আমার প্রিয় পোস্ট

সমাজ ও সময় নিয়ে চাছাঁছোলা লেখনী। স্বার্থান্বেষী বিশেষ করে ক্ষমতাসীন মহল ও নূন-নেমক খাওয়া হরিদাশ পালদের গাত্রদাহ হতে পারে।

কিছু জায়গায় আপনি নিশ্চিন্তে মানুষ খুন করতে পারেন। গ্যারান্টি দিলাম কক্ষনো বিচার হবেনা। তা হল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৭

শেয়ারঃ
0 5 0

প্রেক্ষাপট: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আগস্ট ১৯৯৭ য়ের মাঝামাঝি আমাদের স্নাতক ১ম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়। ১৫ দিন না গুজরাতেই ৩রা সেপ্টেম্বর যথারীতি গোলমাল শুরু হল। সকাল থেকেই এটা ওটা কানে আসছে। পত্রিকার ভাষায় পরিস্থিতি থমথমে, টানটান উত্তেজনা, গোলাগুলি, ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, পুলিশ, ক্যাডার ইত্যাদি। লীগের ২ জন, শিবিরের ১ জন মারা গেছে..ভার্সিটি বন্ধ হবে এসব গুজব দিনভর তটস্থ রাখল সবাইকে। সন্ধ্যাবেলায় মোটামুটি পরিস্কার খবর এল- আমিনুল ইসলাম বকুল নামে শিবিরের, মতান্তরে লীগের, মতান্তরে দলের, মতান্তরে তবলীগের এক ছেলে মারা গেছে। রাত ১০ টার মধ্যেই কাংখিত সে সংবাদ এসে গেল। অনির্দ্দিস্ট কালের বন্ধ। ফার্স্টইয়ারের কচিরা এতে টেনশন বোধকরলেও, পুরানা বড়ভাইরা দেখলাম নিশ্চিন্ত মনে বিড়ি ফুকছে! ঘটনা হৈল- ক্যাম্পাসে সেদিন সাকাচৌ এসেছিল, এনিয়ে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের ..ফাঁকতালে ছাত্রলীগের আক্রমন শিবিরের উপর ও শিবিরের পাল্টা মাইর। এ ধরনের ভজঘটে কটেজে বসবাসকারী ভৈরবের ছেলে, গনিতের ছাত্র বকুলের উপর গোলাবর্ষন ও মৃত্যু। -অদ্যাবধি এ হত্যাকান্ডের নূন্যতম বিচার হয়নি।

পরের বছর ১৯৯৮ পুরোটাই যুদ্ধ চলল। এপ্রিলের ২৫ ও ২৬ তারিখ ছাত্রলীগ বৃহত্তর চট্টগ্রামের পদাতিক, গোলন্দাজ বাহিনী নিয়ে সর্বাত্নক আক্রমন করল শিবিরের সম্মুখ ঘাটি শাহজালাল ও শাহপরান হলে। ১৯৯০ য়ের পর প্রথম শিবিরের আংশিক পতন হল। রেলস্টেশন থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের খাল পর্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ন এলাকা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেল পরবর্তী ৩ বছরের জন্য। ২০০১য়ের ইলেকশন লীগ হারলে রাতারাতিই ছাত্রলীগ পালিয়ে যায় এবং.....। যাহোক, এপ্রিলে শুরু হল শিবিরের অবরোধ। এরই মধ্যে অবরোধ অমান্য করে চবির বাস শহরের উদ্দেশ্য রওনা হলে মাঝপথে ব্রাশফায়ারের পাল্লায় পড়ে। মারা যায় মুশফিকুর নামে এক মেডিক্যাল ছাত্র, তার বাবা চবির শিক্ষক ছিলেন। শিবিরের ব্রাশফায়ারে মুশফিক মারা গেছে মতান্তরে লীগ ফায়ার করে শিবিরকে কালার করেছে (!)- এ তর্ক চলতে লাগল। তবে সত্য হল- মুশফিক নামে এক হবু ডাক্তারকে হত্যা করা হয়েছে এবং অদ্যাবধি কোন বিচার হয়নি।

পরের বছর ১৯৯৯ আরো ঘোলাটে। মে মাসের সম্ভবত: ১৫ তারিখে অর্থনীতির মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে হল থেকে বের হবার পর শিবিরের সদস্য যোবায়ের কে লীগের কয়েকজন অপহরন করে। সন্ধ্যার পরপর তার লাশ পাওয়া যায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ধানক্ষেতে। -অদ্যাবধি এ হত্যাকান্ডের কোন বিচার বা তদন্ত কিছুই হয়নি।

একই বছরের ডিসেম্বরে আবার সংঘর্ষ বাধে। লীগ বনাম শিবির। মারা যায় শিবিরের ২ জন রহিম ও আরেকজন। ইতোমধ্যে আমানত হলে শিবির কোনো একদিন রাতে ব্যাপক হামলা করে। মারা যায় আইয়ুব আলী নামক এক বহিরাগত বা মেহমান বা সন্ত্রাসী বা গাঁজা সরবরাহকারী। তবে সে মানুষ ছিল। -এবং এ হত্যাকান্ডের কোনো বিচার হয়নি।

সন মনে নেই। সে সময়েই সন্জয় তলাপাত্র নামে ছাত্রইউনিয়নের এক কর্মী, সে চারুকলার ছাত্রছিল, তাকে বটতলী রেলস্টেশনে ট্রেনের লোহার সাথে মাথা থেতঁলিয়ে মেরে ফেলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কোনো একটি গ্রুপ। তার নাকি দাড়ি ছিল এবং ঝগড়া বাধলে কে যেন উস্কে দেয় ব্যাটা শিবির। ব্যাস..। মতান্তরে তাকে শিবিরই মেরেছে বলে বিচার চাইছিল তার স্ব-গোত্রীয় লোকেরা। -যাহোক সন্জয়ের হত্যার বিচারও হয়নি।

আরো এক ছাত্রলীগ কর্মী মারা যায় ক্যাম্পাস থেকে অদুরে নাম মনে নেই- প্রেক্ষাপট সেগুন গাছ বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কোন্দল। তবে দ্বিমত ও আছে যে ঘটনার সুবাধে শিবিরই তাকে....।- কোনো বিচার হয়নি।

চারবছর মেয়াদি স্নাতক কোর্স (বাস্তবে ৬ বছর) শেষ করতে করতে ৮ জন মানুষ নিহত হয়, কোনো দুর্ঘটনা নয় পরিস্কার নির্মম হত্যাকান্ড। কোনো বিচার বা উল্লেখযোগ্য তদন্ত অদ্যাবধি হয়নি, সাজাতো দুরের কথা। অপরাপর ঢাবি, রাবি, ইবি, কৃবির ক্ষেত্রেও সেম কথা প্রযোজ্য।

বলাই যায়, এ এক জায়গায় নিশ্চিন্তে মানুষ খুন করা যায়।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৪:৪৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০০
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: ভুল...২০০২ সালে বুয়েটে ছাত্রদলের ২গ্রুপের (বুয়েটের মুকি গ্রুপ এবং ঢাবি র টগর গ্রুপ) ক্রস ফায়ারে পরে মারা যান সাবেকুন্নাহার সনি (কেমিকৌশল, ৯৯)। ততকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সেই ঘটনার বিচার করা হয়েছে দ্রুত বিচার আইনে তাতে মুকি এবং টগরের প্রথমে ফাঁসী এবং পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় ২জনেরই।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। জানামতে ঢাবিতে এ যাবৎ ৬০+, চবিতে ১২+ এরকম সব জায়গায় হত্যাকান্ডর বিচার নিভৃত কাদছে। সনির ঘটনা উৎসাহব্যন্জক ১ টি উদাহরন।

২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৩
িসপাহী বলেছেন: আপনার নিরেপক্ষ আলোচনা ভালো লাগলো। এতোগুলো তাজা পা্রানের হত্যার বিচার হয় নাই। এ কোন দএশ ভাই?
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৮

লেখক বলেছেন: এটা বাংলাদেশ

৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৪
পাললিক মন বলেছেন: দ্রস্টব্য: এসব ঘটনার প্রতিটিতেই ১ বা অধিক মামলা হয়েছে। তবে সেখানে মূল আসামীর পাশাপাশি বা পাশকাটিয়ে প্রতিপক্ষের নেতাদেরকে প্রধান আসামী করা হয়। যথারীতি পুলিশও আসমানী ইংগিত অনুযায়ী তদন্ত করে।

আরো ন্যাক্কারজনক- পত্রিকাওয়ালাদের ভুমিকা। প্রথম আলো, জনকন্ঠ, ইত্তেফাক, সমকাল ধাঁচের পেপারগুলা ব্লাংকেট শিবিরকে গালাগাল করে রিপোর্ট কলাম ছাপত আর সংগ্রাম নিভু নিভু কন্ঠে ব্লাংকেট লীগকে গাল দিয়ে পাল্টা জবাব। বাস্তব সত্য লেখার আগেই সংবাদদাতা, সম্পাদক তার মত একটা রিপোর্ট বানিয়ে ফেলত। এ করে করে ঘটনাগুলোকে খেলো করে ফেলা হয়েছে।
৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৫
রাজনীতি বলেছেন: সকল হত্যা কান্ডের বিচার হওয়া দরকার। কিন্তু কে করবে বিচার? বিচারক যে নিজেই অপরাধী।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২২

লেখক বলেছেন: বিচারপতি পর্যন্ত পৌছলে তো!!

৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪০
বিলাশ বিডি বলেছেন: খেয়াল করে দেখবেন এইসব ছেলেপেলেরা বেশিরভাগই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বড় নেতাদের ছেলেমেয়েরা হয় ১) পড়ালেখা করেনা, ২) প্রাইভেট ভার্সিটিতে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে চার বছরের মধ্যেই পড়ালেখা শেষ করে, অথবা ৩) বিদেশে পড়ালেখা করে।

আমাদের কর্তাব্যক্তিদের ছেলেমেয়েদের প্রায় কখনোই এইসব আমজনতার সমস্যায় পড়তে হয়না দেখে তারা পূর্ণ উদ্দমে এইসব ক্যাডারদের প্রটেকশন দিয়ে নিজেদের কাজে ব্যবহার করে।

অভাগা বাংলাদেশ :(
৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৬
আফতাব তুহিন বলেছেন: খুবই ভালো লিখেছেন। ৩ নং মন্তব্যটা আরো ভালো হয়েছে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের, তাদের অঙ্গসংগঠন সমূহের, সমর্থক ব্যক্তি ও সঙগঠনগুলা এবং যারা নিষ্পাপ নিষ্পাপ চেহারা করে 'আমি কোন রাজনীতি করি না' জাতীয় মন্তব্য করে নিজের ঘৃণ্য চেহারাটা লুকিয়ে রাখতে চায়, যারা সুশীল, যারা মিডিয়া ম্যান- তাদের সবারই একটাই কাজ। বিপরীত পক্ষীয় লোকগুলোর উপর প্রচন্ড হিংস্রতায় ঝাপিয়ে পড়া। দেশ-দশের মঙ্গল এখানে নির্মম এক মশকারী মাত্র।



৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫২
বিবিধ বলেছেন: জানেন মনে হয়, জোবায়েরকে বর্তমান ভিসি (তৎকালীন প্রো-ভিসি) আবু ইউসুফের নির্দেশে মেরে ফেলা হয়েছে।
৮. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৮
জানজাবিদ বলেছেন: শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের যে কোন জায়গাতেই আপনি নিশ্চিন্তে খুন করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, আপনার টাকা থাকতে হবে। টাকা থাকলে আপনার ঝানু উকিল ৩ মাসের মধ্যে আপনাকে জামিনে ছাড়িয়ে আনবে। তারপর মামলা চলবে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত.......।

এই দেশে শুধু প্রধাণমন্ত্রীই হত্যার বিচার পায়।
৯. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৩
তুনাজ্জিনা বলেছেন: এটা একটা tradition হয়ে হয়ে গেছে...ছাত্রগুলো মারা যায় আমরা গালি দেই এই নোংরা রাজনীতিকে...তারপর সব ভুলে যাই।
এসব মৃত্যুগুলো মেনে নাওয়া ছাড়া কি কিছুই করার নাই!!!...বিচার জীবনেও হবে না...কত স্বপ্ন নিয়ে পড়তে আশা এই ছাত্রগুলোর স্বপ্নের শেষটা এতটা নির্মম...
হায়রে আমার বাংলাদেশ !!
১০. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩৫
রেজোওয়ানা বলেছেন: কোন বিচার হয়তো নাইই, উল্টো যে সব ছেলে আসামী থাকে তাদের দলীয় রাজনীতিতে ক্ষমতা বেড়ে যায়। আমাদের ভার্সিটিতে (জাবি) আনন্দ হত্যা মামলার আসামীদের দেখেছি কিলার গ্রুপ উপাধি নিয়ে অতিব গর্বের সাথে ক্যাম্পাসে রাজত্ব করতে।
১১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০২
নীরজন বলেছেন: দিন বদলায়..........গদির বদল হয়.........কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায় না........স্টেশনে গিয়ে একদল ছেলে দেখলেই মনে হয় এই বুঝি গন্ডগোল শুরু হলো.......এই বুঝি ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল....
১২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১০
ত্রিভুজ বলেছেন: এসবের অবসান কবে হবে?
১৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৬
শ্রাবনের ফুল বলেছেন: রাজনীতির নিরাপদ অস্ত্র হলো ছাত্র রাজনীতি, রাজনৈতিক নীতিমালাও সেভাবে সুক্ষ্ম পরিকল্পনায় সাজানো। পুলিশদের হাত পা বাঁধা ক্যাম্পাসের ভিতরে, কাউকে প্রক্টরের অনুমতি ব্যতিত গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ক্যাম্পাস হচ্ছে ছাত্র নামের সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য, আর এভাবেই চলে আসছে হত্যা কান্ড একটি দুটি হত্যার পরে সবার টনক নড়ে এ নিয়ে হুড়োহুড়ি চলে, তারপর হুজুগে বাঙ্গালি সব ভুলে যায় নতুন আশ্বাসে.. এভাবেই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে পাড়ি দিচ্ছে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে নামা উচিত, ছাত্রদের কোন রাজনীতি থাকতে পারে না।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২২৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সমাজ ও সময় নিয়ে চাছাঁছোলা লেখনী। স্বার্থান্বেষী বিশেষ করে ক্ষমতাসীন মহল ও নূন-নেমক খাওয়া হরিদাশ পালদের গাত্রদাহ হতে পারে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই