মিউচুয়াল সেক্স বিশেষজ্ঞ জাতীয় বান্ধবী ‘‘অধ্যক্ষ হোসনে আরা’’ কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘’আম্বিয়া খাতুন’’ কে। ম্যানিজিং কমিটির পক্ষ থেকে কোষাধ্যক্ষ ড। মুজিবুর রহমান এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এই পর্যন্ত খবরে, অনেকেই স্বস্তিবোধ করবেন। আন্দোলনকারীরাও তাদের দাবী আদায়ের একটি পর্যায় অতিক্রম করলেন।
কিন্তু পুরুষতন্ত্রের প্রতিভু হোসনে আরার এই শাস্তিই কি যথাযথ? নাকি এই ঘটনার সাথে অধ্যক্ষার সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর পরই তাকে এই দৃশ্য হতে আড়াল করার জন্যই এই মলম ব্যবহার করা হলো? যেখানে স্বেচ্ছায় রিমান্ডের আগেই পরিমল তার অপরাধ স্বীকার করেছে, সেখানে এই হোসনে আরারা আগ বাড়িয়ে পরিমলকে বাচাঁনোর প্রয়াস চালিয়েছিলো কেন? তিনি কি তার আরো অন্যান্য অপরাধকে ধামাচাপা দিতেই আগবাড়িয়ে মিউচুয়াল তত্ত্ব আবিস্কার করেছিলেন? এ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শিশুদের কিভাবে তাদের প্রতিষ্ঠানে অসহায় করে দিচ্ছে-তা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। টিভিতে দেখলাম একজন অভিভাবক কাদঁছে আর বলছে, আমরা কাদের ভরসায় আমাদের আদরের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাই। শত কষ্ট করেও প্রিয় সন্তানকে মানুষ করার জন্য উদয়াচল পরিশ্রম করে শিক্ষা দিতে সন্তানকে পাঠাই বিদ্যালয়ে। সেখানে কোনো অভিভাবক, ভাই কিংবা বোন কি চান তাদের প্রিয় সন্তানটি এভাবে পরিমলদের ধর্ষনের শিকার হয়ে নিশ্চুপ থেকে নিজে নিজে অপরাধ প্রবণতায় ভোগে কাউকে কিছু না জানিয়ে শেষ হয়ে যাক, কিংবা মৃত্যুকে বরণ করুক?
আজ যদি ভিকুর স্টুডেন্ট না হয়ে অজপাড়ার কোনো বিদ্যালয়ে পরিমলদের দ্বারা কোনো শিশু এ ধরণের নির্যাতন শিকার হতো তাহলে কি আমাদের শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন সম্ভব হতো? কিংবা সরকারও কি এতটা গুরুত্ব দিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতো? সত্যিটা হচ্ছে না হতো না, কারণ অতীতে কিংবা নিকট বা সুদূর অতীতে এমন হয়নি। গ্রাম্য বিচার সালিশে বাকিটা বেইজ্জি হয়ে বহু শিশু-যুবতি বরং জীবন থেকেই হারিয়ে গিয়েছে। সমাজের সামগ্রিক সচেতনতাই কেবল এখান থেকে আমাদের আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারে এবং এর জন্য মিডিয়ার ভুমিকাকে উপযুক্ত হওয়া ছাড়া ব্যাপক জনগোষ্ঠির সচেতনতা বাড়ানোর কোনো উপায় নেই।
সাম্প্রতিক রুমানা-হেনা থেকে ভিকারুন্নেছার ঘটনায় পর্যন্ত একটি বিষয়ই কেবল চোখে পড়ছে, তা হলো যৌনতার বিষয়ে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার নুন্যতম ঘাটতি কোন্ পর্যায়ে নেই? রুমানা’র মতো শিক্ষিত ম্যাডামও যেখানে পুরুষতন্ত্রের শিকার, হেনার মতো গ্রাম্য কিশোরীও শিকার, রাজধানীর নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীও এই এরকম ঘটনার শিকার। এই ঘটনা গুলোর পেছনে কেবল যৌনতাই একমাত্র কারণ বলে আমার মনে হয়না। ব্লগারদের কাছ থেকে হয়তো আরো কোনো ব্যাখ্যা আসবে, সে আশায় রইলাম। এখানে হোসনে আরার ছবির সাথে রুমানা মেডামের ছবিটি দেওয়া হলো কেবল তুলনা করতে।
যেখানে দুজনই মহান পেশায় নিয়োজিত, অথচ একজন যৌন নির্যাতকের পক্ষের শক্তি, অপরজন সরাসরি পারিবাবিক নির্যাতন এবং যৌনকলংকের শিকার। এই দুটো ঘটনাতেই একটি বিষয় চোখে পড়ে, তাহলো অপরাধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি কোনো শক্তির ধারক-যা তাদের অপরাধ প্রবনতাকে আরো উৎসাহিত করছে এবং পার পাওয়ার উপায় হিসাবে কাছ করছে। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি অপরাধীকে নিরাপত্তা দেওয়া, নাকি ব্যাপক জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রক্ষমতার এই অপব্যবহার সমাজে নারী নির্যাতন কিংবা সরাসরি যৌন হয়বানিকে প্রশ্রয় দেয়। মুখে মুখে যত নারী নীতির কথাই বলা হোকনা কেন, কার্যত এসব নীতি সমাজের কল্যানে লাগবেনা যতদিন রাষ্ট্র এসব অপরাধীকে প্রশ্রয় দিয়েই যাবে। তবে রাষ্ট্রকে অবশ্যই নিরপেক্ষ দৃষ্টিতেই অপরাধকে দেখতে হবে, কারণ আইনের আশ্রয় লাভের সুযোগ প্রতিটি নাগরিকেরই আছে, আর তা নিশ্চিত রাষ্ট্রকেই করতে হবে। এই নিশ্চিত করতে গিয়েই রাষ্ট্র তার নির্যাতক ভুমিকা নিক, তা আমাদের কাম্য নয়। শাসকেরা নির্বাচিত বটে কিন্তু জবাবদিহিতার উর্ধ্বে কোনো গায়েবী শক্তি নয়-এটা তাদের মাথা থাকলেই তাদের ও জনগণের মঙ্গল। এসব ধর্ষকদের, ধর্ষকসহযোগিদের বাচাঁনোর জন্য রাজনীতি করলে ক্ষমতাসীনদের মুখে জনগণ থুতু দিবে, ভোটের সময় দিবে বাঁশ!!
শেষ কথায় কেবল এটুকু আশাবাদী হতে পারছি, শাসকের সাথে সম্পর্কের কারণে অপরাধী পরিমল বা হোসনে আরারা সাময়িক সুযোগ নিতে পারলেও তাদের শেষ রক্ষা হবেনা। যতদিন ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছাড়াই কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর সমাজের শত শত বিবেকবান মানুষ এককাতারে এসে দাড়ায় রাজপথে, শ্লোগানে শ্লোগানে হাতে হাত ধরে এগিয়ে যায় অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে, ততদিন কোনো শাসক কিংবা সুবিধাভোগী বান্ধবীরা এ সমাজে জায়গা পাবেনা।-আপাতত এই স্বপ্নকেই বাচিঁয়ে রাখছি, আগামীতে কোনো পরিমলের জন্ম যেন এ সমাজে না হয়, হোসনে আরারা যেন মানুষ হয়ে মানুষই তৈরী করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


