গলাকাটা ট্যাক্স পলিসি
বক্ষ্যমান প্রবন্ধে আমি সরকারি লোকের চুরি ও দুর্নীতি নিয়ে কিছু বলবনা। বলব শুধু পলিসি নিয়ে। পলিসি গুলোই গণবিরোধী। মোটাদাগে বাণিজ্যিক প্রতিস্টানের গ্রস লাভের উপর ট্যাক্স ৩৭.৫%। ক্ষেত্র বিশেষে তা ৪৫%। এটার উপর ভোক্তা পর্যায়ে আবার ১.৫ থেকে ১৫% অবধি ভ্যাট কালেকশনের 'অবৈতনিক চাকরি'ও 'উদ্যোক্তা'র উপর বর্তায়। মোদ্দা কথা সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, অনেক রিস্ক নিয়ে, চৌদ্দগুস্টির টিপ্পনী খেয়ে চাকরি ছেড়ে আপনি একটা হালাল ব্যবসা দাড় করিয়েছেন, বেকারত্বের অবসান ঘটিয়েছেন আরও ২/৪ জন কর্মী, সাপ্লাইয়ার বা রিটেইলারের। ১০০ টাকা লাভ করেছেন ১ বছরে/ এখন সরকার বলছে আমাকে ৩৭.৫ টাকা দিয়ে দাও! এহেন নিশ্চিৎ ডাকাতির কথা জানলে কে 'উদ্যোক্তা' হওয়ার রিস্ক নিবে? আল্টিমেট কুফল হিসেবে পটেনশিয়াল অনুযায়ী আমাদের দেশে সে পরিমান ব্যবসায়ী গড়ে উঠেনি। মোটা দাগে চাকুরের জাত হতে বাধ্য!
১৬ কোটি নাগরিকের দেশে টিন আছে ২২ লাখ ; আর কম বেশী ট্যাক্স দেয় ১০ লাখ, প্রতি ১০ হাজারে ১! দেশের বেশীরভাগ জেলা সদরে এনবিআর অফিস আছে কিনা সেটাই কেউ জানেনা। উপজেলার কথা বাদ!! কিছু নামকরা কোম্পানী, ব্যাংক ইত্যাদির বেতনভুক্ত কর্মচারীদের কাছ থেকে ২৫% গলাকাটা ট্যাক্সই আমাদের দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে বড় ট্যাক্স খাত। আর গলা কাটা এ ২৫% অংকটাই লক্ষ লক্ষ সক্ষম ব্যক্তিকে এন বি আর থেকে পালাতে বাধ্য করেছে। অংকটা ১০% করে নেটওয়ার্কটা অন্তত: হাজারে ১ জন করতে পারলে এদেশের টোটাল রেভিনু্ চিত্রই ভিন্ন হত।
উজবুক বিদেশী বিনিয়োগনীতি
আপনি নামকাওয়াস্তে কিছু পূঁজি নিয়ে এদেশে এসে প্রায় মাগনা জমি, গ্যাস, বিদ্যুত, শ্রমিক-নিম্ন পর্যায়ের কর্তা সবই খাটিয়ে বিপুল পরিমান লাভ সহ স্বদেশে মাসে মাসে ফেরৎ পাঠাবেন- তা বাংলাদেশেই সম্ভব! এদেশের ইপিজেড গুলোতে বা বাইরেও ম্যানেজমেন্ট লেভেল অকারণে গিজগিজ করছে ভারতীয়, পাকিস্তানী, শ্রীলংকান। অতিতুচ্ছ সাধারন কাজেই তারা ওয়ার্ক পারমিট পায়। বিদেশী বিনিয়োগের ২ ফজিলত- ডলারের আগমন ও কর্মসংস্থান খানিকটা হলেও এর ১০ গুন উপকার থেকে আমরা বন্চিৎই রইলাম। ঠিকমত টাইট দিলে এগুলোতে কয়েক লাখ হোয়াইট কলার চাকুরী হতে পারে।
ঢালাও আমদানী
চিপস, খেলনা, কলম, ব্রাশ, বিস্কুট, কুক, বিউটিশিয়ান, শিক্ষক কি আমদানী করি না আমরা? অতি-সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাস ও তুচ্ছ পণ্যের এলসি খোলায় বার দিয়েছে। অনেক দেরীতে। এহেন ঢালাও আমদানি ২ ভাবে আমাদের ধবংস করেছে। বৈদিশিক মুদ্রার তহবিল নাশ ও স্থানীয় শিল্পকে পথে বসানো। এসবেই হয়েছে আইন বা বিধি করে!
তথাকথিত এসএমই/কৃষি, চলতি পুঁজি ঋন
রানিং গভর্নর প্রায় পাগলের প্রলাপ বকার মত এসএমই ও কৃষি নিয়ে কথা বলেন। বুঝাই যায়, না বুঝে বলেন- এসব। গত ৩/৪ বছরে এসএমইর নামে যা লোন গিয়েছে তা অফিসিয়ালীই ৮০% ট্রেডে গিয়েছে। লোনের পারপাস হিসেবে উদ্যোক্তারা মোস্টলি ওয়ার্কিং ক্যাপিটালকে উল্লেখ করেছেন। তলে তলে আসলে এসব লোন হয় জমি কেনার কাজে নয় মাত্রাতিরিক্ত স্টক করা বা ইউনিপে-টু ইউ বা শেয়ার বাজার বা ভিন্ন কোন অনুৎপাদশীল কাজেই লেগেছে। আতিউর সাহেবের কথা মত লাখ লাখ কলকারখানা হয় নি। বড়জোর কিছু মুদি দোকান বেড়েছে, যাতে প্রচুর চাইনিজ, থাই ও ভারতীয় মাল বেচা হয়!
এতিম ক্যাপিটাল মার্কেট
হাতে গোনা ৩০/৩৫ টি ভাল শেয়ারের বাজারে ২০০ শর উপর ব্রোকারেজ হাউজ। গ্রামে গন্জেও অনেকের শাখা আছে! 'আসেন আসেন বলে ২০ লাখের উপর মানুষকে দাওয়াত দিয়েছে এসইসি/ডিএসই। কারো টাকা না থাকলেও সমস্যা নেই। ১ টাকায় ১.৫ টাকা পর্যন্ত লোন!! বাপরে বাপ! বেক্সিমকোর ২৮ টাকার শেয়ার ৪০০ পেরিয়েছে ২ বছরে! এখন ধপাস। ন্যায্যভাবে বলতে গেলে বেশীরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম এখনো ন্যায্যতার অনেক উপরে!!!!!!!!!!! বাংলাদেশের মত অগোছালো দেশে শেয়ারবাজারের মত জটিল জিনিস যত আস্তে গ্রো করা ভাল। তা হয় নি।
টাকা সবচেয়ে সস্তা
সরকারী হিসেবে ইনফ্ল্যাশন ১১%+ । তবে আমার মতে নিত্য অনেক পণ্যে তা ২০% এখন। যেমন- বাটা স্যান্ডেল। ৩ বছর আগে ছিল ৫০ টাকা এখন ৮০ টাকা। জমির দামে তা কমছে কম ৩০%। মুরগীর ডিমে ৩০%। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক লোকদেরকে বাধ্য করছে ১৩% এর মধ্যে বড় বড় ব্যবসায়ীকে লোন দিতে। মহিলাদেরকে ১০%। সংগত কারনে সাধারন মানুষ বাধ্য হচ্ছে ৪-৫% সেভিং রেট পেতে, টার্ম ডিপোজিট হলে নেট ১০%। টাকাও ১ টি পন্য। এরও দাম আছে। অথচ আমরা এটাকে জোর করে সস্তা বানিয়ে ফেলছি। আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ে তড়পাচ্ছি। বাংলাদেশের যা হাল হকিকত তাতে ডিপোজিট রেট কমছে কম ২০% আর লোন রেট ২৫% হওয়া উচিৎ। তাতে টোটাল ইকনমী ধীরে ধীরে বৈষম্যমুক্ত হবে।
৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট
যে দেশে নুন্যতম বেতন ৩০০০ টাকা সে দেশে ১০০০ টাকার নোটের দরকার কি? ১০০ টাকা হলেই বা অসুবিধা কি? জাল জালিয়তী ও পাচারের দেশে এত বড় নোট কি যথেস্ট রিস্কি নয়। শোনা যাচ্ছে, নানান খাতে গত ২/৩ বছরে যেসব লোক বড় অংকের দাও মেরেছে (যার পরিমান কয়েক হাজার কোটি থেকে ১ লাখ কোটি টাকা) তারা তা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটে কনভার্ট করে বালিশের তলায় রেখে দিয়েছে। তাই এ ২ টি নোট অবিলম্বে রিকল করা যেতে পারে
সবাইকে ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



