এখনকার নারীবাদ, নারী স্বাধীনতা বিষয়গুলো নিয়ে যখন কেউ কথা বলে তখন কেমন যেন একটা গন্ধ পাই-এখানেও নারীকে হেয় করা হচ্ছে কি-না, বা পণ্য করা হচ্ছে কি-না, বা কোন সাবজেক্ট বানানো হচ্ছে কি-না যা থেকে ফায়দা লোটা সম্ভব? আমরা দেখেছি নারীবাদী হুমায়ুন আজাদ সাহেবকে(লেখক হিসেবে আমি ওনাকে সম্মান করি), উনি নারীবাদের কথা বলেছেন কিন্তু নারীকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া কিছু ভেবেছেন কি-না তা বুঝতে পারি না। নারী স্বাধীনাতা বলতে যদি তিনি নারীদের নিয়ে যথেচ্ছাচার বা নারীদের যথেচ্ছাচারকে বুঝাতে চেয়েছেন কি-না, সাহিত্যে অথবা কর্মে তাও স্পষ্ট না। আরেক শ্রদ্ধাষ্পদ নাট্যকার সেলিম-আল-দ্বীনও বিভিন্ন সময়ে নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন কিন্তু নারী বিষয়ে তার আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি আমরা সবাই-ই কমবেশি জানি।
চাকুরি নারী করবে। তার মেধা-মনন-সৃষ্টিশীলতা সব বিফলে যাবে এমনটা হতে পারে না। সেটি হতে হবে সবকিছুর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমেই। অনেক ক্ষেত্রেই চাকুরী বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই চাকুরী ক্ষেত্র বা রীতিনীতি বা আরও অনেক বিষয়ে ম্যাচ করার বিষয় থাকে। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন নারীদের কোন বন্ধন বা প্রতিষ্ঠানিক দায়-দায়িত্বের যথার্থতা নিয়ে। আমি পরিবর্তনপিয়াসী কি-না তা বলতে পারব না তবে অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কিংবা রীতি-নীতিকে শ্রদ্ধা করি যেগুলোর কারণে সমাজে স্থুলতা বিকশিত হচ্ছে না।
আসলে কথা রক্ষণশীলতা বা সংস্কারবাদ নয়। আজকের সমাজে আমাদের এই প্রজন্মের মনোগঠন হচ্ছে বস্তুবাদী, ভোগবাদী ধারাকে সামনে নিয়ে। পাশ্চাত্যের অবাধ ভোগবিলাস তাদেরকে আহ্বান করে, সেটিতে সাড়া দিয়ে নিজেদের সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে তাদের সাধ হয় প্রবলভাবেই কিন্তু সেই অবাধ মত্ততার বিড়ম্বনাটুকু তাদের গোচরে আসে না। মনোজগতের যে গাঠনিক প্রক্রিয়ায় মেয়েদের চাকুরি করাটা অতি আবশ্যক মনে হয়, প্রয়োজনে সবকিছু উপেক্ষা করেও, সেই একই প্রক্রিয়ায় আমাদের অফিসের বসদেরও মনে হয় যে তাদের কাছে চাকুরী করতে আসা নারীরা তাদের ভোগ্যপণ্য-চাকুরীর বিনিময়ে তাদের ভোগ করা যায়(অবশ্যই অনেক ভাল বস আছেন-এবং বেশিরভাগ বসই ভাল-আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি)
আমরা সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে শুভ কোন কিছু বয়ে আনার চিন্তা করলে সমস্যা নেই। কিন্তু যে রীতিনীতিতে আমরা ভাল আছি কিংবা থাকতে পারব সে বিষয়ে রক্ষণশীল হওয়াটাকে আমরা নেতিবাচক মানসিকতা ভাবছি কি-না তা ভেবে দেখা দরকার।
মেয়েরা চাকুরী করবে। কিন্তু সমাজ বা পরিবারের সব বন্ধন উপেক্ষা করে তা করতেই হবে এমনটা ভাবতে পারি না। সেক্ষেত্রে পরিবর্তন যেমন আপনার আমার বউয়ের ব্যাপারে আমাদের মানসিকতার করতে হবে তেমনি আপনি-আমি যখন অফিসের বস তখন অন্যের বউয়ের বিষয়ে মানসিকতাও পরিবর্তন করতে হবে। সবক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিবর্তনের ফলেই নারীমুক্তি ঘটবে। নির্দিষ্ট কোন আঙ্গিক থেকে অকারণ গলা ফাটানো কোন কাজেই আসবে না।
যে পোস্টের কারণে লেখা তা হল.....http://www.somewhereinblog.net/blog/kuasarchador/28908684
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


