আশীফ এন্তাজ রবির স্টিকি পোস্ট এবং আমার কিছু ভিন্ন চিন্তা
১০ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:২৩
ব্লগের প্রথম পাতায় এখন দুইটি স্টিকি পোস্ট শোভা পাচ্ছে যার মাঝে আশীফ এন্তাজ রবির পোস্টটিই বেশি নজর কাঁড়ে। পোস্টটি প্রথমে ভাল করে পড়া হয়ে উঠেনি, তাই আবারো পড়লাম। পড়া হল সংশ্লিষ্ট কিছু মন্তব্যও। বিদ্যুৎবিহীন অসুস্থ এই শহরে ঠান্ডা মাথায় সুন্দর একটি চিঠি লিখবার জন্য আশিফ এন্তাজ রবি অবশ্যই অভিনন্দনের দাবিদার। আর কিছু না হলেও অন্তত ব্লগকেন্দ্রেকি একটি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক অসহ্য পরিস্থিতিতে জনগনকে যেমন শান্ত মনে হচ্ছে তাতে বরং অবাকই হয়েছি। জনগন শান্ত থাকা ভাল তবে নিরীহ হয়ে গেলে সরকারগুলো যাচ্ছেতাই করবার সাহস পায়। যাই হোক, পোস্টে তার এবং কমেন্টে বিভিন্নজনের দেওয়া কিছু প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই আমার এই পোস্ট।
পোস্টে জনাব রবি কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সম্পর্কিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে। এগুলো প্রধানত মার্কেট বন্ধ করা, অনুষ্টানাদি বন্ধ করা, স্কুল কলেজ বন্ধ করা, অর্থাৎ “বন্ধ” কেন্দ্রীক। তবে হ্যা, তিনি হাসপাতাল বন্ধের উপদেশ দেননি। আমি মনে করি “বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ কর” এটা কোন সমাধান হতে পারে না। সরকার কত কিছুই না করল। প্রধানমন্ত্রী এমনিতেই অনেক কিছু বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন। মার্কেট আটটার পর বন্ধ করা হল, এখন বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক সিডিউল করল মার্কেট বন্ধ করার, অফিস আদালতে এসি ব্যবহার করতে মানা করছে, এক ঘন্টা-দুই ঘন্টা বিরতির লোডশেডিং লোডশেডিং খেলা করছে আরো কত কি! এর ফলাফল কি? বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কোন উন্নতির লেশমাত্র কি আমরা দেখতে পাচ্ছি? উত্তর একটাই, না।
ঘটনাটাকে আমরা ভিন্ন উদাহরণে বিবেচনা করতে পারি। ধরি, একজন ব্যক্তি যা আয় করেন সেটা দিয়ে সংসার চালাতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি কি কি করতে পারেন? যতই তিনি পয়সা বাঁচাবার উপায় খোঁজা হোক না কেন, পরিবার চালানো তার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে। আমরা কতটুকুই বা সাশ্রয় করতে পারি। বড়জোর রিক্সা ফেলে বাস ধরতে পারি,নিজের জামা কাপড়ের খরচ কমাতে পারি, খাওয়াদাওয়া থেকে কিছু বাঁচাবার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু এতে কতক্ষণ? আমরা চাইলেও বাসা ভাড়া কমাতে পারি না। চালের খরচ, শিশুদের লেখা পড়ার খরচ, বাবা মায়ের ঔষুধের খরচ এগুলো কি কমানো যায়? যে সব ক্ষেত্রে সাশ্রয় সম্ভব বরং সেই সব নিয়ে চিন্তা করতে করতে অস্থিরতা বাড়ে। এক্ষেত্রে সমাধান হল, বিকল্প আয়ের উৎস খুজে বের করা। কেউ শেয়ারে পয়সা খাটায়্ কেউ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করে, কেউ অন্যত্র টাকা খাটায়। এদেশ দূর্ণীতিগ্রস্থ হতে পারে কিন্তু এদেশের অধিকাংশ চাকুরিজীবি এভাবেই তাদের সংসারের অতিরিক্ত খরচের ব্যবস্থা করেন।সবাই তো আর চোর না।
ঠিক একই ভাবে দেশেও বিকল্প বিদ্যুতের উৎসের সন্ধান করতে হবে। যে সূর্য তার প্রখরতায় আমাদের নিংড়ে জীবন অতিষ্ট করে তুলছে, সেই শক্তিকে ব্যবহারের কোন তাগিদ আমাদের নেই। অনেকদিন ধরে বৃষ্টি না হলেও বাতাস কিন্তু ঠিকই আছে। কোন উইন্ড মিল স্থাপনের উদ্যোগ কোথাও দেখি না! এইসব শক্তি ব্যবহার করে আমরা হয়ত হাজার হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে পারব না। কিন্তু জাতীয় গ্রীডের ঘাটতি নিশ্চয়ই পুরণ করতে পারব। ঢাকা শহরের একটি বাড়ির ছাঁদে একটি করে সোলার এনার্জি সেল (ছাদের আকারের উপর নির্ভর করে), ছাঁদে কয়েকটি উইন্ড মিল স্থাপন করতে কি কোটি কোটি টাকা লাগে? বিদ্যুৎ চলে যাবার পরে আমাদের এলাকার অনেক বাড়িতেই লাইট্ ফ্যান চলতে দেখা যায় আইপিএসের বদৌলতে। আইপিএসএর জন্য অনেকেরই বিশ ত্রিশ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এক লোক শুনলাম প্রায় কোটি টাকা দিয়ে ফ্লাট কিনেছে। সেখানে জেনারেটর খরচ নাকি মাসে আট নয় হাজার টাকা গুনতে হয়। সেই হিসেবে দশতালা দুই ইউনিটের একটি এপার্টমেন্টে দেড় লাখটাকা মাসিক খরচ জেনারেটরের তেল বাবদ। এই খরচের কিছু অংশ যদি তারা তাদের বিল্ডিংএর ছাদে সোলার এনার্জি সেল, উইন্ড মিল স্থাপন করতে ব্যয় করে তবে নিজেদের খরচ যেমন বাচাবে তেমনি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপও কমাবে। এমন এপার্টমেন্ট শহরগুলোতে ভুরি ভুরি আছে। আমরা উলটো আইপিএস সরকারের লোডশেডিং এর মূল উদ্দেশ্য কেউ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছি। কারন বিদ্যুৎ বন্টনের উদ্দেশ্যেই লোডশেডিং করা হয়। আমরা যদি বিদ্যুৎ আইপিএসএ সঞ্চয় করে রাখি তাহলে লোডুশেডিংএর লাভ তো কিছু হচ্ছেই না বরং উলটো আইপিএস নিজে কিছু অতিরিক্ত শক্তি নষ্ট করছে। মেশিন নিজের অপারেশনে নিশ্চয়ই কিছু শক্তি ব্যয় করে। শহরগুলোর সম্মিলিত আইপিএসের এই খরচ হিসেব করলে তা নিশ্চয়ই কম হবে না।
বড় বড় শপিং মলের প্রতি কেন জানি না আজকাল সবার একটা ইর্ষা দেখা যায়। কিন্তু যানজটের এই শহরে প্রচন্ড গরমে শপিংমলই কিন্তু অধিকাংশ লোকের বিনোদনের স্থান হয়ে দাড়াচ্ছে। শপিং মলে, মার্কেটে কি লোকে শুধু আজাইরা পয়সা উড়াতেই যায়? মার্কেট, শপিং মল কি শুধু বড়লোকের পয়সা উড়াবার জায়গা? বসুন্ধরা সিটির একটি দোকানের মালিক হয়ত কোটিপতি হতে পারে কিন্তু তার দোকানে যেই দশটা লোক কাজ তারা কি লক্ষপতি? যদি ধরেই নেই তিন চারদিন মার্কেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ জমা করে হাসপাতালের রোগিদের দেওয়া হবে। প্রশ্ন হল সেই দোকান কর্মচারিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চিকিৎসার খরচ জোগাবে কিভাবে? মালিক কি দোকান বন্ধ রেখে এমনি এমনি তাদের টাকা দেবে? যদি না দেয় তবে কি তাকে আমরা দোষ দিতে পারি? সে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবির মত তার মাস শেষে বেতন আসে না। তাকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা নিজেই করতে হয় সাথে নিজের কর্মচারিদেরও। এই বাস্তবতা অস্বীকার করবার কোন উপায় আছে কি? আজকালের অফিসগুলো সেন্ট্রাল এসি থাকে। এই এসি বন্ধ থাকলে আর বাতাস আসা যাওয়ার উপায় থাকে না। বিল্ডিংএর বাইরের দিকের রুমগুলোতে হয়ত বা জানালা খোলার ব্যবস্থা সম্ভব। নইলে মাঝের বদ্ধ ঘরগুলোতে শীতগ্রীষ্ম কোন কালেই এসি ছাড়া টেকা সম্ভব না। এটা কি ভুল?
স্কুল কলেজ বন্ধ করাও একটা প্রস্তাব। প্রশ্ন হল ঢাকা শহরের স্কুল গুলো কি অনেক অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে। একটা স্কুলে বড় জোড় প্রতি ক্লাস রুমে কয়েকটি লাইট, ফ্যান চলে। এর চাইতে কম পরিসরে একটি দোকানে আরো বেশি লাইট ফ্যান চলে। তাছাড়া দিনের বেলায় স্কুলে লাইটের ব্যবহার খুব একটা হয় না। শহরের সামগ্রিক খরচের সাপেক্ষে স্কুল কলেজের বিদ্যুৎ খরচ খুব একটা বেশি হয়ত হবে না। তিনশ পয়শট্টি দিনের বছরে একটা স্কুল সাপ্তাহিক ছুটি, দুই ঈদ, পুঁজা, জন্মদিন-মৃত্যুদিন, নানা দিবস, এসএসসি পরীক্ষার সিট পড়া, রাজনৈতিক-প্রাকৃতিক কারনে একটা বিশাল সময় বন্ধ থাকে। তার উপর যদি উড়ে এসে জুড়ে বসা বিদ্যুৎ সমস্যা জন্য ছুটি যোগ হয় তাহলে তো লেখা পড়া লাটে উঠবে।
সহজ কথা হচ্ছে আমাদের কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা আছে। সরকার যদি এই মূহুর্তেও সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হতে হতে অবশিষ্ট পৌনে চার বছর অনায়াসে কেটে যাবে বিদ্যুৎ পেতে পেতে। সাময়িক যে কোন উদ্যোগই আমরা ব্যর্থ হতে দেখছি। আমার মনে হয় সরকারের একটাই উপায় তা হল শহর গ্রামের মানুষকে ব্যাপক ভাবে সৌর বিদ্যুৎ সেল স্থাপনে আগ্রহী করে তোলা, উইন্ড মিল মানুষের কাছে জনপ্রিয় করা। এই ক্ষেত্রে আমাদের সব চাইতে বড় সমস্যাটিই প্রধান শক্তি হয়ে দাড়াতে পারে। সেটা হল আমাদের জনসংখ্যা। এই দেশে নাকি তেত্রিশ হাজার কোটিপতি আছে। তাদেরকে দিয়ে যদি সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োগ্যাস প্রভৃতি ব্যবহার করে জন প্রতি ০.০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করানো যায় তবে সরকার দ্রুতই একহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত পেতে পারে। এরজন্য সরকারকে মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে হবে।
সরকার তার ঘুনে ধরা মান্ধাতার আমলের আমলাদেরকে দিয়ে এই ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না। সরকারের শিক্ষা নেওয়া দরকার কর্পোরেট কম্পানিগুলো থেকে। আমরা এদেরকে যতই গালি দেই না কেন, তারা সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা সাথে সাথে বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে। যা আমাদের সরকার খাতাকলমে সব ক্ষমতা থাকা সত্তেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে পারে না। গ্রামীন ফোন যখন তার লোগো পরিবর্তন করে তখন আমি রীতিমত তাদের কর্মদক্ষতায় অভিভূত হয়েছিলাম। ঢাকার বাইরে সেই সময় বিভিন্ন জায়গায়তে যাওয়া হয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম, তাদের পুরানো লোগো কোথাও আর দেখি নি। একই ব্যাপারই দেখা যাচ্ছে একটেল নতুন নাম রবি নেবার পর থেকে। আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদের এইটুকু শিখেছি বিশাল রকম কিছু করার জন্য দরকার সঠিক ভাবে পরিচালনা, শক্ত নেতৃত্ব। সঠিক ভাবে অর্গানাইজ করা হলে এবং নেতৃত্ব শক্ত থাকলে নিতান্ত গাধাও নিজের অজান্তে অনেক বড় কিছুর অংশ হয়ে যেতে পারে। সরকারের উচিত সোলার সেল, উইন্ড মিল প্রভৃতির ব্যবসা খোলা করে দেওয়া,দেশী বিনিয়োগকারিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া, বড় বড় বিদেশী কম্পানিকে দেশে নিয়ে আসা। নিজের ব্যবসার স্বার্থে তারাই জনগনকে উজ্জিবিত করবে। সরকারের শুধু দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করলেই হল।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যাটা প্রযুক্তিগত। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে,এটা মাটি ফুড়ে বের হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উৎস আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। এই জন্য দরকার বিজ্ঞানী এবং ব্যবসায়ীদের যৌথ কার্যক্রম। সরকার শুধু এই দুই গোষ্টির মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে। দেশে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেসব বিজ্ঞানীরা কাজ করেন তাদের দিয়ে কিছু হবে না। কারন জীবনে চ্যালেঞ্জ নেবার সাহস নেই বলেই তারা সরকারি চাকরি একবার পেলে ত্রিশ বছরে আর যাবে না এই দর্শন নিয়ে চাকরি করে যাচ্ছেন। তারা কিছু এ যাবৎ করতেও পারেননি আর পারার সম্ভবণাও নেই। বিদেশে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা কর্মরত আছেন, তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিলে নিজ দেশে কিছুটা কম বেতনে চাকরি করতে অনেকেরই বাধবে না। বরং, অধিক আগ্রহে তারা দেশের জন্য কাজ করবেন।
প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে আবেগের কোন স্থান নাই। আমরা বড়ই আবেগ প্রবন জাতি। রাস্তা ঘাট কম থাকা, অব্যবস্থাপনা, অধিক জনসংখ্যার জন্য সৃষ্টি হওয়া যানজটককে আমরা শুধুই বড়লোকের প্রাইভেটকারকে দায়ী করি। আবার নিজেরা বাসে বসে রিক্সাই সকল যানজটের মূল কারন উল্লেখ করে রিক্সাওয়ালাদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করি। কিন্তু আমরা ভাবি না যে যার সামর্থ আছে সে কেন গাড়ি কিনতে পারলে কিনবে না? রিক্সা ওয়ালাকে যতই গালি দেই তাকে কি আমরা রাস্তায় রিক্সা চালাবার রীতিনীতি শিখিয়েছি? তাকে কি অন্য কোন কিছু করবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি আমরা?
বিদ্যুৎ, পানি্ গ্যাস, যানজট প্রভৃতি আমাদের সমস্যা। এগুলোকে সমাধান করতে হবে অংকের মত। হিসেব করতে হবে কি আছে হাতে কি নেই। প্রধানমন্ত্রী হাজার ধরনের মানুষকে নিয়ে উঠা বসা করেন। কেউ উনি সরে গেলেই খুশি (বিরোধী দল), কেউ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি পেলে খুশি, কারো আর কোন দাবীই নাই সে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, আরো কত কি! উনি যাদের খুশি করতে পারবেন না তারা তার গদি ধরে টান দেবে। বেচারীরা দেশের সবক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারেন কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা মনে হয় সবচাইতে বেশি। ভাল কাজও চাইলে করতে পারেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ করা যেতে পারে যে, দয়া করে মানুষের সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হন। আপনার ভাবতে হবে না ষোল কোটি মানুষের দেশে আপনাকে সহায়তা করার মত অনেক মানুষই পাবেন।
পোস্টের শেষে আমি এখন। এটাই শেষ অনুচ্ছেদ। শেষ করব যেটা বলে, তা প্রথমে মাথায় রাখলে এ পোস্ট আর লিখতে পারতাম না। আজকাল এইরকম কারনে তাই আর লেখা হয়ে উঠে না। কারনটা হল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরা এত কিছু বুঝলে বা বুঝতে আগ্রহী হলেতো দেশে এইসব সমস্যা থাকত না। শান্তিতে ব্লগে আড্ডা দিতাম। এইদেশে যা কিছু নতুন নতুন হয়েছে জনগন নিজেরা নিজেরাই করেছে। মানুষ জীবিকার তাগিদে দেশ হতে বিদেশে গিয়েছে, এখন সরকার এর থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আর জনশক্তি রপ্তানির বড় বড় কথা বলে। কিছু লোক গার্মেন্টস ব্যবসা করে লাভবান হয়েছে অন্যদের আকৃষ্ট করেছে তারপর সরকার এই খাতের প্রতি আগ্রহী হয়েছে। তেমনি আমাদেরও নিজেদেরই সোলার সেল, উইন্ড মিল প্রভৃতির ব্যবহার শুরু করতে হবে। একসময় সরকারের লোকজন নিজ স্বার্থেই এটাকে সহায়তা করবে।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার কথা, কারেন্ট ইভেন্টস বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
ঠিকাছে।
লেখক বলেছেন: থ্যাংক্স
হায় ঈশ্বর! বলেছেন:
ঠিক ঠিক ঠিক
লেখক বলেছেন: ওকে ওকে
ব্যতিক্রমী বলেছেন:
হুমম। তো কেমন আছেন ভাইয়া?
লেখক বলেছেন: হুম। ভাল আছি ভাইয়া।
লেখক বলেছেন: কমেন্টায়া আসছি।
ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ইয়াপ
নিস্সঙ্গ যোদ্ধা বলেছেন:
একমত
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
কোর আই সেভেন বলেছেন:
এমন যুক্তি দিয়ে লেখা পড়তে ভাল লাগে। জাঝা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আসলে এগুলো ছাড়া উপায় তো দেখি না।
জেনন বলেছেন:
স্টিকি করা হোক।আমরা কাউকে দোষারপ করবোনা।
কোন কিছু বিসর্জন দিয়ে নয়, নতুন আইডিয়া দিয়ে সমস্যার সমাধান চাই।
লেখক বলেছেন: বিসর্জন কনসেপ্টে চললে সমাধান কখনই আসবে না।
বোবাবৃক্ষ বলেছেন:
যদিও আমি আজকেই স্টিকি পোস্টের বিরুদ্ধে পোষ্ট দিছি, তারপরেও কেইতে চাই এই পোষ্টটারে ষ্টিকি করা হোক।আসেন আগে নিজেরা বদলাই, তারপরে বদলের কথা বলি।
লেখক বলেছেন: ![]()
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
ভীষন ভাবে সহমত!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
কেমন আছেন?
সাদাকালোরঙিন বলেছেন:
আমাদেরকে এই মুহুর্তে পুর্ববর্তী ঘাটতির ভোগান্তিই পোহাতে হবে । তার উপর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের দীর্ঘসুত্রিতা তো আছেই । কোন কারনে যদি সরকারী ক্রয়নীতির দীর্ঘসুত্রিতা পরিহার করে হাসিনার একক সিদ্ধান্তে কিছু করাও হ্য় তাহলে হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরলেই তাকে এসব সিদ্ধান্তের জন্য বিদ্যুৎ খাতে দূর্নিতির দায়ে অভিযুক্ত করা হবে।হাসিনা যখন দ্রুততম সময়ে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানীর জন্য ভারতের সাথে চুক্তি করেছিল তখনও এর অনেক সমালোচনা হয়েছিল। এই দেশে কাজ না করার চেয়ে কাজ করার বিপদ বেশি। সুতরাং দ্রুত কিছু করাও সরকারের জন্য ঝুঁকিবহুল। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি তো আছেই বিবৃতি দেয়ার জন্য। মোদ্দা কথা বিদ্যুৎ সমস্যা এত সহজে মিটবে বলে মনে হ্য় না।
লেখক বলেছেন: তা আর বলতে।
অসময়ের আমি বলেছেন:
সসসসসশহহহহহহহহমৎৎৎৎৎৎৎৎৎৎৎ
লেখক বলেছেন: হুম
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
এতো কিছু বন্ধ না করে পুরো বাংলাদেশকেই চৈত্র ও বৈশাখ মাসে বন্ধ করে দেওয়া হোক, সব বিদ্যুৎ বেচে যাবে।
লেখক বলেছেন: ভাইরে মনে হয় সামনে আর চৈত্র বৈশাখের বাধ বিচার থাকবে না।
ভিয়েনাস বলেছেন:
এসব আলোচনাধর্মী পোস্ট পড়তে ভালো লাগে। আপনার সাথে সহমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
শুভকামনা রইল।
বিডি আইডল বলেছেন:
একমত
লেখক বলেছেন: কেমন আছেন ভাই?
আবিরে রাঙ্গানো বলেছেন:
আগের পোষ্টের পরে এই পোষ্ট পুরো বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে আলোচনাকে পূর্ণতা দিয়েছে। এই পোষ্টটিও স্টিকি করা হোক। আমি আগের পোষ্ট দেখে কিছু যুক্তি দেখাতে চাইছিলাম, যেটা এই পোষ্টে দেয়া হয়েছে।
যেমন ধরুন, স্কুল কলেজ বন্ধ করা। এক মাস স্কুল কলেজ বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না ঠিক। কিন্তু এক মাস পরে কি গরম চলে যাবে?? নাকি গরম আরো বাড়বে??
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন। একটাকা দুইটাকা বাচানো কে কি আর বাড়তি আয় বলা যায়!!!
আজিজ তানভীর বলেছেন:
একদম মনের কথাটা বলে ফেললেন। আমাদের সরকার বা প্রধান্মন্ত্রী কেউই এখনো এত দূরদর্শী হয় নাই যে তারা সোলার প্যানেল অথবা উইন্ডমিলের গুরুত্ব বুঝবে।এখন উপায় এক্টাই---আমরা নিজেরাই যদি কিছু একটা করে তাদের চোখের সামনে তুলে ধরি তাহলেই হয়তো তাদের কাছ থেকে কিছু সাহায্য পাওয়া সম্ভব।
আর আমাদের পক্ষেও এটা অসম্ভব কিছু না।দেশে তো আর শিল্পপতি,ব্যাবসায়ী,প্রকৌশলীর অভাব নাই।কিন্তু দুঃখ একটাই যাদের মাথা আছে,তাদের মাথাব্যাথা নাই।
গার্মেন্টস শিল্পের কথাটা যেটা বললেন সেটা একদম খাটি কথা বলছেন।
সময় পাইলে এই লিংক টা একটু দেইখেন।অনেক্টা আপনার কথাগুলাই বলছিলাম
Click This Link
এই ব্লগে যদি একজনও এরকম থাকেন যে এরকম কোন কাজে উদ্যোগী হচ্ছেন,একটু আও্আজ দিয়েন......
লেখক বলেছেন: আপনার পোস্টটাও ভাল লাগল। শুভকামনা।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
সহমত! কিছু দিন আগে "ব্লুম বক্স" (রাসায়নিক বিদ্যুত) এর একটা খবর শুনে মনে হইছিলো, এটার একটা ঝড় উঠবে! এখন তেমন কিছুই শোনা যাচ্ছে না!লেখক বলেছেন: ঐসব ঝড় হালকা বাতাস আসলে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হবে হবে মনে হলেও হয় না।
'প্রধানমন্ত্রী আসুন ব্লগে কথা বলি, আসুন কৃচ্ছতা সাধন করি' এর পাশাপাশি এই পোস্টটিও স্টিকি করার জোর দাবি করছি।
রবির পোস্টটিকে পূর্ণতা দিয়েছে এই পোস্টটি। এখানে সমস্যা সমাধানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।
পোস্টটি স্টিকি করা হোক।
পোস্টটি স্টিকি করা হোক।
লেখক বলেছেন: নাহ! আটা লাগাইতে ভাল লাগে না।
রাহা বলেছেন:
হুমম... আসলে সময় এসেছে বিকল্প শক্তির খোঁজের...
লেখক বলেছেন: সময়টা আরো অনেক আগেই এসেছিল। আমরা ঘুমে ছিলাম।
ভুডুল বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। স্টিকি না করলেও চলবে।
জীবনানন্দদাশের ছায়া বলেছেন:
উইন্ডমিল, বায়োগ্যাস আর সোলার এনার্জি এই তিন শক্তিকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে হত।
প্রকৃতিতে বাতাসের আপাতত কোন শর্ট সাপ্লাই দেখতে পাচ্ছিনা। উইন্ডমিলের মুল কাঁচামাল বাতাস বেশ সস্তায় পাওয়া যায়, প্রয়োজন ইনফাস্ট্রাকচারটা দাড় করানো এবং তার সঠিক রক্ষনাবেক্ষন। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এ ব্যাপারে প্রজেক্ট প্রোপোজাল চাইতে পারে সরকার। যদিও আমার জানামতে হাতিয়াতে একটা সোলার পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে আরো সম্ভবত দু' একটা থাকতে পারে।
বায়োগ্যাস প্লান্ট নিয়ে একসময় কিছুটা নড়েচড়ে বসেছিল কোন এক সরকার, আমার ঠিক মনে নেই তবে টিভি মিডিয়ায় কিছু প্রচারণা চিখে পড়েছিল। তারপর কেন এমন একটা ওয়ার্ক্যাবল টেকনোলজী মার খেল বলতে পারছিনা।
সোলার পাওয়ার নিয়ে বলার কিছু নেই। সরকারকেই আগ্রহী মনে হচ্ছে। তবে রেসিডেনসিয়াল ইউজকেই নয় সেই সাথে ইনডাস্ট্রিয়াল বেসিসে ইউজ করা যায় কিনা ভাবা উচিৎ।
সোলার পাওয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিক পর্যায়ে যে ছোট প্লান্ট স্থাপন করা হবে তা ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিডের সাথে কানেক্ট করা যেতে পারে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ-এর যে মুল্য আসবে তা সরকার ব্যক্তিকে পে করবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারী পর্যায়ে ছোট করে সোলার পওয়ার স্টেশন স্থাপনের কথাও ভাবা যেতে পারে।
***********************************************************************
চমৎকার পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার শেষের প্রস্তাবটি আসলেই সরকারের নজরে দেওয়া উচিত।
হিমু ব্রাউন বলেছেন:
সহমত!
লেখক বলেছেন: একমত
সুনীল সমুদ্র বলেছেন:
স্টিকি করার মতোই অসাধারণ একটি পোষ্ট।
সমস্যার প্রকৃতি, কঠিন বাস্তবতা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে সূক্ষ বিশ্লেষণ, ভুলপথের সমাধানের চাইতে বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানধর্মী সমাধানের পথ খোঁজার আন্তরিক প্রয়াস-পোষ্টটিকে অনেকের কাছেই প্রিয় করে তুলবে।
ধন্যবাদ, এমন পরিশ্রমসাধ্য ডেডিকেটেড পোষ্টের জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকে উৎসাহব্যাঞ্জক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
দখিনা বাতাস বলেছেন:
আমি নিজেই একটা সোলার প্যানেল রেডি করছিলাম ২০০৯এ। তেমন সুবিধার জিনিস না। ১২হাজার টাকা দিয়ে ব্যাটারী কিনতে হয়ছিল ২৫০ ওয়াটের জন্য। বর্ষা কালে বিরাট ঝামেলা। সোলার প্যানেল সুর্যের তাপ পাইতো না ঠিকমত, ব্যাটারীও চার্জ হইতো না। আরো নানান ঝামেলা।শান্তি পাই নাই। পরে আইপিএস এ মুক্তি। উইন্ডমিল নিয়ে একজনের সাথে কথা বলছিলাম, উনি যা বললো, বাংলাদেশে একমুখী বাতাস পাওয়া যায় সবসময় এমন জায়গা নাই তেমন। আর ঐটা দিয়ে খাজনার চাইতে বাজনা নাকি বেশি। খরচ, নানান আয়োজন,--- বিদ্যুৎ কম।
সবচাইতে সুবিধা নাকি, জল বিদ্যুতে। কাছাকাছি ভুটান আর নেপাল আছে জলবিদ্যুত আমদানী করার মত। পাহাড়ী নদী বেশি থাকাতে ভুটান নাকি বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত দেশ। কিন্তু এতদুর থেকে বিদ্যৎট সন্চালন লাইন টানা, তাও আবার ভারতের ভুমি ব্যাবহার করে-- ঐটা বলে আরেক ভেজাল।
আপনার কথা ঠিক, এই মুহুর্তেও ব্যবস্হা নিলেও বিদ্যুত পেতে মিনিমাম ৩ বছর। আরেকটা সমস্যা হলো, টেন্ডারে যেসব কোম্পানী আসে, তারা প্রতি ইউনিটের মুল্য চায় অনেক বেশি। সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরন করতে একটু ঝামেলা হলেই পরবর্তি সরকার করবে মামলা ( হাসিনার নামে মেঘনাঘাট ৪৫০ মেগাওয়াট মামলা চলছে। মামলার কারন, টেন্ডারে নাকি যথাযথ সরকারি নীতি মানা হয় নাই) অনেক ঝামেলা আর ঝামেলা.....
লেখক বলেছেন: সরকার বেচারাদের কথা আর কি বলব। আমরাই চাব দুইদিনে সমস্যা সমাধান কর। আবার আমরাই পর মামলা হলে নেতানেত্রীদের দূর্নীতিবাজ বলে ডুগডুগি বাজাব। এই ঝামেলা যাবার নয়।
হুম। আপনার লেখা পড়ে মনে হল আপনি একজন ইঞ্জিনিয়ার। তাহলে ঝামেলার কথা আপনার কাছ থেকে শুনব না। ঝামেলাতো থাকবেই, আপনারা সমাধান দিন। উপায় খুজে বের করুন।
লেখক বলেছেন: লিখতে লিখতে বহুমুখি বাতাসের সমস্য সমাধানের একটা আইডিয়া এল। এটা কি সম্ভব না পাখাগুলোর নিচে এমন ব্যবস্থা রাখা যে বাতাস যেইদিক থেকে প্রবাহিত হবে উইন্ডমিলের পাখাও সেই বরাবরই ঘুরে যাবে?
আমার মনে হয় অসম্ভব নয়।
অপ্সরা বলেছেন:
কেমন আছো বন্ধু?
মুনিয়া বলেছেন:
হুমম... যুক্তি আছে কথায়
লেখোয়াড় বলেছেন:
দ্যাহেন দিন ভাই কল্লেন কি।
হেমায়াত উল্লাহ বলেছেন:
বোঝাই যাচ্ছে যে আপনি জটিল রকমের মানুষ। আমার লিংক এ আপনাকে আপাতত রাখলাম। তার পড়ে দেখি কি করাযায়!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...






















