ডিসি সাহেব। সাবেক মহকুমা এস ডি ও। লাট সাহেবের খাস বরকন্দাজ। সংশ্লিস্ট জেলার রাজাধিরাজ। ছোট জেলা শহর গুলোতে ওনার অফিস আর বাসভবনেই শহরের অর্ধেকটা চলে যায়। নিজস্ব চ্যানেল না থাকলে জনাবের সাথে কোন জেলাবাসীর দেখা করতে অন্তত: ৩ টা বেস্টনী পেরুতে হবে। সহকারী কমিশনার (গোপনীয়), কেরানী পর্যায়ের জনৈক ও ৪র্থ শ্রেনীর আর্দালী। তারপর যথেস্ট ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা। জেলার শত শত কমিটির উনি প্রধান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, আইনশৃংখলা হেন কোন সরকারী কাজ-কারবার নাই যেটার উনি জেলাধিরাজ নন। কারন হিসেবে যেটা জানা গেছে তা হল- সংশ্লিস্ট বিভাগগুলোর ব্যাপক মাত্রায় অদক্ষতা ও চুরি। যেমন- প্রাইমারী স্কুলের মাস্টার নিয়োগের কাজটা বর্তায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্তার উপর। কিন্তু তারা নাকি চোর। সুতরাং ডিসি সাহেবকেই 'সাধু' প্রক্রিয়ায় তা করতে হয়। আইন শৃংখলার কাজ এস পির ঘাড়ে। কিন্তু লোকে বলে, এস পি, ওসি আর চোরাকারবারী একসাথে 'ডাইল' খায়! জনপ্রশাসনের ২৮টি ক্যাডারই গোল্লায় গেছে, যৎসামান্য দেশপ্রেম, যোগ্যতা ও সততা অবশিস্ঠ আছে এ (বি সি এস) প্রশাসনে। সুতরাং হারাধনের এ একটি ছেলে দিয়েই ছেড়াঁ খেতা জোড়া দেয়া বা জাহাজ নির্মান সবই চলছে।
আমি প্রশাসনের লোক নই। পান্তা মরিচ খাওয়া আমজনতা। পারতপক্ষে সরকারী অফিসের দেয়াল ঘেষেঁও চলিনা। পাছে 'বখশিস, খরচা' চেয়ে বসে। ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে বছরে একবার আয়কর অফিসে যাই, শুদ্ধ করে বললে- যেতে হয়। এবং বলাবাহুল্য খুবই ন্যাক্কারজনক অভিজ্ঞতা। অন্যসব সরকারী ভবনে মানুষ সরকারী ভর্তুকীর টাকা খরছ করতে যায় (যেমন- হাসপাতাল) আর এ ভবনে যায় ঘাম ঝরিয়ে অর্জিত আয় থেকে হিস্যা দিতে। সুতরাং- এখানে একজন মানুষ 'জামাই আদর' না হোক 'জামাইর ভাই-বেরাদর' পর্যায়ের আদর আশা করতেই পারে। আমিতো মনে করি, ১৫ কোটি মানুষের দেশে যে ৭ লক্ষ লোক (০.৪৬%) ট্যাক্স দিচ্ছে (অন্তত: ২০০০ টাকা হলেও) তাদের সবাই কর অফিসে ভি আই পি মেহমানদারী পাওয়া উচিত। তাদের জন্য এসি ওয়েটিং রুম, বসার সোফা, চা নাস্তা, অপেক্ষাকালীন সময় বিনোদন হিসেব টিভি, পত্রিকার ব্যবস্থা থাকা মিনিমাম চাহিদা। কর-কমিশনার ও অধিনস্ত চাপরাশিদের উচিত তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক ব্যবহার করা। কিন্তু যে অভিজ্ঞতা আমার হচ্ছে তাতে ওখানে থুথু ফেলতেও যাব কিনা সে চিন্তায় আছি।
যাহোক উপ-সচিব পর্যায়ের ডিসি সাহেবরা সরকারী চাকুরীতে বাহ্যিক যে শান-শওকত উপভোগ করেন তা ঈর্ষা জোগাতেই পারে। তবে ক্ষমতাধর এ প্রশাসন এখন চড়থাপ্পড় মারধর খাচ্ছে এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ হওয়ার কারনে ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবর্তে মনপুরায় বদলি হচ্ছে।
চেনাজানা জনৈক উচ্চমাধ্যমিক স্ট্যান্ড করা ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কি হতে চায় সামনে। বলেছিল-বিচারক। কারন কি? কোন মানুষ নয় বরং বিবেকের কাছে দায়বব্ধ থেকে কাজ করব। সে ছাত্রী এখন সত্যিই বিচারক। অবাক হই এসব বিচারালয়েই চাহিবামাত্র রিমান্ড দেয়া হচ্ছে। কেননা, মামলার আই ও বলছেন- আসামীর কাছে জেহাদী পুস্তক (!) পাওয়া গেছে বা তার গতিবিধি সন্দেহজনক (!) বা তিনি চক্রান্ত করছেন!! আইনমন্ত্রীর 'জোঁ হুকুম' জজআদালতের এ চিত্র থেকে মোটেই ভিন্ন কিছু নয় 'সিনিয়র আদালত।' শতভাগ 'গোলামি' না করার কারনে 'সংবিধান লংঘনকারী' তকমা নিয়ে শেষ করতে হল কর্মজীবনের শেষ দিন, ৬৭ বছরের বয়োবৃদ্ধ প্রধানবিচারপতিকে।
এদিকে সুযোগবুঝে পরিচালক পদের স্বজাতি মহিলা কুটনীতিকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন আরেকজন। তাও আবার বনবাদাড়ে পিকনিকের ফাঁকে নয়, রাস্ট্রীয় আয়োজনে পাঁচতারা হোটেলে অতিথি হিসেবে অবস্থান করাকালীন।
উপরের তিনটি বর্ননায় শারীরিক ও কথ্য হামলার শিকার হয়েছেন ঘাগু আমলা, প্রধান বিচারপতি ও সিনিয়র কুটনীতিক। সাধারন মানুষের পক্ষে এ পদ-পদবীর লোকদের টিকির নাগাল পাওয়াও দুস্তর। মানুষ চিন্তাও করতে পারেনা এদের সাথে এ কারবার করা যায়। তাহলে কি কৈরা এসব হল। সুতরাং আসুন জেনে নিই হামলাকারীদের পরিচয়।
এদের একদলের সুনির্দিস্ট কোন পেশা নেই, নেই শিক্ষাও। শহুরে ছন্নছাড়া যুবকশ্রেনী। আরেকজন প্রবীন আইনজীবি, বর্তমানে এটর্নী জেনারেল। আরেকজনের পেশা ঝাপসা। বোধ করি ঝাপটাপার্টি। তাহলে এরা এত সাহস কোথা থেকে পেল??
কারন- এরা সবাই আওয়ামীলীগ। ছাত্র, যুব, উকিল বা বিবিধ লীগ হিসেবেই উনাদেরকে পত্র-পত্রিকায় পরিচয় দান করা হচ্ছে। মোটামুটি এটাই সত্যি।
এবং এটাই আওয়ামীলীগ। দু:খটা এক জায়গাতেই এরপরও একশ্রেনীর 'মতলববাজ' ও 'অন্ধ দলবাজ' সাধু কিছিমের লোক পাওয়া যায় যারা চান্স পেলেই টিভি, পেপার বা ইন্টারনেটে এহেন জঘন্য পরিত্যাজ্য চরম জনহানিকর মতবাদ/দলটির পক্ষে মিউ মিউ বা ঘেউ ঘেউ করে চেঁচামেচি করতে থাকেন। এদের জন্য শত ঘৃণা!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


