somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনু-গল্পঃ বুক মার্কার

২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



-মিতু । এই মিতু !

মিতু বইয়ের ভেতরে ডুবে ছিল । বই পড়ার সময় অন্য কোন দিকে তার লক্ষ্য থাকে না । অন্য সব কিছু থেকে নিজেকে একেবারে আলাদা করে ফেলে । মিতু বই থেকে চোখ তুলে তাকালো দরজার দিকে । ড্রয়িং রুম থেকে আওয়াজ আসছে ।

-মিতু । এক কাপ চা ! চা দিয়ে যাও !

মিতু একটু বিরক্ত হল । বই পড়ার সময় অন্য কোন কাজ করতে ওর ভাল লাগে না । অপু নিজেও এটা জানে খুব ভাল করে । তবুও ও এমন করে । মিতুর মনে হয় অপু এই কাজটা ইচ্ছে করে । ওকে বিরক্ত করতে অপুর মজা লাগে । এক গ্লাস পানিও খেতে হলে ওর মিতুকে ডাকার দরকার পরে । মিতু বইটার ভেতরে মোবাইল রেখে মার্ক করে রাখলো ।
দরজা দিয়ে বের হয়ে একটু গলা চড়া করেই বলল
-কি হয়েছে ?
-এক কাপ চা !

মিতুর একবার মনে হল বলে যে পারবে না । নিজের চা নিজেই বানিয়ে নাও । কিন্তু বলল না । আরেকবার ঘুরে বিছানার উপর পড়ে থাকা বইটার দিকে আবার তাকালো । বইটা বেশ কিছু পাতা পর্যন্ত পড়া হয়েছে । আজ রাতে শেষ না করলে ওর শান্তি হবে না । দরকার হলে রাতে না ঘুমিয়েই আজকে বইটা শেষ করবে । অবশ্য সমস্যা নেই । আগামীকাল ছুটির দিন বেলা করে ঘুম থেকে উঠলেও সমস্যা হবে না । আর চা বানাতে খুব একটা সময় লাগবে না !

মিতু রান্না ঘরের দিকে হাটা দিল । পানি গরম করাই ছিল ফ্ল্যাক্সে । চা পাতা খুজতে লাগলো । চা বানাতে খুব বেশি সময় লাগলো না । চা নিয়ে যখন ড্রটিং এসে হাজির হল তখন ওর বিরক্তিটা আরও একটু বেড়ে গেল । ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে কাটা কাগজ পড়ে আছে ।
এই ছেলে এমন সব কাজ করতে পারে ! কেবল ওর কাজ বাড়ায় ! মিতু বলল
-ঘরের অবস্থা কি করে রেখেছো ?

অপু হাসলো । বলল
-এই একটা কাজ করছিলাম । তুমি চিন্তা কর না । আমি পরিস্কার করছি !
মিতু কিছু বলতে গিয়েও বলল না । মুখটা একটু স্বাভাবিক করলো । তারপর চায়ের কাপটা টি-টেবিলের উপর রেখে বলল
-ভাল করে পরিস্কার করবে !
-আচ্ছা । করবো । সমস্যা নেই । তুমি যাও ! বই পড় গে !

মিতু আর কোন কথা না বলে আবারও শোবার রুমের দিকে হাটা দিল । বিছানায় শুয়ে বইটা হাতে নিতেই দেখলো ওর মোবাইলটা বইয়ের এক পাশে রাখা । অথচ ও যাওয়ার সময় মোবাইলটা বইটার ভেতরে রেখে গিয়েছিলো মার্ক করে ।
বইটা খুলতে একটা অদ্ভুদ ব্যাপার দেখতে পেল । বইটার ১২১ নম্বার পাতাতে একটা চমৎকার বুকমার্কার রেখে আটকানো । হাতে বানানো !

মিতুর মনটা সাথে সাথেই ভাল হয়ে গেল । ড্রয়িং রুমের কাটা কাগজের কারনটা বুঝতে পারলো । সেই সাথে অপু কেন ওকে চা বানানোর জন্য বলেছিলো সেটাও বুঝতে পারলো । ও চা বানাতে গেছে আর এই ফাঁকে অপু এই বুকমার্কারটা ওর বইয়ের ভেতরে রেখে গেছে । ওর জন্য !
আশ্চর্য ছেলেটা নিজ থেকে দিয়ে যেতে পারতো না ? বইটা হাতে নিয়ে কয়েক মুহুর্ত বসেই রইলো ।


মিতু বইটা হাতে নিয়ে উঠে দাড়ালো । তারপর ড্রয়িং রুমে এসে হাজির হল । অপু আবারও শোফার উপর বসে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে । অপুর বই পড়ার ঠিক অভ্যাস নেই । তার বদলে ও টিভি দেখে । অফিস থেকে এসে ওর ঘুম আসা পর্যন্ত টিভি দেখে । অন্যান্য সময়ের মত অপু যেভাবে টিভি দেখে রাতের বেলা আজও সেরকম ভাবেই টিভি দেখছে । দুটো পা টি টেবিলের উপর তুলে রাখা ।

মিতু বইটা হাতে নিয়ে অপুর পাশে গিয়ে বসলো । একেবারে গাঁ ঘেষে ! অপু কেবল তাকালো ওর দিকে । মুখটা একটু হাসি হাসি । তবে কিছু বলল না । এমন একটা ভাব যেন ও কিছুই করেই নি ।

মিতু ওর পাশে বসলো । তারপর নিজের পা দুটো টি টেবিলের উপর রাখলো, অপুর পায়ের পাশেই । আজকে কেন জানি মিতুর বই পড়ার থেকেও অপুর পাশে থাকতে ভাল লাগছে । বইটা আর খুললো না । আজকে আর পড়তে ইচ্ছে করছে না । বরং অন্য কিছু ইচ্ছে করছে !
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হোস্টেল জীবনের টুকরো গল্প(স্মৃতির পাতা থেকে)

লিখেছেন উম্মে সায়মা, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৩৩





আমি সাধারণত চা খাইনা। আসলে তেমন পছন্দ না। আজ ইউনিভার্সিটির ক্লাস নেই। তবু অভ্যাসবশত সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে উঠে মনে হল এক কাপ চা খাওয়া যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতনভূক্ত ইমামের পিছনে নামাজ পড়া কি জায়েজ

লিখেছেন স্বতু সাঁই, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০৯

যে ক'দিন সামুতে আসা হয় নি, সেই ক'দিনে জন্য অনেক সঞ্চয় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক জায়গায় ভ্রমন করেছি। ভ্রমনে একটি লাভ হয়, পথে ঘাটে অনেক সাধারণ মানুষকে ভজন করা যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা টু চিৎপুর

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:০৪


ঢাকা থেকে কলকাতার ভ্রমণটা কেমন হয় তা জানার জন্য ভিসাতে বাই ট্রেন লাগিয়ে নিলাম। কিন্তু ভ্রমণের সময় মনে হল আসলে সিদ্ধান্তটা ভুল হয়ে গেছে। অনেক খুঁজে আমার ভ্রমণ সঙ্গী যাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

|| হায়রে মানুষ ||

লিখেছেন নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১০



দারুণ কনকন শীত-কম্পিত শরীরে কাটে রজনী,
কুড়ে ঘরের বেড়ার ফাঁকেফাঁকে প্রবেশিত
ঝিরঝির বায়ু-ঘন কোয়াশাঁয় বেঁধেছে সর্দিকাশি।
অস্বচ্ছল পরিবার- দিন আনে দিন খায়
ঘরে নাই কম্বল লেপ কাঁথা বেশি,
কোথায় পাবে ঔষধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহাঃ মানুষ - কবিতা

লিখেছেন গেম চেঞ্জার, ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৯



আমাদের বড় তাড়াহুড়া,
বেচারা সুবোধ কোনদিকে পালাবে সে রাস্তা যেখানে খুজে পাচ্ছে না,
সেখানে আমি!
দিব্যি বেনসন ফুকে ইশ্বরের দিকে ধোয়া ছুড়ে আরাম খুজি।
আহাঃ মানুষ!
দু-পায়ের ফাকের ফিকির নিয়ে সবসময় তারা মত্ত,
আর চিত্রকরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×