somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সতর্ক থাকুন, ঠকবেন না।

১৬ ই মে, ২০১০ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মতিঝিলের ফুটপাথে তরি-তরকারি, চাউল-ডাউল, পোষাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে সকল প্রকার ফলফলাদি কিনতে পাওয়া যায়। ফুটপাথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই নৈতিক মানসম্পন্ন আবার এর ব্যতিক্রমও আছে। অফিস থেকে বের হয়ে রসনা তৃপ্তির নিমিত্তে লিচু কিনতে গেলাম। পাশাপাশি লিচুর চারটি ঝুড়ি। সব মিলিয়ে ছয় থেকে সাত জন ব্যবসায়ী। দর-দাম ঠিক হওয়ার পর বললাম, ভাই লিচু গুণে দিতে হবে। প্রায় সমস্বরে দু'জন বলে উঠলেন, এখানে আগে যে কয়জন চোর বাটপার লিচু বিক্রি করতো তারা আর নেই। পুঁজি হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। আমরা ধান্দার ব্যবসা করি না। ঠকালে কি পাপ হয় তা আমাদের জানা আছে। তাদের কথায় মনে হলো, ঈমানের আলো প্রথম আলোর যা কিছু ভালোর (?) মতই তাদেরকে আলোকিত করছে, তাই তাদের প্রতি এক প্রকার ভক্তি জন্মালো। বললাম, ঠিক আছে দেন। পলিথিনের ব্যাগে দেয়ার সময় ওদের প্রধানগোছের একজন বলল, ঐ দে, স্যারকে আরো দশটা লিচু দিয়ে দে!

মধু মাসের মধুর গরমে সিদ্ধ হতে হতে বাসায় এসে পায়ের চিহ্ন ফেলার সাথে সাথে বিদু্যত দিল ওড়াল! মন পড়ে আছে লিচুর ব্যাগে। তাই বিদু্যতের ওড়ালে মেজাজ বিগড়ে উঠেনি, নইলে গায়ে ফুসকা পড়া গরমে ডিজিটালের চৌদ্দগোষ্টি শ্রাদ্ধ শুরু হয়ে যেতো! একটা লিচুর দাম তিন টাকা! গিনি্নকে বললাম, মোম জালিয়ে মনের হরষে লিচুগুলি গনে তার পর রসনা পরিতৃপ্ত করো। একটু পরে গিনি্ন কাছে এসে চড়া মেজাজে বললো, তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে ন! বললাম, কেন? এক মেয়ে দুই ছেলে হলো কেমনে? গিনি্ন বললো, রাখো তোমার মশকরা। একশ লিচুতে আটটি কম! গনে আনলে কি প্রেসটিজ পাঙ্কচার হয়ে যেতো? ফাও দশটি লিচুর কথা গিনি্নকে আর বললাম না। মনে মনে ভাবলাম, হায় আল্লাহ ঈমানদার লোকেরা এ কাম করলো কেমনে?

উপরের ঘটনাটি গতবারের। এবার খিলগাঁও রেলগেটে একজন ঈমানদার লিচু বিক্রেতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়াজ দিচ্ছেন, একটি লিচু কম হলে দশটি জরিমানা! ক্রয় বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের পর আমি দাম পরিশোধ করতেই পলিথিনের ব্যাগে একশ লিচু ঢুকিয়ে গিট্টু দিয়ে দেয়। বললাম, ভাই গিট্টু খুলেন আর আমার দুই চোখের সামনে একটা একটা করে গণনা করেন। ফিস ফিস করে বললাম, বিবি সাহেবার গতবারের ভেংচির কথা মনে পড়লে এবারও পিলে চমকে উঠে! মন না চাইলেও আমার দৃঢ়তায় লিচু গনতে শুরু করলো বেচারা লিচু বিক্রেতা, একশ লিচুতে ছয়টি কম! তার হাবভাবে মনে হলো, লজ্জা আমারই! গনতে বললাম কেন?

পাশের আম বিক্রেতা অনেক রিকুয়েষ্ট করে বললো, স্যার, ভাল হিম সাগর আছে। নিয়ে যান। সহজে কারো রিকুয়েষ্ট ফেলতে পারি না। আর আমের রিকুয়েষ্ট তো প্রশ্নই উঠে না! আম দেখলেই মুখের পানি গঙ্গার জলের মতো কলকলিয়ে উঠে! বললাম ভাই, আমে তো মিকস্ড থাকে, তাই সবার কাছ থেকে আম কিনি না। মার্কেটিংয়ের ধরণ দেখে মনে হলো লোকটা আগে হয়তো বা ফুটপাথে ঔষধ বিক্রি করতো! তার অনন্য অসাধারণ মার্কেটিংয়ে গলে গেলাম। বাসায় গিয়ে আবার যথারীতি বিবি সাহেবার ভেংচি খেলাম। মাত্র দুই কেজি আমে বেশ কয়েকটি অন্য জাতের আম পাওয়া গেল! উচ্চ মাত্রার টক!

অফিসে যাতায়াতের রাস্তায় হওয়ায় পরের দিন জনাব আম বিক্রেতাকে বললাম, ভাই কালকের আমে তো বেশ কিছু বঙ্গোপ সাগর পাওয়া গেছে, নূনা পানির মতই মুখে দেয়া যায় নি! হা করে থাকিয়ে আছে। বুঝতে পারে নি। একটু ঝাঁঝালো কন্ঠে বললাম, আরে মিয়া আপনার এক নাম্বার হিম সাগরে অন্য জাতের আম ছিল। টকের জন্য মুখেই দেয়া যায় নি। লোকটির চেহারা দেখে মনে হলো তার সাথে আমার সতীন সম্পর্ক! চড়া গলায় বলে উঠে, ঐ মিয়া আম কি আমার গাছের নাকি? আম তো আড়ৎদারের কাছ থেকে কিন্যা আনছি। ষষ্ট ইন্দ্রিয় আমাকে সতর্ক করে দিল, 'এখানে ইজ্জত নিরাপদ নয়'। তাই কথা না বাড়িয়ে মাথা নিচু করে চলে এলাম। সবাইকে মধু মাসে একটু সতর্কতার সাথে রসনার রসদ ক্রয়ের পরামর্শ রইল।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×