পরিসংখ্যান বু্র্যোর কেতাবী হিসেবে ২৭ লক্ষ কর্মপোযোগী তরুন বেকার। বাস্তবের হিসেবে এটা যে কোটির উপরে তা বলাই বাহুল্য। যেনতেন কলেজের কথা বাদই দিলাম বুয়েট, বিআইটি, মেডিক্যাল, ঢাবি, চবি, জাবি, রাবি, ইবি, নর্থ-সাউথ, ব্র্যাক, আইসানুল্লাহ ইত্যাদি তুলনামূলক ভাল ভার্সিটির গ্র্যাজুয়েটরা পাশ করার কতদিন পর একটা ভদ্রজনোচিত চাকরি পাবেন তা শুধু আল্লাহই জানে! প্রাথমিকে ঝরে যাওয়া বন্ধুরা ততদিনে কৃষক, শ্রমিক বা মজুর কিছু একটা হয়ে গিয়েছেন। মাধ্যমিকে ঝরে যাওয়ারা মধ্যপ্রাচ্যে ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন। কিন্তু মাইনকা চিপায় পড়েন এ ভাগ্যবিড়ম্বিত হাইস্কুলের ভাল ছাত্ররা। না ঘরকা, না ঘাটকা একটা দশায়। বিদ্যার্জন কতটা অভিশাপের হতে পারে তা এ লাইনে ভুক্তভোগীরা ছাড়া বুঝবেননা।
হাজার হাজার আইটি, একাউন্টিং, কৃষি, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য স্নাতকের দেশে তবুও নানান খাতে এখন গিজগিজ করছে বিদেশী। অতীতেও এ নিয়ে অনেক রিপোর্ট হয়েছে, আজও করেছে ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস Click This Link
তবে সরকারের কনসার্ন এজেন্সীর লোকদের লোভের মাত্রা এত কম যে যৎসামান্য ধরিয়ে দিলেই এসব ড্রাইভ হার্ড ব্রেক কষে! দেখা যাক এবার কি হয়?
বিদেশী ও আমার অভিজ্ঞতা
গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম ইপিজেড-এ একটি অফিসে যাই। কানাডিয়ান কোম্পানী বলে জানতাম। কিন্তু তলে তলে সব পাকিস্তানী। আমার কন্টাক্ট পার্সন একজন পাকিস্তানী, ডেপুটি ম্যানেজার, একাউন্টস। বোধগম্য হলনা এ কাজের জন্য কোন আক্কেলে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হল? তার জব রেসপনসিবিলিটি দেখে আমার মনে হল বাংলাদেশে এ কাজ করার জন্য এ মুহুর্তে অন্তত: ১ লক্ষ বেকার আছে। বেতনও তার এক-পণ্চমাংশ চাইবে।
চট্টগ্রাম শহরে খুলশী মার্ট নামে একটা সুপার স্টোরে প্রায়ই বাজার করি। প্রথম প্রথম খেয়াল করিনি। আজকাল লক্ষ্য করছি এ দোকানে আমি সংখ্যালঘু! পশ্চিমবাংলা, তামিল, কেরালা, পান্জাব, শ্রীলংকা, কোরিয়া, পাকিস্তানী মানুষের কিচির মিচির আর স্টাফদের সাথে 'সে রকম' ইংরেজী! আহা এ দেশের কি উন্নতি! কি এক বিদেশী বিনিয়োগ নীতি!!
গ্রামীনফোনে চাকরি করতাম এক সময়। এরিক অস, এন্ডারস জেনসেন আর ওডভার হেশজেদালকে কমবেশী দেখি সি ই ও হিসেবে! তম্মোধ্যে এরিকের বিরুদ্ধে ভিওআইপির সম্প্বক্ততার সুস্পস্ট অভিযোগ আছে। তার আমলেই তাকে ধোনপোন বুঝিয়ে স্থানীয় মাতবররা উল্টাপাল্টা অনেক কাজ করেছে, গাঁজাখুরি অর্গানোগ্রাম বানিয়েছে। এন্ডারস এসে প্রথম প্রথম পুরা বাংলা রচনা মার্কা ইমেইল দিলেও ৬ মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেয়! অডভারের ২ মাসের মাথায় আমিই ছাড়ি কোম্পানি। শুনেছি আরেকদফা দিনকে রাত করা হয়েছে। এ তিন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সিইও কোম্পানীকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বাঙ্গালীর কূটচাল, নিজের স্বার্থ আদায়ে তৈলাক্ত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন, রাজনীতি ইত্যাদির দুর্ভেদ্য দেয়াল ফুটো করে এসব শ্বেতাংগ ভিনভাষী লোক কখনই ৭০০০ মানুষের বিশাল টিম ও রিয়ালিটি দেখতে পাননি। লাজলো বার্তা নামক আরেক হাংগেরীয়ান ছিলেন আমার সেকেন্ডারী সুপারভাইজর। সেলস ডিপার্টমেন্ট থেকে শেষতক তাকে এক ধরনের খেদানোই হয়েছে। মোদ্দাকথা এসব লোক এমন কোন রসগোল্লা পার্ফম করেননি বা তাদের স্কিল এমন কিছু না যা বাংলাদেশে বিরল!!!
সম্প্রতি একটা একদিনের ওয়ার্কশপ করি গুলশানের ১টা হোটেলে। বিষয়: আধুনিক ব্যবস্থাপকদের গুনাবলী.............। লিডারশীপ। জনৈক শ্রীলংকান এ ট্রেনিং কন্ডাক করেন। তার ছেলে নামকরা ক্রিকেটার। এক কথায় বলা যায়, টাকাটা আমার কোম্পানী জলেই ফেলল।
হতে পারে চিকিৎসা, এরোনটিক্যাল বা পারমানবিক বিজ্ঞানের কোন কোন শাখায় আমাদেরকে বিদেশী দাওয়াত দেয়া লাগতে পারে। কিন্তু লিডারশীপ কাকে বলে, চিঠি কেমনে লেখতে হয়, ডেবিট ক্রেডিট করা ইত্যকার কাজে কোন দু:খে আমরা বিদেশী নিচ্ছি। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত করুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


