somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাবনার ধারাপাত

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ দুপুরে।
লাঞ্চ করি ফ্রেন্ডদের সাথে রেস্টুরেন্টে।
উদাস উদাস চোখ। কাঁচের দেয়াল ভেদ করে দৃষ্টি শুধু বাইরে চলে যাচ্ছে, বন্ধুদের আলাপে মন নেই।


রিকশায় এক গ্রাম্য বৃদ্ধা, এক মধ্যবয়স্ক লোক তিনটা ছাগল নিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে হল আমাদের বাড়িতেও দুটো ছাগলছানা ছিল। আমাদের বাড়িতে তার প্রথম দিনে আম্মু ওটাকে নিচে না রেখে সোজা দুইতলায় এসে হাজির। দরজা দিয়ে ছাগলছানাকে আমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সে আসবেই না! আম্মু ছাগলকে বলে, "যাও যাও কাছে যাও। আপু হয় তো!" আব্বু ওটাকে নিজের হাতে খাওয়াতো। সকাল রাত দুইবেলা। এতো ন্যাওটা হয়ে গিয়েছিল আব্বুর যে শুধু ওই দুইবারই খেত শান্ত হয়ে, আর সারাদিন জ্বালাতো খুউউউব, মানুষের ছোট বাচ্চার মতো। আব্বু অনেক রাতে ফিরত আগে, ও আসার পর রাত ১১টার মধ্যে ফেরার চেষ্টা করত। আমি সত্যি ওই ছাগলের বাচ্চাকে হিংসা করতাম, আমার আব্বুকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার জন্য। আব্বু মারা যাওয়ার পর বেচারার অনেক কষ্ট হয়েছে বোধয়, কিছু খেত না, সারাদিন শুয়ে থাকতো, রাতে কোন গাড়ির শব্দ শুনলে আমাদের যেমন মনে হতো আব্বু আসছে ওটাও বড় লোহার গেট ভেঙ্গে বের হয়ে যেতে চাইতো। আব্বুর চল্লিশাতে ওকে রেঁধে খাওয়ানো হয়েছে। তার আগে ওর দুটো ছবি তোলা হয়েছিল, যত্ন করে রেখে দিয়েছি।
শহরের মানুষের বিল্ডিং বাড়িগুলোতে থাকে পোষা কুকুর, পোষা বিড়াল, পাখি... আমাদের ছিল ছাগল। আমার ছাগল ভাই।
আমার ফ্রেন্ডরা খুব হাসাহাসি করে এটা নিয়ে। পুরো ছাগল জাত আমার ভাই-বেরাদার। কিন্তু বুকের মাঝে কোথায় ব্যাথা বাজে nobody knows!!!


গ্রাম্য বৃদ্ধা আবার।
এরপরই মনে হল আচ্ছা ভবিষ্যৎ চাকরি জীবনে আমার পোস্টিং কোথায় হলে ভালো হবে? রিকশার গ্রাম্য বৃদ্ধার মতো মানুষগুলো যেথায় থাকে সেরকম জায়গায়? নাকি কোনভাবে যদি মেডিকেল কলেজের টিচার হওয়া যায় সেটা করেই আরামে বাসায় দিন কাটাবো! প্রথমটা অ্যাডভেঞ্চারাস পরেরটা আরামদায়ক। আমি দুটোই ভালোবাসি। কনফিউজিং!
আমার জন্য অনেক অনেক সাধারণ জিনিসই অ্যাডভেঞ্চার। এই যেমন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাফ-বয়েলড ডিম খাওয়া, বর্ষায় দু'মাইল কাদাওয়ালা গ্রামের রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়া এবং তাতে তিন-তিনবার আছাড় খাওয়া, নদীর খাড়ারকমের বাঁধ দিয়ে নিচে নেমে আবার উঠে আসা, যারা ভয় পায় তাদের হাত ধরে উঠায় নিয়ে আসা সেইসাথে হাসাহাসি, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলাগাছের ভেলায় চওড়া নর্দমা পার হয়ে নদী আবিস্কার করা, সামুতে দুই-এক লাইন লিখতে পারা- এসবই আমার অ্যাডভেঞ্চার। কাজেই কোথায় জব করতে পারা ভালো হবে ডিসাইড করা খুবই কনফিউজিং!


রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাফ-বয়েলড ডিম খাওয়া।
আমার রিসেন্ট বিস্ময়ময় অনুভূতি।
জব চিন্তা শেষ করে মনে হল আম্মু আমায় ডিম খেতে এতো উৎসাহ দেয় সবসময়, তাহলে কখনও বাজারে নিয়ে গেলে কেন বলত না, "বাবা একটা ডিম খাবে?" আমার লোভাতুর দুইটা চোখ কি কখনও দ্যাখেনি মা? নাকি ওগুলোয় ধুলা-বালি পড়ে তাই? ধুলা-বালি কীভাবে পড়বে উপরে খোসা থাকে তো! উমমম আম্মু কী রাগ করবে তাহলে এই খাওয়ার কথা বললে?
ও আচ্ছা আমি তো ছোটবেলায় ডিম খেয়েই অসুস্থ হয়ে যেতাম। এজন্য কখনও কিনে দেয়নি। আমি কিনে দিতে বললে অবশ্যই দিতো। এখন যখন ফোনে বলি আজ ডিম খেয়েছি, অসম্ভব খুশি হয় যেন নোবেল পেয়েছি!!


ছ'টাকার একটা ডিমের কথাতেই এতো হ্যাপী। না জানি আম্মুটা কেমন আছে। কীভাবে একা একা থাকে এতবড় বাসায়। ইদানীং এতো বেশি ক্রাইম বেড়ে গেছে যে ভয়ই লাগে কখন আম্মুটার কী হয়। আব্বু নেই, আমি দূরে, যদি কিছু হয়? আব্বু যখন মারা যায় মা ছিলনা। আগের দিন শুধু আব্বু আর আমি, মৃত্যুর দিন আব্বু একা। অসম্ভব কষ্টের দিন ছিল সেগুলো। পুনরাবৃত্তি চাই না। আল্লাহ আমার আম্মুকে ভালো রেখ।


আম্মুর মুখটা মনে ভেসে উঠল।
আম্মু যখন আমার কাছাকাছি থাকে অসম্ভব বিরক্ত হই, কোনকিছু স্বাধীনভাবে করা যায় না। এটা না, ওটা না, কে ফোন দিল, ছেলেদের সাথে কথা বলবে না, ছবি এঁকে রঙ নষ্ট করো কেন, এতটুকু ভাত খেয়েছ কেন, ঝাল খেতে পারো না কেন ইত্যাদি ইত্যাদি। নিত্যদিনের বকাঝকা।
তবুও, আম্মু তুমি জানো না তোমায় কত্ত ভালোবাসি।


সমাপ্ত।
বাস্তবে ফিরে এলাম। লাঞ্চ শেষ করলাম।
মাটন বিরিয়ানী। জিনিসটা টেস্টি ছিল, আমিও ক্ষুধার্ত ছিলাম।

(এসবই ছিল দু'মিনিটের বিরতি। সত্যিই ভাবনা কোথায় শুরু হয়ে কোথায় শেষ হয়!)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×