somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বিয়ের দাওয়াত ও বার্ড ফ্লুয়াতঙ্ক

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছলাম সেদিন B-)। তারিখ ফেব্রুয়ারির ২৯, শুক্রবার। খুব সম্ভবত বর কনের সম্মতি না নিয়েই বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। অন্তত আমি এই দিনে বিয়ে করতে রাজি হতাম না। আবার হয়ত বৈচিত্রের জন্যে বর কনেই ফেব্রুয়ারির এই দিনটাকে বিয়ের জন্যে ঠিক করে। চারবছর পর পর বিশেষ আনন্দ নিয়ে বিবাহ বার্ষিকি উৎযাপন করবে। আল্লাহ্‌ মালুম :| । আমি বিয়ের দাওয়াত পেলে মিস করি না :#> । কারন শুধু একটা, মুরগীর রোস্ট :#) । আমার মায়ের প্রিয় কাজ আমাকে খাওয়ানো। তার এ প্রবনতা এতটাই মারাত্বক যে আমি ১১ কেজি ওভারওয়েট:((। অন্য কোথাও কেউ ভাল রান্না খাইয়েছে এমন কথা ভুলেও বাসায় উচ্চারণ করি না। উচ্চারণের সাথে সাথে কোন এক অজানা কারণে উত্তর আসবে, “ভাল ওখানেই থেকে গেলে পারতি, আমিতো তোরে খাওয়াই না” X((। অন্য কারো ভাল রান্নার সাথে, সেখানে থেকে যাওয়া বা আমাকে না খাওয়ানোর কি সম্পর্ক আমি আজও বের করতে পারলাম না। তবে গা বাঁচিয়ে চলা শিখে গেছি ;)। যা বলছিলাম, মুরগীর রোস্ট। যেহেতু বিয়ে বাড়িতে থেকে যাবার কথা কখনই আসবে না, তাই মাকে এটা বলতে দ্বিধা নেই যে তার মুরগীর রোস্ট কখনই বিয়ের অনুষ্ঠানের রোস্টের মত হয় না। মায়ের এই একটা আক্ষেপ বোধ হয় আজীবনই থেকে যাবে:P

দুঃখের ব্যাপার সেদিনের ঐ অনুষ্ঠানে মেনুতে রোস্ট ছিল না :((। শুধু গরু আর খাসি। কারন একটাই বার্ড ফ্লু। আজকাল কোন বিয়েতেই মুরগী পাওয়া যাচ্ছে না, অর্থাৎ নো রোস্ট। অথচ, রোস্ট খাওয়ার সাথে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হবার কোন সম্পর্ক নেই। জানি ব্লগাররা কেউই আমাকে তাদের বিয়েতে দাওয়াত দিবে না, তবুও জীববিজ্ঞান যতটুকু পড়েছি, শুধু সেই কারনেই জীববিজ্ঞানের আলোকে ব্লগারদের জন্য ব্যাপারটা তুলে ধরা কর্তব্য মনে করি।

-----------------------------------------------
বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি পাখির ভাইরাস ঘটিত শ্বসনতন্ত্রের রোগ (রেস্পিরেটরি ট্রাক্ট)। ভাইরাসের নাম ইনফ্লুয়েঞ্জা -এ ভাইরাস সেরোটাইপ H5N1। ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভাইরাস মানুষেরও ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য দায়ী কিন্তু H5N1 সেরোটাইপ মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা করে না। যদিও সম্প্রতি এই H5N1 সেরোটাইপ দিয়ে অল্প কিছু মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে কয়েকটি দেশে। যে কোন ভাইরাসের তার পোশহক দেহে আক্রমনের ক্ষেত্রে নিম্নের ধাপ গুলো মেনে চলতে হয়:

@ পোষক দেহে প্রবেশ
@ পোষক দেহের বিশেষ টিস্যুর কোষের সাথে আটকানো
@ কোষের ভেতরে প্রবেশ
@ বংশবৃদ্ধি
@ আক্রান্ত কোষ ত্যাগ করে পাশের বা অন্যান্য কোষ আক্রমন।


আমি এখন দ্বিতীয় ধাপটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করব। একটি ভাইরাস মানবদেহের বিশেষ টিস্যুর (Tissue) কোষকে আক্রমন করে। যেমন যে ভাইরাস শ্বসনতন্ত্রের (respiratory tract) অঙ্গ গুলোর কোষে আক্রমন করবে সেই ভাইরাস সাধারনত পৌষ্টিক তন্ত্রের (Gastrointestinal tract) কোন অংশের কোষকে আক্রমন করবে না। যে ভাইরাস রক্তের লোহিত কনিকাকে (erythrocyte) আক্রমন করবে, সেই ভাইরাস রক্তনালিকার (blood vessel) কোষকে আক্রমন করবে না। কথা হচ্ছে ভাইরাস কি চেনে কোনটা লোহিত রক্ত কনিকা, আর কোনটা রক্তনালিকার কোষ। এই সব চেনা জানার খেলা তো আমরা মানুষেরা খেলি। তাহলে ভাইরাস কি করে নির্ধারন করে কোন টিস্যুর কোষটি তার আক্রমনের জন্য যথার্থ।


রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, রূপক দিয়েই বলতে হয়, নইলে সব কথার রূপ চলে যায়, কথাগুলো লজ্জিত হয়ে উঠে। তাই আমিও রূপকের আশ্রয় নিচ্ছি। ধরুন একটা এপার্টমেন্টে ১০০টা ফ্লাট আছে, যেগুলোর প্রত্যেকটাই তালাবদ্ধ। আপনাকে একটা চাবি দিয়ে বললাম এই চাবি যেই ফ্লাটের সেই ফ্লাটে গিয়ে থাক। কিন্তু এটা বললাম না, ফ্লাট নম্বর কত। এখন কিন্তু আপনার অবস্থাও সেই ভাইরাসের মতই, তাই না? কি করবেন এখন? নিচ তলা হতে, একে একে প্রত্যেকটা ফ্লাটের তালায় চাবি ঢুকাবেন কোনটা খুলে দেখবার জন্যে। এভাবে যদি প্রথমে পেয়ে যান তো ভাল নইলে ১০০ টা ফ্লাটেই চাবি দিয়ে তালা খোলার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কথা হচ্ছে, চাবি যদি নিশ্চিত ভাবে যে কোন একটা ফ্লাটের হয়েই থাকে তবে আপনিও নিশ্চিত ভাবে পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত ফ্লাট। ঐ একটা ফ্লাট ছাড়া অন্য কোন ফ্লাটে ঢোকা আপনার পক্ষে অসম্ভব। ভাইরাসের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। কথা হচ্ছে ভাইরাসের ক্ষেত্রে চাবি কোনটা আর আমাদের দেহ কোষে তালা কোনটা? এইবার আসুন আসল কথায়।


মানবদেহের এক এক টিস্যুর কোষ এক এক রকম। এটা বুঝতে জীববিজ্ঞান পড়তে হয় না। আপনার জিহ্ববার কোষ নিশ্চই আপনার চামড়ার কোষের থেকে পৃথক হবে, তাই না? আমাদের দেহ কোষ গুলোর পৃষ্ট মসৃন নয়। বাহ্যিক উদ্দিপনা বা সিগনাল গ্রহন করবার জন্য হাজারো ধরনের এন্টেনার মত অনু এর পৃষ্ট হতে বের হয়ে আছে। এগুলোর নাম রিসেপ্টর (receptor)। প্রত্যেকটা রিসেপ্টরই আমাদের দেহের স্বাভাবিক কাজের জন্যে অপরিহার্য। কোষের কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে, ঐ কোষের পৃষ্টে কোন কোন রিসেপ্টর অনু থাকবে। অর্থাৎ আমাদের শ্বসনতন্ত্রের কোষে যে রিসেপ্টর থাকবে, পৌষ্টিক তন্ত্রের কোষে সেই রিসেপ্টর না থাকাই স্বাভাবিক। এই রিসেপ্টর অনুগুলোই ভাইরাসের জন্যে তালার কাজ করে।


এইতো গেল তালার কথা, এবার প্রশ্ন হল তবে চাবি কই? ফ্লাটের চাবি যেমন আপনার হাতে, তেমন নি মানবদেহের কোষের তালার চাবিও থাকা উচিত ভাইরাসের কাছেই। ভাইরাস কণিকার পৃষ্ট হতেও কিছু কিছু অনু বের হয়ে থাকে, যার কাজ মানবদেহের কোন বিশেষ টিস্যুর কোষ পৃষ্ঠের রিসেপ্টরের সাথে আটকানো। কারন না আটকালে কোষের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না এবং কোষের ভিতরে প্রবেশ না করতে পারলে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হবে না। ফলশ্রুতিতে রোগ হবার কোন উপায় নেই।


ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জন্য রিসেপ্টর অনু শুধুমাত্র মানবদেহের শ্বসনতন্ত্রের আবরণী কলার (epithelial tissue) কোষে থাকে, পৌষ্টিকতন্ত্রে থাকে না। বিধায় কোন উপায়ে যদি কোন ব্যক্তিকে এক লোকমা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসও গিলানো হয় তবুও তার ইনফ্লুয়েঞ্জা হবার কোন কারন নেই। অতএব রোস্ট খাওয়াতে কোন বিপদ নেই। এর চাইতেও বড় কথা কোন ভাইরাসই ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে না। যেখানে পানিই ফোটে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। মুরগী যেভাবে রান্না আমরা করি, তাতে এর তাপমাত্রা প্রায় অনেক্ষণ ১০০ ডিগ্রিতে থাকে। রান্নার পর খাদ্যে যতই ভাইরাস থাকুক না কেন তার রোগ করতে আর সক্ষম থাকবে না।



অবশেষে বলি, বিয়ে করুন, খাবার মেনুতে মুরগীর রোস্ট রাখুন। নিজে পেট ভরে খান, আমাকেও খাওয়ান।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪
৪০টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×