somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০টি পরিত্যাক্ত শহরের কান্না...

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর প্রানহীন কোন কিছুর জন্য কষ্ট অনুভব করলাম। এই পরিত্যক্ত শহরগুলোর জন্য আর কারো মন খারাপ হলে দায় আমার না।

চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা মনে আছে?? Click This Link এই দুর্ঘটনার কারনে আস্ত একটি শহর মৃত শহরে পরিনত হয়েছিল। সেই শহরটির নাম প্রিপইয়াট। দেশ ইউক্রেন। কিয়েভ শহর থেকে ১০০ কিমি দূরে অবস্থান প্রিপইয়াট শহরের। বর্তমানে শহরটিতে বন্য প্রানী ছাড়া আর কিছুই নেই। অবাক ব্যাপার হলো চেরনোবিল দুর্ঘটনার পরদিন শহরটির পার্কগুলি খুলে দেওয়া হয় যখন শহরবাসী পালাতে ব্যস্ত ছিলো। ১৯৮৬ সাল থেকে এই শহরটি পরিত্যাক্ত।

এই জায়গাটি মূলত একটি অবকাশযাপন কেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু ঐশ্বরিক দুর্ঘটনার কারনে আর তা হয়ে উঠেনি। তাইওয়ানের শানজি জেলায় এই শহরটির অবস্থান। এই অবকাশ যাপন কেন্দ্রটি নির্মানের শুরু থেকেই গাড়ী দুর্ঘটনায় নির্মানকর্মীরা মারা যেতে থাকে। মোট ২০ জন কর্মী মারা যায়। অনেকে দাবী করেন এই জায়গাটি ডাচদের কবরস্থান ছিল। আরেকটি সূত্র থেকে দাবী করা হয় নির্মানকার্য চলা কালে মাটি খুড়ার সময় একটি ড্রাগনমূর্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যার ফলাফল এটি। শেষ পর্যন্ত এই অবকাশযাপন কেন্দ্রটি সফলতার মুখ দেখেনি। ১৯৮০ সাল থেকে এটি পরিত্যাক্ত।

ক্র্যাকো নগরী, ইটালি। অনিন্দ্য সুন্দর একটি শহর। দুস্যদের আক্রমন ঠেকিয়ে দেয়ার জন্য শহরটিকে একটি ক্লিফের উপর তৈরী করা হয় যার কারনে শহরটির বেস একটু শংকার মধ্যে ছিল। কয়েকটি ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের পর শহরবাসীরা সমতল ভূমিতে নেমে আসেন। বর্তমানে খালি শহরটির আকর্ষন হলো পুরনো একটি গির্জা সান্টা মারিয়া। ১৯৬৩ সাল থেকে এই শহরটি পরিত্যাক্ত।

নামিবিয়ার এই শহরটির নাম কোলমানশপ। এক সময়ের সমৃদ্ধ শহর। হীরের খনি সমৃদ্ধ এই শহরটির স্থপতি জার্মানরা। জার্মান নির্মানশৈলীতে তৈরী এ শহরটিতে বলরুম, থিয়েটার ছাড়াও ছিল আফ্রিকার প্রথম ট্রাম সিস্টেম। খনি শেষ হয়ে যাওয়ার পর শহরটিকে মরুভূমি গ্রাস করে। ১৯৫৪ সাল থেকে শহরটি পরিত্যাক্ত।

বর্তমানে পরিচিতি গোস্ট আইল্যান্ড। পূর্ব নাম হাশিমা আইল্যান্ড। লোকেশন নাগাসাকি, জাপান। শিল্প বিল্পবের সময় মিটশুবিশি কোম্পানি এই ছোট শহরটি থৈরী করে নাগাসাকি দ্বীপের কোল-মাইনের আশেপাশে। জাপানের প্রথমদিকের আকাশচুম্বী বিল্ডিংগুলো এই দ্বীপেই অবস্থিত। প্রায় ৫ হাজার লোকের আবাসস্থল ছিল এই দ্বীপ। ২০০৯ সাল থেকে এই দ্বীপটি জনসাধারনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এখন চাইলে আপনি পরিবার-পরিজন নিয়ে এই দ্বীপটি থেকে ঘুরে আসতে পারেন। দ্বীপটি পরিত্যক্ত ১৯৭৪ সাল থেকে।

ফ্রান্সে অবস্থিত এই শহরটির নাম ওরাদাউর-সুর-গ্লেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাজি সৈন্যরা ৬৪২ জন শহরবাসীসহ পুরো শহরটিকে সম্পূর্নভাবে ধ্বংস করে দেয়। পোড়ো দালান এবং গাড়িগুলোই বর্তমানে শহরটির চিহ্ন। ১৯৪৪ সাল থেকে শহরটি পরিত্যাক্ত।

শহরটির নাম সেন্ট্রালিয়া। অবস্থান পেনিসেলভিয়া, ইউএসএ। এই শহরটিকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, জিপকোডও তুলে নেওয়া হয়েছে এমনকি শহরটির মূল সড়কটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৬২ সালে একটি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়, কিছুক্ষণের মধ্যে শহরের কয়লাখনিতেও এই আগুন ছড়িয়ে যায় যা আজ পর্যন্ত জ্বলছে। অনবরত বিভিন্ন জায়গা থেকে গরম বাস্প এবং হাজার ডিগ্রি তাপ বের হচ্ছে। অনেক আদিবাসীরা শহর ছেড়ে গেলেও কয়েকজন (১০-১২) থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৯৬২ সাল থেকেই শহরটিকে পরিত্যাক্ত বলা যায়।

হ্যামবারস্টোন, চিলির উত্তর এটাক্যামা মরুভূমিতে অবস্থিত একটি পরিত্যাক্ত শহর। খনিশহর ছিল। একসময় খনি শেষ হওয়ার সাথে সাথে শহরটিও পরিত্যাক্ত হয়ে যায়। ১৯৬০ সাল থেকে এই শহরটি পরিত্যাক্ত।

বডিই, অবস্থান ক্যালিফোর্নিয়া, ইউএসএ। ১৮৮০ সালের সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহরগুলির একটি। সোনার খনি সমৃদ্ধ এই শহরটির তখন অবস্থা ছিল জমজমাট। ৬০টি সেলুন ছিল এই শহরে। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসও ছিল। বর্তমানে শহরটি সবার জন্য মুক্ত। ১৯৪২ সাল থেকে শহরটি পরিত্যাক্ত।

তুরস্কের পরিত্যাক্ত এ শহরটির নাম কায়াকয়। গ্রীক এবং তুরস্কের যুদ্ধ শেষ হবার পর থেকেই এ শহরটি পরিত্যাক্ত হতে শুরু করে। বর্তমানে ৫০০ এর মতো দালান এবং কয়েকটি চার্চ সহ শহরটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় আছে। ১৯২৩ সাল থেকে এ শহরটি পরিত্যাক্ত।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫৪
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×