একটি টিভি চ্যানেলের সাথে সাথে কাজ করার সুবাদে অনেক ধরণের ফোনই আমাকে প্রতিদিন রিসিভ করতে হয়। এরকমই একটি ফোন রিসিভ করে আজ যা শুনলাম তাতে মাথা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ল।
ঘটনাটি এরকম। কয়েকমাস আগে যখন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন কি একটি বিশেষ উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে তিনি গিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের কোন একটি চরের গ্রামে। তার হেলিকপ্টার নামানোর জন্য একজন কৃষকের মরিচ ক্ষেত বাছাই করা হয়েছিল যাতে ওই কৃষক তখন হায় হায় করে উঠেছিল। কিন্তু তখন সরকারি কর্মকর্তারা তাকে বুঝিয়েছিলেন যে মুন চলে যাবার পর তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। প্রায় আড়াই বিঘা জমিই সেই কৃষকের চলতি মৌসুমের একমাত্র ফসল ছিল যার ওপর নির্ভর করে আগামী মাস ক'টি পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করার কথা। সরকারি কর্মকর্তার কথায় সেই কৃষক তখন বুক বেঁধেছিলেন। উত্সব শেষ হয়েছে। আজ সম্ভবত চার মাস হতে চলল সেই কৃষকের ক্ষতিপূরণ পাওয়া হয়ে ওঠেনি। প্রতিশ্রুতি দেয়া ইউএনও কিংবা অন্যান্য কর্মকর্তার অফিসে গেলে ওই কৃষককে এখন ঢুকতেই দেয়া হয় না। সে বারবার গিয়ে ফিরে আসছে বিভিন্ন দফতরে। এর মধ্যে সে ঋণও করে ফেলেছে কয়েক হাজার টাকা, ক্ষতিপূরণ পেলেই ঋণ শোধ করা যাবে এই আশায়। যমুনা চরের সেই বেচারা কৃষক আজ তার পরিবার নিয়ে যেমন অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তেমনি দুবেলা সহ্য করছেন পাওনাদোরদের গঞ্জনা। দিশেহারা কৃষক ফোন করেছিলেন আমার কাছে কিন্তু আমার-ই বা কি করার আছে? হয়ত সিরাজগঞ্জের জেলা প্রতিনিধিকে ফোন করে একটি নিউজ কভার করতে বলতে পারি। তাতেই কি শেষ হবে কি-না তা বলতে পারছি না। তবে ঘটনাটি সত্যিই বেশ ভাল একটি রূপক।
আসলে এটি হল জাতিসংঘ কিংবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ডের একটি একটি ছোট্ট প্রতিফলন। তাদের নীতি হল কোন এলাকায় গিয়ে উন্নয়ন কিংবা অন্যান্য গপপো শোনাবেন এবং পরবর্তীতে তার সাফারার হবেন সেই এলাকার সাধারণ জনগণ। তাদের দেয়া সুবিধাগুলো কখনোই উদ্দীষ্টদের হাতে পৌছাবে না, রাস্তাতেই গায়ে হয়ে যাবে।
আর সেই বেচারা কৃষকদের মত শিকার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবে উপযুক্ত বিচারের আশায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




