somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দীলিপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল কেন হাসিনা-খালেদার এত প্রিয়!!!!!!!!!!!!!!!!??????//

০৩ রা মে, ২০১০ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৬ সালে ঢাকার বুকে পদাপর্ণে পর থেকে বিগত ১৪ বৎসর আমি এদেশের সকল বামপন্থী সংগঠনের কর্মকান্ড মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করছি এবং অংশ গ্রহণের চেষ্টা করেছি।১৯৯৬ থেকে ২০০৬ আমি কোন দিন দেখি নি কোন বামপন্থী সমাবেশে সাম্যবাদী দলের পক্ষ থেকে দীলিপ বড়ুয়া সাথে বিশেষ একজন ব্যক্তি ব্যতিত তৃতীয় কোন ব্যক্তি অংশ গ্রহণ করেছেন।বিগত দুই দশকে ঢাকায় দীলিপ বড়ুয়ার সংগঠন সাম্যবাদী দলের কোন মিছিল -সমাবেশ কেউ কোথাও দেখেনি। কিন্ত ,প্রশ্ন তারপরও কেন ........ক্ষুদ্র এই দল টি নিয়ে কেন হাসিনা - খালেদা এত আগ্রহী।
****************************************************
সাম্যবাদী দল বা দিলীপ বড়ুয়া প্রতি সুনজর শুধু মাত্র হাসিনার নয়।......৪ দলীয় জোট নেত্রী খালেদার চীন সফর কালে সফর সঙ্গিদের মাঝে দুই জন ছিলেন যারা প্রত্যক্ষ ভাবে বা পরোক্ষ ভাবে ৪ দলীয় জোটের বাইরে ছিলেন। সে দুই জনের একজন দীলিপ বড়ুয়া , অপর জন কবি ফরহাদ মাযাহার।

বর্তমান মহাজোট সরকার ভুক্ত বাম সংগঠনগুলোতে ইনু- মেনন-বাদশা-দিলীপ বড়ুয়ার মত মিডিয়া প্রিয় মুখ কতিপয় আছেন।কিন্তু, এদেশে বর্তমানে যে টুকু বাম সাংগঠনিক শক্তি সমাবেশ রয়েছে . .....তাতে মহাজোট ভুক্ত বাম সংগঠনগুলো খুবই ক্ষীণ ও ক্ষয়মান হিসাবে বাম মহলে প্রমানিত।আর তাদের মাঝে ক্ষুদ্রতর ' সাম্যবাদী দল' দীলিপ বড়ুয়ার মহাজোট সরকারের মন্ত্রীর আসন লাভে অনেকেই বিস্মিত হলেও আমি অবাক নই ।
**************************************************
'বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম-এল) টি নাম বাংলাদেশে অনেকের অজানা থাকলেও, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নিকট বাংলাদেশের বন্ধূ সংগঠন হিসাবে একমাত্র স্বীকৃত দল বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম-এল)।এ দলটি প্রতিষ্ঠাতা কমরেড তোহা।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রশ্নে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি অন্ধ অনুকরণ করাতে কমরেড তোহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) দ্বৈত যুদ্ধ লড়াইয়রে নীতি ঘোষণা করে।

বঙ্গবন্ধু পুরো শাসন আমলে চীনা নীতি কারণে দলটির সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক চরম বৈরি অবস্থান ছিল। মেজর জিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পর সংগঠন গত ভাবে অনেক বামপন্থী দল-গ্রুপ কে নির্মম ভাবে দমন করলেও কমরেড তোহা ও তার দলকে খুবই আপন করে নেন। বলা হয়, জিয়ার শাসন আমলে চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কমরেড তোহার অবদান বিপুল।

তোহা পরবর্তী সময়ে সংগঠন টি নানা আন্তর্ঘাতে মাধ্যমে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হলেও দীলিপ বড়ুয়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টি অন্ধ আনুগত্য ও যে কোন প্রকারে সম্পর্ক রক্ষা কে এক মাত্র পর্টি লাইন হিসাবে গ্রহণ করনি।

সাধারণ মানুষরে কাছে দীলিপ বড়ুয়ার সাম্যবাদী দলে কোন স্বীকৃত না থাকলেও বাংলাদেশের হাসিনা-খালেদা নির্বিশেষে শাসক শ্রেনীর কাছে দীলিপ বড়ুয়া মহামূল্যবান সম্পদ। তাই ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে খালেদা জিয়া যেমন সাম্যবাদী দলের জিয়া আমলে চীনের সাথে সাখ্যতা গড়তে অবদানে কথা বিস্মৃত হন নি; তেমনি মহাজোট যুগে শেক হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কৃত ভুলে পুনরায় করতে চান নি।
****************************************************
যমুনা সার কারখানায় কোটি কোটি টাকা লুটপাট : শিল্পমন্ত্রীকে গাড়ি ও এসি উপঢৌকন এই সংবাদের মধ্য দিয়ে দীলপি বড়ুয়ার যে স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে,....... তার সাথে এদেশের প্রকৃত সংগ্রামী আপোসহীন বাম ধারা কে প্রশ্নবদ্ধি করা যায় না।

হাসিনা তার জোটের হালুয়া-রুটির লোভ দিয়ে শুধুমাত্র জনগণের লড়াই সংগ্রাম থেকে বহু আগেই পিছিয়ে পরা কতিপয় কথিত বাম সংগঠন কে জোটাতে পেরেছে।বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের প্রধান দুই শক্তি সিপিবি ও বাসদ কে কিন্তু হাসিনা তার জোটে ঢুকাতে পারে নি বা চান নি। যাদের জুটিয়েছে তাদের সাংগঠনিক শক্তি ' সদ্য' ত্রশি উত্তীর্ণদের সংগঠন বাম সংগঠন 'গনসংহতি'র চেয়ে ঢড়ে দূর্বল।

হাসিনা তার জোটে প্রচার মাধ্যমের কতিপয় প্রিয় বামপন্থীদের জোট নিয়ে মুলতঃ 'ডাবল গেইম ' খেলতে চেয়েছেন।

একদিকে ' বামপন্থী'দরে চারিত্রিক সততার ইমজে ব্যবহার করে , দেশের মানুষের মনে যে দুর্নীতি মুক্তির আকাঙ্খা গড়ে উঠেছিল তার মাঝে নিজ দলে গ্রহণ যোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন।


অপরদিকে তিনি বেছে-বেছে নৈতকিতাবোধ বহু আগে বিসর্জিত বামনেতাদের জোট ভুক্ত করেছেন যাতে অতি সহজে মানুষের মনে বামপন্থী নেতাদরে কেন্দ্রে করে সততা-নৈতকিতার মুর্তি ছিল তাকে ধ্বংস করতে পারেন।

আর এই সরল হিসাব টুকু বুঝে- শুনেই, ইনু-মেনন- দীলিপ বড়ুয়ারা হাসিনার মহাজোটে ভিড়েছিলেন।
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×