রিডার্স পিক - প্রশ্নোত্তরের চমৎকার বিশ্লেষণ (কৃতজ্ঞতা নাস্তিকের ধর্মকথা)
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯
এই পোস্টে নিচের মন্তব্যটি দিয়েছেন সুব্লগার নাস্তিকের ধর্মকথা। ব্লগার প্রশ্নোত্তর তাকে ইমেইল করে বক্তব্যটি পাঠিয়েছিলেন।
বন্ধুরা,
আমি এখনো সা.ইনের প্রথম পাতায় ব্যানড! ব্যাক্তিগত কাজেও একটু বেশী ব্যস্ত। তারপরও সা.ইনে চোখ রাখার চেষ্টা করি নিয়মিত; লগিন না করেই ভিজিট করি বেশিরভাগ সময়।
আমাদের সাম্প্রতিক 'মৃদু' আন্দোলনের ফলাফল বিশ্লেষণ করতেই এই পোষ্ট।
'মৃদু' বলছি এ কারণে যে অসংগঠিতভাবে আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, তা এর চেয়ে হাজারগুন ব্যাপ্তিতে সংগঠিত হওয়ার দাবী রাখে। তবে আপনারাসহ আরো অসংখ্য ব্লগাররা যেভাবে তাৎক্ষনক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাতে এটুকু আশা বুকে জাগে যে তিন যুগের আবর্জনা সরানোর মহাকর্মযজ্ঞে কর্মীর অভাব হবে না আর কোনদিন!
কেন এ আন্দোলন?
~~~~~~~~~~~~
সা.ইনের শুরু থেকেই বাংলাদেশ-বিরোধী সুযোগসন্ধানী চক্র গোলমাল পাকিয়ে চলছিল। ব্লগিং করতে এসে এদের মোকাবেলা করতে হবে এমনটি ভাবেনি কোন 'সাধারন' ব্লগারই। 'সাধারন' কাদের এবং কেন বলি ব্যাখ্যা করছি - যারা ব্লগিং করে স্রেফ নিজের জন্য, আনন্দের জন্য, লেখালেখিতে আত্ববিশ্বাস অর্জনের জন্য কিংবা ইন্টারএ্যকশানের মাধ্যমে শুধুই সময় কাটানোর জন্য। এরা অনেকেই ধর্মভীরু, অনেকেই প্রবল ধার্মিক, অনেকেই আবার খানিকটা সংশয়বাদী, কেউবা আবার নাস্তিক। এসবই তারা ব্যাক্তিগত পর্যায়ে রাখে এবং আশা করে অন্যরাও তাই করবে। কিন্তু লক্ষ্যনীয়, বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষার প্রতি এদের মমত্ববোধ এদেরকে সবসময়ই এক করে রেখেছে। যত মতাদর্শের ভিন্নতাই থাকুক না কেন, বাংলা নিয়ে এদের আবেগ যখনই আঘাত পেয়েছে, এরা গর্জে উঠেছে। সা.ইনের বয়স তিন বছর পার হয়েছে - শুরু থেকেই এই অবস্থা চলছে। এভাবে কত 'সাধারান' ব্লগার এল আবার চলেও গেল। অনেকেই রয়ে গেল। কিন্তু বিরোধি শক্তি যেন কিছুতেই দমছে না। বাংলাকে ভার্চুয়াল ধর্ষন করেই তারা সুখ পায়! কি স্পর্ধা তাদের! যখন তখন প্রশ্ন তোলে, মুক্তিযুদ্ধের শহীদের 'আসল' সংখ্যা কত? '৭১ এ শেখ মুজিব কেন পাকিস্তানে ছিল? কেন পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিবাহিনী বাদ দিয়ে ইন্ডিয়ার কাছে সারেন্ডার করেছিল? কেন উসমানীর বদলে এ.কে. খন্দকার সারেন্ডার অনুষ্ঠানে এসেছিল? প্রশ্নের পর প্রশ্ন! প্রশ্নের সিরিজই পোষ্ট করতে শুরু করলো 'যুক্তুবাদী' রাজাকারেরা! আর দলে দলে ছুপা রাজাকারেরা গিয়ে বাহবা দিতো আর নিজেদের মনের প্রশ্নও উপস্থাপন করতো। কাঁহাতক আর সওয়া
যায় এই ধৃষ্টতা! সংগবদ্ধ হল কিছু সাধারন ব্লগার, জন্মালো 'এ টিম'। এ টিম লেখা লেখি কমিয়ে দিয়ে এগিয়ে গেল রাজারার প্রতিরোধে। এভাবেই দিন চলছিল।
ব্লগের যেখানেই রাজাকারি চেতনা সেখানেই এ টিমের গর্জন! বদলে গেল বিরোধিদের স্ট্র্যাটেজি - চলে এল ইসলাম! দ্রুত কিছু ব্লগার বুঝে গেল মধ্যপন্থায় লাভ বেশি! এই মধ্যপন্থীদের দলে ভীড়ে গেল জামাত-শিবির-আল-বদর- আল-শামস। শত্রু চেনা কঠিন হয়ে উঠল! অথচ আমায় মায়ের বিরুদ্ধে অনাচার যেন বেড়েই চলছে। কি করা যায়! হাত মুঠিবন্ধ করে বেহুদা আস্ফালনে যেন আর অপমান কাটছিল না! গালি দিয়ে যদি একটু প্রকাশ করা যায় তীব্র ঘৃনা! রাজাকার দেখলেই গালি আর থুঃ - তুই রাজাকার। পালটে জবাব দিল ওরা - তুই মুক্তিযুদ্ধ
ব্যবসায়ী। তো এই তাহলে সমীকরন! বিভক্ত হয়ে গেল কমরেডরাও; আফসোস! ধর্ম আর রাজনৈতির ভিন্নতাকে আবার চমতকারভাবে ব্যবহার করতে শুরু করল রাজাকার বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কিছু বললেই সে আওয়ামীলীগ, নাস্তিক, ধর্ম- বিদ্বেশী - নানা তকমা। ব্যাক্তিগত ভাবে যারা আওয়ামীগীলের বিরোধী তারা বিভ্রান্ত হল, যারা প্রবল ধর্মভীরু তারাও বিব্রত হল। সফল হল 'ডিভাইড এ্যান্ড রুল' প্রিন্সিপাল যা এই বেজন্মাগুলো শিখেছিল বিলেতিদের কাছে।
জানুরারির ৭/৮ তারিখে চরম হয়ে উঠল পরিস্থিতি। 'পরিকল্পিতভাবেই' শুরু হল আক্রমন। লক্ষ্য করুন বল্ধুরা, আমি বলছি পরিকল্পিত। অভিযাত্রী, বুড়া শাহরীয়ার, নাবিক এরা সবাই ছিল এই পরিকল্পনায়। যাক সেকথা, সবাই আপনারা
জানেন এরপর কি হলো।
'মৃদু' আন্দোলনঃ
~~~~~~~
পরদিন আরিল্ড আর নোটিশবোর্ড জানালো তাদের উষ্মা! আরিল্ড নিজেই নাকি একের পর এক পোষ্ট মুছছিল! আমার পরপর ৫টা পোষ্ট ছাড়ার ১ মিনিটের মাথায়ই উধাও হয়ে গেল; প্রথম পাতায় ব্যানড হলাম। আমার আরো নিক আছে - জাগালাম। চলল
প্রতিবাদ। অসংখ্য সহযোদ্ধার প্রতিবাদে স্থবির হয়ে উঠল সা.ইন.। কলম/ কীবোর্ড বিরতিতে অংশ নিলেন সবাই, ধারন করলেন কালো ব্যাজ। এই সুযোগে চেনা হয়ে গেল who is who! ধরা পরল সব মধ্যপন্থী দালাল। আবারও উস্কানী দিতে
শুরু করল বাংলাদেশ বিরোধী দল। সহযোদ্ধারা শত উস্কানীর মুখেও সতর্ক লড়াই চালিয়ে গেলেন।
মাত্র দুটো ছিল দাবীঃ
১) সহযোদ্ধা ব্লগারদের আনব্যান।
২) সা.ইনের নীতিমালা সংশোধন - বাংলাদেশ বিরোধীতা ঠেকাতে এক্সপ্লিসিট রুলস আরোপ এবং তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করন।
ব্যাস, এই! আর কিচ্ছু না। আসলে আমাদের প্রানের দাবী ৩ বছরে সংশধিত পরিমার্জিত হতে হতে মাত্র এই দুই মৌলিক দফায় এসে ঠেকেছে।
পক্ষান্তরে, কর্তৃপক্ষের রেসপন্স কি? এক সপ্তাহের ব্যান কার্যকর থাকবে - ব্যাস। নীতিমালা সুংশোধনের ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক কোন বক্তব্যই পাওয়া গেল না। অহংকারে অটুট থাকল তারা।
আন্দোলনের ফলাফলঃ
~~~~~~~~~~
ঠিক এক সপ্তাহ পরে আনব্যান করা হল ব্যান্ড ব্লগারদের। ঠিক এক সপ্তাহ - লক্ষ্য করুন বল্ধুরা, এমনই বলেছিল কর্তৃপক্ষে। অনেকেই ভার্চুয়াল হাততালি দিতে শুরু করলেন। যুদ্ধের জয় উদযাপন করতে শুরু করলেন। খুলে ফেললেন কালো ব্যাজ।
আন্দোলনের ফলাফলঃ ঘোড়ার আন্ডা!দুই দফার একটিও পূরণ হয়নি।
হায়! আমরা কবে হিসেব করে নিজের লাভ-লোকসান বুঝতে শিখবো! আন্দোলনের ফলাফল যে শূন্য তা যেন সহযোদ্ধাদের কেউই বুঝল না। ঠিকই বুঝল শত্রুপক্ষ। জানালো না, চুপচাপ তারা শুরু করল আগের কৌশলে প্রচারনা। আপাতত পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতেই চাইছে তারা, তাই মূলত ইসলামিক পোষ্ট - নয়া নয়া নিকে আমদানী করতে
থাকলো ইসলামী ডায়েরি আর হাজী শরীয়াতউল্লাহ। শুধু মাঝে মাঝে নাড়া দিয়ে অবস্থা যাচাই করে। আর আমরা? আবার লেগে পরেছি প্রেমের কবিতা আর পরচর্চায়।
ফাঁদে প্রথম পা দিল অমি পিয়াল। হাশেম পোদ্দার অমির স্ত্রীকে নিয়ে তেরছা ইঙ্গিত করল, দেখল অনেকেই কেউ কিছু বলল না। অমি গালি দিল, ব্যাস - ব্যান।
টানা এক সপ্তাহ ধরে বলবত থাকল অমির ব্যানাজ্ঞা। মুছে গেল অমির সব পুরোন পোষ্ট! অমির দোষ কি? অমিকে কেনই বা দোষ দেব? আমার স্ত্রীকে নিয়ে বললে আমি নিজেও আঙ্গুল চুষতাম না। মিরাজের স্ত্রীকে নিয়ে বললে মিরাজ কি করতো কেউ কি অনুমান করতে পারেন?
আন্দোলনে কার কি লাভ হলোঃ
~~~~~~~~~~~~~
১) শত্রুপক্ষের লাভঃ চমতকার প্রচারনা পেয়ে গেল। তার চেয়েও বড় লাভ হলো গালিবাজ বলে একটা পক্ষের উপস্থিতি প্রমান করে দিল - যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলে, তারা স্বভাবতই গালিবাজ! এই কাজে তাদের পক্ষে বিনা পয়সায় শ্রম দিল সুশীল সমাজ; প্রতিষ্ঠিত করে দিল তারা গালিবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযুদ্ধ পক্ষ শক্তি - মূলধারা! মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ কখনো গালি দেয় না! সুশীল দালালেরা বিভক্ত করে দিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষকে।
এ যেন বিএনপির মূলধারা আর সংস্কারপন্থী ধারা!
২) সা.ইনঃ 'বেনিয়া ব্যাবসায়ী চায় কড়ির আওয়াজ শুনতে, আমার ধর্ষিতা মায়ের আর্ত চিতকার সে শোনে না!' - কথাটা শতভাগ খাটে এদের ক্ষেত্রে। বিনা আয়ের ব্লগসাইট কেনই বা তারা চালাবে যদি লাভের কোন সম্ভবনাই না থাকে! হক কথা।
তো কি সেই লাভের সম্ভবনা? বন্ধুরা আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই সিডরকালে সা.ইনের সেই 'ঐতিহাসিক' মোবাইল চ্যারিটি ক্যাম্পেইন ‘জাগরণের’ কথা। কত লাখ টাকা উঠেছিল? বাধ ভাঙ্গার আওয়াজ কত ডোনেট করেছিল? আসলে কি সেটা ছিল ডোনেশান নাকি মার্কেটিং এক্সপেন্স? কিসের মার্কেটিং? আচ্ছা যারা মার্কেটিং এ আছেন বলতে পারেন, মোবাইল ভিত্তিক কোন প্রডাক্টের মার্কেটিং করতে গিয়ে ১ লাখ টার্গেট কাস্টমারের কাছে এ্যাডভার্ট পৌঁছাতে
কত টাকা খরচ করতে হবে? ৫ লাখ? ১০ লাখ? কতটা সময় লাগবে একটা নিশ আইডিয়ায় কাস্টমারদের অভ্যস্ত করতে? ২০-৩০-৫০ হাজার টাকায় ১ সপ্তাহে যদি এটা করা যায় তবে কি আপনারা তাজ্জব হবেন? উঁহু, প্লীজ হবেন না। সা.ইন. ঠিক এমনটাই পরিকল্পনা করেছিল যখন বাংলাদেশ কাঁপছিল সিডরের তান্ডবে। মোবাইলে ফান্ড
ট্রান্সফার করে মোবাইল কমার্স শুরু করার জন্য বাংলাদেশ চমতকার একটা মার্কেট। ৩ কোটির ওপর মোবাইল ইউজার, তার উপর লার্জ কনজ্যুমার বেস। সা.ইন. কেন নেবে না এই সুযোগ! তার ওপর যখন আস্ত একটা মোবাইল কম্পানি আছে তাদের ফেভ্যারে! সুযোগ নিক। তারা না নিলে অন্য কেউ নিক, বাংলাদেশে চালু করুক এম- কমার্স। কিন্তু তার জন্য কি ন্যুনতম মনুষত্যবোধও থাকবে না! অসহায় সিডর
আক্রান্ত মানুষগুলোর ভাগ্য নিয়ে বানিজ্যের প্রচার? একি চ্যারেটি? জাগরন ক্যাম্পেইনে কেন 'একটি মোবাইল থেকে একটি মেসেজ' নীতি ছিল, তা আশা করি এবার পরিষ্কার হয়েছে।
জাগারনের ব্যাপারটাকে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ভাববেন না দয়া করে। আজ যে রাজাকার রাজাকার চেচামেচি শুনছেন ব্লগজুড়ে, এতে কার লাভ সবচেয়ে বেশী?
সা.ইনের নয়? যত চেচামেচি তত নিয়মিত ভিজিটর! দ্রুত ট্র্যাফিক আনতে এবং ধরে রাখতে এর চেয়ে সস্তা, সহজ আর কার্যকর পন্থা কি আর আছে? নেই। যত হিট তত মার্কেটিং। রেডিও ফুর্তি এখানে সেভাবে টেকেনি, কারন কি? ‘আওয়াজ’ বানিজ্য করতে পারেনি কারন কি? আমরা না ভাবলেও ব্যবসায়ী মালিকরা তা নিয়ে ভাববেন না এমনটা যেন কেউ মনে করবেন না। তারা ভাবছেন – এবং এ্যাকশান নিচ্ছেন। তারা প্রস্তুতিও নিচ্ছেন – ট্যাকনিক্যাল এবং বিজনেস পার্সপেক্টিভ থেকে। এবং রাজাকার তোষন স্রেফ একটা উপায় মাত্র। সময়ের ব্যবধানে এরাই হইয়ে উঠবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু। ব্যাপারস না! এদের চিনে রাখুন।
৩) আন্দোলনকারীদের লাভঃ এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। আমাদের কি লাভ হয়েছে? এই বিষ্ঠা পরিস্কার করতে না হলে হয়ত আমাদের মধ্য থেকেই বের হত অনেক কবি, লেখক, তার্কিক। বাংলা বলগ উজ্জীবিত হত সুলেখনীতে। কিন্তু সব জলাঞ্জনি দিয়ে আমরা যে রাজাকার খেদানোতে লেগেছি আমাদের ফায়দাখানা কি?
এই আন্দোলন আমাদের দিয়েছে কি? আগেই বলেছি শূন্য। আন্দোলনের মূল দুই দফার একটিও কার্যকর হয়নি। আমাদেরকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সা.ইন. যেমন ছিল তেমনই আছে। তবে বদলে গেছি আমরা। এটাই আমাদের মূল লাভ। আমরা এখন জানি পক্ষ কয়টা; প্রতি পক্ষে দল-উপদল কয়টা। তাদের স্বরূপ কি! জানি কারা মুখোশ পরে আছে, আর কারা তরবারী লুকিয়ে রেখেছে পেছনে। আমরা এখন জানি আমাদের সাথে আছে কারা কারা। আমরা এখন অনেক বেশি সতর্ক, সংগঠিত। আমরা এখন জানি কিভাবে আমাদের
বিভক্ত করা হয়। আমরা জানি আমাদের দুর্বলতা কোথায়। আমরা জানি কি করে উস্কানীতে সতর্ক থাকতে হয়। আমরা জানি এই অন্ধকারের শেষ আছেই। আর আমরাই প্রথম সারিতে থাকব যারা আলোর পথ দেখাবে নতুন প্রজন্মকে।
এ আমাদের প্রজন্মের দায়ভার। এ দায় মেটাতেই আমাদের অহর্নিশ প্রতিরোধ।
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।
লেখক বলেছেন: আমি জানি না।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
গতকাল কে যেন বলেছিলো: "কয়জনকে ব্যান করবে কর্তৃপক্ষ? যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া জাতি আমরা। কথাটা ভুলে গেলে চলবে না।"
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
এটা আমার লেখা না,
এর আগের কমেন্ট পড়েন নি?????
এটা প্রশ্নোত্তর আমাকে মেইল করেছিলো.............
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। তথ্যটি পোস্টে আপডেট করেছি।
রাহুল বলেছেন:
ব্যানড?লেখাটা প্রথম পাতায় গেলো কি ভাবে????
লিখাটা ভালো হইছে।
"এ আমাদের প্রজন্মের দায়ভার। এ দায় মেটাতেই আমাদের অহর্নিশ প্রতিরোধ।
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।"
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আমি এখনও প্রথম পাতায় ব্যানড হইনি----
তবে, সা.ইন থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনের কথা ভাবছি......
এবং সা.ইনের এই অবস্থাকে কোনমতেই মেনে নিতে পারছি না.......
আরিফুর রহমান বলেছেন:
Credit to প্রশ্নোত্তর then!
মদনবাবু বলেছেন:
পোস্টটার আয়ু গুনতেছি
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমাদের হয় এই সাইট কে ক্লিন করতে হবে, অথবা অন্য কোন প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। কিন্তু যেখানেই যাবো, সেখানেই শকুনের নজর পড়বে।
সুতরাং চলে যাওয়া মানে ...
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
certainly@আিরফুর রহমান, প্রশ্নোত্তর ক্রেডিট নিয়ে কি করবে?? আসলে- পরিস্থিতিটি মোটের উপর যা হয়েছে- সেটা কোন মতেই মেনে নেয়া যায় না.......
@পান্থ বিপুল, দয়া করে পোস্টের শিরোনাম থেকে আমার নামটি সরান.......
লেখক বলেছেন: শিরোনাম এডিট করলাম। আশাকরি বর্তমান শিরোনামে আপনার আপত্তি নেই।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
certainly@আিরফুর রহমান,
কিন্তু প্রশ্নোত্তর ক্রেডিট নিয়ে কি করবে?? আসলে- পরিস্থিতিটি মোটের উপর যা হয়েছে- সেটা কোন মতেই মেনে নেয়া যায় না.......
@পান্থ বিপুল, দয়া করে পোস্টের শিরোনাম থেকে আমার নামটি সরান.......
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমার যদি পোস্ট স্টিকি করার ক্ষমতা থাকতো তবে এই পোস্টটাই থাকতো।
রাশেদ বলেছেন:
++
পরশ পাথর বলেছেন:
+++++++
অনেক আগের একটা কথা মনে পড়ছে। সালমান রুশদী মাত্র The Satanic Verses লিখেছেন। সারা দুনিয়া জুড়ে মুসলমানেরা বিক্ষবে ফেটে পড়ছে এই লেখার প্রতিবাদ জানাতে। সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বড়সড় মিছিল হচ্ছিল সেই একই মর্মে - সালমান রুশদীর ফাঁসী চাই!!!
সেই মিছিলের একজনকে ডেকে আমি কিছু কথা বলেছিলাম - সে বইটা পরেছে কি না, বা বইতে কি আছে বা কি নেই, এই সব ব্যপারে কথা বলার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, সে তেমন কিছুই বলতে পারেনি এবং জানার তেমন কোন ইচ্ছাও তার ছিল না সেটা আমাকে জানিয়ে দিতে এতটুকুও বাধেনি তার।
বেসিক কথা - কথা বলতে চাইলে, কথা বলতে দিতে হবে। Unban সবাইকে করতে হবে। শুধু স্বাধিনতার পক্ষের শক্তিকে নয়। নিজের বক্তব্যের অসারতার কারনেই সে বিদায় নেবে সুন্দর সমাজ থেকে - ঝেটিয়ে বের করে দেওয়ার চেয়ে কম কি? তাই না?
এই দেশের জন্মের মতই, এই ব্লগের জন্ম থেকেও ঐ ব্যাতাদের খুচখুচানী চলছে... তাতে কি? Who gives a damn about them! কিন্তু, আমাদের reactions say different things... we act as if we are the ones needing justifications!!!
আশা করি আমার পয়েন্টটা বুঝাতে পারলাম কিছুটা।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আইকোনাস, রাজাকাররা কি কেউ ব্যান হয়েছে যে আনব্যান করার প্রশ্ন আসলো?
@ আরিফুর রহমানঃ Unban করার ব্যপারটা figurative. দাবী গুলো কি ছিল মনে আছে আপনার? না থাকলে লিখছিঃ
১) সহযোদ্ধা ব্লগারদের আনব্যান।
২) সা.ইনের নীতিমালা সংশোধন - বাংলাদেশ বিরোধীতা ঠেকাতে এক্সপ্লিসিট রুলস আরোপ এবং তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করন।
দুই নম্বরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বন্ধু আইকোনাস,
প্লিজ- ব্লগারদের ইমোশনটি একটু বুঝার চেস্টা করো....
প্রথম কথা হলো- জামাত যুদ্ধাপরাধ করেছে- ৭১ এ খুন-ধর্ষণে লিড দিয়েছে- এবং এখনও বিচার ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছে- স্বগৌরবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে........
এটা আমরা যারা মানতে পারি না- তারা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা কর্তব্য মনে করি........
এখানে তাদের সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ যখন করতে চাই- এমনকি এই ব্লগেও যখন তাদের ব্যান দাবি করি- তখন সেটা সেই সংগ্রামেরই একটা ধাপ মাত্র,...... এবং এই সংগ্রামকে কোনমতেই যুক্তি হীন মনে করি না-......
দেখেন- মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো নাগরিক/রাজনৈতিক অধিকার- কিন্তু আমরা তো গোআকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবেই স্বীকার করি না, ফলে- তার আর নাগরিক অধিকারকে স্বিকার করি না- এবং গোআর বিশাল চাদ বদন ছবি নিয়ে শ্রদ্ধায় গদগদ পোস্ট দেখতে চাই না এই ব্লগে- তার বিরুদ্ধে পাল্টা পোস্ট দিয়ে যুক্তি করতে রুচিতে বাধে- তার তো প্রাপ্য শুধু থুতু......
আরিফুর রহমান বলেছেন:
হমম... রাষ্ট্রদ্রোহীতা বনাম বাকস্বাধীনতা। আপনি উদার, মানি, কিন্তু এটা একটু বেশি হয়ে গেল।
@ আরিকুর রহমানঃ এক ই কথা... কিন্তু এখানে উদার হবার কথা আসলো কোথা থেকে? আমরা গনতন্ত্র নিয়ে কথা বলি, অথচ সেটার selective চর্চা করি... এটা বুঝার চেষ্টা করছিলাম। গত তিরিশ বছরের দেশের ইতিহাসের এই দিকটাই সবচাইতে ন্যক্কার জনক যে আমরা non-secular দের রাজনীতি করতে দিয়েছি। সেখানে যদি এই rehabilitation না চলতো, তাহলে আপনারাও ব্লগীয় জামাতীদের নিয়ে অত চিন্তা করতেন না। সেই জন্য অন্য পোস্টে আমি লিখেছিলাম, ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধ করা উচিত, আর সেটাই যুদ্ধাপোরাধীদের বিচারের প্রথম ধাপ... ব্লগে ওদের ব্যান করে কি হবে?
আপনাদের অনুভুতি আমি বুঝি না - সেটা মনে হয় ঠিক না। এদেশের হাজারো পরিবার হাজারো মানুষ হারিয়ে গেছে ঐ ব্যাটাদের কর্মকান্ডে - আমি আর আমার পরিবার ও মনে হয় সেটা থেকে ব্যতিক্রম কিছু না। কিন্তু, আমার মনেয় হয় - আমি আপনাদের tactical process এর সাথে পুরোপুরি একমত নই। এটাই বলতে চেয়েছিলাম।
প্রণব আচার্য বলেছেন:
++
মুকুল বলেছেন:
*****
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন:
আপনি ব্যান এ বিষয়টি আমি জানতাম না। এ জন্য ক্ষমা চাই। জানলে অনেক আগেই এ আন্দোলনে শরীক হতাম। আসলে আমি জানিনা এ সকল দেশবিরোধীদের কী এমন আশ্চর্য ক্ষমতা যে সা.হো তো দূরের কথা আমাদের সরকার পর্যন্ত এদের তোয়াজ করে চলে। আপনার কোনো লেখাই ব্যান করার পর্যায়ে পড়েনা। কিন্তু যে দেশে পরমত সহনীয় নয়, দেশবিরোধীদের তোষণ ও লালন করা হয় সেখানে আপনার ব্যান অত্যাশ্চর্য কিছু নয়।
অবিলম্বে আপনার আনব্যান চাই।
অনামিকা বলেছেন:
+++++
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন:
আবারও পড়লাম। সত্যিই আমরা সবসময়ই বিভক্ত। শত্রুপক্ষ সংখ্যায় অল্প হলেও সংগঠিত। এটা তাদের প্লাস পয়েন্ট।আমাদের বিভক্তি দূর করতে হবে।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
প্রশ্নোত্তরের বিশ্লেষণে ঝাজা। সংযুক্তি যেটুকু কেনো মনে হচ্ছে সামহোয়ার পক্ষপাত করছে? এটার উত্তর পোস্টেই খানিকটা আছে, খানিকটা দিয়েছেন রাগিব। সামহোয়ারের ব্যবসা অনেকখানি হিট নির্ভর। সেই হিট বাড়ানোর উপায় একটাই বিতর্ক জিইয়ে রাখা। আর সেটা করার উপায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তিকে গুতানো এবং বিরুদ্ধপক্ষকে যত্ন করে বসানো। ব্যান করলেই আন্দোলন- তার মানে হিট। ছাগুরামরা বিতর্কিত পোস্ট দিলেই হিট। তবে কর্তৃপক্ষের উচিত হবে সতর্ক থাকা। একটা কথা শুনেছিলাম যা প্রাসঙ্গিক, ভাবার্থটুকু মনে আছে বলে হুবহু দিতে পারলাম না- আপনি একজনকে অনেকদিন বোকা বানাতে পারেন। অনেককে কিছুদিনের জন্য বোকা বানাতে পারেন। কিন্তু বেশীদিনের জন্য নয়। শুরুর একজন এবং এই ব্লগের নাড়ির টানেই আশা করি আপনাদের বর্তমান মার্কেটিং পলিসি যেন আত্মঘাতি না হয়। সুপারিশ করি শুরুর সেই সুন্দর পরিবেশ। মানুষ এখানে রাজনীতি করতে আসে না (জামাতিরা ছাড়া) এটা বিশ্বাস করলেই আপনাদের উদ্ধার। বাকিটা বলে দেবে সময়।
দিগন্ত বলেছেন:
দেখুন আমি যখন বছরখানেক আগে সা-ইনে লেখা শুরু করি, তখন আমার মুক্তিযুদ্ধ/রাজাকার নিয়ে বিশেষ একটা ধারণা ছিল না, এখন অল্প অল্প হয়েছে। তাই আমি কিছু সাজেশন দিতে পারি - অপ্রাসঙ্গিক মনে হলে দুঃখিত।আমার মনে হয় না লড়াই ছেড়ে দিয়ে কেউ কখনও সফল হয়েছে। সুতরাং, লড়াই চালিয়ে যান, স্বেচ্ছাবসার নেবেন না। এ জন্য, দরকার হলে পৃথক ব্লগ-সাইট খুলে বা সা-ইনে ধৈর্য ধরে যুক্তি দিয়ে মত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যান। সফল সবাই সবসময় হয় না, ফলের জন্য চিন্তাও করবেন না। চেষ্টাই বড় - ফল নয়।



















সত্যই ব্যানড?