somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বান কি মুনের ঢাকা সফর......একজন কৃষকের হাহাকার

১৬ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি টিভি চ্যানেলের সাথে সাথে কাজ করার সুবাদে অনেক ধরণের ফোনই আমাকে প্রতিদিন রিসিভ করতে হয়। এরকমই একটি ফোন রিসিভ করে আজ যা শুনলাম তাতে মাথা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ল।

ঘটনাটি এরকম। কয়েকমাস আগে যখন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন কি একটি বিশেষ উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে তিনি গিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের কোন একটি চরের গ্রামে। তার হেলিকপ্টার নামানোর জন্য একজন কৃষকের মরিচ ক্ষেত বাছাই করা হয়েছিল যাতে ওই কৃষক তখন হায় হায় করে উঠেছিল। কিন্তু তখন সরকারি কর্মকর্তারা তাকে বুঝিয়েছিলেন যে মুন চলে যাবার পর তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। প্রায় আড়াই বিঘা জমিই সেই কৃষকের চলতি মৌসুমের একমাত্র ফসল ছিল যার ওপর নির্ভর করে আগামী মাস ক'টি পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করার কথা। সরকারি কর্মকর্তার কথায় সেই কৃষক তখন বুক বেঁধেছিলেন। উত্সব শেষ হয়েছে। আজ সম্ভবত চার মাস হতে চলল সেই কৃষকের ক্ষতিপূরণ পাওয়া হয়ে ওঠেনি। প্রতিশ্রুতি দেয়া ইউএনও কিংবা অন্যান্য কর্মকর্তার অফিসে গেলে ওই কৃষককে এখন ঢুকতেই দেয়া হয় না। সে বারবার গিয়ে ফিরে আসছে বিভিন্ন দফতরে। এর মধ্যে সে ঋণও করে ফেলেছে কয়েক হাজার টাকা, ক্ষতিপূরণ পেলেই ঋণ শোধ করা যাবে এই আশায়। যমুনা চরের সেই বেচারা কৃষক আজ তার পরিবার নিয়ে যেমন অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তেমনি দুবেলা সহ্য করছেন পাওনাদোরদের গঞ্জনা। দিশেহারা কৃষক ফোন করেছিলেন আমার কাছে কিন্তু আমার-ই বা কি করার আছে? হয়ত সিরাজগঞ্জের জেলা প্রতিনিধিকে ফোন করে একটি নিউজ কভার করতে বলতে পারি। তাতেই কি শেষ হবে কি-না তা বলতে পারছি না। তবে ঘটনাটি সত্যিই বেশ ভাল একটি রূপক।

আসলে এটি হল জাতিসংঘ কিংবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ডের একটি একটি ছোট্ট প্রতিফলন। তাদের নীতি হল কোন এলাকায় গিয়ে উন্নয়ন কিংবা অন্যান্য গপপো শোনাবেন এবং পরবর্তীতে তার সাফারার হবেন সেই এলাকার সাধারণ জনগণ। তাদের দেয়া সুবিধাগুলো কখনোই উদ্দীষ্টদের হাতে পৌছাবে না, রাস্তাতেই গায়ে হয়ে যাবে।

আর সেই বেচারা কৃষকদের মত শিকার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবে উপযুক্ত বিচারের আশায়।
৯টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×