somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা: মানবজটই মূল সমস্যা। আর কোন উন্নয়ন না করাই হবে ইহাকে রক্ষার একমাত্র উপায়!

২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথাটা উদ্ভট শুনালেও, অতি যৌক্তিক ও সত্য হতে বাধ্য। ব্যাপারটা খোলাসা করা যাক। ঢাকা নিয়ে অভিযোগ- যানজট, পানি সংকট, জলাবদ্ধতা, আবর্জনা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো গাছের শাখা-প্রশাখা। মূল হৈল- মানবজট। এবং তা ক্রমবর্ধমান। ঢাকা মুখী মানুষের মিছিল দিনকে দিনকে গাঢ় হচ্ছে। অনেকেই ঢাকায় অস্থায়ী মেহমান থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হচ্ছে। বিপরীতে ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে এমন লোক নেই বললেই চলে। থেকে যাওয়া লোকজন খাচ্ছে, থুথু ফেলছে, প্রসাব পায়খানা করছে, হাঁটছে, বিছানা পাতছে, যানবাহনে সিট খুঁজছে। ভীড় ভাট্টা বেড়েই চলেছে। যত বড় পরিকল্পনা, মহাপরিকল্পনা, Strategic Transportation Plan করা হোক না কেন; ওয়াসা, রাজউক, ডিসিসি যতই করিৎকর্মা হোক না কেন; এমনকি পুনরায় কলেমা পড়ে তারা চুরি চামারি ছেড়ে দিকনা কেন; সম্পুর্ন অ-পরিকল্পিত এ মানবস্রোতকে ঠেকানো না গেলে এবং বিদ্যমান অসম্ভব ঘন এ মানবজটকে বিভিন্ন স্থানে বিকেন্দ্রিকরন না করা গেলে ঢাকা কে বাচানো মুশকিল হবে। এটাই বাস্তবতা। ভাবা যাক- কেন ঢাকায় এত মানুষ? কেন প্রতিদিন আরো মানুষ আসছে? উত্তর- একটাই ঢাকা বিরাট 'সুযোগ সুবিধা'র শহর! প্রচুর মানুষ ঢাকায় রওনা দেয় কিছু একটা হয়ে যাবে এ ভেবে! ভেংগে ভেংগে দেখলে-

অস্থায়ী ভাবে ঢাকায় আসে লাখো মানুষ, লাখো কারন
জজকোর্টের রায় শেষ, হাইকোর্টে আপিল করব। লোকাল ডাক্তার দেখাইছি, কোন কাজ হয়নি, বড় ডাক্তার দেখাতে হবে। বাড়ীর পাশে স্কুলে বদলি হতে চাই, তদবির করব শিক্ষা ভবনে। সৌদি আরব যাব, দু'দিন আগেই চলে যাওয়া ভাল, মামার বাসা আছে। ইন্টার পরীক্ষা দিছি, বসে থেকে কি লাভ, কোচিং করব। ট্রেনিং আছে হেড অফিসে। চাকরির এপ্লাই করছিলাম রিটেন ইন্টারভিউ দিতে আসছি। কখনো ঢাকায় আসিনি, বেড়াতে আসছি। ইত্যাকার অজস্র উছিলায় সহস্র মানুষ ঢাকার পথে ধাবমান। প্রতিদিন, প্রতিক্ষন। এছাড়া দিনের বেলায় গাজীপুর, সাভার, মুন্সিগন্জ, নরসিংদী থেকে যোগ দিচ্ছে লাখো মানব।

কাজের খোজেঁ ঢাকার পথে: নিরক্ষর টু ডক্টরেট একই দুর্ভাগ্য
ঢাকার বাইরে কোন কাজ নেই। উত্তরান্চল থেকে ট্রাকের পিঠে চড়া শ্রমিক, সদ্য চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা বা সিলেট অঞ্চলের কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সবারই একই অখন্ডিত কপাল! চাকরি চাও তো, ঢাকায় চল। চিটাগাং এর মত ২য় বৃহত্তম শহরে থেকেও কিছুই হয়না। হওয়ার মত কোন মেকানিজম গড়ে উঠেনি। সরকারী, প্রাইভেট, এনজিও, স্বদেশী বা ভিনদেশী প্রায় সব কোম্পানীর (আবুল খায়ের, বিএসআরএম, কেডিএস গ্রুপ- এরকম দু একটা বাদে), হেড অফিস ঢাকায়। ১টি চাকরি পেতে সফল ও অসফল মিলে ১০০ ইন্টারভিউ দিতে হয়। এমনকি অনেক প্রতিস্ঠান সিভিতে ঢাকার বাইরে ঠিকানা দেখলে ডাকেনা। সুতরাং..।
গার্মেন্টস শ্রমিক, ঠেলা, রিকশা, মুটে, মজুর, নির্মান শ্রমিক, ফেরীওয়ালা এসবের জন্যও ঢাকা। সুতরাং যেভাবে হোক ঢাকায় থাকতে হবে।

বড় পাপী সরকার
কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বন, পরিবেশ, হাওড়, কৃষি সকল সরকারী দপ্তর অধিদপ্তর পরিদপ্তর বিভাগ ঢাকায়। নানান কারনে প্রাইভেট সেক্টর সরকারকেই অনুকরন করতে বাধ্য হয়। তাই করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে ট্রেড লাইসেন্স করা ছাড়া আর কোন রেগুলেটরী সার্ভিস পাওয়া যায়না। সুতরাং, ঢাকায় হেড অফিস না করা তাদের জন্যও ভোগান্তির।

ঢাকার আকর্ষন কমাতে হবে!
ফ্লাই ওভার, মনোরেল, পাতালরেল তথাকথিত তিলোত্তমা ইত্যাদি করে ঢাকাকে আরো আকর্ষনীয় করলে এখানে আরো লোক আসবে। ঝামেলা আরো পাকবে। সম্পুর্ন বাস অযোগ্য হবে নগরটি। চাকুরী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সরকারী কাজ ইত্যাদির জন্য আরো দরকারী হলে আরো মানুষ ঢাকায় আসবে। ঢাকার আকর্ষন/প্রয়োজন আর বাড়তে দেয়া/বিদ্যমান লেভেলে থাকা হবে আত্নঘাতী! এটা কমাতে হবে। অর্থাৎ ঢাকার আর কোন উন্নয়ন না করাই হবে বাঞ্চনীয়।
সমাধান একটাই- বিকেন্দ্রীকরণ
কথাটা পল্টনের বা সেমিনারের ভন্ডামীর জন্য নয়। বাচতে হলে এ ছাড়া আর উপায় নাই। অন্তত: বিভাগীয় শহর গুলোকে জাগাতে হবে।
১৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×