somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজস্থান, মমি, নীল পাখার ফ্যান, কার্জন হল অবশেষে The Mummy Returns

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জায়গাটার ধরণ অনেকটা ভারতের রাজস্থান টাইপের মনে হল। ভারতীয়রা প্রত্নতাত্ত্বিক খোদাই করে তিন স্তরের মাটির নিচে কিছু পেয়েছে। যারা এসেছেন দেখতে, তাদের পরনে গ্রীকদের মত জামাকাপড়। আমাদের নিয়ে যাওয়া হল, খুজে পাওয়া জিনিসগুলো দেখাতে। গ্রান্ড ক্যানিয়নের মত গভীর গর্ত, সুন্দর করে তিন স্তরে কাটা। সেখানথেকে তারা পেয়েছে একটা মডেল টাইপের কিছু। খুব সম্ভবত প্রাচীন কোন স্থাপনার মডেল সেটা, যে কোন বিল্ডিং ডিজাইন করার সময় আর্কিটেকটেরা যা করে। ওটার গায়ে হলুদ রঙ এর কিছু লাগানো ছিল।


স্ট্রাকচারটা বাসায় নিয়ে আসা হল। আমাদের বাসা না, কিন্তু ঘরের বারান্দাটা আমাদের টিকাটুলির বাসা। বারান্দায় একটা ছোট ফ্যান চলছে, যার পাখার রঙ নীল। অজানা অচেনা দুই একজনের মাঝে আমিও স্ট্রাকচারটা দেখছিল্লাম। তখন, মনে হল ওটার আকৃতি মানুষের মত। অর্ধের মানুষ, তবে আকার স্বাভাবিক মানুষের চাইতে অনেক বেশী। হঠাৎ বুঝলাম সেটা এখন জীবিত হয়ে উঠবে। ঠিকই হল, আমি ঘরের বাইরে গিয়ে দরজা অর্ধের খুলে ভেতর থেকে বাবা মাকে বেরিয়ে আসতে বললাম। বাবা খালি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত বের হতে গিয়ে আবার কি নিতে ঘরে ঢুকল। আমি বুঝলাম, স্ট্রাকচারটা মানুষের আকৃতি নিয়ে জেগে উঠেছে। বাবা বেরিয়ে আসার আগেই আমি দরজা বন্ধ করে দিলাম। মানুষটা দরজার কাছে এসে কাকুতি মিনতি করছিল দরজা খুলে দেবার জন্য। আমি খুললাম না। এর মাঝে আমার মা কোথা থেকে যেন ঐ রুমে চলে আসল। এক পর্যায়ে মানুষটা দরজা উপড়ে ফেলতে শুরু করল। আমি দৌড়ে ১৬ তলা বিল্ডিং থেকে নেমে পড়লাম, সাথে বাবাও।


বিল্ডিং থেকে বেরিয়েই কার্জন হল প্রাঙ্গন। মূল ভবনের তিন তলা থেকে একটা লোক লাফ দিতে যাচ্ছিল, ভাবলাম সে জেগে উঠা মানুষটা নাকি? নামার পরে দেখি একজন পুলিশ ইউনিফর্ম পড়া। আমার হাতে একলোকের দেওয়া একটা টর্চ লাইট, যেটার উপরের অংশ নির্দিষ্ট কোনে নাড়ানো যায় (আমার চাচার এমন একটা টর্চ আছে)। কার্জন হলে অনেক মানুষ, সবাই উদ্বিগ্ন। হঠাৎ, দেখলাম সেই জেগে ঊঠা মানুষটা যে কিনা মিশরের ফরাওদের মত জামাকাপড় পড়া কার্জন হলের উপরে। সেখান থেকেই কি সব বলতে বলতে লাফ দিয়ে নিচে নামল। আমি লুকোবার চেষ্টা করলাম। মানুষের ভীড়ে পালাতে গিয়ে ওটার সামনেই গিয়ে পড়লাম। সে সবার উদ্দেশ্যে একটা মন্ত্র টাইপের উচ্চারণ করতে করতে কিছু একটা ছুড়ে দিতে চাচ্ছিল। আমাকে দেখেই, আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। যেই না আমাকে ছুঁয়েছে, ঠিক সেই মূহুর্তেই, The Mummy Returns মুভির মত একটা বিড়াল কেউ সামনে ধরে বসল। ভয়ে ওটা দ্রুত মিলিয়ে গেল এবং আলাদিনের জ্বীনের মত একটা থলিতে ঢুলে গেল. এই যাত্রা বেঁচে গেলাম


………………………….. আমি জেগে উঠলাম।





আজ সকালে ৯ টার দিকে উঠে ছোট বোনকে পাসপোর্ট ফর্ম জমা দিতে নিয়ে গেলাম। বাসায় ফিরে কেমন ক্লান্ত লাগছিল, তাই ঘুমালাম। দুপুরে ভাতও খাই নাই, ঘুমিয়েই ছিলাম। সেই ঘুমের মাঝে দেখা অদ্ভুত স্বপ্ন এটি। ঘেমে গিয়ে ছিলাম প্রায়। হার্টবিট ছিল খুব দ্রুত। বান্ধবিকে ফোন করে বললাম সব, যা যা মাথায় ছিল। ও বলল, এক কাপ চা খেয়ে তারপর গোসল করে নিতে। তাই করলাম, গোসল করতে করতে ভেবে দেখলাম, ফ্যানের রঙ ছিল নীল, স্ট্রাকচারের গায়ে ছিল হলুদ রঙ।


মানুষের ব্রেনের এক অদ্ভুত খেলা এই স্বপ্ন, মাঝে মাঝেই দেখি। দুই একজনকে জিজ্ঞাসা করে বুঝেছি, অন্যরাও দেখে। আপনারাও কি এসব উলটা পালটা দেখেন?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×