সে বার সে কি খাওয়া । সকাল-সকাল টাটকা খেজুর রস ,তাঁর গুড় ,আবার গুড় দিয়ে নানা রকম পিঠা ,ওহ । এই সব কিছুর উদ্যোক্তা ছিলেন আমার বাবা । তবে আজ আর তিনি নেই ।সাথে নেই, সেই আমাদের পাড়ার খেজুর গাছ কাটার লোকটাও ।
তারপর থেকে ১৫টা বছর ধরে খুঁজছি ।একটা খেজুর গাছ কাটার লোক পেলাম না । প্রতিবছর শীতের সময় গাছের দিকে তাকালে বড় কষ্টো হয় । সবাই বলে । কেটে ফেল, গাছগুলো কেটে ফেল ।তাঁদের কথা আমি শুনিনি । আজো আছে ,কমপ্লেন বয়'এর মতো বাড়ছে শুধু ।
একদিন হঠাৎ করে দু মাস আগে খেজুর গাছ কাটার একটা লোক পাওয়া গেলো । সে বললো এবার রস খাওয়াবে ।একদিন এলো সে গাছ পরিষ্কার করলো ১০০টা টাকা নিলো চলে গেলো । আবার দুদিন পরে এলো তিনটা হাঁড়ি কেনার জন্য ৪০ টাকা নিলো চলে গেলো। বলে গেলো একদিন রস আমাদের একদিন রস ওনার । আমরা রাজি হলাম ।আমাদের বাড়ির সবার সে কি আনন্দো , যাক এতো দিনে একটা লোক তবে পাওয়া গেলো ।
অফিসে সবাইকে বললাম , পাড়াতে বললাম , বন্ধুদের বললাম । সবাই কেমন পালা করে গাছ দেখতে আসতে লাগলো । খোঁজ নেওয়া শুরু করলো কবে রস বেরবে । কিন্তু সেই লোকটা যে আর এলো না । হয়তো কাল আসবে । কোথায় কাল ।আজ গেলো কাল গেলো পৌষপার্বণ গেলো । কোথায় রস আর কোথায় হাঁড়ি ।
খেঁজুর গাছে রসের হাঁড়ি !
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



