কেন যেন মনে হচ্ছে এখন থেকে যা দেখব সবই সাজানো নাটক।
প্রথম আলোতে (সম্ভবত ২৭/২৮.০২.০৯) দেখলাম, বেঁচে যাওয়া একজন সেনা কর্মকর্তা বর্ণনা দিলেন কিভাবে কি ঘটল। এখন তার কথার কোন পাত্তাই দেয়া হচ্ছে না। অথচ তিনিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বর্ণনা দিয়েছেন বলে মনে হল।
আমরা এখনও পর্যন্ত সেনাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে আসলেও তাদের এপ্রোচটা ঠিক বুঝতে পারছি না- তারা আসলে কি চাচ্ছে? আজকের কথাই ধরুন। তৌহিদ এবং অন্যান্যদের আজ গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে অথচ প্রথম দিন থেকেই নাকি (সংসদে প্রধানমন্ত্রী) তারা আটক কিংবা সেনা হেফাজতে আছেন।
আমরা যদি ২৭.০২.০৯ তারিখের কথাই ধরি, তবে দেখব সেদিন বিকেল থেকে পরদিন পর্যন্ত পিলখানার ঘটনা আমরা (সাধারণত গণমাধ্যমই আমাদের জানার মাধ্যম। সেসময় সেখানে গণমাধ্যমের উপস্থিতি একরকম নিষিদ্ধ ছিল) কেউই জানি না। সেখানকার একজন বাসিন্দার মুখে যা জানলাম তা যদি সত্য হয় তবে খুবই কষ্টের কথা হবে। কয়েকজনের ষড়যন্ত্রের শিকার দু'য়েকশ' মানুষের ভুল আবেগের জন্য চরমতম শাস্তি হয়ত পেতে হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে। এখন শুতে পাচ্ছি বিডিআর-এর নাম পাল্টানো হবে। ষড়যন্ত্র মূলক একটি ঘটনার জন্য একটি বাহিনীকেই শেষ পর্যন্ত লুপ্ত হতে হল? এটি শুধু বিচার নাকি ক্ষমতাবানদের প্রতিহিংসার চরমতম বহিপ্রকাশ?
আবার দেখুন, যেখানে যত তদন্ত কমিটি হচ্ছে সেখানকার বেশিরভাগই সেনা কর্মকর্তা। তাদের আলাদা তদন্ত কমিটি থাকার পরও।
আজকের প্রথম আলোতে দশ ট্রাক অস্ত্র খালাস এবং সাক্ষীদের বয়ান যদি সত্য হয় তবে আমাদের ডিজিএফআই এবং এনএসআই আমাদের দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এটি নিয়েও অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে, নিশ্চয়ই এর কোন একটি সত্য এবং অবধারিতভাবেই বাকীগুলো মিথ্যা।
শুধুমাত্র বিডিআর বিদ্রোহের কথাই যদি ধরি তবে এতদিন ধরে আমরা যে কথাগুলো শুনে এসেছি তার অনেকগুলোই পরস্পরবিরোধী। কিন্তু তাদের একজনের কথাও যদি সত্যি হয় তবে বাকীগুলো নিশ্চয়ই মিথ্যা। আমরা কি বিশ্বাস করব?
তবে একটা সংশয় এখন ক্রমাগতই ঘণীভূত হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কি আমরা সত্যটি জানতে পারব?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


