একটি সমাজ একটি জাতি বা একটি রাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক,নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং নিজস্ব সাংস্কতিক ভাবধারা ছাড়া বিশ্ব সমাজে মাথা উচু করে দাড়াতে সক্ষম হয়না।এটি একটি বাস্তব বিষয়।আমাদের আদি ইতিহাস আলোচনা করলে যে বিষয় গুলো আমাদের সামনে আসে তাতে আমাদের অতি প্রাচিন কাল হতেই আমাদের কোন সু নিদ্রিষ্ট সাংস্কৃতি গড়ে উঠে নাই।আমাদের আদি বলতে আরয্য সমাজের একটি বিষেশ সাংস্কৃতি ছিল।কিন্তু তাদের সু নিদ্রিষ্ট লক্ষ বা গঠণ গত কোন কাঠামো না থাকায় তাদের সাংস্কৃতি যেমন প্রকৃতির মাঝে বিলীন হয়ে গিয়েছে,তেমনি তাদের অস্তিত্ব আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে চিরতরে।এর পর আমাদের এই উপমহাদেশে সাংস্কৃতি নির্ববর সনাতন ধর্মের ব্যাপকতা লক্ষ করা যায়।বেদের মাঝে যেমন উপদেশের পাশাপাশি সংস্কুতির ভিবিন্ন ধারা এসেছে,তেমনি মহাভারতের স্তরে স্তরে সাংস্কৃতির আধারকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।ঢাক ঢোল বাজিয়ে পুজা অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্ববত তখনই প্রচলিত হয়।শ্রী কৃষ্ণ তার বাশির সুরে ব্যাকুল করে দিত রাধার উতালা মনকে, হিন্দু বা সনাতন ধর্মের এই সব কাহিনী অহরহ বিদ্যমান।গৌতোম বৌদ্ধের ধর্মীয় প্রচারনার সাথে সাথে সনাতন ধর্মের অনেক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড হারিয়ে যেতে বসেছিল।কিন্তু ইসলামের আগমনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারতা উত্তর-পূর্ব দিকে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।ফলে আমাদের এই অঞ্চলের সাংস্কৃতি দুই মেরুতে ভাগ হয়ে যায়।পশ্চিমাঞ্চল তথা বর্তমান পাকিস্থান ইসলামী সংস্কৃতির প্রসারতা বাড়তে থাকে আর পুর্বাঞ্চলে সনাতন তথা হিন্দু ধর্মের সংস্কৃতি বজায় থাকে।এখানে একটি বিষয় পরিস্কার যে আমাদের এই সাংস্কৃতি কর্মকান্ড ধর্মীয় আবর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।আমাদের বাংলাদেশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হবার পরও সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক উন্নত মজবুত থাকার কারনে,যেমনি ভাবে মুসলিম সংস্কৃতির প্রসারতা বৃদ্ধি পায় তেমনি হিন্দুদের সনাতন সংস্কৃতি অটুট থাকে।ভাষাগত দিক দিয়ে বাংলার অনুন্নতার কারণে আমাদের মুসলিম বা ইসলামী সাংস্কৃকিতি কেবল পুথি,জারি আর পালা গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বটে তবে আমরা কোন সু নিদ্রিষ্ট কোন সংস্কৃতি রুপ রেখা পাইনি।মহান সাধক ফকির লালন শাহ তার মানবতাবাদি দর্শণ নিয়ে মুসলিম সমাজে আগমণ করেন দ্রুবতারার মতোই।তিনি মুসলেম সমাজে একটি নবজাগরণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।তবে তিনি ইসলামী ভাবধারার সাংস্কৃতিতে ব্যাপক অবদান রাখলেও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তিনি মানবতার জন্য গেয়েছেন গান।আলেমদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তেমনি ভাবে হাসন রাজা সাংস্কুতিতে রেখেছেন অবদান।কিছু গজল,মুসলিম সাংস্কুতিক প্রেমীদের হৃদয়ের খোরাক ছিল।কিন্তু দিন দিন বাংলার মুসলিম সমাজের উন্নতি,অগ্রগতি আর সফলতার কারনে। অথবা মুসলিমজাতিকে পরাস্থ করার মধ্য দিয়ে বৃটিশরা এ দেশের তথা উপমহাদেশের ক্ষমতা হস্তগত করার কারনে,তারা মুসলিম সমাজকেই একমাত্র প্রতিপক্ষ হিসাবে ভাবতে থাকে।যার ফলে তারা যেমনি ভাবে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মুসলিম জাতিকে শেষ করার ষড়যন্ত্র করে তেমনি ভাবে মুসলিম যুবকদের হৃদয় থেকে ইসলামী তাহজিব,তমু্দ্দুন এবং বীরত্বের ইমানি চেতনাকে বিলীন করে দেয়ার জন্য বৃটেন থেকে আমদানী করে ফেশনাবল চিত্তকার্ষণ মুলক কিছু সাংস্কৃতি যা আমাদের যুব সমাজের অতিত-ইতিহাস থেকে বহুদূরে ঠেলে দিয়েছে।অপর দিকে আমাদের কিছু আলেম সমাজকে করেছে বিভ্রান্ত তাদের মাধ্যমে ঘষোনা দেওয়ানো হয়েছে যে,ইসলামী গান-বাজনা হারাম।এ ভাবে প্রায় দু শত বছরের বিরাট সময়ের ব্যাবদানে ইসলামী সংস্কৃতির রূপ রেখা আমাদের বাংলাদেম থেকে হারিয় গেছে।এ দেশের মুসলিম সমাজে এ কথা বদ্ধমুল হয়েছিল যে ইসলামী সাংস্কৃতি বলতে ইসলামে তেমন কিছুই নেই।।মুসলিম পন্ডিতদের বা ইসলামী শরিয়া রিতি নীতি অনুযায়ী হৃদয়ের খোরাক জোগাতে আসে প্রথম নজরুলের গান আর কবিতা,তিনি নিয়ে আসেন একটি নতুন গতিধারা,আলেম সমাজ তার প্রতি হন কৃতজ্ঞ।কিন্তু দেশ ভাগ হওয়ার পর আমাদের ইসলামী সংস্কৃতি চরম ভাবে মার খেতে থাকে।৭১-এ স্বাধীনতার পর উম্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির অগ্রাসনে এবং হলিউঢ আর বলিউঢের দাপটে আমাদের মুসলিম জাতিসত্তাই হুমকির মুখোমুখি এসে দাড়ায়।মন মগজ এবং হৃদয়পট হতে উদাও হয়ে যায় ইসলামী সংস্কৃতির ধ্যান-ধারনা।মুসলিম কিশোর আর যুবকদের অন্যদের থেকে আলাদা করার মতো সাংস্কৃতিক উপায় উপকরণ আমাদের সামনে অনুপস্থিত।এমনি এক সময় বাংলার আকাশে উদয় হন এক ব্যাক্তি।তিনি উপস্থাপন করেন ইসলামী সংস্কৃতির এক নবতর রুপ-রেখা,তার কলম থেকে বের হতে থাকে এক একটি অগ্নীস্ফুলিংগ।কন্ঠে ভেসে উঠে প্রজন্মের গান।হৃদয়ে ইমানের বীজ আছে এমন সব মুসলিম কিশোর-যুবকেরা যেন খুজে পায় এক নতুন ঠিকানা।তিনি আজ নেই আমাদের মাঝে,কিন্তু তিনি যে একটি নতুন প্রজন্মের জন্ম দিয়েছেন,যে ঠিকানার সন্ধান দিয়েছেন তা কি আমাদের জন্য প্রেরনার বাতিঘর নয়?মল্লিক নামের এই নক্ষত্রের চারপাশে যে তারকা গুলো উজ্জল হয়ে জলজল করতো তারা কি আর একটি মল্লিক রূপী নক্ষত্রের মতো আলোক বিচ্ছুরণ কতে পারবে না?যদি পারে তবেই মতিউর রহমান মল্লিক হবে একটি প্রজন্মের নাম।অন্যথায় ফিরে যেতে হবে ইতিহাসের পাতায়,মহাকালের গর্ভে।
আলোচিত ব্লগ
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।