আমার প্রিয় পোস্ট
- Search Engine Optimization – এ হাতেখড়ি (পর্ব ১) - হাসান
- শাবানা আজমির দুঃখ - আলফাজ আনাম - আহসান মোহাম্মদ ক
- উড়ে যায় পাখি,ফেলে যায় পালক তার, একটা সাদা এবং একটা কালো - সুলতানা শিরীন সাজি
- অনলাইনে টাকা কামানো সর্ম্পকিত ব্লগ - হাসান
- সামহোয়্যারের ব্লগার ও পোস্ট - কত প্রকার ও কি কি (সবিস্তারে বর্ননা - অবশ্যই দেখুন)
- নাফিস ইফতেখার
- সৌখিন আলোকচিত্রীদের জন্য সুখবর। - অরণ্য আনাম
- বাবা আলাউদ্দীন - ইমন জুবায়ের
- ভেবে দেখুনতো ইন্টানেটে নিজের ছবি দেয়াটা উচিৎ কি-না। - লুলুপাগলা
- ভালবাসাবাসি করেন
.... তয় In Ishtyle!!!!
(অনুবাদ পোস্ট) - এম্নিতেই
- পোস্টের সাথে সম্পর্কহীন আলোচনার জন্য। - বিবর্তনবাদী
- ইসরাইলের গর্বিত এক বাংলাদেশী বন্ধুকে দেখুন,চিনুন,জানুন। - চিলে কোঠার সেপাই
- আস্তিক-নাস্তিক-সংশয়ী এবং তাদের ঈশ্বর - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- পেনড্রাইভ থেকে পিসিতে ভাইরাস ঢোকবার পথটাই বন্ধ করে দিন - মোঃ রফিকুল আলম (পাভেল)
- The Jewel of Medina(Freedom of speach এবং artistic license নামে মিথ্যার বেসাতি) - আশিক হাসান
- শিউলী তোকে চিঠি - সুলতানা শিরীন সাজি
- বাংলাদেশে এক্টিভিস্ট হওয়া কি আদৌ সম্ভব (চার পর্ব একসঙ্গে) - ফাহমিদুল হক
- চির উন্নত শির(আজ আমাদের জাতীয় কবির ১০৯তম জন্মবার্ষিকী,বাংলা ১১ই জৈষ্ঠ হিসেবে আগামী কাল-ও){ছবি ব্লগ} . - অ্যামাটার
- আজ ১৯ আগষ্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের ৪৬ তম জন্মদিবস - কবি হেলাল রশিদ
- লুকোচুরি গল্প


- শিরোনামহীন
- মুঠোফোন-সফটওয়ার'জ - চিলে কোঠার সেপাই
- ১৮৯ জন ব্লগার এবং তাদের জন্মতারিখ - শাহবাজ
- আমার প্রিয় পোস্টগুলো - বিবর্তনবাদী
বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:১৫
পূর্ববঙ্গ তথা আমাদের আজকের এই বাংলাদেশের বিবেক আমাদের প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর যাত্রা শুরু ১৯২১ সালে। ঢাবির এই ৮৭ বছরের ইতিহাস যেমন ঘটনাবহুল তেমনি এর প্রতিষ্ঠা পূর্ব ঘটনাবলীও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ভারতের শাসন ভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাত থেকে বৃটিশ রাজের হাতে হস্তান্তর হয় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর থেকে। এ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল বৃটিশ ভারতের বাংলা থেকে। ভারতীয় জাতিগুলির মধ্যে বাঙালিরা ছিল সবথেকে সুচিহ্নিত জাতীয় স্বকীয়তার অধিকারী এবং তারা ভারতের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিকাশে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম ছিল। বাঙালিরা চিরকাল পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছিল। বাংলার বিদেশী শাসন কখনই সুস্থির হয়নি। ফলে বৃটিশরা এক্ষেত্রে তাদের বিভেদনীতি প্রয়োগের কূটকৌশল গ্রহণ করে।
দুই বাংলায় বিভেদ সৃষ্টির উপকরণ বৃটিশদের হাতেই ছিল। এর প্রথমটি ছিল ধর্ম ও দ্বিতীয়টি ছিল পূর্ব বাংলার আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতা। পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ মুসলমান, এবং পশ্চিম বঙ্গের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু। অন্যদিকে বাংলার সব থেকে উৎপাদনক্ষম অংশ হওয়া স্বত্তেও পূর্ব বাংলা শিল্প-বানিজ্য, শিক্ষা, প্রভৃতিতে পশ্চিম বাংলা থেকে অনেক পিছিয়েছিল। কলকাতায় বিলাসবহুল জীবপন যাপন করা জমিদার সম্প্রদায়ের বেশির ভাগের জমিদারীই ছিল পূর্ব বাংলায়। পূর্ব বাংলার প্রধান শহর ঢাকা, পশ্চিম বঙ্গের কলকাতার তুলনায় কিছুই ছিল না। অথচ, ঢাকা শহর যখন মুঘল সম্রাজ্যের বাংলা সুবার রাজধানী কলকাতা তখন নিছক কতিপয় গ্রামের সমষ্টি।
বৃটিশদের সাথে বিশেষ সম্পর্কের সুবাদে ও ইংরেজী শিক্ষার বদৌলতে বাংলার হিন্দুরা সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রাজধানী কলকাতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিন্দুদের প্রভাব পোক্ত হয়। এর অন্যতম কারন পশ্চিমবঙ্গ ছিল হিন্দু অধ্যুষিত অন্য দিকে পূর্ব বঙ্গ ছিল মুসলমান অধ্যুষিত। জনসংখ্যার দিক দিয়ে সমগ্র বাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ট ছিল। সেই অনুপাতে পূর্ব বঙ্গের শিক্ষার অবস্থা ছিল বেহাল। গরীব পূর্ববাংলার জনগনের উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে হত কলকাতা। পূর্ববঙ্গের সকল কলেজের মঞ্জুরির ক্ষমতা ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে এবং পরীক্ষার উত্তরপত্র তারাই মূল্যায়ন করত। কলকাতা বিশ্ববিদালয়ের নম্বর প্রদানে প্রায়ই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠত।
এদিকে এ সময়ে বাংলা সাহিত্যে যে জোয়ার আসে, তার মূলে ছিলেন কলকাতা নিবাসী হিন্দু লেখক সাহিত্যিকরা। যদিও তারা তাদের লেখনিকে সমগ্র বাংলার মানুষের সমাজ জীবনের প্রতিফলন বলে প্রচার করতেন, কিন্তু তাতে শুধুমাত্র হিন্দুদের কথাই ফুটে উঠত। বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক একবার তাই বলেছিলেন, “তৎকালীন সাহিত্য গুলোতে যত গুলো চরিত্র আছে তাদের নাম পাশাপাশি রেখে পরিসংখ্যান করলেই দেখা যাবে রাম শাম যদু মধুদের সংখ্যা কত আর রহিম করিমের চরিত্রের সংখ্যা কত। অথচ, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান ছিলেন। অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যেও পূর্ববাংলা তার স্থান পায় নি।
এহেন পরিস্থিতিতে বৃটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দেয়। তারা তাদের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রচার করে “প্রশাসনিক সুবিধা ও পূর্ববঙ্গের আর্থসামাজিক উন্নয়ন”। পিছিয়ে পড়া পূর্ববঙ্গবাসীর কাছে এ ঘোষণা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কারন, নতুন প্রদেশ হলে ঢাকা হবে তার রাজধানী ফলে শুধু মাত্র এই কারনে পূর্ব বঙ্গ আগের থেকে অনেক বেশি সুবিধা লাভ করবে। অন্যদিকে, কলকাতার এলিট সমাজের প্রায় সকলেই এর বিরুদ্ধে যায়। এই এলিটদের অধিকাংশই ছিলেন জমিদাররা যাদের জমিদারী ছিল পূর্ববঙ্গে। বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বঙ্গকে আর শোষণ করা সম্ভব হবে না এটা তাদের কাছে পরিস্কার ছিল।
তৎকালীন শিক্ষিত সমাজে পূর্ব বঙ্গের মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী কেউ ছিল না বললেই চলে। এখানকার কতিপয় নেতারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্দে নিজেদের দলকে সৈণ্যহীন পান। ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয় এবং পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকা আবারো তার রাজধানীর গৌরব হারায়। ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, টাঙ্গাইলের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী, এ কে ফজলুল হক প্রমুখ ছিলেন পূর্ব বাংলার প্রধান নেতা। এরা একপর্যায়ে ভাইসরয়ের সাথে দেখা করেন, ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য। বলাবাহুল্য, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমান শিক্ষিত হবার সুযোগ পেত, সেই সাথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়লদের প্রভাব থেকে পূর্ব বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো মুক্তি পেত। ১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফর করেন এবং ঢাকাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ফলে এর পেছনে লেগে পড়ে সেই পশ্চিমবাংলার লবি। ড. রাশবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল লর্ড হার্ডিঞ্জের সাথে দেখা করে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা করে স্মারকলিপি প্রদান করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও রাজনীতিবিদ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি অত্যন্ত সক্রিয় ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতা করেন। স্যার আশুতোষ মুখার্জির ব্যাপক প্রতিরোধের ফলে এক পর্যায়ে লর্ড হার্ডিঞ্জ তার সাথে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। অবশেষে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঁচটি নতুন অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করা হলে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় লড়াইয়ে ক্ষান্ত দেন। কিন্তু, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মঞ্জুরী ক্ষমতা প্রদান করতে দেননি। বিধায় ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের আগ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার সব কলেজকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকতে হয়েছিল।
এদিকে ১৯১৫ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মারা গেলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব আলি চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার হাল ধরেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যোগে ভাটা পড়ে। ১৯১৭ সালে লন্ডনে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে নওয়াব আলি চৌধুরী অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আহ্ববান জানান। অবশেষে, সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে।
পশ্চিম বঙ্গ লবি এরপরও ক্ষান্ত দেয় না। পূর্ব বঙের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান হওয়ায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ইসলামের ইতিহাস শিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়। ফলে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলত "মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়" অথবা "মক্কা অব দি ইস্ট"। অথচ, প্রতিষ্ঠার প্রথমে দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্ররাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ট। তাছাড়া, অদ্ভুত হলেও সত্য হল এই যে এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস এর অধীনে পড়ানো হত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম আলাদা বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগ খোলা হয়। কলকাতা কেন্দ্রিক এহেন অপমানকর প্রোপাগান্ডার বিরূদ্ধে লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ঢাল হয়ে দাড়ান, এর কিছু প্রতিতযশা হিন্দু শিক্ষক। আইনজ্ঞ অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, রসায়নবিদ জ্ঞান ঘোষ, বিখ্যাত ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার, পদার্থ বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু এবং আরো অনেক হিন্দু শিক্ষক সাম্প্রদায়িক চিন্তা ভাবনার উর্ধে থেকে আমাদের প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তার প্রথম দিকে কণ্টকাকির্ন পথ অতিক্রমে সাহায্য করেন। অধ্যাপক নরেশচন্দ্র মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের কাঠামো তৈরি করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের দিকে জোর দেন। এই সব শ্রেদ্ধেয় শিক্ষকরা ঢাকার হিন্দু সমাজের কাছ থেকেও বিরোধের সম্মুক্ষিণ হন। প্রথম দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ভাতা ছিল অনেক বেশি এবং তারা রমনা এলাকায় বঙ্গভঙ্গের সময় গড়ে উঠা বড় বড় সরকারী ভবনে থাকতেন। ঢাকার ঈর্ষান্বিত হিন্দু সমাজ এটা সহ্য করতে অপরাগ ছিলেন।
কলকাতা নিবাসী বুর্জোয়া হিন্দু সম্প্রাদায়ের গোড়ামী বদৌলতেই,এক পর্যায়ে বৃটিশদের কূটকৌশলের জয় হয় এবং মনস্তাত্বিকভাবেই দুই বাংলা পৃথক হয়ে পড়ে। প্রাদেশিক সিমান্ত রেখার আর কোন প্রয়োজন ছিল না। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পেছনে পশ্চিমবাংলার এলিটরা যে সব যুক্তি দেখিয়েছিলেন সেগুলো যে নিছক রাজনৈতিক ছিল তা পরিস্কার হয়ে উঠে ১৯৪৭ এর দেশবিভাগের সময়। আবুল হাশিম, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতারা ভারত-পাকিস্তানের সাথে না গিয়ে স্বাধীন বাংলা দেশের যে প্রস্তাব রেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি, পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের অসহযোগীতার কারনে। মূলত, ব্যাপারটা ছিল এই রকম, ১৯০৫ সালে পশ্চিমবাংলার হিন্দু মধ্যবিত্তের প্রতিযোগীতায় আসতে পারে এমন কোন মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় পূর্ব বাংলায় ছিল না। দুই বাংলা এক থাকলে বিনা প্রতিরোধে পূর্ব বাংলাকে শোষণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ এ পরিস্থিতি ছিল উলটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় গড়ে উঠেছিল একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর নিকট গন্য হয়েছিল প্রতিপক্ষ স্বরুপ। এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাড়াবার সাহসের অভাবে কলকাতার বাবুরা আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করলেন।
১৯০৫ এ যদি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হত তাতে ক্ষতি কি হত? ভারতে কত প্রদেশ রয়েছে, তাই বলে কি প্রদেশগুলো এক ভারতের অংশ নেই? সম্পূর্ণ বাংলাকেই যদি তারা এক চোখে দেখে থাকবেন, তবে কেন পশ্চিম বঙ্গের থেকে পূর্ব বাংলা এত পিছিয়ে ছিল? উত্তর একটাই, পশ্চিম আমাদের পূর্ব বাংলাকে শোষণ করেছে। সে পশ্চিমের অংশ যেমন মুঘল, বৃটিশ, পাকিস্তান তেমনি পশ্চিমবঙ্গ। এই পশ্চিমাদের অসহযোগীতায় আমরা পূর্ববাংলাবাসী যদিও পাকিস্তানের সাথে গিয়েছিলাম, তবুও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মাঝে স্বাধীনতাবোধ, দেশমাতৃকার প্রতি প্রেম ও বাংলাভাষা কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের যে চেতনার জন্ম দেয় তারই বদৌলতে আমরা জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছি অসম্পূর্ন বঙ্গভঙ্গের সম্পূর্ণ রুপ , আমাদের বাংলাদেশ।
(বিদ্র: লেখাটিতে যে সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তার সব পাওয়া যাবে নিচের বইগুলোত –
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর – অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম
২. যদ্যপি আমার গুরু – আহমদ ছফা
৩. বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি – বদরুদ্দীন উমর)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববি ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার কথা, তথ্য সংকলন বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের সাথে একমত। তবে, কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করি। সবাই কলকাতার পথে লাইন দিয়েছিল এ কথাটা কতটা সঠিক। মুসলমান ছাত্রদের একটা অংশতো ছিলই, যা অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগের থেকে অনেক বেশি। আর হিন্দুদের সবাই যে কলকাতার পথে পাড়ি দিয়েছিল, এ কথা বলে যারা পূর্ববঙ্গে থেকে গিয়েছিলেন তাদের অবদানকে কি খাট করা হচ্ছে না।
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
বিবর্তনবাদীকে পোস্টের জন্য এবং দিগন্তকে সুন্দর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
তারার হাসি বলেছেন:
nice post.
পথহারা বলেছেন:
++++++++++++++
এবি+ বলেছেন:
আরে, আমার কমেন্ট টা মুছছেন কেন ??????
লেখক বলেছেন: কি বললেন এটা??? আমি আপনার কোন কমেন্টস্ মুছি নাই। অনুগ্রহ করে আবার দিন।
দিগন্ত বলেছেন:
"মুসলমান ছাত্রদের একটা অংশতো ছিলই" - আমি শুধু উচ্চবর্ণের হিন্দুদের কথাই বলেছি। যারা থেকে গিয়েছিল, তারা সংখ্যায় খুবই কম। ঠিক কতটা কম সেটা বুঝতে গেলে আপনি কিন্তু স্ট্যাটিস্টিক্স দেখলে ভুল করবেন। কোয়ালিটিতে কত ভাল ভাল লোক ওই সময়ে ঢাকা আর চট্টগ্রাম ছেড়েছেন তা আপনি এখন পশ্চিমবঙ্গে এলে বুঝতে পারবেন (অমর্ত্য সেন উদাহরণ)। এখনো আমাদের ভাল কোনো ব্যাচে অর্ধেকের বেশী পূর্ববঙ্গের বংশোদ্ভূতরা থাকে (আমার বাবা এসেছেন ১৯৭১এ)। পড়াশোনাও এরাই ডমিনেট করে। যারাই মনে করছে পশ্চিমবঙ্গে এসে কিছু করে খেতে পারবে তারাই চলে এসেছিল। সব মিলিয়ে এপারে পূববঙ্গীয় সংখ্যায় এক কোটির কাছাকাছি হবেই।
সবাই কোলকাতার আশেপাশে কোনোরকম মাথা গুঁজেছিল। কিন্তু এখন দু জেনারেশন পরে কেউ আর মাথা ঘামায় না। সবাই মোটামুটি করে খাচ্ছে।
আর, জমিদারী যে খুব একটা ভাল কিছুছিল না, সেটাও সবাই টের পেয়েছে। পুর্ববঙ্গীয়রাই এপারে কমিউনিজমের জনক - যা সরাসরি জমিদারী বিরোধী। আজকে পশ্চিমবঙ্গে কেউ ১ একরের বেশী কৃষিজমির মালিক হতে পারে না। ৬০ বছর আগে এই জমিদারদের কেউ ভাবেওনি তাদের পরের জেনারেশন এই নীতির পক্ষে লড়ে প্রাণ দেবে (নকশাল আন্দোলন)।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
এবি+ বলেছেন:
আমার কমেন্ট তাহলে কিভাবে মুছলো !?
লেখক বলেছেন: আমি কি জানি? কর্তৃপক্ষকে জিগান। আর আবার কমেন্টটা করেন।
নরাধম বলেছেন:
শোকেসে পাঠালাম।
অচেনা বাঙালি বলেছেন:
যাহোক, আপনাকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, এখানে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত প্রায় সবাই মনে করেন এই স্বাধীন বাংলা হলেই বাঙালীদের সবথেকে ভাল হত। পূর্বকেও পাকিস্তানের সাথে যেতে হত না, পশ্চিমকেও হিন্দি শিখতে হত না।
দিগন্ত বাবুকে লম্বা পেন্নাম।
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েও স্বপ্ন দেখতাম খন্ডিত জার্মানি একীভূত হওয়ার মত একদিন খন্ডিত বাংলা এক হয়ে স্বাধীন বাংলা হবে। ৪৭এ অখন্ড স্বাধীনবাংলার প্রচেষ্টা ও স্বপ্ন ভংগ নিয়ে একটা লেখা দেওয়ার ইচ্ছা আছে।
অথচ প্রথম ২০/২৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্ররাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ট।
বিবর্তনবাদী, এই তথ্যের কোন সোর্স থাকলে দিলে বাধিত হতাম।
লেখক বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর - অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। (বইটা গতকাল এক বন্ধু নিয়ে গেছে, তাই পৃষ্টা নম্বর দিতে পারলাম না, তবে দুই একদিনের মাঝেই দেবার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও শিক্ষক সাহিত্যিক অমলেন্দু বসু তার অবিস্মরণীয় প্রবন্ধে লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে যেমন অক্সফোর্ড অব দি ইস্ট নামক সংবাদপত্রী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল তেমনি এর সংগে "মেক্কা অব দি ইস্ট" অর্থাৎ এটি প্রধানত মুসলমানদেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ........... ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষক ও ছাত্রের সংখ্যা দীর্ঘকাল মুসলমানদের অনুপাতে বেশি ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অমুসলমান ছাত্রদের খেলাধুলা, বিদ্যাচর্চা, সামাজিক জীবনে কোন রকমেই সংকুচিত ছিল বলে আমি ১৯২৬-৪৮ সালের মধ্যে আমার ছাত্র জীবনে ও শিক্ষক জীবনে দেখি নি।
প্রবন্ধের এই অংশটুকু আপনি "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর" বইয়ের ২৯ পৃষ্ঠায় পাবেন। আরো কোন এক পৃষ্ঠায় এ ব্যাপারে লেখা আছে, এখন খুঁজে পাচ্ছি না।
২০/২৫ বছর সংখ্যাটি আমার উল্লেখ করা ঠিক হয়নি। লেখা উচিত ছিল প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘকাল। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ঠিক করে দিলাম।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ঘটনা হিসাবে অনেক কিছুই হয়তো ঠিক আছে- কিন্তু যেভাবে সাজিয়েছেন এবং যে বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন তথা যে দৃষ্টিভঙ্গি এখানে প্রকাশ পেয়েছে- তা অত্যন্ত ন্যারো।
বঙ্গভঙ্গের ঘটনা, বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনা সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্কার হতে পারে আপনার সূত্র হিসাবে দেয়া বদরুদ্দীন উমরের বইটি পড়লে।
নিজেকে শুধু সংকীর্ণ দৃষ্টির মুসলমান হিসাবে না দেখে মানুষ হিসাবে ইতিহাসকে দেখেন- অনেক কিছুই পরিস্কার হবে।
যে কাজটি সে সময়ে নবাব সলিমুল্লাহ না পারলেও-
ব্যারিস্টার আব্দুর রসুল, মৌলবী লিয়াকত হোসেন, মৌলবী আবুল কাশেম, সিরাজগঞ্জের মৌলবী ইসমাইল সিরাজী, আবদুল হালিম গজনভি, বগুড়ার জমিদার আবদুল শোভান চৌধুরি, ঢাকা নবাব পরিবারের খাজা আতিকুল্লাহ, আবদুল গফুর সিদ্দিক, দীন মহম্মদ, দেদার বক্স, জালালউদ্দিন হাশেমি, মৌলানা আক্রাম খাঁ এর নেতারা সে আমলে এই স্বদেশী আন্দোলনে নামেন।
কেননা, তাঁদের - ব্রিটিশদের ভেদনীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল।
আর অন্যদিকে- নবাব সলিমুল্লাহকে স্বল্প সুদে বিশাল অংকের ঋণ দেয়ার মাধ্যমে হাত করার কথাও ইতিহাস ভুলেনি।
সেই ১৩১৩ বঙ্গাব্দে বৈশাখ মাসে সে কারণে মৌলভী আবদুল করিম লিখেছিলেন- "....... ইংরেজের ভেদনীতি আপাত মনোরম মাকাল ফল বই আর কিছুই নহে। উহার বাহ্য চাকচিক্যে মুগ্ধ হইয়া মুসলমাংণ যতই নাচিতেছেন, ততই যে তাঁহারা প্রতারিত হইতেছেন, তাহা আজও তাঁহারা বুঝিয়া উঠিতে পারেন নাই। ........"
আজ ১৪১৪ বঙ্গাব্দে এসেও ওনার কথার যৌক্তিকতা এতটুকু ফুরিয়ে যায়নি!!!!!!!
লেখক বলেছেন: এই নিন আমার বক্তব্য।
নিজেকে শুধু সংকীর্ণ দৃষ্টির মুসলমান হিসাবে না দেখে মানুষ হিসাবে ইতিহাসকে দেখেন- অনেক কিছুই পরিস্কার হবে।-------- অতি সুন্দর কথা। কিন্তু, কেউ যখন আমাকে মানুষ হিসেবে না দেহে সংকীর্ণ দৃষ্টির মুসলমান হিসেবে দেখবে, অন্তত তার সাথে লড়বার জন্যে আমাকে মুসলমান হিসেবেই লড়তে হবে। নাকি???
আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হয়েছে, আমি বলতে চাচ্ছি বৃটিশরা পূর্ববঙ্গের উন্নতির কথা মাথায় রেখে বঙ্গভঙ্গ করতে গিয়েছিল আর পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের জন্য তা সম্ভব হল না। আমি তো সেকথা বলতে চাই নি। নিচের প্যারাটি পড়েছেন কি?
ভারতের শাসন ভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাত থেকে বৃটিশ রাজের হাতে হস্তান্তর হয় ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর থেকে। এ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল বৃটিশ ভারতের বাংলা থেকে। ভারতীয় জাতিগুলির মধ্যে বাঙালিরা ছিল সবথেকে সুচিহ্নিত জাতীয় স্বকীয়তার অধিকারী এবং তারা ভারতের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিকাশে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম ছিল। বাঙালিরা চিরকাল পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছিল। বাংলার বিদেশী শাসন কখনই সুস্থির হয়নি। ফলে বৃটিশরা এক্ষেত্রে তাদের বিভেদনীতি প্রয়োগের কূটকৌশল গ্রহণ করে।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বদরুদ্দীন উমরের "বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি" বই থেকে অংশ বিশেষ তুলে দিচ্ছিঃ
"......... সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কে বৃটিশ-বিরোধী ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের প্রধান ও নির্ধারক দিকে পরিণত করার যে প্রচেস্টা ইংরেজরা ১৮৭০ এর দশক থেকে বেশ পরিকল্পিতভাবে শুরু করে তাকে অধিকতর ফলপ্রসূ ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে তারা ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানদেরকে সরাসরি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠন করতে উতসাহিত করে। শুধু উতসাহিতই করে না, সাম্প্রদায়িক দল গঠনের নানা বাস্তব পরিস্তিতি সৃষ্টির জন্য নানা ধরণের উদ্যোগও তারা একের পর এক গ্রহণ করে। এই সব উদ্যোগের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য হলো, ১৯০৫ সালে বাঙলাদেশকে বিভক্ত করে পশ্চিম বাঙলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে একদিকে এবং পূর্ব বাঙলা ও আসামকে নিয়ে অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে দু'টি স্বতন্ত্র প্রবেশ গঠন। বঙ্গবিভাগকে কেন্দ্র করে সারা বাঙলাদেশ এবং বাঙলাদেশের বাইরেও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার ঘটে এবং ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'সারা ভারত মুসলীম লীগ' ও 'সারা ভারত হিন্দু মহাসভা' নামে মুসলমান ও হিন্দু উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নেতৃত্বাধীন দু'টি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল।
........ বাঙলাদেশ, বিহার ও উড়িষ্যার একটি প্রদেশ হিসাবে থাকার প্রশাসনিক দিক থেকে অনেক অসুবিধা ছিলো একথা সত্য। কাজেই সেই বিশাল প্রদেশকে ভেঙ্গে দিয়ে নোতুনভাবে গঠন করা কোনো দোষের ব্যাপার ছিলো না। বৃটিশ ভারতীয় সরকার প্রধানত এই কারণটিকেই বঙ্গভঙ্গের মূল যুক্তি হিসাবে হিসেবে উপস্থিত করেছিলো। কিন্তু প্রদেশ পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও সেটাই যে বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ ছিলো না তা বৃটিশ সরকার ও বৃটিশ ভারতীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি, সরকারী ভাষ্য এবং দলিলপত্র থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়।
বঙ্গ বিভাগের আসল কারণ ছিলো রাজনৈতিক। ..........."
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
"...... বাঙালী হিন্দু মধ্যশ্রেণীর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাকে খর্ব করে এবং তার রাজনীতিকে বৃটিশ বিরোধীতা থেকে যথাসম্ভব মুসলমান বিরোধিতার দিকে ঠেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে তাঁরা বঙ্গবিভাগের পরিকল্পনা করেছিলেন সে কথা গোপন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা লর্ড কার্জন অথবা বৃটিশ ভারতীয় সরকার বোধ করেননি। সে কারণে ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা সফরের সময় তিনি এ বিষয়ে খুব পরিস্কারভাবে বলেন, "বাঙালীরা যারা নিজেদেরকে একটি জাতি হিসাবে চিন্তা করতে ভালোবাসে এবং যারা এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে যেখানে ইংরেজদেরকে বিতাড়িত করে একজন বাঙালী বাবু কলকাতার গভর্মেন্ট হাউজে অধিষ্ঠিত হবে, তারা অবশ্যই সেই ধরণের যেকোন ভাঙ্গনের বিরুদ্ধে তিক্ত মনোভাব পোষণ করে যা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাঁধাস্বরূপ। এখন তাদের চিতকারের কাছে নতি স্বীকার করার মট দুর্বল হয়ে পড়লে আমরা আর কখনো বাঙলাকে বিভক্ত অথবা ছোট করতে সক্ষম হবো না এবং তার দ্বারা আপনারা ভারতের পূর্বদিকে এমন একটা শক্তিকে জমাটবদ্ধ ও কঠিন করবেন যে শক্তি ইতোমধ্যেই অপ্রতিরোধ্য হয়েছে এবং যা ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলার নিশ্চিত উতস হিসেবে বিরাজ করবে"।
................."
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
পরে এ বিষয়ে আরো লিখবো, সম্ভব হলে নতুন পোস্ট দিবো।
আপাতত, আপনার বক্তব্যের/ উত্তরের প্রত্যাশায় থাকলাম।
লেখক বলেছেন: উপরের উত্তর পড়ুন এবং আপনার যা বলার বলুন। আরো কিছু কথা আছে, এখন খানিকটা ব্যস্ত থাকায় বলতে পারছি না। তবে শীঘ্রই সময় পেলে, মন্তব্যে বা নতুন পোস্টে বলতে চেষ্টা করব। --- ধন্যবাদ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বিবর্তনবাদী,
আপনি যে প্যারাটি কোট করলেন- সেটি আগেই দেখেছিলাম। আপনার এই পোস্টের দ্বিতীয় প্যারাটিই শুধু সঠিক ইতিহাসকে রিপ্রেজেন্ট করে। এবং সেটিকে সেন্টার করেই যদি আপনার পরের প্যারা গুলো আসতো তাহলে হয়তো আমার আলোচনার দরকার পরতো না। কিন্তু- দ্বিতীয় প্যারাটির পর থেকেই আপনি পুরো বঙ্গভঙ্গ থেকে ৪৭ সাল পর্যন্ত ইতিহাসকে হিন্দু-মুসলমানের কম্পারেটিভ আলোচনা হিসাবে এনেছেন- যা একজন সংকীর্ণ মুসলমানের দৃষ্টভঙ্গি হিসাবেই এসেছে!! কিন্তু- ইতিহাসটি এভাবে বিবৃত হলে বিভ্রান্ত ছাড়া আর কিছু সম্ভব বলে মনে হয় না।
ইংরেজদের ভেদনীতির কথাটি যদি বুঝতেন (যেটি ২য় প্যারাতে লিখেছেন)- তাহলে এই প্রশ্নটি করতেন না- "১৯০৫ এ যদি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হত তাতে ক্ষতি কি হত? ভারতে কত প্রদেশ রয়েছে, তাই বলে কি প্রদেশগুলো এক ভারতের অংশ নেই?......"
এবং প্রশ্নের উত্তরে যেটি বলেছেন- সেটিও বলতেন না।
যাহোক, পরে আরো বিস্তারিত বলা যাবে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
১৯০৫ এ যদি পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ গঠিত হত তাতে ক্ষতি কি হত? ভারতে কত প্রদেশ রয়েছে, তাই বলে কি প্রদেশগুলো এক ভারতের অংশ নেই?......" শুধু এ পর্যন্তই দেখলেন? সম্পূর্ণ বাংলাকেই যদি তারা এক চোখে দেখে থাকবেন, তবে কেন পশ্চিম বঙ্গের থেকে পূর্ব বাংলা এত পিছিয়ে ছিল? - - - - - - এ প্রশ্নের উত্তর দিবেন কি?
পশ্চিমের দাদারা কি এটা বুঝে নাই যে, বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বাংলা উন্নত হবে, এবং বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করলে সব সময়ের পিছিয়ে থাকা পূর্ব বঙ্গবাসীর কাছে তারা শত্রু হিসেবে গন্য হবে। প্রশাসনিক ভাবে একটা জাতি আলাদা নাকি এক তা কখনই জাতীয়তাবোধকে প্রভাবিত করে না। এটুকু কি তারা বুঝে নাই?
বাঙালি জাতীয়তাবোধের এতই ধারক যদি আপনার পশ্চিমবঙ্গবাসী হন, তবে কেন তারা ১৯৪৭ এ স্বাধীন বাংলার দাবি তুলে নাই? দুই একটা নাম তুলে হয়ত বলবেন উনারা পশ্চিম বঙ্গেরই তো ছিলেন, তাই না?
আপনি কোণ বঙ্গবাসীতা জানি না, তবে আপনার মন্তব্য শুধু মাত্র আপনার ক্ষেত্রেই খাটে ..................... বিভ্রান্ত ছাড়া------- বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় না।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
১। বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা শুধু কলকাতার বাবুরাই করেনি।
২। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতারাও করেছেন। উপরে একটা লিস্ট দিয়েছি।
৩। পূর্ববঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলা যেমন- ফরিদপুর, রাজবাড়ি, বরিশাল ... প্রভৃতি এলাকার মসজিদসমূহে বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য বিশেষ মোনাজাত, এধরণের প্রোগ্রামও সে সময় হয়েছিলো।
৪। বাগেরহাট, সাতক্ষীরা বঙ্গভঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অংশে পড়েছিলো। তাদের যে বঙ্গভঙ্গ রদের যে আন্দোলন- তাকে কি বলবেন??
৫। রাজশাহী অঞ্চলে যে বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলন হয়েছিলো- সেখানকার বড় যুক্তি ছিলো- ঢাকা বা শিলং এর চেয়ে কলকাতার সাথে তাদের যোগাযোগ ভালো ছিলো,
৫। প্রথমবার যখন বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাবনা আসে- তখনকার প্রস্তাবনা ছিলো- পূর্ববঙ্গের জেলাসমূহকে আসামের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সে সময়ে এই পূর্ববঙ্গের লোকজনই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলো- তারা 'বাঙালী' থেকে 'আসামী' হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো। পরবর্তিতে একই পরিকল্পনা ইংরেজরা বাস্তবায়ন করতে যায়- একটু পরিবর্তন করে- এই প্রদেশটির নাম দেয়- "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"। এবং সামান্য চিন্তা করলেই দেখা যায়- এর পেছনে ইংরেজদের উদ্দেশ্যঃ তারা বলেছে- প্রশাসনিক স হযোগিতা হবে- বাঙলা-বিহার-উড়িষ্যা এত বড় প্রদেশকে ভাগ করতে পারলে। কিন্তু কার্যত করা হলো শুধু বঙ্গ ভাগ- কোনো প্রদেশের সংখ্যা কি বাড়ানো হয়েছে? আগেও দুটি প্রদেশ ছিলো (আসাম ও বাঙলা-বিহার-উড়িষ্যা)- এবারো তাই(পূর্ববঙ্গ-আসাম ও পশ্চিম বঙ্গ-বিহার-উড়িষ্যা)- এবং মূল জায়গাটি ছিলো- বঙ্গকে বিভাগ ও বঙ্গের শক্তিচ্ছেদ। শুধু অঙ্গচ্ছেদ নয়, এর মধ্য দিয়ে বঙ্গের মানসিক জগতেও আঘাত আনা হয়, মুসলমান ও হিন্দু দুটিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। সেই ক্ষত ধীরে ধীরে বড় হয়- এবং শেষ ফলাফল- ১৯৪৭ এর দেশবিভাগ।
লেখক বলেছেন: আপনি আবারো সেই একই ভুল করছেন। ভাবটা এমন যে আমি মুসলমান হয়ে হিন্দুদের গালি দিচ্ছি। আমার লেখা পড়ে যদি তাই মনে হয়, তবে বলতে হবে আপনার লেখা বুঝতে সমস্যা আছে, অথবা আমার মনের ভাব প্রকাশের যোগ্যতা নেই। কোনটা সঠিক কে জানে।
যাইহোক, আলোচনার স্বার্থে আবারো বলি। আমি দোষারোপ করছি হিন্দুদের সেই গোষ্টিকে যারা পশ্চিমবঙ্গের হর্তাকর্তা ছিল। পূর্ববঙ্গকে পিছিয়ে রেখে যারা যুগযুগ ধরে সুবিধা নিয়েছেন।
পশ্চিমের দাদারা কি এটা বুঝে নাই যে, বঙ্গভঙ্গ হলে পূর্ব বাংলা উন্নত হবে, এবং বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করলে সব সময়ের পিছিয়ে থাকা পূর্ব বঙ্গবাসীর কাছে তারা শত্রু হিসেবে গন্য হবে। প্রশাসনিক ভাবে একটা জাতি আলাদা নাকি এক তা কখনই জাতীয়তাবোধকে প্রভাবিত করে না। এটুকু কি তারা বুঝে নাই? তারাতো জ্ঞানী গুনি ছিলেন, তাই না? তবে তারা কেন এ ভুল করলেন? সেদিন যদি ঢাকা পূর্ববঙ্গ প্রদেশের রাজধানী থাকত, তবে একসময় পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ এককাতারে আসতে সক্ষম হত এবং বিভেদ দূর হত। হয়ত ১৯৪৭ এ আমরা ভারত-পাকিস্তানের পাশে স্বাধীন বাংলা দেখতে পারতাম।
প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা, বঙ্গভঙ্গ হলে বাঙালি আসামী হয়ে যেত এর থেকে হাস্যকর কথা আর কি হতে পারে, বলুন?
আপনাকে ধন্যবাদ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
কেন পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ থেকে পিছিয়ে ছিলো???
দিগন্তের উত্তর দেখুন।
আর এটাও ঠিক না। পুরো পশ্চিমবঙ্গ কি এগিয়ে ছিলো?
কলকাতার তুলানায় কি পশ্চিমবঙ্গের অন্য জেলা সমূহ এগিয়ে ছিলো??
কলকাতার এগিয়ে থাকা মানে কি??
সেখানকার কোন শ্রেণী এগিয়ে ছিলো??
এমনকি সাধারণ হিন্দুরা কি এগিয়ে ছিলো???
জমিদার-নবাবরা আর উঠতি নব্য বুর্জোয়ারা ছাড়া বাকিদের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে বিশেষ কি পৃথক ছিলো???
পশ্চিমবঙ্গ পূর্ববঙ্গকে শোষণ করেছে, মানে কি???
সেসময়ে শাসক কারা?? শোষণ কারা করেছে???
আপনি ইংরেজদের বাদ দিয়ে- এভাবে আলোচনা করলে সিদ্ধান্ত কি আসে?
শোষণ করেছে- এবং শোষণের জন্যই এই ভারত উপমহাদেশে অবস্থান রেখেছে- ইংরেজরা।
তাদের শোষণকে পাকাপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময় দুই বঙ্গের তথা পুরা ভারতেই তারা এদেশীয় অনুগত শ্রেণী তৈরি করে। জমিদার শ্রেণীর বড় অংশই তাদের বংশবদ ছিলো। এটা ঠিক যে, এসব জমিদারদের অনেকেই ছিলো হিন্দু (মুসলমান জমিদার, নবাবরাও প্রজা শোষণে কম যেতেন না!!)- এবং এটাও ঠিক যে- মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীটিও ছিলো প্রধানত হিন্দু, ফলে- হিন্দু এই অংশটি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে যায়। কিন্তু শোষণ যন্ত্র কি তখনও তাদের হাতে পুরাটা ছিলো??
হুম, জমিদাররা প্রজা শোষণ করতো- কিন্তু জমিদারদের এই শোষণের মুখে কিন্তু হিন্দু প্রজারাও ছিলো, এবং তার বিরুদ্ধে কিন্তু সংগ্রামটিও দেখতে হবে- যেখানে হিন্দুদের লড়াইটিকে কোনোভাবে অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু মূল আপত্তির বিষয়টিই হলো এই যে,- আপনি যে ইতিহাসটি শুনিয়েছেন- সেটি ধর্মীয় দিক থেকে করাটিই অবৈজ্ঞানিক।
লেখক বলেছেন: আমার পুরো পোস্ট পড়ে আপনার মনে হল আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে ইতিহাস বিশ্লেষণ করছি। হায়রে!!!
আপনার নিজে লেখার দিকে নজর দিন। আপনি বলছেন জমিদারদের অনেকেই ছিল হিন্দু এবং মধ্যবিত্তদের অনেকেই ছিল হিন্দু। আপনি যখন তাদের উল্লেখ করে কথা বলবেন তখন হিন্দু শব্দটি আপনারো আসবে আমারো আসবে। আর একটি কথা, এ আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গের বা পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষকে কেন আমরা টানব। সাধারণ মানুষের কথায় তো আর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
আপনি বলছেন, "শোষণ যন্ত্র কি তখনও তাদের হাতে পুরাটা ছিলো??"
পুরোটা থাকতে হবে কেন, যতটুকু ছিল তাই বা কম কিসে। আর ইংরেজদের কথা বাদ দেবার প্রশ্ন আসবে কেন? ওরা শোষক ছিল এ নিয়ে নিশ্চয়ই আপনার বা আমার কারো কোন বিরোধ নেই।।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
'বাঙালী' 'আসামী' হয়ে যেত- এই হাস্যকর(!) কথাটিই সে সময়ে এ বঙ্গের লোকেদের ইমোশন জুড়ে একটি বড় বিষয় ছিলো। আপনাকে, রাতে হয়তো- উদ্ধৃতি দিতে পারবো।
শুধু এটুকু বুঝুন- সেই ইমোশনকে কেন্দ্র করেই কিন্তু- ইংরেজরা তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে- প্রদেশটির নাম করে- "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"- প্রথমে শুধু বলেছিলো- পুর্ববঙ্গের জেলাসমূহ আসামের সাথে যুক্ত হবে। এবং তখন কিন্তু ঢাকাকে কেন্দ্র করার ঘোষণাটিও আসে নি। ১৯০৫ সালে তাই যখন বঙ্গভঙ্গ হলো- তখন এখানকার মুসলমান নেতাদের বিভিন্ন আর্টিকেলে দেখা যায়- তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন- আদৌ ঢাকাকে কতখানি গুরুত্ব দেয়া হবে- শিলং কে বাদ দিয়ে???
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আর বঙ্গভঙ্গ হলেই পূর্ব বাঙলা উন্নত হয়ে যাবে, এ ধারণাটিই হাস্যকর রকমের ভুল ও অন্ধত্ব!!!
ঢাকাকে রাজধানী করলে- হয়তো ঢাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে- কিছু কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে ঢাকাকে কেন্দ্র করে- ফলে ঢাকা কেন্দ্রিক উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কিছু সুবিধা হতে পারে- এটা সে সময়ের একটা অংশের চিন্তার জায়গা ছিলো- কিন্তু বেশিরভাগই একে উন্নতি বলে মনে করেননি।
আর, প্রভাবশালী মুসলমান নেতা নবাব সলিমুল্লাহকে হাত করার জন্য ইংরেজদের তাঁকে স্বল্প সুদে বিশাল অংকের ঋণ দেয়ার ঘটনাটিকে বাদ দিতে পারবেন না, দ্বিতীয়ত, কার্জন প্রতিবারেই ঢাকায় এসে বলেছে- বঙ্গভঙ্গ হলে এখানকার মুসলমানরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে; এ ধরণের কথাই তো আপত্তিজনক- এই অঞ্চলের মুসলমানদের জন্যই শুধু ইংরেজদের এত টানকে সন্দেহজনক সেসময়ই সলিমুল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মুসলমান নেতারা বলেছিলেন।
লেখক বলেছেন: আপনি বলছেন, "বঙ্গভঙ্গ হলেই পূর্ব বাঙলা উন্নত হয়ে যাবে, এ ধারণাটিই হাস্যকর রকমের ভুল ও অন্ধত্ব!!!"
--- ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সাল নাগাদ শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের কিছু হিসেব দিচ্ছি তাহলে...
১৯০৬ সালে প

















"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় গড়ে উঠেছিল একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেনীর নিকট গন্য হয়েছিল প্রতিপক্ষ স্বরুপ। এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে দাড়াবার সাহসের অভাবে কলকাতার বাবুরা আলাদা থাকাকেই শ্রেয় মনে করলেন। " -
আপনি নিজেই আগে বলেছেন প্রথম ২০-২৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত হিন্দুরাই পড়ত, আমার ধারণা সে সময়ের অধিকাংশ স্নাতককে এখন পশ্চিমবঙ্গেই দেখা যাবে। তারা কি ভাবে কলকাতার বাবুদের প্রতিপক্ষ হল? তারা তো উলটে ১৯৪৭ এর আগে থেকেই লাইন দিয়েছিল কোলকাতায় পাড়ি জমাবার জন্য। আমার ধারণা গণতন্ত্রের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ স্বাধীন বাংলা চায়নি। কারণ স্বাধীন বাংলা হলে মুসলিম লিগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত এবং সেটা উচ্চবর্ণের হিন্দুরা চায় নি।
যাহোক, আপনাকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, এখানে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত প্রায় সবাই মনে করেন এই স্বাধীন বাংলা হলেই বাঙালীদের সবথেকে ভাল হত। পূর্বকেও পাকিস্তানের সাথে যেতে হত না, পশ্চিমকেও হিন্দি শিখতে হত না।
"পশ্চিম আমাদের পূর্ব বাংলাকে শোষণ করেছে। " - এটা আপনি নিজেই পশ্চিমের মধ্যে কোলকাতা-কেন্দ্রিকতা কে তুলে ধরেছেন। আমি আপনার সাথে একমত নই এ বিষয়ে কারণ আপনি কোলকাতার বাইরে পশ্চিমের আর কোনো রেফারেন্স দিতে পারেন ন শোষণের। আমার মত হল কোলকাতা সারা বাংলাকে শোষণ করেছে। আর এই শোষণের প্যাটার্ন তো তৃতীয় বিশ্বে সর্বত্র একই। রাজধানী শহর তো গ্রামকে শোষণ করেই বেঁচে থাকে। অগণতান্ত্রিক একটা সমাজে এটা হবারই ছিল - জোর যার মুলুক তার।