somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিডিয়া কন্যাদের জীবনচক্র

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
শৈশব
কন্যারা মিডিয়ায় ঢুকার বেশ কয়েকটি রাস্তা আছে। কচিকাচাকাল থেকেই অনেকে ঢুকে পড়ে। বিটিভির নতুনকুঁড়ি একসময় বড়সড় দরজা ছিল। ঈশিতা, তারিন এরা ঐপথেই এসেছে। আবার তেমন কিছু ছাড়াও। যেমন- দীঘি। তবে কচিকালের শিশুতোষ কাজের পরপরই দীর্ঘ বিরতী টানতে হয়। এবং বিরতী শেষে সবার কপালে আর তা জোটেনা। যেমন- মিমের কপালে তেমন সাড়া জুটছেনা। তাই হাইস্কুল শেষ হতে না হতেই আবার ঘষামাজা শুরু!

উল্থান
এদিকে তাকিয়ে, ওদিকে ঘাড় বাঁকা করে, নানান রংয়ে, নানান ঢংয়ে, নানান বসনে ৩আর সাইজের ছবি নিয়ে এদিক ওদিক দৌড়াদৌড়ি। বাজারে চলার মত চামড়া, মাংস, উচ্চতা, যৎকিঞ্চিৎ চেহারা আর বাকশক্তি। সাথে পর্যাপ্ত তদবির করলে ইন্টারমিডিয়েটই ডাক পড়ে যেতে পাড়ে মহাআরাধ্য ফটোসেশনের। এ হাউজ সে হাউজ ঘুরে শেষ অবধি ছবি উঠে যেতে পারে কোন বিলবোর্ড, পোস্টার বা পত্রিকার পাতায়। বাজারে কান পাতলে শুনা যায় এ পর্যায়ে নাকি অনেক কন্যাকে বিবিধ আবদার মেটাতে হয়। বিশেষ করে নামকরা অনেক বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও তার চ্যালাচামুন্ডারা টিভিসিতে ব্রেক দেয়ার জন্য হার্ড বার্গেইন করে! কারো পয়লা কারো বা তেসরা বিজ্ঞাপনে মাঠে 'সাড়া' পড়ে। যেমন- প্রভার মেরিল সাবানেই সাড়া পড়েছিল, মোনালিসার লিলি সোপে। দুটির ১টি সাবান বিলুপ্ত আরেকটি নিভু নিভু- যদিও তাদের ভাগ্যের দুয়ার এরপরই খুলে যায়। তবে অনেক কসরত করে লাইমলাইটে এসেছে সারিকা। অনেকগুলো কাজ করলেও বাংলালিংক প্রযোজিত নর্তন কুর্দনের পরই তাকে জাতি চেনে। তেমনি আরেকজন- নাফিসা বা শখ। তবে নেহায়েৎ ভাগ্যচক্রে পড়ে মডেল হয়েছে বীথি (গ্রামীনফোন- কই রৈলারে বন্ধু)। ইদানীং ইউনিলিভারের লাক্স-চ্যানেলআই চামড়া প্রতিযোগিতার কল্যানে প্রতিবছরই গোটা দশেক কন্যা এ বাজারে ইজিগোয়িং মেথডে ঢুকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে! মেহজাবিন, বিন্দু, মম, বাঁধন, মুনমুন এদের প্রকৃস্ট উদাহরন। তবে বুড়া বয়সে মিডিয়ায় ঢুকে ফাটিয়ে দিয়েছেন ১ কন্যার জননী (স্বামীর ব্যাপারে তার বক্তব্য ঝাপসা), খানিকটা মুটকী, নওশিন। যাহোক মোটামুটি ১৭-২০ বছর বয়সেই যার কপালে আছে তার নাম ফেটে যায়। খেলা শুরু হয় তারপর। টিভি খুললেই রক্ষে ভগবান।

অত্যাচার
তেল ডাল আটা ঢেউটিন সাবান সোডার সাথে নিজের ছবি বা নৃত্য দেখানোর সীমিত কলা, মডেলিংয়ের মাঝেই তারা আর বন্দী থাকতে চাননা। আর ঘড়েল নির্মাতারাও কদর বুঝেন। কাহিনীর বালাই ষাট। লাইট, ক্যামেরা, একশন! কন্যারা হয়ে যান অভিনেত্রী, চিত্রকর, কন্ঠশিল্পী, উপস্থাপক, রাঁধুনী, আবৃত্তিকার, লেখিকা আরো কত কি! রদ্দিমার্কা একখানা বাংলা ছবি করলেই নাকি এ যাত্রায় কেবল পূর্নতা পায়। যদিও পয়লা পয়লা অনেকে তাতে নাক সিঁটকায়। অযোগ্য অপদার্থ এসব অভিনয়কন্যাদের প্রকৃস্ট উদাহরন (বুড়ী থেকে ছুড়ী)- মৌসুমী, রোমানা, রিয়া, মম, মোনালিসা, শখ, বিন্দু ও লেটেস্ট সারিকা। সর্বশেষ কন্যাটির অভিনয় অত্যাচার এককথায় নির্মম!!

পতন বা নিভতে নিভতে ফুস
তুঙ্গে থাকার সময় তাদের কথার তুবড়িতে টেলিভিশনের সামনে বসা দায়। কত কথা বলে রে! এ কথা সে কথা এ কাজ সে কাজ। তারপর আচমকা ফাঁস হয় থলের বিড়াল বা ফেঁসে যান অজান্তে। অনেকে। পুরাকালের শমীর কথা মনে পড়ে। ৭ কোটি পুরুষে তার কুলোয়নি। কোথাকার কোন রিংগু না ফিংগু- বুড়ো ঘটি! তারিন বাড়ি ছেড়ে পালাল আমজাদ হোসেনের বলদ মার্কা ছেলের সাথে। মাস না পেরুতেই...। রোমানার মনে ধরল আনজাম নামে এক সন্ত্রাসীকে। অপিকে অনেকে মেধাবী ভাবত। ওমা ধ্বজ এসোসিয়েট প্রফেসরের সাথে তার শুভ পরিণয়। এখন শুনছি অন্যকথা। আর লেটেস্ট প্রভার ধরা খাওয়ার কাহিনী লিখে মাইনাচ খাইতে চাইনা! তবে নীরবেও অনেকের 'গ্ল্যামার ম্লান' হয়ে যায়। বিপাশা হায়াত, মৌ, তানিয়া।

বুড়ীর খ্যামটা নাচ অথবা বিচারপতি
প্রাকৃতিক ও সামাজিক কারনেই ৩০এর পর এদেশে চামড়া ব্যবসা আর বিকোয়না। তবুও ৪৫এ গিয়েও একশ্রেনীর বুড়ী খ্যামটা নাচ দিতে থাকেন। অথার্থ বিচারপতি, গরু, মহাগরু ইত্যাদি পেশায় জড়িয়ে পড়েন। এহেন বুড়ী সমিতির যোগ্য সভানেত্রী হতে পারেন সুবর্না। একথাল মাংসের দলাসর্বস্ব এ মহিলা এখনো জাতির প্রায় সবমহিলার খুতঁ ধরে বেড়ান। তোমার ঠ্যাংটা এভাবে মোচড় দেয়া ঠিক হয়নি এসব অবোধগম্য প্যাঁচাল পাড়তে থাকেন। বিপাশা, শমী, মিমি, রোজিনা, সাবেরী আলম এরা শেষ বেলায় আর দুটো পয়সা কামিয়ে নেবার চেস্টায় আছেন!

শেষ
পর্দাদখল করে রাখা কন্যারা এভাবেই একসময় কালের গর্ভে হারিয়ে যান। যেমন- শাবানা।
৭২টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×