আমার হল জীবন: কিছু স্মৃতি রোমন্থন (৫)
ঈদের ছুটি হতেই আর দেরী করলাম না, শেষ দিনের শেষ ক্লাসটা করেই র্ওনা হলাম বাস স্ট্যান্ডের দিকে, কারন ব্যাগেজ আগেই গোছানো ছিল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসস্ট্যান্ড খুব বেশি দূরে নয়। তারপর ও দূর্ভাষী বাস স্ট্যান্ডে আমাকে পৌছে দিতে যাবে বলে জানিয়েছিল, দু'জনে গেলাম বাসস্ট্যান্ডে, টিকেট কেটে আমাকে সিটে বসিয়ে দিল এবং নিজে বাইরে ঘুরাফেরা করতে লাগল, আর আমি তখন ভাবছি পাশের যাত্রি কে হবে কেমন হবে এসব নিয়ে। বাস ছাড়ে ছাড়ে তা ও দূর্ভাষীর কোন খবর নেই, এদিকে একটা দিক থেকে নি্চিন্ত হলাম যে আমার পাশের সীট টা ফাঁকা থাকছে। স্ট্যান্ড থেকে বাস মেইন রোডে ইঠতেই বাসে উঠল দূর্ভাষী, তখন বুঝলাম পাশের সীট ফাঁকা থাকার আসল কারন। সে যাচ্ছে আমাকে পৌছে দিতে। আমি অনেক বললাম, যেতে যেতে সন্ধ্যা, ফিরতে বে রাত হবে, তুমি ওখানে রাত থেকে যদি ফির তাহলে কোন অসুবিধা নেই, কিন্তু সে যাবে এবং রাতেই ফিরে আসবে।
কিছুদূর যেতে বুঝলাম সে কিভাবে ফিরবে, কারন আমাদের বাসের পিছে পিছে দূর্ভাষীর বাইক খানা ও ছুটছে, আর সেটা ড্রাইভ করছে সেতু।
একসময় শেস হলো আমার আড়াই ঘন্টার জার্নি। বাসায় ঢুকেই আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললাম, আর মানিক জোড় দুইজন তখন আমার সামনে দাড়িয়ে। কিছুক্ষন পর তারা ফেরার জন্য তৈরী হলো, কিন্তু আম্মু আপত্তি করে বসল। সেই সন্ধ্যায় তাদের খাইয়ে দাইয়ে তারপর বিদায় জানালেন আম্মু।
ঈদের ছুটিটা খুব মজা করে কাটালাম। ভাইয়া ভাবী এলো আমার একমাত্র ভাতিজাকে নিয়ে, মেঝ ভাইয়া ও এলো, ছোটভাই তো ছিলই বাসায়, আব্বু ও এলো। আর আমার খালাত বোনেরা সব মিলিয়ে ৭ টা সবসময় আমাদের বাসায়। উল্লেখ্য যে, আমার খালারা সব সাতক্ষীরা শহরেই থাকে। ৮ বোন দল বেধে গ্রামের বাড়ি (নানীবাড়ি) গিয়েছি, দস্যিপনা করেছি, পুকুরে সাতার কেটে গোসল করেছি, গাছ থেকে ডাব পাড়িয়ে খেয়েছি আর ও কত কি!
দেখতে দেখতে ঈদের দিন এসে পড়ল। বিকাল বেলা তৈরী হচ্ছি নানী বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে, এমন সময় গেটে মোটর সাইকেলের হর্ন, ভাবলা আব্বুর কাছে কেউ এসেছে, কিন্তু গেট খুলতেই দেখি দূর্ভাষী তার বড়আম্মা (বড় ভাতিজি) কে সাথে নিয়ে হাজির। শুরু করলাম রাগারাগি, প্রথম কারন আসবে মোবাইলে জানায়নি, ২য় কারন ঈদের দিন প্রায় ১০০ মাইলের ও বেশী রাস্তা ড্রাইভ করে এসেছে এবং তিনি থাকবেন না, মানে আর ও ১০০ মাইল ড্রাইভ করবেন, ৩য় আমার নানী বাড়ি যাওয়া বাতিল করতে হচ্ছে।
সবকিছু শুনে সমাধান সেই করল, সেও যাচ্ছে নানী বাড়ি। আম্মু জানাল ফিরতে দেরী হবে এবং রাতে বাচ্চা একটা মেয়েকে বাইকে বসিয়ে ড্রাইভ করতে সমস্যা হবে, কিন্তু কে শোনে কার কথা, সে গেলো আমাদের সাথে নানী বাড়িতে। আর স্বভাবসুলভ ভাবেই বস করল সবাইকে। অনেক মজা করলাম সেদিন আমরা। আমার তাগিদেই তাড়াতাড়ি ফিরলাম নানী বাড়ি থেকে, ফিরে এসে খুব বেশী না করে তারা মা ব্যাটা বিদায় নিলো, আর সাথে করে নিয়ে গেলো আমার ছোটভাইটাকে।
(ক্রমশ)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





