somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Moody ও Standard & Poor: ভাল ভাল রেটিং 'ফুসলিয়ে' ঋন বিতরনের কোন আন্তর্জাতিক ধান্ধা নয়তো। সাধু সাবধান!

১৩ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত পরশু Moody ও গেল সপ্তাহে Standard & Poor নামে দুটি সংস্থা রাস্ট্র বাংলাদেশকে দুটি রেটিং দিয়েছে। কেউ কেউ আনন্দবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, আর আমজনতা আছে মিশ্র অনুভুতি নিয়ে। অধম এ বাংগাল একটি আর্থিক সংস্থায় কাজ করে ভাত খাই বিধায় কিছু অনুভুতি ব্যক্ত করার লোভ সামলাতে পারছিনা।
রেটিং দেয়া হয়েছে 'ঋন ফেরৎ দেয়ার সক্ষমতা'র উপর। দেশে CRISL, CRAB নামে দুটি সংস্থার নাম আমরা শুনি যারা বিভিন্ন বড় আকারের প্রটিস্ঠানের ক্রেডিট রেটিং দেয়। আর ব্যাংক, লিজিং, বীমা বা অপরাপর প্রতিস্ঠান গুলো ভাল (AA etc.) রেটিং পেলে বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে তা প্রচার করে। যাতে খুচরা ডিপোজিটরেরা তাদের কাছে আমানত রাখে বা ব্যাংক গুলো আগ্রহ সহকারে তাদেরকে ঋন দেয়। কিছু ফি এর বিনিময়ে উপরোক্ত রেটিং এজেন্সি গুলো গ্রাহক ফার্ম এর কয়েক বছরের আর্থিক ও সামাজিক তথ্য বিশ্লেষন করে এ ধরনের রেটিং দাড় করায়।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাংলাদেশ বন্ড বা ভিন্ন কোন ফর্মে ঋন নিলে তা ফেরৎ দিতে 'কত ভাল' সক্ষম তাই হল এসব রেটিংয়ের মাজেজা। আমরা ঋন নিয়ে ফেরৎ দিয়েছি, সামনেও দিতে পারব- এটুকু উপসংহার অবশ্যই জাতি হিসেবে আনন্দের। কিন্তু এর চেয়ে বেশী কিছু না এসব রেটিং। এবং তা মোটেও ধেই ধেই করে নাচার মত কিছু না, যেমনটা কোন কোন সংবাদ মাধ্যম করে।
কারন পরিস্কার। 'ঋন নিয়ে যথা সময়ে ফেরৎ' দানের সক্ষমতা একটি দেশের শত সূচকের একটি। বাকি গুলোর কি দশা তাও দেখতে হবে। যেমনটি একটি সাবান কোম্পানির ক্রেডিং রেটিং 'AAA' হলেই বুঝা যায়না যে ঐ কোম্পানির দারোয়ানটি পেট ভরে ভাত খেতে পারছে বা তার ঘুমানোর একটু বন্দোবস্ত আছে বা তার বা তাদের মত শ্রমিকরা ঐ কোম্পানিতে নূন্যতম মানবিক কায়দায় মলমুত্র ত্যাগ করতে পারে!

গরীব রাস্ট্র বলে বহুল প্রচারিত হলেও আমি একথা মানতে নারাজ যে বাংলাদেশ সে রকম কোন রাস্ট্র! খোলাসা করে বললে, অর্থ বাংলাদেশের ১টি সমস্যা তবে ১ নং সমস্যা না, ২ নং ও না! ব্যবস্থাপনা ও সততার অভাবই মূল সমস্যা। প্রমান হিসেবে দেখতে পারেন ADP বাস্তবায়নের হার। অর্ধেক বছর শেষে দেখা যায় ২০% এডিপি, আর বছর শেষে হুড়ো হুড়ি করে খোড়াখুঁড়ি! এদেশে প্রকল্পের টাকা ফেরৎ যাওয়ার নজীরও কম না! বলা হয়, সরকারী যন্ত্র শ্লথ। চুরিটাও এফিসিয়েন্টলি করতে পারেনা!! যাহোক যেটুকু এডিপি বাস্তবায়িত হয় তার সিংহভাগই যে মন্ত্রি, আমলা, স্থানীয় রাজনৈতিক, টাউট বাটপার, ঠিকাদারের পেটে যায় তা বলাই বাহুল্য। পরিস্থিতি ভিন্নতর হলে আমরা এরকম থাকতামনা।

আসি টাকার ইনফ্লোতে। কর, মূসক, শুল্ক, ফি আর মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিস্ঠানের লভ্যাংশ (যদি হয়!!) এ ৫টি হল সরকারের আয়ের উৎস। বিসিএস (কর) ও বিসিএস (কাস্টমস) কে চোরের খনি বলা কি বেশী হবে? ট্যাক্স না দেয়ার জন্যই এদেশে 'আয়কর আইনজীবি' নামে রীতিমত একটা 'ভুয়া আইনজীবি' গোত্র গড়ে উঠেছে। প্রতিটি কর অফিসে তাদের সমিতিকে কক্ষও বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে! মাল্টিন্যাশনাল কিছু কম্পানি আর ব্যাংকারদের বেতন থেকে উৎসে কর কর্তন করা হয় বলেই কিছু আয়কর পাওয়া যায়! এর বাইরে ব্যবসায়ী, ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলি, মাওলানা, শিল্পী ইত্যাদি গোত্রের মানুষরা কি এক কায়দায় কোটি কোটি টাকা আয়কে যাদুকরী উপায়ে গোপন করে, নেহায়েৎ মিসকীন সেজে ২০০০ টাকা ট্যাক্স সরকারকে ধরিয়ে দেয়!

শেয়ার বাজারে অখ্যাত অজ্ঞাত কোনো কম্পানি আইপিও ছাড়লে দেখা যায় টাকার স্রোত এদেশে কত প্রবল। ১ লট শেয়ারের বিপরীতে ২০/২২ জন কমন চিত্র। আর প্রতিদিনকার লেনদেন দেখেও খানিকটা আচঁ করা যায় এ দেশ টাকার খনি।

সমস্যা হল টাকা গুলো বড্ড বেইনসাফী ভাবে বন্টিত। শতকরা ৯০ ভাগ টাকা মাত্র ১০ ভাগ মানুষের কাছে আর ১০ ভাগ টাকা ৯০ ভাগ মানুষের কাছে! তাই কোটি বনী আদম খেতে পায়না, ঘুমাতে পায়না, ঔষধ কিনতে পারেনা, মলমুত্র ত্যাগ করতে পারেনা, শীতে কম্বল পায়না। মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি ও মূর্খ ব্যবস্থাপনা জন্ম দিয়েছে চরম বৈষম্যভরা বাংলাদেশের। তাই পানি ভরা এদেশে পানির আকাল, কয়লা ও গ্যাস ভরা এদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের আকাল। অর্থ এ দেশে সমস্যা না। তাই ভাল রেটিং 'পেয়ে' গদগদ ভক্তিতে আইএমএফ বা এডিবি থেকে মোটা অংকের ঋন পাওয়ার বিরাট 'যোগ্যতা' আমাদের নেহায়েত অ-দরকারী। আমার আশংকা হয় এসব ভাল ভাল রেটিং 'ফুসলিয়ে' ঋন বিতরনের কোন আন্তর্জাতিক ধান্ধা নয়তো। সাধু সাবধান!
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×