চিঠির অংশবিশেষই বক্তব্যের গভীরতা বোঝাতে যথেষ্ট । যে দেশটির স্বাধীনতায় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের বিশাল অবদান , যে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে মুক্তিযুদ্ধ পর্বে কোটিরও বেশি বাংলাদেশী শরণার্থীকে দীর্ঘদিন খাইয়ে-পরিয়ে রেখেছিল ভারত ,স্বাধীনতা পাওয়ার পর যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে যে বাংলাদেশকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল ভারত , সেই বাংলাদেশে এত ভারত - বিদ্বেষ কী করে পুঞ্জীভূত হতে পারে ! এ বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কারা ? ভাবলে অবাক হতে হয় ।
এটা ঠিক স্বাধীনতা পাওয়ার পর ওদেশে রাজাকার,আলবদর,জামায়াত ও অন্যান্য পাকিস্তানপন্থীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি । সেই সুযোগে এরা ফুলে-ফেঁপে উঠতে পেরেছে । মুক্তিযুদ্ধ পর্বে লুটপাট চালিয়েছে , স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা সুবিধা ভোগ করছে । আর এই সমস্ত সুযোগ সুবিধার মধ্যে বাস করে তারা কেবল ভারত-বিদ্বেষকেই বাড়িয়ে তুলেছে । হাসিনা বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেই কি তিনি ভারতের আজ্ঞাবহ ?
একটি সংবাদপত্রে পড়লাম , যাতে উল্লেখ আছে আইয়ুব খানের পথে পা ফেলছেন বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল মঈন । হাসিনাকে নাকি প্রয়োজনে সেনাবাহিনী হত্যা করতে দ্বিধা করবে না । কারণ সম্ভবত একটাই - বাংলাদেশকে পাকিস্তান করে তোলার পথে যাবতীয় কাঁটা দূর করা । হাসিনা থাকলে তা সম্ভব নয় । এদিকে জানা গেছে হাসিনার দূত এসেছেন দিল্লিতে । তাঁরা চাইছেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যবস্থা নিক ভারত , হাসিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী হোক । এ চাওয়া অন্যায্য নয় । যে দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল ভারত সে দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভালোবাসাকে যদি কেউ হত্যা করতে চায় প্রতিবেশী হিসাবে ভারত পদক্ষেপ নিতেই পারে । নেওয়া উচিতও । ভারতের মানুষ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেখতে চায় , এ দেশ পাকিস্তান বনে যাক এটা ভারতবাসী চায় না । জেনারেল মঈন অথবা বর্তমান তদারকী সরকারের বোঝা উচিত পাক সেনা নায়কদের পথই প্রকৃষ্ট পথ নয় , সে পথে হাঁটলে বিপদ । একদিন আমেরিকার দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা জেগে উঠতে পারে । এখন সেরকম শঙ্কাই তো পাক জনগণের মনে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


