somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙ্গালীর ধর্ম ও সংস্কৃতিবোধ!!!!!!!!!!!!!!

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বাংলাদেশের নানান মিডিয়া প্রায়শ:ই কথিত ও কাল্পনিক এ বোধটি নিয়ে জেগে উঠে। নানান রংয়ে, নানান ঢংয়ে "হাজার বছরের বাঙ্গালী ঐতিহ্য" কিংবা "ধর্মীয় মূল্যবোধ" নামক সাধারনের দুর্বোধ্য বিবিধ সাময়িক স্পর্শকাতর বস্তূসমূহ "গেল গেল" বলে রব উঠায়। হালে আওয়ামী, জাতে মুসলীমলীগ ইনকিলাব নামক পত্রিকাটি এহেন "গেল গেল" কোরাশের সম্ভবত: জনক ছিল। যাহোক ভালবাসাদিবস, ৩১শে ডিসেম্বর রাত, ১লা বৈশাখ এ ধরনের কিছু দিনে বা হঠাৎ করে মাঝে মধ্যে ভারতের কোন শিল্পী এদেশে নাচগান করতে এলে এ চুলকানি ব্যারাম দেখা দেয়!;)

বিশদ আলোচনায় না গিয়ে একথা মোদ্দাভাবে বলা যায়, বাঙ্গালীর নিজস্ব কোন ধর্ম কিংবা সংস্কৃতি কোনোকালেই ছিলনা, বা এখনো নাই। বরং শাসক বা তদীয় শ্রেনীর ধর্মকেই এ এলাকার জনগোস্টি নিজেদের ধর্ম বলে জ্ঞান করেছে, আর তাদের গানা-নাচার সাথে হ্যাংলামীপূর্নভাবে হামিং করাকে উত্তম সংস্কৃতি ভেবেছে। তাই গত ২০০০ বছরে তারা যথাক্রমে নিম্নবর্নের হিন্দু, বৌদ্ধ, আবার হিন্দু ও সর্বশেষে মুসলিম হয়েছে। সর্বশেষ মুসলিম হওয়ার জাতিগত বয়স প্রায় ১০০০ বছর হলেও এখনও এদের ৯০% সুরা ফাতিহার অর্থ পারবে কিনা সন্দেহ! ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ কুরআনের অর্থপাঠের কথা বাকী থাক। বেশীরভাগ মুসলিম ৬টি হাদীস গ্রন্থের নামও বলতে পারবেনা। তাদের ধর্মবোধ প্রধানত: জন্মসুত্রে প্রাপ্ত কিছু রীতিনীতি, লৌকিক কিছু কল্পকাহিনী ও সাপ্তাহিক/বার্ষিক রেওয়াজ-রসমের মধ্যে সীমাবব্ধ। বিপরীতে মিথ্যা, ওয়াদাখেলাপ, ঘুষ, সুদ, পরচর্চা, গীবত পূর্ন ও প্রতিবেশী, আত্নীয় ও অন্যদের প্রতি নূন্যতম মানবিক সহায়তা বর্জিত ইসলামের বা অন্যান্য ধর্মেরও মৌলিক স্পিরিট নিত্যদিনের বাঙ্গালীজীবনচিত্রে তেমন পাওয়া যায়না।

আসি সাংস্কৃতিক বাঙালীপনার ব্যাপারে। নৃতাত্ত্বিকভাবে আসাম, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত এ মানব জাতটি গোড়া থেকেই দুর্বল, ভীরু, কাপুরুষ ও পরনির্ভর স্বভাবের। সুলেখক মরহুম হুমায়ন আজাদ, আহমদ ছফা ও জীবিত শ্রদ্ধাভাজন স্যার সিরাজুল ইসলাম এব্যাপারে অনেক সুপাঠ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেছেন যা ঢাকার বাজারে পাওয়া যায়। এ অধম তার কণাতুল্য কিছুও লিখতে পারবেনা। জাতটির দুর্বলপনার প্রধানতম প্রমাণ হল কখনোই কোন দেশ বা অঞ্চল বা সমুদ্র অভিযানে বের না হওয়া! আরব, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডের মানুষ জলে স্থলে অন্তরীক্ষে কোথায় যায়নি! অথচ বাঙ্গালীর অভিযান শরৎচন্দ্রের রেঙ্গুনের চাকরী পর্যন্তই! অভিযান না হয় বাদ দিলাম, আত্নরক্ষার ব্যাপারেও তাদের ইতিহাস লজ্জার। হাজার মাইল দুরের কতিপয় পাকিস্তানী, ব্রিটিশ, আফগান বা তুর্কি অনায়াসে দেশটা দখল করেছে। যে পরিমাণ লোক এসব "পরাজয়" দেখেছে তারা একটি করে ঢিল ছুড়লেও হানাদাররা সাহস পেতনা। তবে গোড়ার গলদ হল, তারা স্বজাতী দু:শাসকের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও না করে ভিনদেশীর হাতে তার পরাজয় দেখে সাময়িক "তৃপ্তির" ঢেকুর তোলা। অথচ ক্ষীনদেহী কৃষক-তাতীঁ-জেলে একবার এক হলে বাংলায় স্বৈরশাসন কায়েম হতনা!
যাহোক রাজনৈতিক পরাজয়ের কারণে বাঙ্গালি সংস্কৃতি বলতে শক্ত কিছু বাঙ্গালী মননে কিংবা জননে বাসা বাঁধেনি। জারি, সারি, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, লালন মোটাদাগেই দু:খ-বিরহ গাঁথা "গেঁয়ো" বা "একাডেমিক" সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। যার স্থান টেলিভিশনে পিক আওয়ারে নাই। আর মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে হেঁড়ে গলায় রবীন্দ্রসংগীত চর্চা "মালাউনি আঁতলামী" বলেই খ্যাতি পেয়েছে। অ-হিন্দু ও হিন্দু আশ্রিত এ দুটি সরু বাঙ্গালী জলধারাকে ছাপিয়ে "সামর্থ্যবান" প্রতিবেশীর সংস্কৃতিই মৌলিক ও প্রধানধারা হিসেবে স্থান পেয়েছে। তা কারও ভাল লাগুক বা না লাগুক! অর্থাৎ, আগারগাঁও বস্তির বুয়া শ্যামলীর গৃহকর্ত্রীর শাড়ি চুরি করছেন, শ্যামলীর ভাবি তা কিনেছেন লালমাটিয়ার খালার পছন্দে, খালা তা দেখেছেন ধানমন্ডির বোনের পরনে আর ধানমন্ডির ভগিনী তা স্টার প্লাসের সিরিয়াল দেখে কর্তাকে দিয়ে একেবারে মুম্বাই থেকে আনিয়েছেন! মুম্বাইর ফ্যাশন ডিজাইনাররা ও কাজে অকাজে প্যারিস বা নিউইয়র্ক না গেলে ষোলোকলা পূর্ন হচ্ছেনা।

আরো পরিস্কারকরে বলতে গেলে, প্রায়োগিকভাবে বাঙ্গালীজীবনে খেলাধুলা, বিনোদন ও সংস্কৃতির কোনো উদাহরন নেই। গ্রামের কথাই ধরুন। দিনভর মাঠে কৃষি কাজ করে সন্ধ্যা বেলায় হাঁটের চা দোকানে বিড়ি ফুঁকা ও গল্পগুজব করা পুরুষ-গ্রামীণ জীবনের একমাত্র অনুষঙ্গ। তাদের সহধর্মীনিদের কপালে তাও জোটেনা! আর একই সময়ে শহুরে পুরুষেরা সোফায় আধশোয়া হয়ে একের পর এক চ্যানেল টিপতে থাকেন ও কোনো একটি টকশোতে স্থির হন। সহধর্মীনির ইহলোকতো ঘুরে ফিরে হেঁসেলেই। কি মেট্রিক, কি বৈজ্ঞানিক!!

সুতরাং 'ধর্ম' ও 'সংস্কৃতি' বলতে হারানোর মত কিছু 'ভাগ্যবান' বাঙ্গালীর আস্তিনে বাস্তবেই নাই। তবুও মাঝে-মধ্যে তা নিয়ে 'গেল গেল' রব উঠে! হয়তো নপুংসক পুরুষেরও সপ্নে লিঙ্গোল্থান হয় বা হতে পারে!!:P
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:১৯
১৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×