এন্টি মুক্তিযুদ্ধ কথাবার্তা বলে- শালায় রাজাকার! ব্লগে স্বাধীনতার বিপক্ষে কথা কয়- শালা রাজাকার। আত্্মসমর্থনে তেনারা বলেন আমরা ইসলাম নিয়া কথা কই, তাই রাজাকার। আমরা তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ী ও ভারত বিরোধী কথা কই- তাই আমগো কয় রাজাকার।
কালকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়া একটা গল্প (নাকি সত্যি ঘটনা) পইড়া একটু হালকা উচাটন হইল। টাইম ফ্রেমের কিছু ব্যাপার থাকে। সো গল্পে কিছু চরিত্রের সন্নিবেশ যখন ঘটে এবং তাতে সমকালীন ঐতিহাসিক একটা স্টেটমেন্ট জুইড়া দেয়া হয়, তখন জানবুঝ ওয়ালার ভড়কায়- চাপা মারতাছে দেইখা মনটা খারাপ লাগে। আর এইসব কারণেই বুঝি মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কথা বললে সেটা ব্যবসা হইয়া যায়, কারণ মনগড়া ছবি আঁকাআকি।
যাক সেকথা। তুই রাজাকার দিয়া হুমায়ুন আহমেদ ব্যাপক জনপ্রিয় করছেন কথাটারে। একই লোক আবার তার এক উপন্যাসে ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর মুখে কাল্পনিক পাকিস্তান জিন্দাবাদ বা জয় পাকিস্তান বসাইয়া পাকপেয়ারিদের একটা উপলক্ষ্য দিছেন বাহাসের। যদিও আখেরে প্রমাণিত হইছে এই ভুয়া গিরি।
রাজাকার বাহিনী একটা সশস্ত্র বাহিনী। ৭১এর জুন মাসে এর জন্ম। যখন জন্মাইছে ততদিনে মুক্তিযোদ্ধারা মোটামুটি সংগঠিত। দেশে অপারেশন করতাছে। এপ্রিলেই ফোর্স ও সেক্টর নির্ধারণ করে ফেলছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাকিদের গেরিলা ঠ্যাকাইতে এদেশী সহচর দরকার ছিল। তাদের থ্রি নট থ্রি দিয়া, ট্রেনিঙ দিয়া, সরকারী ভাতা দিয়া, আনসার ক্যাটাগরির একটা বাহিনী বানানো হইছিল জামাতে ইসলামীর অধীনে।
রাজাকাররা সেই অর্থে নিয়মিত বাহিনী। কাজকাম ছিল পাকবাহিনীর অগ্রবর্তী দল হিসেবে কাজ করা। রোডঘাট পাহারা দেওয়া। এবং মুক্তি কোথায় পাওয়া যায়, খোজখবর, গ্রেপ্তার এবং স্বাধীনতাকামীদের নির্মমহত্যা। ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণ ছিল নিত্যকার কর্ম। স্বাধীনতার পর এদের কর্মফল অনুযায়ী কেউ মরছে, কেউবা সাধারণ ক্ষমার অধীনে ক্ষমা পাইছে। এদের গ্রেপ্তার করা হইছে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবেই। পাকিস্তান সরকারের সহযোগী বাহিনী হিসেবে।
ভয়ঙ্কর যেই গ্রুপটা নিয়া আমরা উচ্চকিত ও শঙ্কিত, তারা দালাল। নট রাজাকার। আবার বলি, দালাল। স্বাধীনতাবিরোধী পুরাগ্রুপটাই দালাল। গোলাম আযম রাজাকার না, সে দালাল। মতিউর রহমান নিজামী, কামারুজ্জামান, মুজাহিদ এরা ঘাতক এবঙ দালাল। আলবদর এবঙ আল শামসকে রাজাকারি স্ট্যাটাস দেওয়া হয় নাই। এদের কর্মকাণ্ডের ভয়ঙ্করত্ব, পৈশাচ্য ও নির্মমতা ক্ষমার কোনো উপায় রাখে নাই। স্বাধীনতার পর রাজাকাররা ক্ষমা পাইছে। দালালরা না। দালাল আইন ছিল, এখনো আছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে তাই আন্দোলনটা রাজাকার বিরোধী আন্দোলন না। ঘাতক-দালাল বিরোধী আন্দোলন। দালাল ও ঘাতকদের শাস্তি দেওয়ার আন্দোলন। প্রান্তিক একজন রাজকারের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই তাই গো আ, নিজামীদের কাজের সঙ্গে একপাল্লায় উঠে না।
আরেকবার ভাবা দরকার তাই, আমরা অতি সরলীকরণে গিয়া ওগোরে সাফাই গাওয়ার সুযোগ দিতাছি কী না। মানে রাজাকার কইলেই কয় মুজিব ক্ষমা করছে। ঘাতক-দালালদের করা হইছে কী? জ্বি না। হয় নাই। আমরা উচ্চকণ্ঠ এদেরই শাস্তির দাবিতে। রাজাকার বইলা তাদের অপরাধ আমরা কমাইয়া দিতারি না। কার দালাল? পাকিস্তানের? আবারো সরলীকরণ। তাইলে আমগোরে কইব রুশভারতের দালাল। তাইতো কইতাছে '৭৫এর পর থিক্যা। স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক-দালাল। এইবার চলেন আবার সোচ্চার হই। মনে করাইতে হইব। প্রতিদিন কইতে হইব এদের শাস্তি চাই।
সঙ্গে পড়তে পারেন :
রাজাকারদের প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের লিফলেট
রাজাকার বাহিনী পরিচিতি
রাজাকারদের ক্ষমা, বঙ্গবন্ধুর কস্টলি ভুল
দালাল আইন, যা পরে বাতিল হয়েছিল
যে আইনে এখনো ঘাতক-দালালদের বিচার সম্ভব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

