somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সদ্যসমাপ্ত বইমেলা এবং একটি উপলব্ধি

০৯ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙ্গালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ। সম্ভবত সময় এসে গেছে এই তালিকায় আরও একটি নাম সংযোজনের। বইমেলা। বাঙ্গালীর বড় জাতীয় উৎসবগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। বইমেলা এলেই আমাদের (অন্তত ঢাকাবাসীদের) কাছে বইমেলা মানেই প্রতিদিনের রুটিনে আরও একটি অবশ্যম্ভাবী কাজ যুক্ত করে নেয়া। ফেব্রুয়ারী মাসের বিকেল অথচ বইমেলার বাইরে থাকা- পুস্তকপ্রেমীদের কাছে রীতিমত অসহনীয় এক বিষয়। আশা জাগে, আমরাও এক বইপ্রেমী জাতিতে পরিণত হতে চলেছি।

কিন্তু একটি বিষয়ে একটুখানি খটকা লাগে। আমাদের এই যে পুস্তকপ্রীতি আমরা প্রদর্শন করছি- অন্তত বইমেলায়, তা কি সত্যিই পুস্তকের প্রতি ভালোলাগা না-কি অন্য কিছু? আচ্ছা খুলেই বলা যাক।

একদিন শুক্রবার। অফিস ছুটি। বিকেলে সাধ হল বইমেলায় যাই। গেলামও। শাহবাগ থেকেই সুবিশাল লম্বা লাইন। পৃথিবীর যে কোন জাতি দেখলেই ঈর্ষাণ্বিত হবে-আহারে কী বইপ্রীতি!!! একটি বিশেষ কার্ড গেটে দেখাতেই পুলিশ এবং মহামান্য কালো পোশাকধারীরা জানালেন যে আমি লাইনে দাঁড়ানো ছাড়াই ভেতরে যেতে পারি। গেলাম ভেতরে। রীতিমত হুলস্থুল ব্যাপার। খুব ভাল লাগছিল। এক বন্ধু সাথে ছিল, সে জানাল আমরা অনেক মিস করি বইমেলা। আমার সেই মুহুর্তে তাই মনে হল। মনে হল একদিক থেকে বই দেখা শুরু করা যাক। অনেক বই-ই ভাল লাগল। দু'একটা কিনলামও। আমার বন্ধু আবার হুমাযুন ভক্ত। হিমু নাকি তার অসম্ভব ভাল লাগে। মিথ্যে বলব না, আমারও খারাপ লাগে না এই চরিত্রটি। তো আমরা রওনা হলাম অন্যপ্রকাশ স্টলের দিকে। কিন্তু স্মৃতিস্তম্ভ পেরিয়ে একটু এগোতেই আমি, আমরা রীতিমত হতভম্ব। এত ভীড়!! আমার তো রীতিমত আক্কেল গুড়ুম। হুমায়ুন আহমেদ জনপ্রিয় জানতাম, কিন্তু এতটা!! অনেকক্ষণ চেষ্টা করলাম স্টলের সামনে যেতে একটি বই পাওয়ার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বৃথা প্রমানিত হল। তখনই হঠাৎ মনে হল কিছু তরুণ ওখানে খামোখাই জট পাকাচ্ছে। এরকম একজনকে একটু খেয়াল করে দেখলাম, তারা দু'তিনজন মিলে ওই ভীড়ের মধ্যে ইচ্ছে করে ঢুকে পড়ছে যখন কোন সুন্দরী তরুণী ওখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। একটু উৎসুক হলাম। খানিকক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে খেয়াল করলাম যে, এরকম কয়েকটি গ্রুপ সেখানে এরকম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরে এলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেল। এই আমাদের তথাকথিত পুস্তকপ্রীতি!!

অন্যান্য স্টলের দিকে এগোলাম। প্রতিটিতেই প্রায় একই দৃশ্য। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে শর্ট পাঞ্জাবী পরে কেউ ঝাঁকড়া চুল নিয়ে আবার কেউ চুলে হেয়ার ক্রীম লাগিয়ে বুদ্ধিজীবিতার চরম প্রকাশ ঘটিয়ে এই কীর্তি করে যাচ্ছে নির্বিকারভাবে। তরুনীদের একটু ছোঁয়া তাদের কাছে যেন মহা-আরাধ্য এক অনুভূতি। মনটা ছোট হয়ে গেল। তাইতো দেখি যে আমাদের সারাবছর বইয়ের দোকানের আশেপাশেও দেখা যায় না, তারাই কেন হঠাৎ এত বইপ্রেমী হয়ে উঠে!

ইন্টারনেট একটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র, এই লেখাটি জাতি হিসেবে হয়ত আমাদেরকে খাটো করে তুলবে। কিন্তু মনের ভেতর শঠতা আর নীচতা পুষে সবার সামনে নিজেদেরকে উঁচুতে তুলে ধরার চেষ্টা করে কি আদৌ কোন লাভ আছে? আমরা চাই আত্মার আলোতে নিজেদেরকে আলোকিত করতে, কোন মেকি আলো অথবা মরীচিকাতে বিভ্রান্ত হতে নয়। নিজেকে হয়ত অন্যদের কাছ থেকে লুকানো যায়, কিন্তু নিজের কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করলে তা ধীরে ধীরে নিজেকেই ক্ষয়ে ফেলবে অবিরত। আহ্বান সেই তরুণদের প্রতি, আসুন ভাই আমরা নিজেদেরকে নিয়ে যাই জাতিগত উচ্চতার এমন একটা স্তরে যেখানে সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে পরম শ্রদ্ধাভরে- বলবে, হ্যাঁ এরাই সেই জাতি যারা দিয়েছিল ভাষার জন্য রক্ত, নিজেদেরকে মুক্ত করেছে রক্তস্নাত এক গৌরবময় যুদ্ধের মাধ্যমে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত এই মাসে(মার্চ- আমাদের প্রথম পতাকা উত্তোলন ও মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাস, মহান স্বাধীনতা দিবসের মাস) এই হোক আমাদের উদ্দীপ্ত শপথ।
আপনাদের তারুণ্যের শক্তির দিকেই যে তাকিয়ে আছে পুরো জাতি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×