somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ নিয়ে তামাশা, কেলানী আবুল আর ড্রাইভারমন্ত্রী-জাগ্রত বিবেক তারানা হালিম, কিন্তু..।

২১ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সরকারের একজন মহিলা কোটার এমপি-অভিনেত্রী তারানা হালিম। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পতাকা বহন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এডভোকেট তারানা হালিম আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি। তাকে দলীয় হিসাবেই মুল্যায়ন করি এবং তার রাজনৈতিক কার্যাবলীও দলীয় হিসাবেই জানি-দেশের জন্য নয়। কিন্তু সাম্প্রতিকি তিনি একটি ঘোষণা দিয়েছেন, যদি বিনা পরীক্ষাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হয়-তাহলে তিনি আন্না হাজারের মতো আমরণ অনশন করবেন। তার এই উদ্যোগকে সাদাচোখে সমর্থন করবেন প্রতিটি বিবেকবান মানুষ। যদি কেউ তার সাথে অনশনে নাও থাকেন তাহলেও মানসিক সমর্থন তিনি পাবেন। তিনি সময়োচিত একটি পদক্ষেপ নেয়ার সাহস দেখিয়েছেন।

প্রশ্ন হলো আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখস্তবানী‘‘আইনশৃংখলা যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো” থাকলে কেন একজন সরকারী এমপিকে এ ধরণের ঘোষণা দিতে হয়। এই অনশনের ঘোষণা কেন এসেছে? যখন সরকারী দলের একজন শ্রমিক নেতা( তিনি নাকি সাবেক ট্রাকড্রাইভার) এবং এমপি বিনা প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষা ছাড়াই ২০ হাজারের বেশী লাইসেন্স চেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অনুমতি চেয়েছেন-যা তার মামার বাড়ীর আব্দার হিসাবেই বিবেচিত হয়। দেশব্যাপী সরকারী শ্রমিক ফেডারেশনের দাবীতেই তার এই মহৎ উদ্দেশ্য। কিন্তু আলোচনা আছে এই অনুমতি নিয়ে প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার বাণিজ্য আছে। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা। এই মুর্খমন্ত্রী বলেন, মানুষ আর গরুছাগল চিনতে পারলেই নাকি লাইসেন্স দেওয়া উচিত। তাহলে তাদের গাড়ীর ড্রাইভিং লাইসেন্স না দিয়ে বিমানের এবং ট্রেনের লাইসেন্স দেওয়া যেতে পারে-সেটা আরো বেশী ভালো হবে-তার দাবী অনুযায়ী যেহেতু গরু ছাগল আর মানুষ চিনলেই চলে।

দেশের প্রতিটি কুঘটনাতেই জনগণ প্রশ্ন করলেই সরকারের দালাল লেখক, আলোচক, ব্লগার এবং নেতাদের একটিই টেনডেন্সি দেখা যায়, তা হলো বিএনপি-জোট সরকারের সময়ও এরকম হয়েছে। তাই ব্যাপারটি গ্রহণযোগ্যই হতে হবে-এ জাতীয় ধারণা তারা দিতে চান। সম্প্রতি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মারা গেলে কেবল তারা বলতে পারেনি যে, তারেক-মিশুক জোট সরকারের আমলেও মারা গেছে!!!

নিলর্জ্জ দলবাজ লেখক ব্লগার কিংবা নেতারা কেবল বলতে পারেনি, বিএনপি আমলেও মহাসড়ক বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তারা ইনিয়ে বিনিয়ে বলতেছেন, এসব সড়ক বিএনপির কারণে নষ্ট হয়েছে। ইট বালু সিমেন্ট তারা হাওয়া ভবনেই রেখেছে। হক কথা হলো, তাহলে ৩৩ মাসে সরকারের যোগাযোগ আবুল কোন াল ফালাইছে? ধারণা করা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে ১০দিনেই ৬০০ কোটি টাকা লুটপাট করার একটি গ্রাউন্ড তৈরী করাই ছিলো এই পরিকল্পনা। এখন দুর্নীতির ধারণা পাল্টে গিয়েছে-সভ্যভাবে দুর্নীতি করা-সরকারের কর্মঠতাও প্রকাশ করা!!!

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারের আমলেই জাতীয় সড়ক কখনোই বন্ধ হয়নি, বাংলাদেশের কোনো সরকারের আমলেই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় কাদেঁনি, বাংলাদেশের কোনো সরকারের আমলেই কোনো হত্যাকারী বিচারক হননি। কোনো সরকারের আমলেই কোনো এমপিকে অনশণ করার ঘোষণা দিতে হয়নি। কোনো সরকারের আমলেই পুলিশকে চাপাতি হাতে দেখা যায়নি। কোনো সরকারের আমলেই নিজ দেশের পুলিশ অন্যদেশের বিদ্রোহীদের ধরে তাদের হাতে তুলে দিতে হয়নি। কোনো সরকারের আমলেই মেয়রকে ব্যাংকে চিঠি দিয়ে চাঁদা চাইতে হয়নি। কেবল এই ব্রুটমেজরিটি পাওয়া সরকারের আমলেই এসব দেখতে হচ্ছে।

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি কিংবা মিডিয়ার নূন্যতম সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা এই সরকারের মধ্যে নেই। কথায় কথায় যেকোনো সমালোচনাতেই তারা যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গীবাদ এবং রাজাকার ট্যাগিং করে সবাইকে স্তব্ধ করার কৌশল নিয়ে থাকে। এতে করে তারা কেবল তাদের নির্ধারিত সময় পার করতে পারবে কিন্তু আগামী নির্বাচনে পার পাবেনা বিধায় অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে। কিন্তু মানুষের মন থেকে সরকারের কুকর্ম ও সীমাহীন ব্যর্থতার দায় কি বিলুপ্ত করতে পারবে?
তারপরও শেষ চেষ্টা হিসাবে তারা ভারতকে খুশী করতে কোনো ধরণের দরকষাকষি ছাড়াই দ্রুততার সাথে মানচিত্র বদলানোর মতো আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে-যাতে আগামী নির্বাচনে দাদাদের সুনজর আর টাকা পাওয়া যায় (ইকনোমিস্টের আশংকানুসারে)।

ওবায়দুল কাদেরের ভাষায় , জনবিস্ফোরণ এখন সময়ের ব্যাপার। ভেসে যাবে দালাল, সুশীল, মতলববাজ ব্লগার, প্রতিহিংসাপরায়ন নেতৃত্ব আর দাঁতকেলানো আবুল আর ট্রাকড্রাইভার মন্ত্রীদের মতো গনশত্রুরা।

গাণের কথায়--
‘‘মুর্খমানব মন্ত্রী হইছে, লাথ্থি মাইরা চেয়ার ভাঙ”
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৬
৫৩টি মন্তব্য ৫২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×