ধু জুটল না তখন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত নিঃসঙ্গতাকে জীবনের অভিশাপ মনে করতাম। কিন্তু, আজ প্রিয় নিঃসঙ্গতা আমার কাছে ধরা দিয়েছে এক নতুন রুপে। এক আশির্বাদ রুপে।


আজ আমি ২০ টি ঘন্টা পেয়েছিলাম একাকী নিজেকে নিয়ে কাটাবার জন্যে। ছিলাম সম্পূর্ণ একাকী, ছিল না কোন তাড়া, এমনকি কারও ফোন রিসিভ করারো বাধ্যবাধকতা ছিল না। একাকী এ সময়ে ভোগ করলাম, আমার প্রিয় নিঃসঙ্গতার সঙ্গ। একাকী সময়ে মনের খুব কাছে পেয়েছি আকাশ, চাঁদ, কুয়াশা, শিশির, শীত, উষ্ণতা, সূর্যের আলো, রাতের অন্ধকার আরও কত কি! কারও সঙ্গ তো আমাকে একত্রে জীবনের এত গুলো উপাদানকে ভোগ করতে অনুমতি দেয় না। কেউ সাথে থাকলে, সে আমার যতটা মনোযোগ কাড়ে, এ বিশ্বমন্ডল হতে আমার মনযোগ ততটাই সরে আসে। একটি মানুষের সঙ্গ যদি এতগুলো নৈসর্গিক আনন্দ হতে বঞ্চিত করে তবে, কেন চাইব সে সঙ্গ?


প্রিয় নিঃসঙ্গতাকে সাথে করেই তো আমি বইপড়ে ঢুকে গেছি উপন্যাসের চরিত্রে অথবা হাজার লোকের মাঝে ডুবে গেছি সংগীতের জগতে। পদার্থবিদ্যা পড়বার কালে ঘুরেছি মহাবিশ্বের গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে, অনুর পরমানু থেকে পরমানুতে, জীব কোষের ভেতর ঢুকেছি, প্রোটিনের একএকটি অ্যামিনো এসিড থেকে অপরটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়িয়েছি। প্রিয় নিসঙ্গতা আমাকে খুঁজে দিয়েছিল, কম্পাস দিয়ে আঁকা বৃত্তের মাঝে সৃষ্টিকর্তাকে। নিসঙ্গতা আমাকে ভালবাসতে দিয়েছে একই সাথে “লা নুই বেঙ্গলির” মৈত্রয়ীকে, অথবা গোরার (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) ললিতাকে। খানিকের জন্য ভালবেসে ছিলাম শেষের কবিতার লাবন্যকেও। যদিও তা দুদিনের বেশি টিকেনি।


প্রিয় নিঃসঙ্গতা আমাকে বুঝতে বলেছে পৃথিবীকে, বুঝতে বলেছে জীবনকে, দেখতে শিখিয়েছে বাংলাদেশকে, এর মানুষকে। নিসঙ্গতার এ আশির্বাদ, কি শুধু আমার জন্যই? না, মানুষের যা কিছু মহান তার মাঝেই আছে প্রিয় নিসঙ্গতার ছোঁয়া। যখন চিন্তা করি মহাবিজ্ঞানী নিউটনের কথা, একাকী প্রিয় নিসঙ্গতার সাথে না থাকলে কি আপেল পতন তার দৃষ্টি সেভাবে কাঁড়তে পারতো, অথবা শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞানী ডারউইন যদি গ্যালাপাগোস দ্বীপে নিজ নিঃসঙ্গতাকে সাথে নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ডুবতে না পারতেন, তবে আজ এ বিবর্তনবাদী কোথা হতে উদয় হত। নিঃসঙ্গতা আমাদের উপায় করে দিয়েছে জগতের সব কিছুর মাঝে এক আনন্দ, এক সুখ, এক প্রেম খুঁজে নিতে। খানিকের জন্য প্রিয় নিসঙ্গতা আমার কাছ থেকে সরে গেলেই, ডুবে যেতে চাই কোন একজনের প্রেমে, জগতের সব আনন্দ, সুখ, প্রেম খুজতে চাই সেই একেরই মাঝে। সেখানে পান থেকে চুন খসলেই, প্রিয় নিঃসঙ্গতার এক বিকৃতরুপ আমাদের সামনে ভাসতে শুরু হয়। প্রতিনিয়ত সাথির কাছে সঙ্গ প্রার্থনা বা সাথি খোজার ছলে হত্যা করি প্রিয় নিঃসঙ্গতাকে। মনের কাছে নিসঙ্গতা ধরা দেয় এক অভিশাপ রুপে।


আমার প্রিয়াকে বলেছিলাম, “তুমি আমার হও কায়মনোবাক্যে, আমি তোমার হব বিনা শর্তে”। কিন্তু আজ আর শর্ত আরোপ না করে পারছিনা। প্রিয়াকে আজ শর্ত দেব, “আমার মন যখন চাইবে, তখনই আমাকে ছেড়ে দিতে হবে প্রিয় নিসঃঙ্গতাকে উপভোগ করতে, কোন প্রকার টালবাহানা চলবে না”।


আজ অনেক অনেক দিন পর এক অতিইন্দ্রিয়িক আনন্দের স্বাদ পাচ্ছি, প্রিয় নিসঙ্গতাকে নতুন রুপে আবিস্কার করে। জোরে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে, “ভালবাসি, নিঃসঙ্গতা তোমায় আমি ভালবাসি”।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২২
১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×