তারে খুব জ্বালাই। সব সময় তার সাথে দুষ্টামি করি, বিরক্ত করি, তর্ক করি। তার গুন গুলির প্রশংসা করি না তার সামনে। যদিও তারে বড়ই ভালবাসি। সে খুব অভিমানী, অল্পতেই বড় দুঃখ পায়। বুঝি তবুও তারে জ্বালাই। কখনও তার কাছ হতে খালি হাতে ফিরে আসি নাই। অথচ, সে যখনই কিছু চেয়েছে, সরাসরি দেই নাই। ঘুরিয়েছি, শুধুই ঘুরিয়েছি। তবুও, সে কখনও খালি হাতে ফিরায় নাই।
সে আমার বন্ধু, খুব খুব খুব ভাল বন্ধু। বাংলা ব্যাকারণ গত শুদ্ধতার জন্য লেখা উচিত ছিল বান্ধবি। কিন্তু ব্যাকারণ এখানে মানতে ইচ্ছা করছে না। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সব চাইতে ভাল বন্ধু, হয়ত বলা যায় একমাত্র বন্ধু। একবার সে আমাদের ব্যবহারে খুব কষ্ট পেয়েছিল। কষ্টে আমাদের সবার উদ্দেশ্যে, লিখেছিল একটা চিঠি। সে চিঠি ব্যঙ্গ করে পড়েছিলাম, সবার সামনে। কি নিকৃষ্টই না ছিল আমার সেইদিনের আচরণ!! খুব বুঝতে পারি, চিঠিটা পড়বার পরে বুকের মাঝে কোথাও যেন কষ্ট হচ্ছিল, তবুও প্রকাশ হল না। বৃথাই ছিল আমার সেই অপ্রকাশ্য অনুভূতি। বন্ধুত্বের মর্যাদা অনেক নিচে নামিয়ে ছিলাম সেদিন। পরে কেন জানি না, অন্যদের কাছ হতে সেই চিঠিটা নিয়ে রেখে দিয়েছিলাম নিজের কাছে। আজও আছে আমার কাছে সেই চিঠি। কেন জানি না, হয়ত জানতেও পারব না কখনও?
সে কবিতা লেখে। মন খারাপ হলেই, একাকী কোথাও বসে কবিতা লেখে। তার কবিতা নিয়ে কতই না হাসাহাসি করেছি। সে আবৃত্তি করে, তার আবৃত্তি শুনলেই বিরক্ত হতাম। মন ভাল থাকলে, সে আমাকে বিরক্ত করত তারই কবিতা আবৃত্তি করে। এ নিয়ে বন্ধুটাকে কতই না, ঝারি দিয়েছি। সে মন খারাপ করেছে, তবুও কখনও বলে নাই, “তুই আমাকে ঝারি দেবার কে”।
সে খুব কাল, এ নিয়ে কতই না ক্ষেপিয়েছি তারে। কিন্তু কখনও বলা হয় নাই, তার মনটা কত সুন্দর। তারে কখনও বলি নাই, আমি যতগুলো মানুষকে সম্মান করি সে তাদেরই একজন। যতই তার গুনগুলোকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করি না কেন অন্যদের সামনে, আমি অন্তত আমি জানি, একদিন সে হবে অনেকের সেরা। সবাই তাকে চিনবে, জানবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন আর কতদিন! ২০০৮-ই আমাদের এই একসাথে চলার শেষ বছর। এরপর কে কোথায় চলে যাব, কেউ জানি না। পরবর্তী জীবনে আর কেউ না হোক অন্তত সেই বন্ধুটি নিশ্চয়ই আমাকে মিস করবে। এ আমি জানি।
আজও তাকে খুব খেপালাম। সে খুব ভাল প্রেজেন্টেশন করেছিল, প্রেজেন্টেশনের সময় তাকে খুব বিরক্ত করেছি। প্রেজেন্টেশনের শেষে বলেছি, “কিছুই হয় নাই; অযথা আমাদের বিরক্ত করলি”। তার কোন যুক্তি শুনলাম না। সে যে এত দুঃখ পাবে আমি বুঝিনি। বুঝলেই বা কি করতাম, আমার মত নিকৃষ্ট আর কিই বা করত তাকে আরো বিরক্ত করা ছাড়া! কষ্টের প্রকাশও করল সে, মেইল করে। উত্তরে অনেক সিরিয়াস হতে চেয়েও হতে পারলাম না। তবুও বন্ধুরে জানালাম আমার মনে কথা।
কষ্ট পাচ্ছি, যেটা আমার পাওয়া উচিত। ইসস, যদি সে বুঝত “I’m really Sorry”
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


