আমার প্রিয় পোস্ট

আমার এ পথ চাওয়াতেই আনন্দ।

দ্যা লাস্ট সামার/চিঠি

০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:০৩

শেয়ার করুন:                   Facebook



বন্ধুরা,


সামার ভ্যাকেশন চলছে, ঢাবি বন্ধ। আমাদের ছুটি নেই, থিসিসের কাজ করে চলছি। আমি ছুটে চলছি পানিতে ব্যাকটেরিয়ার খোঁজে। দেখতে দেখতে কেটে যাবে এই জুন, ঠিক যেভাবে কেটে গেল বিগত ছয়টি জুন মাস। কিন্তু এই জুন মাসটা একটু ব্যতিক্রম। ঢাবিতে এটাই আমাদের শেষ সামার ভ্যাকেশন।


২০০২ এর জুনে যেই ভ্যাকেশন শুরু হয়েছিল তা ছিল ছুটির আনন্দে ছন্দময়। ২০০৮ এর এই জুন বিদায়ের ঘন্টা শোনাচ্ছে, আর পাব না। তোমাদের আর এখন তেমন পাই না, যাদের সাথে কাটিয়ে এলাম জীবনের ফেলে আসা ছয়টি বছর। বাংলার নানা প্রান্ত হতে আমরা এক হয়েছিলাম এই ঢাবিতে। এখন সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার দৌড়ে সারিবদ্ধ হয়েছি। সবাই আমরা ব্যস্ত, জীবন গড়ার যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই কয়েকজন যুদ্ধ শুরু করেছো, আমরা আছি লাইনে। বাস্তব করতে হবে আজতক দেখা সব স্বপ্ন।


আজ এক বন্ধুর সাথে কথা বললাম খানিক্ষণ। এতদিন যেখানে ছিলাম, আজও সেই দুরত্বে থেকেই কথা হল। কিন্তু, উভয়ের মুখেই বিদায়ের আভাস। ২০০২ এর জুনের ভ্যাকেশনে আমরা শুরু করেছিলাম পরিচিতি পর্ব। এরপরের জুনগুলো কাটালাম নোট গুছাতে, পরীক্ষার প্রস্তুতিতে, অথবা পরীক্ষা দিতে দিতে। আর এবার কাটাচ্ছি চাকরির বাজারের আপডেট, জিআরই, টোফেলের প্রস্তুতি কিম্বা চাকরির বাজারে একে অপরকে টেক্কা দেবার প্রতিযোগিতার আলোচনায়।


যখন ক্লাস টু-থ্রিতে পড়ি, তখন ক্লাস ফাইভের ভাইয়া আপুদের দেখে ভাবতাম ওরা কত বড় আমি কবে ক্লাস ফাইভে পড়ব। ক্লাস টেনে থাকতে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে দেখতে ভাবলাম, এর পরের বিশ্বকাপের সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। ক্লাস ওয়ান হতে রোজার ছুটি, গ্রীষ্মের ছুটি, শীতের ছুটি কতছুটিই না কাটালাম। এবারের এই ছুটিই শেষছুটি। আর কি কখনও পাব এই ছুটিগুলো? কি বলছি আমি এসব!! আমরা যে আর এসব ছুটির অপেক্ষাতেই থাকব না। ছুটির পালা যে এবারই শেষ।


তোমাদের সাথে অনেক রাগ করেছিলাম। অনেক অভিমান ছিল, ছিল হাজারো অভিযোগ। ঠিক, এমনটি হয়ত ছিল তোমাদেরও আমার প্রতি। এভাবেই তোমাদের কাছ থেকে শিখেছি বাস্তবের সংজ্ঞা। স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে আসা বোকা এই আমাকে তোমরাইতো দেখিয়েছ জীবনের কঠিন রূপ! আমি শিখেছি কেউ কারো নয়, আবার সবাই সবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মুক্ত পরিবেশে আমাকে পরিপক্ক মানুষ হিসেবে গড়ে দেবার জন্য তোমাদের কাছে শুকরিয়া।


বন্ধুরা তোমরা যে যেখানেই থাক, ভাল থাক। আমাকে ভুলে যাও, দোষ দেব না!! তবে ভুলে যেও না আমাদের সেই সব স্মৃতিগুলো। সেই ডিপার্টমেন্ট, সেই মোকাররম-ভবন, কার্জন হল অথবা আমাদের সাইন্স লাইব্রেরী। ভুলনা সেন্টমার্টিনের সেই নীল জলে ভাসানো উচ্ছল স্মৃতি। জীবন নদীর স্রোতে যেখানেই দেখা হবে, যখন জড়িয়ে ধরব তখন ফিরে যেও ফেলে যাওয়া এই ছয়টি বছরে।

আজ আর কিছু বলতে পারলাম না। জীবন সায়াহ্নে যখন অতীত ঘেটে ডায়েরীর পাতা ভরব, তখন বাকি কথা হবে। আজ বিদায়। ..................

ইতি,

~বিবর্তন~

 

প্রকাশ করা হয়েছে: চিঠি  বিভাগে ।

 

  • ১৭ টি মন্তব্য
  • ২১৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:১৭
comment by: মেন্টাল বলেছেন: হুমম
২. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৪৪
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসার সময়টা খুব কষ্টের।
৩. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৪৯
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছো......।
মন ভালো রেখো।ভালো থেকো।শুভেচ্ছা।
৪. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৫১
comment by: অ্যামাটার বলেছেন: এই তো জীবন...
বয়েচলা এক নদী...
৫. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৫৭
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: হুমম :(
৬. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:২৭
comment by: চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন: আপনি চমৎকার লিখেছেন।

ভালো লাগলো
বড় হয়ে গেলে এমন হয়.......।

শুভেচ্ছা থাকলো
৭. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৪৪
comment by: ওয়ার হিরো বলেছেন: এরকম চিঠি ভালো লাগে না, বিদায়ের সুর কখনো মধুর হইছে এরকম শুনি নাই, বিদায় সব সময় কষ্টই দেয়।
৮. ০৯ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:৪৬
comment by: উত্তরাধিকার বলেছেন:
কিঞ্চিৎ দৌড়ের উপর আছি।
চলেই যাচ্ছিলাম।
আপনার লেখা দেখে আবার আসলাম।

খুব ভাল লাগলো লেখাটি।
ফেলে আসা দিন গুলো চকিতে ফিরে এল যেন...।
একে একে ভেসে উঠলো প্রিয় বন্ধুদের মুখ।
নানা রঙ এর সেই দিন গুলি...

আপনার থিসিস এর জন্য অনেক শুভ কামনা জানালাম -
যেন, পানির কোন ব্যাকটেরিয়াই আপনার হাত থেকে রেহাই না পায়...।

আজ আসি ভাই। মন দিয়ে থিসিস করুন।
:)
৯. ১০ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ২:২৭
comment by: কাঙাল মামা বলেছেন: আমার এই সময় আসতে অনেক দেরি।তারপরও, এখন মনে হইতেছে এরকম সময় না আসাই ভালো।
১০. ১০ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৫৬
comment by: আউলা বলেছেন: আমারও এইটা শেষ সামার ভ্যাকেশন :(

বুড়ো তোমার ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারছি কারণ আমিও এই কষ্টে ভূগছি। মনে হয় ২মাস পরে বের হবো তো কি সবার সাথে তো ২মাস বেশি কাটাতে পারছি, এই কি বেশি না।
১১. ১০ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:০৫
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: হুমম...
বাইদানী আপাও বুড়া হইতাছে..আহারে!!!
১২. ১১ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫১
comment by: আউলা বলেছেন: লালু ভাই ও কি কম বুড়া? এক পা কবরে আরেকপা ব্লগে নিয়ে বয়স কমায় ;)
১৩. ১১ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৫৪
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: সব্বাইকে ধন্যবাদ।
১৪. ১১ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৭
comment by: আউলা বলেছেন: আবার বুড়া বলে গেলাম :)

স্যরি বুবা বলবো এখন থেকে :#)



নাকি বোবা ফকির বলবো!!
১৫. ১২ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৫১
comment by: স্বাপ্নিক বলেছেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। :(
১৬. ১৭ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫২
comment by: পুষ্প বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন!!
১৭. ২৫ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: সাহোশি৬ : উত্তর হল হ্যা।

 



 


আপাততঃ আমি একজন কনফিউজড মানুষ। জীবনে বিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছি। দেখি, বিবর্তনের পর কিসে পরিনত হই... ...


nisshongo_dhakabashi@yahoo.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৬৮৭৯৩