somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁতুড় ঘর (৫)

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধ্যার মুখে যখন বিয়ে বাড়ি জমজমাট হঠাৎ টের পেলাম আমি দুপুরে খাইনি । খাওয়ার কথা কেউ বলেওনি । আর এই সময় সবাই এত ব্যস্ত যে--। লক্ষ্য করলাম বাড়ি ভর্তি সব প্রায় অচেনা । বড়পিসি ছাড়া অন্য দুই পিসি যে কে কোথায় কে জানে ! তার মধ্যে এসে গেছে বর এবং বরযাত্রী।

সারাদিন অনবরত ফাই ফরমাস খাটার জন্য এবং অধিকাংশ সময়টাই বাইরে বাইরে যাতায়াতের জন্য এই অবস্থা ! যদিও ভাবার মত আর অবস্থা নেই । একে শীত তায় ক্ষিদে--কখন যে ঘরের এক কোনে বেঞ্চিতে গিয়ে শুয়ে পড়েছি মনে নেই । ঘুম যখন ভাঙল দেখি মাথার কাছে মনুকাকু। শুনতে পেলাম বিয়ে বাড়ির আওয়াজ ছাপিয়ে তার গলা ---হারামজাদা শুয়র---সারাবাড়ি তরে খুইজ্যা মরতাছি--আর তুই এইহানে গুমাইতাছস--কাজের বাড়ি---এইডা গুমানির সময়--উড অহনি--দুগ্গামন্ডপ থাইক্যা মাডি আনন লাগব, যা অহনি --
মনুকাকুর এই রূপ আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ছেনা । গলা শুনে কেউ কেউ কাছে এলো বটে, কিন্তু সবাই চুপ ।

বিয়ের মাঝ পথে যজ্ঞ হওয়ার কথা । পুরোহিত হঠাৎ মন্ডপের মাটির খোঁজ করতেই জানা গেল যে মন্ডপের মাটি আনা হয়নি । ব্যস্‌ হুলুস্থুল পড়ে গেল । আর খোঁজ পড়ে গেল আমার ।

যেন একটি ফাউ কাজের ছেলে পাওয়া গেছে । আসলে অনুরুদ্ধ হয়ে যারা আশ্রয় দেয়, পড়াশুনার সুযোগ দেয়, তারা বুঝি এভাবেই পুষিয়ে নেয় । পরবর্তীতে আমার দাদাদের ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি যে নিয়মিত গরুর ঘাস কাটা, গোয়াল পরিস্কার করা, ছোট বাচ্চা থাকলে তার পরিচর্যা বা নিচের ক্লাসের ছাত্র হলে তাকে পড়াশুনা করানো---সবই করতে হতো । অবশ্য এর বিপরীতও যে শুনি নাই এমন নয় ।

এক সময় হাতে একটি হ্যারিকেন নিয়ে আমি প্রায় মধ্যরাতে বেরিয়ে পড়েছি শুনশান আলোহীন নেত্রকোনা শহরে দুগ্গামন্ডপের মাটির জন্য । বেরোনোর সময় কানে এলো, মনে হলো কোনো বরযাত্রীর কথা হবে,---এই এত রাইতে এই পোলাডারে ফাডাইতাছুইন ?

যেতে যেতে শীতের হাওয়ার ঝাপ্‌টায় বিহ্বল আমি ভুলে গিয়েছিলাম ক্ষিদে তৃষ্ণা ভয় অভিমান সব । শুধু মা'র কথা মনে পড়াতে মাত্র একবারের জন্যই আমি কঁকিয়ে উঠেছিলাম ।

যেতে আসতে আমার সময় লাগলো বেশ । ফিরে খেয়াল করলাম সারা বিয়ে বাড়ি চুপচাপ । বোঝা গেল একটা বিবাদ হয়েছে । তখনো বুঝতে পারিনি বিবাদের কারণ আমি । বুঝতে পারলাম যখন আমাকে ছোট পিসি এসে হাত ধরে ঘরের এক কোনে নিয়ে গেল । বলল----তুই নাহি খাছ্‌ নাই? আছিলি কই ? আর এই ঠান্ডাডার মইদ্যে তুই খালি পায় ক্যান ? তরে না তর বাপে আইয়া জুতা কিইন্যা দিয়া গেছে ?--------

এমন অজস্র প্রশ্ন । উত্তরে আমি শুধু নাক চোখ মুছে গেছি জামার হাতা দিয়ে । কিন্তু কেউ আমাকে আর খাওয়াতে পারেনি । শুধু বিয়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পর বড়পিসি যখন এসে খেতে বলল তখন আর না করতে পারিনি। আসলে তার কনে-সাজ কোনের ঘরের এই আলো আঁধারিতে আমাকে বুঝি অনেকটা তরল করে দিয়েছিল ।

তারপর থেকে কেন জানিনা আমি অনেকটা আদরণীয় হয়ে উঠলাম সবার কাছে। বড় পিসির শ্বশুর বাড়ি গমনে আমাকেই তার সঙ্গী হতে হলো । এটা একটা বেশ সম্মানের ব্যাপার বলেই আমার মনে হলো । কিন্তু ওখান থেকে ফিরতে না ফিরতেই আমার বাড়ি থেকে জরুরী তলব ।

যত যাই হউক, একটা এত বড় বৈবাহিক কর্মকান্ডের অংশীদার হিসেবে আমার ধারণা ছিলো যে বাড়িতে গেলে সবাই আমার কাছে একটা বিবরণী শুনতে চাইবে । কিন্তু কোথায় কী । বাড়িতেও একটা চাপা পরিবেশ । ক'দিন পর মা'র কাছে জানতে চাইলাম যে-- নেত্রকোনা কবে যাবো । এতগুলো নতুন বই সেখানে রয়ে গেছে । স্কুলও খুলে গেছে ।

কিন্তু ক্রমশঃ যা শুনতে পারলাম তাতে আমার পড়া এবারের মত বন্ধ । মনুকাকুর বাড়িতে আমাকে আর রাখবেনা । সেখানে এখন থেকে বড়পিসির দেওর থেকে পড়াশুনা করবে । বিয়ের নাকি এটা একটা শর্ত ছিলো । নবীন এই আত্মীয়তার কাছে হেরে গিয়ে আমার মা যেন কিছুটা বিমর্ষ
তাহলে প্রিয় নেত্রকোনায় কি আমি আর যেতে পারবোনা ? দত্ত হাই স্কুল, মনতোষ, সিনেমা দেখা-----আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না । তাই মা'কে প্রায়শঃই জ্বালাতন করি নেত্রকোনা যাওয়া নিয়ে । পাশ করা সত্ত্বেও শুধু থাকার জায়গার অভাবে বছরটা নষ্ট হচ্ছে ---মা এটা একদম মানতে পারছিলেননা । (চলবে)




লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ফেলে আসা--, ফেলে আসা-- ;


















১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×