আমার প্রিয় পোস্ট
- Top 10 কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের ছোটখাটো সমস্যা এবং তার সমাধান - robot_eee
- সেক্যুলারিজম (বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ৪) - নুভান
- বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ৩ (কলোনিয়াল যুগ) - নুভান
- বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ২ (মধ্যযুগ) - নুভান
- বাংলার ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার অবস্থান - ১ (প্রাচীন যুগ) - নুভান
- বাঙালির ধর্মচিন্তা, আধ্যাত্ত্ববাদের ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িকতার উত্থান - পারভেজ আলম
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- বাংলা গান ডাউনলোড করুন - মহসিন০৮
- ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী! - লাশ
- রাগের নাম: দেশ - ইমন জুবায়ের
- নির্বাচন ও সংখ্যালঘু হাহাকার - বেতাল
- কিভাবে অভ্র ব্যবহার করে বাংলা লিখতে হয় (বিস্তারিত) - মৃত হাসানের প্রেতাত্মা
- নিহত যোদ্ধাদের কাছে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে ঋণ !! - মনজুরুল হক
- আঁতুড় ঘর(৩) - বন্ধন
জন্মভূমি মাতৃভূমি ভালো থেকো (২)
১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৮
পূর্বপ্রকাশিতের পর-----
৩) ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাবের পরপরেই ১৯০৬ এ ভারতবর্ষে দুটি নতুন দল তৈরী হয় । একটি মুসলিমলীগ, অন্যটি হিন্দুমহাসভা । এরা ধর্মীয় অথচ রাজনৈতিক । ঢাকঢোল পিটিয়ে দুটি দলই ধর্ম নিয়ে রাজনীতির নানা রকম মহড়া দিতে লাগলো । আর এই অনুকুল বাতাস পেয়ে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়াতে শুরু করলো দ্বিজাতি-তত্ব । অচিরেই ভৌতিক এই তত্ব সব কিছুর উর্দ্ধে উঠে সমস্ত রাজনৈতিক তথা সামাজিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলো । সাধারণ মানুষ প্রায় দিশেহারা । ভিন্ন ধর্মের কারণে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে স্থাপিত হতে লাগলো । পরবর্তী প্রায় চার দশক জুড়ে একটা দেশকে কী ভাবে ভাঙ্গা যায় তার চেষ্টা চলতে লাগলো । কিন্তু হাজার বছরের সামাজিকতার মূল্যকে শূন্যে নামিয়ে যে উদ্দেশ্যে যারাই এই কাজ করে থাকুক, তাদের ক্ষমতা দখল করা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য ছিলোনা । এ কথা আজ আরো গভীর ভাবে প্রমাণিত হয়ে চলেছে ।
৪) ধর্ম সংস্কৃতির একটা উপাদান । কিন্তু মানুষের সংস্কৃতির মাতৃউপাদান ভাষা । ভারতবর্ষের ধর্ম উন্মত্ত রাজনীতির মধ্যে মানুষের এই মাতৃউপাদানের বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকরী উত্থাপন প্রাক্স্বাধীনতা সময়ে দেখা যায়নি । অথচ প্রদেশ ভাগাভাগির সময় ভাষা'কেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো । তা কি শুধু শাসন শোষনের সুবিধার্থে ? অবশ্য ধর্মের উস্কানি সত্বেও ধর্ম বা ভাষা কোনোটাই সেইসময়কার বিবদমান মানুষদের কাছে আর গ্রাহ্য হয়নি । দেশভাগ হলোই ।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বন্ধন বলেছেন:
জন্মভূমি-মাতৃভূমি ভালো থেকো ।এই ব্লগে অংশ নেয়া মানুষজনকে আমার আদাব নমস্কার ।
দেখছিলাম কদিন যাবৎ আপনাদের উচ্চবাচ্য। তো বিবিধ বিষয় থেকে আপাতত বাঙলা, বাঙালী ও তার ইতিহাসের কথাই জানতে চাই ।অনেক ভুল, অনেক অতি সরলী ,অনেক অর্ধসত্য যেমন আছে ,তেমনি আছে সপ্রাণ আকাঙ্খা এই বিষয়ের লেখকদের মধ্যে ।তাদের ধন্যবাদ ।
মূলতঃ তিনটি চোখ দিয়ে এটাকে দেখার চেষ্টা করা হয়।যেমন হিন্দু চোখ,মুসলিম চোখ এবং বাঙালী চোখ।
আমার সাধ এই তিনচোখের বাইরে এটাকে ইতিহাসের চোখে দেখা।
আশা করি খারাপ হবেনা নিশ্চই!
(২)
ইতিহাস কোনো প্রাঞ্জল ঘাস নয় যে ইচ্ছেমত তাতে হাত বুলোলে আরাম পাওয়া যাবে ।বরং ইচ্ছাচোখের জলজ্বালার কারণও হতে পারে তা কখনো সখনো ।
আধুনিক বাঙলা এবং বাঙালীর বিভাজন ও আন্দোলনের সাম্প্রতিক হদিশ নিতে গেলে অন্তত আগে পিছে ১৯০৫সাল দিয়ে শুরু করা ভালো।
ইতিহাসে যেটাকে 'বঙ্গভঙ্গ' বলা হয় সেটা এক্ষেত্রে একটা ফলকনামা ।
প্রেক্ষাপট কী ছিল?
১)স্বাধীনতার জন্য সশস্র আন্দোলনের পীঠস্থান তখন বঙ্গদেশ ।বৃটিশরা এই রকম একটা পরিবেশ থেকে মুক্তির আশায় ততদিনে বাঙালীদের ভেতর বিভেদের বীজটাকে পুঁজি করে ফেলেছে ।সেই পুঁজির এক দিক হলো বর্ণহিন্দুর জাতপাত ।অন্যদিক হলো মুসলিম স্বাতন্ত্রের প্রস্তাব ।এনিয়ে
নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জন্য বৃটিশরা যেমন পৃথক নির্বাচনের প্রস্তাব করেছিলো তেমনি মুসলমানদের জন্যও একি প্রস্তাব করেছিলো ।গান্ধীজির অনশনের মুখে তারা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের বিষয়টা ছেড়ে দেয় ।কিন্তু মুসলমানদেরটা বলবৎ হয়ে যায়।আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে মুসলমানদের জন্য এই জাতীয় স্বাতন্ত্রের প্রস্তাব প্রথম কোনো মুসলিম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আসেনি।এসেছিলো ১৮৮৮সালে ভাইসরয় লর্ড ডাফরিনের কাছ থেকে।অনেক পরে ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর কাছে মুসলিমদের পক্ষ থেকে অবশ্য ১৯০৯সালে এই দাবি তোলা হয়।
২)বৃটিশপূর্ব ভারতের শত শত বছরের হিন্দুমুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে বৃটিশরা বঙ্গভঙ্গের কারণ হিসেবে প্রশাসনিক সুবিধের অজুহাত খাঁড়া করে।
তৎকালীন ঢাকার নবাববাড়িতে ঐসময় এক সভায় লর্ড কার্জন মুসলিম নেতাদের বলেছিলেন"আমি আপনাদের একটি মুসলিম প্রদেশ দিচ্ছি"।অর্থাৎ লোভ দেখানো হচ্ছে ক্ষমতার ।আর এই লোভ খুব পুরানো সন্দেহ নেই। তৎকালীন সমাজের ভূস্বামীদের নেতৃত্ব এই লোভ উপেক্ষা করতে পারেনি । যদিও একই শ্রেণীর হিন্দু নেতৃত্বের আন্দোলনের ফলে কিছুদিনের মধ্যে এই প্রস্তাব স্থগিত হয়। অবশ্য শাসকের সাধ ততদিনে পূর্ণ হয়ে গেছে ।
*********
লিংকের কাজটা আমি পারিনা ।
তাই আগের অংশটি তুলে দিলাম ।
মতামতের জন্য ধন্যবাদ ।
আমার মতামত পরে জানাবো ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















যাহোক, আপনার মূল বক্তব্যের সাথে একমত হলেও বেশ কয়েকটি ব্যপারে অন্যমত আছে আমার।
মুসলিম লীগের জন্ম মুলত কংগ্রেসের উচ্চ বর্নের হিন্দুদের কারণে হয়েছে বঙ্গভঙ্গের কারণে নয়। মুসলীম লীগের সুচনা ধর্ম ছিল না। পিছিয়ে পরা মুসলিম সম্প্রদায়ের একটা রাজনৈতিক সংগঠনের দরকার ছিল, মুসলিম লীগ তা পূরণ করে। কংগ্রেস যদি ঔ সময় মুসলিমদেরও মুখপাত্র হয়ে উঠতে পারতো, তবে মুসলিমলীগ ভাত পেতো না।
দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রথম হিন্দুমহাসভা আবিস্কার করে। এর কয়েক দশক পরে জিন্নাহ কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি দ্বিজাতিতত্ত্ব লুফে নেন। (আমার নিজের ধারণা তিনি এ কাজটি করেছিলেন রাজনৈতিকভাবে নেহেরুর বিপরীতে দাড়ানোর জন্যই। জিন্নাহকে যদি কংগ্রেস ছাড়তে না হতো, তবে বাংলাভাগ হয়তো হতো না)।
হিন্দুমহাসভার জন্মের ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছিল ১৮৮০ - ১৮৯০ থেকেই হিন্দু পুনোরুত্থানবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে। বলতে গেলে এরাই বাংলার হিন্দু-মুসলিমদেরকে হঠাৎ আলাদা করে ফেলেছিল। ব্রিটিশরা শুধুমাত্র সময়মতো সুযোগটা নিয়েছিল।