
আত্মার কোন উপসংহার নেই
অলিন্দবিপ্লব শেষে শালপাতার ভেতর শুঁয়োপোকারা ঘুমিয়ে যায় বিষে।কি ভয়ংকর তোলপাড়!ধমনি অবিরাম টানে ছিঁড়ে গেলে আমরা পরস্পর হতে দুরে প্রকট হয়ে উঠেছিলাম।সাতাশ নাম্বার সড়ক ধরে অবিরাম হেঁটে গেলেও বিমূর্ত অভিমান ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনতো দেয়াল।
আমাদের জানালার চৌকাঠে একটা শেয়াল ডেকে উঠেছিলো সেদিন।মুগ্ধ কংকালঘাসবনে সারি সারি চাষ ছিলো আর ছিলো তপ্ত নিঃশ্বাস....
আমরা হলুদ পাতা হবার আগেই বাতাসের প্রকৃতি নির্ণয় করে নিয়েছিলাম।
বাতাসপোকা বাসা বেঁধেছে লাশবন্দী ঘুমঘরে...আজ তোমায় বলতে ইচ্ছে করে বর্ণ ও বর্ণমালা..নীলপুরান।
আজ কি দোয়েলের উষ্ণতায় নামাবে না যুদ্ধ?ক্রমশঃ আমাদের চোখ মৃতমাছি হয়ে উঠে।একই আকাশ তলে;দুই দিগন্তে....মৃতমাছির হাপিত্যেস ফুরিয়ে গেলে চায়ের গেলাসে পঞ্চমাত্রার সমীকরণ সৃষ্টি হয়..আমরা রোজ ঝড় বুকে বাড়ি ফিরে যেতাম..একদিন আমরা ই ঝড় হয়ে গেলাম....প্রলয় হলাম..প্রিয়তা হলাম...আর একদিন ঝড়ে হারিয়ে গেলাম......
আজাদ তোর চেতনাস্ত্র আমায় ভিক্ষে দে...
জাতির ঈশ্বর আড়ালে রামদায় ধার কেটে কেটে যায়।নিউরণ সেল ফেটে পড়ে আমার অসম্ভব ক্রোধে!যাচ্ছে!যাচ্ছে!সব নষ্টদের অধিকারে.....
মোড়ের লাইটপোস্টের নিচে জবুথবু পথকিশোরীর সম্ভ্রম হারালে ওমাথার আকাশ বাসায় আধনিক যোনীতে ঈশ্বর ও ঈশ্বরপুরান ঢুকে যায়।গলা কেটে গেলে কোন সাধারণের;মিছিল নামে..তারপর ভুলে যাই...আমরাও ...ঈশ্বর ও...
চারপাশে মৃত্যুর বারুদ।চেতনার আগুন চাই,আজাদ,চেতনার আগুন চাই...
তথাকথিত যীশু নিপাত যাক বাকিসব সব সমেত।কোরান বাইবেল পুরান গীতা পিটক আমি আগুনে পুড়িয়ে দেব।প্রস্তর আর মানে না নিউরণ।মুক্তির গান চায় সে,আজাদ,মুক্তির গান..
তোর চেতনা কে বানাবো মুক্তির ঈশ্বর আমার..তোর মলাট হবে কোরান-বাইবেল-গীতা-পিটক....আজাদ,আমায় শুধু একবার চেতনা ভিক্ষে দে.....

[২৭শে ফেব্রুয়ারি,২০০৪ বইমেলায় ঘাতকের হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিলেন হুমায়ুন আজাদ।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

