somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যারডস, ট্রাভেল হেল্পিং এবং আমি

৩০ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ট্রাভেল হেল্পিং এর কজ করি প্রায় ৪ বছর। হেল্পিং করি ঘোড়ার ডিম, বিদেশী কিছু ফোরামে লেখালেখি করা, বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশী ট্রাভেলারদর তথ্য দেয়া, তাদের ভুজং ভাজং দিয়ে এদেশে আনার চেষ্টা করা-এই আরকি। এসব করতে গিয়ে মাঝে মাঝে তাদের অনুরোধে কিছু ট্রেন,বাস বা রকেটের টিকেট এডভান্স কেটে রাখেতে হয়। পরে ঢাকা এসে টাকা দিয়ে ওগুলো আমার কাছ থেকে সংগ্রহ করে নেয়। ব্যাস এটুকুই। এটুকু করেই কিছু কিছু জায়গায় আমি আজ মহাতারকা।

এই যেমন ধুরন না Lonely Planet এর Bangladesh Travel Guide টির কথা। এখানে বেশ ঘটা করা বলা হয়েছে : Mhamud is essentially the guardian angel of travelers in Bangladesh এবং আরো কিছু কথা (আগ্রহীরা দেখুন এখানে Click This Link ) আমি লজ্জায় মরি।

তো এই ট্রাভেল হেল্পিং করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মিশেছি প্রায় ৭-৮ শ বিদেশী ট্রাভেলারের সাথে। এদের অনেকেই আসার সময় কিছু না কিছু গিফট নিয়ে আসে। এমনও দেখা গেছে টিকেটের দাম যা গিফট আনে এর প্রায় ৬ গুন দামের। কত কিছু যে পেয়েছি তার ইয়াত্বা নেই। ইংল্যান্ড ফুটবল দলের অরিজিনাল জার্সি, সুইজারল্যান্ডের বিশাল পতাকা, হাজার রকমের চকোলেট, প্রশান্ত মহাসাগরের নীচের প্রবাল পাথরের মালা কিছুই বাদ নেই। তবে গত সপ্তাহে একটি উপহার পেয়ে যার পর নাই আপ্লুত হয়ে গেলাম। সেটাই বলছি।

মাসখানেক আগে ইংল্যান্ড থেকে একটি মেইল পেলাম Ian নামে এক ট্রাভেলারের কাছ থেকে। ও ঢাকা খুলনা ট্রেনের ৩ টি টিকেট কাটার অনুরোধ করলো। আমি টিকেট কাটলাম এবং নির্ধারিত দিনে হোটেলে পৌছে দিতে গেলাম। Ian টিকেটের দাম দিয়ে একটা ব্যাগ হাতে দিলো, বললো- এটা তোমার জন্য।

আমি ব্যাগ খুলে দেখলাম তার মধ্যে আছে চকলেট, আমার ছেলের জন্য রং পেন্সিল আর আমার জন্য একটা মগ। মগ...এতে উচ্ছসিত হবার কিছু নেই। কিন্তু আমি প্যাকেটের গায়ের লেখাটা দেখেই চিতকার করে উঠলাম। সেখানে লেখা-Harrods মানে এটা পৃথিবীর সবচে অভিজাত দোকান Harrods থেকে কেনা।

এই Harrods নিয়ে কত লেখা পড়েছি, কত গল্প, কত আবেগ। এটাই ডায়ানার প্রেমিক দোদি আল ফায়েদ দের দোকান। এখানে ঢোকার নাকি ড্রেস কোড আছে, সবকিছু অত্যান্ত দামী, কিছু কিনতে হলে নাকি টাকা বৈধ হতে হয় এসব নানারকম গল্প শুনেছি এ দোকানটি সম্পর্কে। সে Harrods এর মগ আমার হাতে। আমি Ian কে একটা বড় থ্যাংকস দিয়ে বের হয়ে এলাম।

সেই থেকে মগটি একটি দর্শনীয় বস্তু হয়ে আছে আমার কাছে। যাকে দেখাই সেই লাফ দিয়ে ওঠে Harrods থেকে কেনা? আমি তাদের সে বিষ্ময় উপভোগ করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৩ দুপুর ২:৫৬
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×