মানুষের ব্রেনের একটা সমস্যা কি জানেন? আমাদের ব্রেন বাস্তব ও কল্পনার পার্থক্য ধরতে পারে না। ব্রেনের গঠন জটিল কিন্তু পলিসি সহজ। আর তাই আমরা হাসির জিনিস দেখলে/শুনলে হাসি। কান্নার হলে নিজের অজান্তেই কাঁদি!
মন খারাপ হওয়াটা আপনার দোষ না। হঠাৎ কোন দৃশ্য, ঘটনা, কথা কিংবা স্মৃতি- আপনার ব্রেনকে নাড়া দিতেই পারে। আর আপনি কষ্ট পেতেই পারেন। নাড়ার মাত্রা প্রবল তো দুঃখ প্রবল। শুধু আপনি যেটা করতে পারেন তা হলো বিষয়টাকে সহজভাবে নিয়ে ব্রেনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা।
যারা এখন বিভিন্ন কারণে মন খারাপ করে বসে আছেন, তারা কিছু পদ্ধতি নাড়াচাড়া করে দেখতে পারেন।
১. কেউ বকা দিয়েছে বলে মন খারাপ? পুরো বিষয়টা নতুন করে ভাবুন তো। আপনার কি সত্যিই বকা খাওয়ার কথা ছিলো? অপরাধ হলে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিন। আর যদি শুধু শুধু বকা খেয়ে থাকেন তাহলে তো কোন সমস্যাই নেই। যে বকা দিয়েছে এটা তার নিজস্ব সমস্যা। আপনার এতে মন খারাপ করার কিছু নেই।
২. ঝগড়া করে মন খারাপ? আচ্ছা, আপনার কথা বলার বিষয় কি যৌক্তিক ছিলো? যদি যুক্তিসঙ্গত হয় তো কথাই নেই। এ নিয়ে মন খারাপ না করে বরঞ্চ আপনার গর্বিত হওয়া উচিত।
৩. সিনেমা দেখে মন খারাপ? ঘরের জিনিসপত্র হাত দিয়ে ধরে দেখুন তো! হ্যাঁ ভাই, আপনি বাস্তবেই আছেন!! সিনেমা অবাস্তব ব্যাপার। অবাস্তব কিছু দেখে মন খারাপ করার কিছু নেই।
৪. কারো কাছে খারাপ ব্যবহার পেয়ে মন খারাপ? হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনো সমান হয় না। তাই, সবাই ভালো হবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নাই। অতএব মন খারাপ করেও লাভ নেই!
৫. ছোটখাট অপরাধ করে মন খারাপ? অপরাধ মানুষই করে। প্রথম সুযোগেই পুষিয়ে দেবেন ভেবে রাখুন। এখন না পারলে ভবিষ্যতে সুযোগ আসলেই পুষিয়ে দেবেন বলে পরিকল্পনা করুন।
৬. কারো কাছ থেকে কোন কারণে ক্ষমা পাননি, তাই মন খারাপ? ভাবুন তো, ক্ষমা চাওয়ার মত করে বলেছিলেন কি না? না বললে সেভাবেই বলে দেখুন। এরপরও ক্ষমা না পেলে আপনার মন খারাপের কিছু নাই। আসলে ওই ব্যাক্তিই ক্ষমা করতে শিখেনি।
যাদের মন অকারণেই খারাপ, তাদের বিষয়টা ভিন্ন। অকারণেই মন খারাপ হলে ভিন্ন কিছু ট্রাই করে দেখতে পারেন।যেমনঃ
৭. দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষণ কান্না করতে পারেন। কাঁদলে মন হালকা হয়।
৮. ফ্রেশ গোসল, ভরপেট খাওয়া, অতঃপর ঘুম দেন। ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সব ঠিক!
৯. আপনি কি বহির্মুখী স্বভাবের? তাহলে এককাপ চা/ কফি নিয়ে ঘরে বন্দী হয়ে যান। জানালা খুলে দিয়ে লো ভলিউমে প্রিয় কোন গান চালিয়ে দিন। দেখবেন, চায়ের প্রতিটি চুমুকের সাথে সাথে আপনার মন খারাপ ভাবটাও দূর হয়ে যাচ্ছে।
১০. অথবা আপনি কি অন্তর্মুখী স্বভাবের? তাহলে বাইরে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন। পথে কোন অসহায়কে পেলে সাহায্য করতে পারেন। কিংবা তাকে নিয়ে হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করে দেখতে পারেন! তার আনন্দটুকু আপনার মাঝে সংক্রমিত হবেই।
মজার বিষয় হলো, সব মানুষেরই মন ভালো করার নিজস্ব কিছু উপায় আছে। মন ভালো করার ব্যাপারে সেই গুলোকে আগে প্রাধান্য দিন।
পুনশ্চঃ আমার নিজেরই আসলে মন খারাপ ছিলো। লিখতে লিখতেই মনটা ভালো হয়ে গেলো!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



