বিশদ আলোচনায় না গিয়ে একথা মোদ্দাভাবে বলা যায়, বাঙ্গালীর নিজস্ব কোন ধর্ম কিংবা সংস্কৃতি কোনোকালেই ছিলনা, বা এখনো নাই। বরং শাসক বা তদীয় শ্রেনীর ধর্মকেই এ এলাকার জনগোস্টি নিজেদের ধর্ম বলে জ্ঞান করেছে, আর তাদের গানা-নাচার সাথে হ্যাংলামীপূর্নভাবে হামিং করাকে উত্তম সংস্কৃতি ভেবেছে। তাই গত ২০০০ বছরে তারা যথাক্রমে নিম্নবর্নের হিন্দু, বৌদ্ধ, আবার হিন্দু ও সর্বশেষে মুসলিম হয়েছে। সর্বশেষ মুসলিম হওয়ার জাতিগত বয়স প্রায় ১০০০ বছর হলেও এখনও এদের ৯০% সুরা ফাতিহার অর্থ পারবে কিনা সন্দেহ! ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ কুরআনের অর্থপাঠের কথা বাকী থাক। বেশীরভাগ মুসলিম ৬টি হাদীস গ্রন্থের নামও বলতে পারবেনা। তাদের ধর্মবোধ প্রধানত: জন্মসুত্রে প্রাপ্ত কিছু রীতিনীতি, লৌকিক কিছু কল্পকাহিনী ও সাপ্তাহিক/বার্ষিক রেওয়াজ-রসমের মধ্যে সীমাবব্ধ। বিপরীতে মিথ্যা, ওয়াদাখেলাপ, ঘুষ, সুদ, পরচর্চা, গীবত পূর্ন ও প্রতিবেশী, আত্নীয় ও অন্যদের প্রতি নূন্যতম মানবিক সহায়তা বর্জিত ইসলামের বা অন্যান্য ধর্মেরও মৌলিক স্পিরিট নিত্যদিনের বাঙ্গালীজীবনচিত্রে তেমন পাওয়া যায়না।
আসি সাংস্কৃতিক বাঙালীপনার ব্যাপারে। নৃতাত্ত্বিকভাবে আসাম, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত এ মানব জাতটি গোড়া থেকেই দুর্বল, ভীরু, কাপুরুষ ও পরনির্ভর স্বভাবের। সুলেখক মরহুম হুমায়ন আজাদ, আহমদ ছফা ও জীবিত শ্রদ্ধাভাজন স্যার সিরাজুল ইসলাম এব্যাপারে অনেক সুপাঠ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেছেন যা ঢাকার বাজারে পাওয়া যায়। এ অধম তার কণাতুল্য কিছুও লিখতে পারবেনা। জাতটির দুর্বলপনার প্রধানতম প্রমাণ হল কখনোই কোন দেশ বা অঞ্চল বা সমুদ্র অভিযানে বের না হওয়া! আরব, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডের মানুষ জলে স্থলে অন্তরীক্ষে কোথায় যায়নি! অথচ বাঙ্গালীর অভিযান শরৎচন্দ্রের রেঙ্গুনের চাকরী পর্যন্তই! অভিযান না হয় বাদ দিলাম, আত্নরক্ষার ব্যাপারেও তাদের ইতিহাস লজ্জার। হাজার মাইল দুরের কতিপয় পাকিস্তানী, ব্রিটিশ, আফগান বা তুর্কি অনায়াসে দেশটা দখল করেছে। যে পরিমাণ লোক এসব "পরাজয়" দেখেছে তারা একটি করে ঢিল ছুড়লেও হানাদাররা সাহস পেতনা। তবে গোড়ার গলদ হল, তারা স্বজাতী দু:শাসকের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও না করে ভিনদেশীর হাতে তার পরাজয় দেখে সাময়িক "তৃপ্তির" ঢেকুর তোলা। অথচ ক্ষীনদেহী কৃষক-তাতীঁ-জেলে একবার এক হলে বাংলায় স্বৈরশাসন কায়েম হতনা!
যাহোক রাজনৈতিক পরাজয়ের কারণে বাঙ্গালি সংস্কৃতি বলতে শক্ত কিছু বাঙ্গালী মননে কিংবা জননে বাসা বাঁধেনি। জারি, সারি, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, লালন মোটাদাগেই দু:খ-বিরহ গাঁথা "গেঁয়ো" বা "একাডেমিক" সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। যার স্থান টেলিভিশনে পিক আওয়ারে নাই। আর মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে হেঁড়ে গলায় রবীন্দ্রসংগীত চর্চা "মালাউনি আঁতলামী" বলেই খ্যাতি পেয়েছে। অ-হিন্দু ও হিন্দু আশ্রিত এ দুটি সরু বাঙ্গালী জলধারাকে ছাপিয়ে "সামর্থ্যবান" প্রতিবেশীর সংস্কৃতিই মৌলিক ও প্রধানধারা হিসেবে স্থান পেয়েছে। তা কারও ভাল লাগুক বা না লাগুক! অর্থাৎ, আগারগাঁও বস্তির বুয়া শ্যামলীর গৃহকর্ত্রীর শাড়ি চুরি করছেন, শ্যামলীর ভাবি তা কিনেছেন লালমাটিয়ার খালার পছন্দে, খালা তা দেখেছেন ধানমন্ডির বোনের পরনে আর ধানমন্ডির ভগিনী তা স্টার প্লাসের সিরিয়াল দেখে কর্তাকে দিয়ে একেবারে মুম্বাই থেকে আনিয়েছেন! মুম্বাইর ফ্যাশন ডিজাইনাররা ও কাজে অকাজে প্যারিস বা নিউইয়র্ক না গেলে ষোলোকলা পূর্ন হচ্ছেনা।
আরো পরিস্কারকরে বলতে গেলে, প্রায়োগিকভাবে বাঙ্গালীজীবনে খেলাধুলা, বিনোদন ও সংস্কৃতির কোনো উদাহরন নেই। গ্রামের কথাই ধরুন। দিনভর মাঠে কৃষি কাজ করে সন্ধ্যা বেলায় হাঁটের চা দোকানে বিড়ি ফুঁকা ও গল্পগুজব করা পুরুষ-গ্রামীণ জীবনের একমাত্র অনুষঙ্গ। তাদের সহধর্মীনিদের কপালে তাও জোটেনা! আর একই সময়ে শহুরে পুরুষেরা সোফায় আধশোয়া হয়ে একের পর এক চ্যানেল টিপতে থাকেন ও কোনো একটি টকশোতে স্থির হন। সহধর্মীনির ইহলোকতো ঘুরে ফিরে হেঁসেলেই। কি মেট্রিক, কি বৈজ্ঞানিক!!
সুতরাং 'ধর্ম' ও 'সংস্কৃতি' বলতে হারানোর মত কিছু 'ভাগ্যবান' বাঙ্গালীর আস্তিনে বাস্তবেই নাই। তবুও মাঝে-মধ্যে তা নিয়ে 'গেল গেল' রব উঠে! হয়তো নপুংসক পুরুষেরও সপ্নে লিঙ্গোল্থান হয় বা হতে পারে!!
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



