somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙ্গালীর নব্য বিদেশপ্রেম: কর্মক্ষেত্রে অঘা বিদেশী নিয়োগ বা মঘা ট্রেইনার

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিসংখ্যান বু্র‌্যোর কেতাবী হিসেবে ২৭ লক্ষ কর্মপোযোগী তরুন বেকার। বাস্তবের হিসেবে এটা যে কোটির উপরে তা বলাই বাহুল্য। যেনতেন কলেজের কথা বাদই দিলাম বুয়েট, বিআইটি, মেডিক্যাল, ঢাবি, চবি, জাবি, রাবি, ইবি, নর্থ-সাউথ, ব্র্যাক, আইসানুল্লাহ ইত্যাদি তুলনামূলক ভাল ভার্সিটির গ্র্যাজুয়েটরা পাশ করার কতদিন পর একটা ভদ্রজনোচিত চাকরি পাবেন তা শুধু আল্লাহই জানে! প্রাথমিকে ঝরে যাওয়া বন্ধুরা ততদিনে কৃষক, শ্রমিক বা মজুর কিছু একটা হয়ে গিয়েছেন। মাধ্যমিকে ঝরে যাওয়ারা মধ্যপ্রাচ্যে ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন। কিন্তু মাইনকা চিপায় পড়েন এ ভাগ্যবিড়ম্বিত হাইস্কুলের ভাল ছাত্ররা। না ঘরকা, না ঘাটকা একটা দশায়। বিদ্যার্জন কতটা অভিশাপের হতে পারে তা এ লাইনে ভুক্তভোগীরা ছাড়া বুঝবেননা।
হাজার হাজার আইটি, একাউন্টিং, কৃষি, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য স্নাতকের দেশে তবুও নানান খাতে এখন গিজগিজ করছে বিদেশী। অতীতেও এ নিয়ে অনেক রিপোর্ট হয়েছে, আজও করেছে ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস Click This Link
তবে সরকারের কনসার্ন এজেন্সীর লোকদের লোভের মাত্রা এত কম যে যৎসামান্য ধরিয়ে দিলেই এসব ড্রাইভ হার্ড ব্রেক কষে! দেখা যাক এবার কি হয়?

বিদেশী ও আমার অভিজ্ঞতা
গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম ইপিজেড-এ একটি অফিসে যাই। কানাডিয়ান কোম্পানী বলে জানতাম। কিন্তু তলে তলে সব পাকিস্তানী। আমার কন্টাক্ট পার্সন একজন পাকিস্তানী, ডেপুটি ম্যানেজার, একাউন্টস। বোধগম্য হলনা এ কাজের জন্য কোন আক্কেলে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হল? তার জব রেসপনসিবিলিটি দেখে আমার মনে হল বাংলাদেশে এ কাজ করার জন্য এ মুহুর্তে অন্তত: ১ লক্ষ বেকার আছে। বেতনও তার এক-পণ্চমাংশ চাইবে।

চট্টগ্রাম শহরে খুলশী মার্ট নামে একটা সুপার স্টোরে প্রায়ই বাজার করি। প্রথম প্রথম খেয়াল করিনি। আজকাল লক্ষ্য করছি এ দোকানে আমি সংখ্যালঘু! পশ্চিমবাংলা, তামিল, কেরালা, পান্জাব, শ্রীলংকা, কোরিয়া, পাকিস্তানী মানুষের কিচির মিচির আর স্টাফদের সাথে 'সে রকম' ইংরেজী! আহা এ দেশের কি উন্নতি! কি এক বিদেশী বিনিয়োগ নীতি!!

গ্রামীনফোনে চাকরি করতাম এক সময়। এরিক অস, এন্ডারস জেনসেন আর ওডভার হেশজেদালকে কমবেশী দেখি সি ই ও হিসেবে! তম্মোধ্যে এরিকের বিরুদ্ধে ভিওআইপির সম্প্বক্ততার সুস্পস্ট অভিযোগ আছে। তার আমলেই তাকে ধোনপোন বুঝিয়ে স্থানীয় মাতবররা উল্টাপাল্টা অনেক কাজ করেছে, গাঁজাখুরি অর্গানোগ্রাম বানিয়েছে। এন্ডারস এসে প্রথম প্রথম পুরা বাংলা রচনা মার্কা ইমেইল দিলেও ৬ মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেয়! অডভারের ২ মাসের মাথায় আমিই ছাড়ি কোম্পানি। শুনেছি আরেকদফা দিনকে রাত করা হয়েছে। এ তিন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সিইও কোম্পানীকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বাঙ্গালীর কূটচাল, নিজের স্বার্থ আদায়ে তৈলাক্ত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন, রাজনীতি ইত্যাদির দুর্ভেদ্য দেয়াল ফুটো করে এসব শ্বেতাংগ ভিনভাষী লোক কখনই ৭০০০ মানুষের বিশাল টিম ও রিয়ালিটি দেখতে পাননি। লাজলো বার্তা নামক আরেক হাংগেরীয়ান ছিলেন আমার সেকেন্ডারী সুপারভাইজর। সেলস ডিপার্টমেন্ট থেকে শেষতক তাকে এক ধরনের খেদানোই হয়েছে। মোদ্দাকথা এসব লোক এমন কোন রসগোল্লা পার্ফম করেননি বা তাদের স্কিল এমন কিছু না যা বাংলাদেশে বিরল!!!

সম্প্রতি একটা একদিনের ওয়ার্কশপ করি গুলশানের ১টা হোটেলে। বিষয়: আধুনিক ব্যবস্থাপকদের গুনাবলী.............। লিডারশীপ। জনৈক শ্রীলংকান এ ট্রেনিং কন্ডাক করেন। তার ছেলে নামকরা ক্রিকেটার। এক কথায় বলা যায়, টাকাটা আমার কোম্পানী জলেই ফেলল।

হতে পারে চিকিৎসা, এরোনটিক্যাল বা পারমানবিক বিজ্ঞানের কোন কোন শাখায় আমাদেরকে বিদেশী দাওয়াত দেয়া লাগতে পারে। কিন্তু লিডারশীপ কাকে বলে, চিঠি কেমনে লেখতে হয়, ডেবিট ক্রেডিট করা ইত্যকার কাজে কোন দু:খে আমরা বিদেশী নিচ্ছি। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত করুক।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×