জানামতে এ দেশে কোনো বিপনন, বিজ্ঞাপন ও বিক্রয় নীতিমালা নেই। হয়তো থাকলেও লাভ হত না! কারন বেড়ায় ক্ষেত খায়। নেই কোন স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতি। থাকলেও লাভ হত না কারন জাতিগত ভাবে আমরা 'মানিনা মানবনা ও সবার আগে আমি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক।' যে আকারের এবং যে কায়দায় এবং যে পরিমান ঢাউশ সাইজের বিলবোর্ড দুর্বল খুঁটির উপর দেশব্যাপী টানানো হয়েছে তা নিতান্তই মৃত্যুফাঁদ! শহরাঞ্চলের ছাদগুলো থেকে যেকোনো মুহুর্তে খসে পড়তে পারে। গতকালের ঝড়ে গুলশান-১ এর দুর্ঘটনা ইশারামাত্র। শুধু তা না, হাইওয়েতে বাঁকে বাঁকে আধা-আবৃত তরুনীর ঢাউশ ছবি। সাবান, মোবাইল সীম, শ্যাম্পু ও নানান বস্তুর সাথে লেপ্টে দেয়া হয়েছে অপ্রাসংগিক উদ্বত নারীদেহ, যা উস্কানি বৈ কিছুই না। ড্রাইভারদের মনোসংযোগ নস্টের জন্য এসব যথেস্ট। উৎপাত শুরু হয়েছে তীব্র শব্দ ও আলোক ঝলকানির লার্জ ওভারহেড লাইভ স্ক্রীনের। মাইকিং তো ছিল আগ থেকে, রয়েছেও।
বলা হচ্ছে ফেয়ার এন্ড লাভলী মাখলে চাকরি হবে, বিয়ে হবে, খ্যাতি হবে; লাক্স মাখলে তারকা হওয়া যাবে; বিস্কুট বিশেষ খেলে গাড়ী আলগানো যাবে; ফ্রুটিকা খেলে সত্যবাদী হবে; হরলিকস খেলে লম্বা মেধাবী, বলবান ও লম্বা হবে আরো কত কি হওয়া যাবে! যার যা খুশি বয়ান করে যাবতীয় অখাদ্য কুখাদ্যের পসরা সাজিয়ে গোটা পরিবেশটাই কলুষিত করে ফেলেছে।
বহুল প্রচারিত এসব পণ্যের বেশীরভাগই হয় ক্ষতিকর নয় বেহুদা। পন্যের বিজ্ঞাপনের বক্তব্য বেশীরভাগই মানহানিকর, মানবতাবিরোধী, হাস্যকর ও ফালতু বটে! সনাতন মঘাইউনানীর লিঙ্গদৃঢ়কারী লতাপাতা, সিরাপ, মলমের বিজ্ঞাপনের সাথে সাবান, তেল, আটা, টুথপেস্ট, সীম, ফ্ল্যাট, জুতা, বিস্কুট বিক্রয়বর্ধনকারী এসব বিজ্ঞাপনের অন্তর্গত কোনো পার্থক্য নেই। তাদের উৎপাত ফুটপাতের জটলার বৃত্তে সীমাবদ্ধ ছিল। অধুনাদের উৎপাত সর্বত্র। সমাজে তারা সম্মানিতও বটে!
যেন তেন প্রকারে মানুষকে নানান বস্তু গছিয়ে দেয়ার এ সার্বিক আয়োজন এক ধরনের সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। তা মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি হানি ঘটাচ্ছে, প্রতারণা করছে অহরহ। বেড়ায় খেত খাবে জানি, তবু বলব- সরকারের উচিৎ এ ব্যাপারে একটা কঠোর গাইডলাইন বানানো। কিছুটা হলেও যা আছে ঔষধ ক্ষেত্রে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



