somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার আনাড়িপনা ও আমজনতার ভোগান্তি- মিঠা কথা ও তেতো ঔষধ

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এটা সাধারনভাবে কাম্য যে, কোন পরিবারে ৬ জন সদস্য থাকলে তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকে, থাকবে। কিন্তু তাদের কেউ খেতে পাবেনা আর কারো পেছনে খাবার নিয়ে দৌড়ানো হবে তা চরম অন্যায্য। এটা কাম্য যে তারা সবাই সমান বেতনে চাকরি করবে না। কিন্তু এটা অন্যায্য যে কেউ লাখ টাকা কামাবে আর কেউ স্যান্ডেল ছিড়ে গেলেও একটা পেটে-ভাতে কাজ পাবেনা। লজ্জার, হতাশার, ঘৃণার বিষয় হল সার্বিক রাজনৈতিক আনাড়িপনা ও বদ উদ্দ্যশ্যপ্রসুত নানান কু-অর্থনীতির বিষফল হিসেবে এদেশে এখন মুস্টিমেয় স্থুল বাচ্চার পেছনে মা'রা খাবার নিয়ে ছুটছেন (জিঙ্গেল বাজবে হু তু তু হু তু তু......! এটা টি??) আর লাখ লাখ শীর্নকায় বাচ্চা একমুঠো ভাত পাচ্ছেনা। ২ টি দৃশ্যই পাঠকরা টিভিতে বা সরেজমিনে দেখতে পাবেন।

গলাকাটা ট্যাক্স পলিসি
বক্ষ্যমান প্রবন্ধে আমি সরকারি লোকের চুরি ও দুর্নীতি নিয়ে কিছু বলবনা। বলব শুধু পলিসি নিয়ে। পলিসি গুলোই গণবিরোধী। মোটাদাগে বাণিজ্যিক প্রতিস্টানের গ্রস লাভের উপর ট্যাক্স ৩৭.৫%। ক্ষেত্র বিশেষে তা ৪৫%। এটার উপর ভোক্তা পর্যায়ে আবার ১.৫ থেকে ১৫% অবধি ভ্যাট কালেকশনের 'অবৈতনিক চাকরি'ও 'উদ্যোক্তা'র উপর বর্তায়। মোদ্দা কথা সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, অনেক রিস্ক নিয়ে, চৌদ্দগুস্টির টিপ্পনী খেয়ে চাকরি ছেড়ে আপনি একটা হালাল ব্যবসা দাড় করিয়েছেন, বেকারত্বের অবসান ঘটিয়েছেন আরও ২/৪ জন কর্মী, সাপ্লাইয়ার বা রিটেইলারের। ১০০ টাকা লাভ করেছেন ১ বছরে/ এখন সরকার বলছে আমাকে ৩৭.৫ টাকা দিয়ে দাও! এহেন নিশ্চিৎ ডাকাতির কথা জানলে কে 'উদ্যোক্তা' হওয়ার রিস্ক নিবে? আল্টিমেট কুফল হিসেবে পটেনশিয়াল অনুযায়ী আমাদের দেশে সে পরিমান ব্যবসায়ী গড়ে উঠেনি। মোটা দাগে চাকুরের জাত হতে বাধ্য!

১৬ কোটি নাগরিকের দেশে টিন আছে ২২ লাখ ; আর কম বেশী ট্যাক্স দেয় ১০ লাখ, প্রতি ১০ হাজারে ১! দেশের বেশীরভাগ জেলা সদরে এনবিআর অফিস আছে কিনা সেটাই কেউ জানেনা। উপজেলার কথা বাদ!! কিছু নামকরা কোম্পানী, ব্যাংক ইত্যাদির বেতনভুক্ত কর্মচারীদের কাছ থেকে ২৫% গলাকাটা ট্যাক্সই আমাদের দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে বড় ট্যাক্স খাত। আর গলা কাটা এ ২৫% অংকটাই লক্ষ লক্ষ সক্ষম ব্যক্তিকে এন বি আর থেকে পালাতে বাধ্য করেছে। অংকটা ১০% করে নেটওয়ার্কটা অন্তত: হাজারে ১ জন করতে পারলে এদেশের টোটাল রেভিনু্ চিত্রই ভিন্ন হত।

উজবুক বিদেশী বিনিয়োগনীতি
আপনি নামকাওয়াস্তে কিছু পূঁজি নিয়ে এদেশে এসে প্রায় মাগনা জমি, গ্যাস, বিদ্যুত, শ্রমিক-নিম্ন পর্যায়ের কর্তা সবই খাটিয়ে বিপুল পরিমান লাভ সহ স্বদেশে মাসে মাসে ফেরৎ পাঠাবেন- তা বাংলাদেশেই সম্ভব! এদেশের ইপিজেড গুলোতে বা বাইরেও ম্যানেজমেন্ট লেভেল অকারণে গিজগিজ করছে ভারতীয়, পাকিস্তানী, শ্রীলংকান। অতিতুচ্ছ সাধারন কাজেই তারা ওয়ার্ক পারমিট পায়। বিদেশী বিনিয়োগের ২ ফজিলত- ডলারের আগমন ও কর্মসংস্থান খানিকটা হলেও এর ১০ গুন উপকার থেকে আমরা বন্চিৎই রইলাম। ঠিকমত টাইট দিলে এগুলোতে কয়েক লাখ হোয়াইট কলার চাকুরী হতে পারে।

ঢালাও আমদানী
চিপস, খেলনা, কলম, ব্রাশ, বিস্কুট, কুক, বিউটিশিয়ান, শিক্ষক কি আমদানী করি না আমরা? অতি-সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাস ও তুচ্ছ পণ্যের এলসি খোলায় বার দিয়েছে। অনেক দেরীতে। এহেন ঢালাও আমদানি ২ ভাবে আমাদের ধবংস করেছে। বৈদিশিক মুদ্রার তহবিল নাশ ও স্থানীয় শিল্পকে পথে বসানো। এসবেই হয়েছে আইন বা বিধি করে!

তথাকথিত এসএমই/কৃষি, চলতি পুঁজি ঋন
রানিং গভর্নর প্রায় পাগলের প্রলাপ বকার মত এসএমই ও কৃষি নিয়ে কথা বলেন। বুঝাই যায়, না বুঝে বলেন- এসব। গত ৩/৪ বছরে এসএমইর নামে যা লোন গিয়েছে তা অফিসিয়ালীই ৮০% ট্রেডে গিয়েছে। লোনের পারপাস হিসেবে উদ্যোক্তারা মোস্টলি ওয়ার্কিং ক্যাপিটালকে উল্লেখ করেছেন। তলে তলে আসলে এসব লোন হয় জমি কেনার কাজে নয় মাত্রাতিরিক্ত স্টক করা বা ইউনিপে-টু ইউ বা শেয়ার বাজার বা ভিন্ন কোন অনুৎপাদশীল কাজেই লেগেছে। আতিউর সাহেবের কথা মত লাখ লাখ কলকারখানা হয় নি। বড়জোর কিছু মুদি দোকান বেড়েছে, যাতে প্রচুর চাইনিজ, থাই ও ভারতীয় মাল বেচা হয়!

এতিম ক্যাপিটাল মার্কেট
হাতে গোনা ৩০/৩৫ টি ভাল শেয়ারের বাজারে ২০০ শর উপর ব্রোকারেজ হাউজ। গ্রামে গন্জেও অনেকের শাখা আছে! 'আসেন আসেন বলে ২০ লাখের উপর মানুষকে দাওয়াত দিয়েছে এসইসি/ডিএসই। কারো টাকা না থাকলেও সমস্যা নেই। ১ টাকায় ১.৫ টাকা পর্যন্ত লোন!! বাপরে বাপ! বেক্সিমকোর ২৮ টাকার শেয়ার ৪০০ পেরিয়েছে ২ বছরে! এখন ধপাস। ন্যায্যভাবে বলতে গেলে বেশীরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম এখনো ন্যায্যতার অনেক উপরে!!!!!!!!!!! বাংলাদেশের মত অগোছালো দেশে শেয়ারবাজারের মত জটিল জিনিস যত আস্তে গ্রো করা ভাল। তা হয় নি।

টাকা সবচেয়ে সস্তা
সরকারী হিসেবে ইনফ্ল্যাশন ১১%+ । তবে আমার মতে নিত্য অনেক পণ্যে তা ২০% এখন। যেমন- বাটা স্যান্ডেল। ৩ বছর আগে ছিল ৫০ টাকা এখন ৮০ টাকা। জমির দামে তা কমছে কম ৩০%। মুরগীর ডিমে ৩০%। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক লোকদেরকে বাধ্য করছে ১৩% এর মধ্যে বড় বড় ব্যবসায়ীকে লোন দিতে। মহিলাদেরকে ১০%। সংগত কারনে সাধারন মানুষ বাধ্য হচ্ছে ৪-৫% সেভিং রেট পেতে, টার্ম ডিপোজিট হলে নেট ১০%। টাকাও ১ টি পন্য। এরও দাম আছে। অথচ আমরা এটাকে জোর করে সস্তা বানিয়ে ফেলছি। আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ে তড়পাচ্ছি। বাংলাদেশের যা হাল হকিকত তাতে ডিপোজিট রেট কমছে কম ২০% আর লোন রেট ২৫% হওয়া উচিৎ। তাতে টোটাল ইকনমী ধীরে ধীরে বৈষম্যমুক্ত হবে।

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট
যে দেশে নুন্যতম বেতন ৩০০০ টাকা সে দেশে ১০০০ টাকার নোটের দরকার কি? ১০০ টাকা হলেই বা অসুবিধা কি? জাল জালিয়তী ও পাচারের দেশে এত বড় নোট কি যথেস্ট রিস্কি নয়। শোনা যাচ্ছে, নানান খাতে গত ২/৩ বছরে যেসব লোক বড় অংকের দাও মেরেছে (যার পরিমান কয়েক হাজার কোটি থেকে ১ লাখ কোটি টাকা) তারা তা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটে কনভার্ট করে বালিশের তলায় রেখে দিয়েছে। তাই এ ২ টি নোট অবিলম্বে রিকল করা যেতে পারে

সবাইকে ধন্যবাদ।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×