somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শহর চট্টগ্রাম: ঠিকমত কাজ করলে সিঙ্গাপুর হতে পারত, হতে চলেছে গলি, উপগলি, কানাগলি আর বস্তি। আমার অভিজ্ঞতা ১৯৮৬-২০১১।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রথমেই দেখে নিন সিঙ্গাপুরের ম্যাপ

ভারত মহাসাগরের কোলে ছোট্ট এ শহর (বা দেশটি)। আয়তন ৬৯৪ বর্গ কিমি। আর সম্প্রসারনের সুযোগ নাই। লোকসংখ্যা যথেস্ট। ৫২ লাখ প্রায়। সমুদ্র বন্দর ছাড়া আর কিছু নাই। পানি, চাল, আটা, সবজি, কাপড় সবই আনতে হয় মালেয়েশিয়া থেকে।

এবার দেখুন চট্টগ্রাম

ভারত মহাসাগরের উপভাগ বঙ্গোপসাগরের কোলে ছোট্ট এ শহর। আয়তন ১৬৮ বর্গ কিমি। তবে চারপাশে তা সম্প্রসারনের অবারিত সুযোগ রয়েছে। জনসংখ্যা ৩৮ লাখ প্রায়। সমুদ্র বন্দরের পাশাপাশি আশেপাশের এলাকায় প্রচুর কৃষি ও খনিজ সম্পদ রয়েছে।

প্রাকৃতিক ভাবে প্রায় সমান একটা পরিস্থিতি ধারন করলেও 'মানুষের' হাতে পড়ে আজ সিঙ্গাপুর ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোজন যোজন ফারাক। দিন যত যাচ্ছে চট্টগ্রাম ততই গলি ও বস্তির শহরে পরিণত হচ্ছে।

১৯৮৬ সালে এ শহরটিতে আমি প্রথমবার আসি। ১৯৯৪-২০০৩ একটানা ছিলাম। ২০১১ সালে আবার এসেছি। পরিবর্তন হয়েছে একটি জায়গায়। একতলা দোতলা বাড়িগুলো ভেঙ্গে 'এপার্টমেন্ট' হয়ে গেছে। কোথাও ৬তলা কোথাও ১৫তলা! বাদবাকী সবই আগের মত। আর এ বিল্ডিংগুলোর মালিকরা ১ ইঞ্চি জমিও ছাড় দেননি। নিজেদের মৃতদেহ কিভাবে বাসা থেকে বেরুবে সে চিন্তাও কারো মাথায় আসেনি। আন্দরকিল্লা থেকে প্যারেড মাঠ, এ কে খান থেকে জি ই সি, বড়পোল থেকে বাদামতলী এ তিনটি চওড়া রাস্তা ছাড়া আর কোন চোখে লাগার মত অবকাঠামো উন্নয়ন এ শহরে ২৫ বছরেও হল না!

নামে আন্তর্জাতিক হলেও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কাজে ঠনঠন। একটা পেপার ম্যাগাজিনের স্টল পর্যন্ত নাই। টয়লেট পানি শূন্য থাকছে প্রায়ই। মোটাদাগে একটা ভুতুড়ে বন্দর। যাহোক, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে অপেক্ষারত না থাকলে এখানে নেমেই পড়তে হবে চরম ফাঁপড়ে। ২২ কিলোমিটার দুরের সিটি সেন্টারে যাওয়ার কোন 'সভ্য' ট্রেন, বাস, ক্যাব কিছুই নেই। ভাঙ্গাচোরা প্রাইভেট কারের রেন্ট এ কারের গাড়ীই ১ম ভরসা। এয়ারপোর্ট থেকে আগ্রাবাদ (১৫ কিমি) ১২০০ টাকা!! একদাম!!! সমিতি নির্ধারিত রেট!!! ২য় অপশন সিএনজি নামক মুরগীর খাঁচা। ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। তা ও আপনার ভালো লাগল না। তা হলে গাট্টী বোচকা নিয়ে হাঁটা দিন। ১ কিমি হাঁটলে লোকাল বাসের স্টপেজ। পৃথিবীর নিকৃস্টতম বাসসার্ভিস গুলোর একটি এটি।

মাঝারি আকারের এ বাস গুলোই চট্টগ্রামের প্রধান গণপরিবহন। নোংরা, সিটভাংগা, হাঁটু ঢুকেনা, রংচটা, বেপরোয়া গতি, হিরিঞ্চি কিসিমের ড্রাইভার, কন্ডাকটর ও হেলপার, কোন নির্ধারীত স্টপেজ নেই, ভাড়া গাড়ীর ভেতর। কিছুটা সাশ্রয়ী ও বিকল্প না থাকার কারনে এতেই গাদাগাদি। বিকল্প যা যা আছে- রাইডার (বাসের চেয়ে ছোট, টেম্পোর চেয়ে বড়), টেম্পু, সিএনসি টেম্পু, লেগুনা, সি এন জি, রিকশা ও হাঁটা। কালো, সবুজ, হলুদ কোনো ক্যাবই চট্টগ্রামে এখন নাই। অল্প কয়েকটা আছে নাসিরাবাদ বয়েজ স্কুলের সামনে আড্ডা মারে, কিন্তু কোথাও যেতে বললে যায়না!!!

সিঙ্গাপুরের চেঙ্গী বিমানবন্দর একটি আলাদা দুনিয়া। ১০০ হাত অন্তর মাগনা ইন্টারনেটের কিয়স্ক আছে। বয়স্ক/প্যারালাইজদেরদের জন্য আলাদা টয়লেট। ৫/৬ ঘন্টার ট্রানজিট চোখের পলকে কেটে যাবে। আর টার্মিনালের ভেতর থেকেই এমআরটি (ট্রেন), এসবিএস (বড় বাস)। শহরের কেন্দ্রে, ধরা যাক নিউটন স্টেশন, যেতে ২.৫ থেকে ৩ ডলার লাগবে মাত্র। ক্যাবে গেলে ১৪-১৫ ডলার।
সেমি পাতাল সম্পূর্ন অটোমেটিক ও নেটওয়ার্কড এ রেলব্যবস্থা শহরটির প্রধান গণমাধ্যম। ভাড়া ২ থেকে ৪ ডলারের মধ্যে। টিকেট ফেরৎ দিলে ১ ডলার ফেরৎ!! ১৫/২০ মিনিটের মধ্যেই যে যার গন্তব্যে। ২য় ব্যবস্থাও খুব সুন্দর। বড় আকারের বাস। ৩য় ক্যাব। প্রচুর এবং যে কোনো গন্তব্যে যে কোন সময়। এর বাইরে প্রাইভেট কার। এতদ্ভিন্ন অন্য কোন যানবাহন সিঙ্গাপুরের রাস্তায় নেই বললেই চলে। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৮
১৩টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×