
উপরের ছবিটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। ফটোগ্রাফ টির নাম 'Vulture Stalking a Child'।যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ আক্রান্ত সুদানের মৃতপ্রায় শিশুটি তার শেষ জীবনি শক্তিটুকু ব্যয় করে এ ভাবে হামাগুড়ি দিয়ে দূরবর্তী লঙ্গরখানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে আর তার পশ্চাতে একটি শকুন ধৈর্য্য ধরে শিশুটির মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
২৬ মার্চ ১৯৯৩ সালে New York Times এ ছবিটি প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর একদিকে সারা পৃথীবীতে 'সুদান' চলমান দুর্ভিক্ষের ভয়বহতা নিয়ে বিশ্ব বিবেক কে আলোড়িত করে।অপর দিকে New York Times এ নিকট হাজার হাজার চিঠি আসে সুদানের শিশুটির ভাগ্য কি ঘটে ছিল তা বার জন্য । শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হয়েছিল- শিশু টি না শকুনটি?
কিন্তু সে উত্তর New York Times বা ছবি ফটোগ্রাফার Kevin Carter কারও জানা ছিল না। ছবিটি ক্যামেরা বন্দী করবার পূর্বে সঠিক এঙ্গেল ঠিক করতে Kevin ২০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় করেন; কিন্তু শিশু টিকে কোন সহায়তা না করেই ছবি টি তুলবার পরই স্থান ত্যাগ করেন । আর এই কারণে ফটোগ্রাফ টি পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিকতার দ্বন্দ্বের এক নির্দশণ হিসাবেও ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।

রোমান ক্যথলিক শ্বেতাঙ্গ পরিবারে ১৯৬০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার Johannesburg এর উপকন্ঠে Kevin Carter জন্ম গ্রহণ করেন।১৯৯৩ সালে ছবিটি ফ্রেম বন্দী করার পূর্বে Weekly Mail ফটোগ্রফার Kevin ছিলেন নিতান্ত অপরিচিত। ৯৩ সালের শুরুতে দুর্ভিক্ষপড়িত সুদানের গেরিলা যুদ্ধের ছবি তুলতে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর সীমান্ত দিয়ে Kevin সুদানে প্রবেশ করেন। সুদানের দক্ষিণ সীমান্তবর্ত Ayod নামক গ্রামে প্রবেশের পরই Kevin দুভিক্ষ আক্রান্ত মানুষের ছবি ক্যামেরা বন্দী করতে শুরু করেন।সুদান মিশনে তাঁর সহ-ফটোগ্রাফার Joao Silva এই বিখ্যাত ছবি টি তুলবার মুহুথৃকে বর্ণনা করেন,
''Seeking relief from the sight of masses of people starving to death, he wandered into the open bush. He heard a soft, high-pitched whimpering and saw a tiny girl trying to make her way to the feeding center. As he crouched to photograph her, a vulture landed in view. Careful not to disturb the bird, he positioned himself for the best possible image. He would later say he waited about 20 minutes, hoping the vulture would spread its wings. It did not, and after he took his photographs.................
পরের দিন Kevin জোহান্সবার্গে ফিরে আসেন। সে সময় New York Times সুদানের দুর্ভিক্ষ ও সংঘাতের উপর ফটোগ্রাফ খুজছিল এবং তারা Kevin এর সুদান সফরের ছবিগুলো কিনে নেয়।Vulture Stalking a Child ছবি টি ২৬ মার্চ ১৯৯৩ সালে New York Times প্রথম প্রাকাশিত হয় এবং তারপর সারা বিশ্ব নানা পত্রিকা তা প্রকাশিত হতে থাকে।
ছবি টি প্রথম প্রকাশের ১৪ মাসের মাথায় ১২ এপ্রিল ১৯৯৪ সালে এই অসামান্য ছবিটি Kevin কে এনে দেয় ফটোগ্রাফার হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি Pulitzer।এই স্বীকৃতি Kevin এর খ্যাতির পাশাপাশি নৈতিকতার প্রশ্নে প্রচন্ড সমালোচনার মুখেমুখি করে। The St. Petersburg (Florida) Times তাঁর সমালোচনায় লেখে,
''The man adjusting his lens to take just the right frame of her suffering,.........might just as well be a predator, another vulture on the scene."
এই প্রশ্ন Kevin কেও দগ্ধ করেছিল। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থণ চেষ্টা করতে গিয়ে বলেছেন , ''I had to think visually, ................ I am zooming in on a tight shot of the dead guy and a splash of red. Going into his khaki uniform in a pool of blood in the sand. The dead man's face is slightly gray. You are making a visual here. But inside something is screaming, "My God.'' But it is time to work. Deal with the rest later. If you can't do it, get out of the game."
কিন্তু নিজের এই উত্তর দক্ষিণ আফ্রিকার সংঘাত-রক্তক্ষয় মাঝে বেড়ে উঠা Kevin Carter কে তৃপ্ত করতে পারে নি ।তাই হয় তো ২৭ জুলাই ,১৯৯৪ এক বিষন্ন সন্ধ্যায় তিনি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জোহার্ন্সবার্গের উপকন্ঠ দিয়ে প্রবাহিত Braamfonteinsprui নামক শীর্ণ নদীর তীরে তাঁর শৈশবের ক্রীড়াস্থলে Kevin Carter নিজেই তাঁর চির শান্তি খুজে নেন কার্বন-মনো-অক্সাইডের নীল বিষের আবেশে। Kevin Carter তাঁর শেষ নোটে লিখে জান,........
. . . I am haunted by the vivid memories of killings & corpses & anger & pain . . . of starving or wounded children, of trigger-happy madmen, often police, of killer executioners .............I have gone to join Ken if I am that lucky.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


