একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছলাম সেদিন
দুঃখের ব্যাপার সেদিনের ঐ অনুষ্ঠানে মেনুতে রোস্ট ছিল না
-----------------------------------------------
বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি পাখির ভাইরাস ঘটিত শ্বসনতন্ত্রের রোগ (রেস্পিরেটরি ট্রাক্ট)। ভাইরাসের নাম ইনফ্লুয়েঞ্জা -এ ভাইরাস সেরোটাইপ H5N1। ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাস মানুষেরও ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য দায়ী কিন্তু H5N1 সেরোটাইপ মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা করে না। যদিও সম্প্রতি এই H5N1 সেরোটাইপ দিয়ে অল্প কিছু মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে কয়েকটি দেশে। যে কোন ভাইরাসের তার পোশহক দেহে আক্রমনের ক্ষেত্রে নিম্নের ধাপ গুলো মেনে চলতে হয়:
@ পোষক দেহে প্রবেশ
@ পোষক দেহের বিশেষ টিস্যুর কোষের সাথে আটকানো
@ কোষের ভেতরে প্রবেশ
@ বংশবৃদ্ধি
@ আক্রান্ত কোষ ত্যাগ করে পাশের বা অন্যান্য কোষ আক্রমন।
আমি এখন দ্বিতীয় ধাপটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করব। একটি ভাইরাস মানবদেহের বিশেষ টিস্যুর (Tissue) কোষকে আক্রমন করে। যেমন যে ভাইরাস শ্বসনতন্ত্রের (respiratory tract) অঙ্গ গুলোর কোষে আক্রমন করবে সেই ভাইরাস সাধারনত পৌষ্টিক তন্ত্রের (Gastrointestinal tract) কোন অংশের কোষকে আক্রমন করবে না। যে ভাইরাস রক্তের লোহিত কনিকাকে (erythrocyte) আক্রমন করবে, সেই ভাইরাস রক্তনালিকার (blood vessel) কোষকে আক্রমন করবে না। কথা হচ্ছে ভাইরাস কি চেনে কোনটা লোহিত রক্ত কনিকা, আর কোনটা রক্তনালিকার কোষ। এই সব চেনা জানার খেলা তো আমরা মানুষেরা খেলি। তাহলে ভাইরাস কি করে নির্ধারন করে কোন টিস্যুর কোষটি তার আক্রমনের জন্য যথার্থ।
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, রূপক দিয়েই বলতে হয়, নইলে সব কথার রূপ চলে যায়, কথাগুলো লজ্জিত হয়ে উঠে। তাই আমিও রূপকের আশ্রয় নিচ্ছি। ধরুন একটা এপার্টমেন্টে ১০০টা ফ্লাট আছে, যেগুলোর প্রত্যেকটাই তালাবদ্ধ। আপনাকে একটা চাবি দিয়ে বললাম এই চাবি যেই ফ্লাটের সেই ফ্লাটে গিয়ে থাক। কিন্তু এটা বললাম না, ফ্লাট নম্বর কত। এখন কিন্তু আপনার অবস্থাও সেই ভাইরাসের মতই, তাই না? কি করবেন এখন? নিচ তলা হতে, একে একে প্রত্যেকটা ফ্লাটের তালায় চাবি ঢুকাবেন কোনটা খুলে দেখবার জন্যে। এভাবে যদি প্রথমে পেয়ে যান তো ভাল নইলে ১০০ টা ফ্লাটেই চাবি দিয়ে তালা খোলার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে, চাবি যদি নিশ্চিত ভাবে যে কোন একটা ফ্লাটের হয়েই থাকে তবে আপনিও নিশ্চিত ভাবে পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত ফ্লাট। ঐ একটা ফ্লাট ছাড়া অন্য কোন ফ্লাটে ঢোকা আপনার পক্ষে অসম্ভব। ভাইরাসের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। কথা হচ্ছে ভাইরাসের ক্ষেত্রে চাবি কোনটা আর আমাদের দেহ কোষে তালা কোনটা? এইবার আসুন আসল কথায়।
মানবদেহের এক এক টিস্যুর কোষ এক এক রকম। এটা বুঝতে জীববিজ্ঞান পড়তে হয় না। আপনার জিহ্ববার কোষ নিশ্চই আপনার চামড়ার কোষের থেকে পৃথক হবে, তাই না? আমাদের দেহ কোষ গুলোর পৃষ্ট মসৃন নয়। বাহ্যিক উদ্দিপনা বা সিগনাল গ্রহন করবার জন্য হাজারো ধরনের এন্টেনার মত অনু এর পৃষ্ট হতে বের হয়ে আছে। এগুলোর নাম রিসেপ্টর (receptor)। প্রত্যেকটা রিসেপ্টরই আমাদের দেহের স্বাভাবিক কাজের জন্যে অপরিহার্য। কোষের কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে, ঐ কোষের পৃষ্টে কোন কোন রিসেপ্টর অনু থাকবে। অর্থাৎ আমাদের শ্বসনতন্ত্রের কোষে যে রিসেপ্টর থাকবে, পৌষ্টিক তন্ত্রের কোষে সেই রিসেপ্টর না থাকাই স্বাভাবিক। এই রিসেপ্টর অনুগুলোই ভাইরাসের জন্যে তালার কাজ করে।
এইতো গেল তালার কথা, এবার প্রশ্ন হল তবে চাবি কই? ফ্লাটের চাবি যেমন আপনার হাতে, তেমন নি মানবদেহের কোষের তালার চাবিও থাকা উচিত ভাইরাসের কাছেই। ভাইরাস কণিকার পৃষ্ট হতেও কিছু কিছু অনু বের হয়ে থাকে, যার কাজ মানবদেহের কোন বিশেষ টিস্যুর কোষ পৃষ্ঠের রিসেপ্টরের সাথে আটকানো। কারন না আটকালে কোষের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না এবং কোষের ভিতরে প্রবেশ না করতে পারলে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হবে না। ফলশ্রুতিতে রোগ হবার কোন উপায় নেই।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জন্য রিসেপ্টর অনু শুধুমাত্র মানবদেহের শ্বসনতন্ত্রের আবরণী কলার (epithelial tissue) কোষে থাকে, পৌষ্টিকতন্ত্রে থাকে না। বিধায় কোন উপায়ে যদি কোন ব্যক্তিকে এক লোকমা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসও গিলানো হয় তবুও তার ইনফ্লুয়েঞ্জা হবার কোন কারন নেই। অতএব রোস্ট খাওয়াতে কোন বিপদ নেই। এর চাইতেও বড় কথা কোন ভাইরাসই ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে না। যেখানে পানিই ফোটে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। মুরগী যেভাবে রান্না আমরা করি, তাতে এর তাপমাত্রা প্রায় অনেক্ষণ ১০০ ডিগ্রিতে থাকে। রান্নার পর খাদ্যে যতই ভাইরাস থাকুক না কেন তার রোগ করতে আর সক্ষম থাকবে না।
অবশেষে বলি, বিয়ে করুন, খাবার মেনুতে মুরগীর রোস্ট রাখুন। নিজে পেট ভরে খান, আমাকেও খাওয়ান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

