ওর পা ময়লা পানিতে ডুবে ছিল। অনেকটা অস্থিরতার সাথে পানিতে কি যেন খুঁজছিল সে। একটু পর পর হাটু ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছিল পানিতে। সারা
শরীরে ময়লা। স্পর্শ করতে পারিনি, তবুও ওর কাঁপুনি দেখে বুঝলাম হয়ত অনেক জ্বর। বুঝতে পারছিলাম না, সে কি অন্ধ হয়ে গেছে নাকি পরিবেশের সংবেদন গ্রহণ করতে পারছে না!! পাশেই একটা লোক এসে পেশাব করতে বসে গেল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম ওকে। লোকটা তার কাজ শেষ করে আমাকে বলল, "কুকুরটা দামী কিন্তু অসুস্থ। চিকিৎসা করে ভাল খাবার দিলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে"। পাশে বস্তিতে/রাস্তায় থাকেন এমন এক মহিলা এসে জানাল কুকুরটা কাটাবনের পশু-পাখির মার্কেটের। অসুস্থ হয়ে পড়ায়, দোকানদার গলির ভেতর এই ময়লা পানিতে ওকে ফেলে গেছে।..............................
....................................... আজ দুপুরে এলিফেন্ট রোডে দাদার বাসায় গিয়েছিলাম। গলির একটু ভেতরে দেখি ময়লা পানিতে একটি বিলেতি কুকুর পড়ে আছে। অবস্থা খুবই খারাপ। সাথে সাথে চাচার বাসা থেকে একটা মুরগীর মাংস এনে দিলাম খেতে। খুব সম্ভবত কুকুরটি দেখতে পায় নি, বা সেন্স করতে পারেনি তার সামনে রাখা খাবার। খাবার দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েও রইলাম। কিছু কাক তাড়ালাম মাংসের লোভে ওরা ঘুর ঘুর করছিল আসে পাশে। খানিক্ষণ পরে গিয়ে দেখি মাংস নেই, কুকুরটা বসে কাঁপছে। মাংস কে খেল তা বুঝতে পারলাম না!!!
আমাদের আধুনিক জীবনের এই অন্য একটি রূপ। কাটাবনের দোকানদার কুকুরটিকে কিনেছিল বিক্রি করবার উদ্দেশ্যে। যদি বিক্রি হত কোন ধনীর ঘরে তবে সে থাকত ধনীর দুলাল-দুলালীর কোলে কোলে। কাজের ছেলে প্রতিদিন তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হত। অথচ অসুস্থ হয়ে পড়বার কারনে কুকুরটিকে নর্দমাতে ফেলে যেতে দ্বিধা করল না দোকানি। এতটুকু মায়া কাজ করল না তার মাঝে!! শুনেছি আগের দিনে অনেক ডাকাত নাকি প্রতি রাতে ডাকাতির পরে বিধাতার কাছে ক্ষমা চাইত। এর পেছনে হয়ত সেই সব ডাকাতদের সুপ্ত মানবতা কাজ করত। ভাবতে দুঃখ লাগে সেই দোকানির সুপ্ত সেই মানবতা টুকুও নেই। অথচ প্রাণীর প্রতি মানুষের মায়াই কাটাবনের সেই সব পশু-পাখির দোকানদারদের জীবিকার যোগান দেয়।
আমার কিছু করবার ছিল না, শুধু দেখে যাওয়া ছাড়া। ছুটির এই দিনে কুকুরটিকে কোথায় নিয়ে গেলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব ছিল আমি জানি না। ওকে যে কোথাও নিয়ে রাখব তাও সম্ভব নয় আমার জন্য। নিজেকে বড় অক্ষম মনে হচ্ছে। ভাবতে দুঃখ লাগে যখন ভাবি আমরা আধুনিক মানুষ, থাকি আধুনিক সমাজে। এরচে সেই আদিম মানুষই হয়ত ভাল ছিল যে জঙ্গলের নেকড়েকে পরিণত করেছিল পোষা কুকুরে । তখন মায়া কতটুকু ছিল জানি না তবে দুটি প্রানীতে (মানুষ ও কুকুর) সহযোগীতার সম্পর্ক ছিল। অন্তত তা আধুনিক মানুষের লোক দেখানো মিথ্যা মায়া ছিল না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

