somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজওয়ান
ছেঁড়া পাতায় কথামালা

সুনিতা পালের সুলুক সন্ধানে

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান বাংলাদেশে, বিশেষ করে ট্যাবলয়েড পত্রিকার জগৎে সেনসেশনাল নাম হচ্ছে তথাকথিত সাংবাদিক সুনিতা পাল। উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে তার একের পর এক জ্বালাময়ী লেখায় মতামতের ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি সাংবাদিকরাও বলছেন যে কোন সূত্র না উল্লেখ করেই যে উনি যেসব মনগড়া কথা লিখছেন তা কোনমতেই সাংবাদিকতার আওতায় পড়ে না।

সুপ্রিয় পাঠক, এখন আমরা জানার চেষ্টা করব আসলে তিনি কে? অ্যামেরিকান ক্রনিকল নামক অনলাইন ম্যাগাজিনে তিনি নিয়মিত লিখে থাকেন। সেই ওয়েবসাইটে দেয়া তার প্রোফাইল অনুযায়ী ১৯৫২ সালে ভারতের কোচিনে তার জন্ম।

কিন্তু একটি যায়গায় এসেই খটকা লাগে:

"Born as a deaf and dumb, Sunita Paul decided to use pen in expressing herself. "

কেমন যেন উপন্যাসের মত শোনায় না? আমাদের উপমহাদেশে একজন নারী বোবা কালা হয়ে জন্মালেন আর কলমের সাথে তার মত প্রকাশে ব্রতী হলেন। তিনি প্রতিবন্ধী হয়ে সমস্ত পলিটিকাল সায়েন্স আর সাংবাদিকতায় তার দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন আর দু:খের বিষয় হচ্ছে এই বিরল কৃতিত্বের সংবাদটি আমরা কোথাও খুঁজে পাইনা। তার লেখা বিশটিরও অধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত ছাপা হচ্ছে, অথচ তার নিজের সম্বন্ধে একটিও লেখা নেই।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল ২০০৫/২০০৬ এর আগে সুনিতা পালের খবর কেউ শোনেনি।

আব্দুল বাতেন লিখেছেন:

"তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় বিশেষজ্ঞ বলা যায়। বাংলাদেশ নিয়ে লিখেছেন অনেক। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশ বিষয়ে এহেন একজন বিশেষজ্ঞের কথা কেন আমরা এতদিন জানতাম না। হোন তিনি বাংলাদেশ বিরোধী একজন লেখক কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ নিয়ে এত ধারণা যার তার বিষয়ে কিছু খোঁজখবর তো আমাদের কাছে থাকার কথা ছিল। "

বাংলাদেশ বিষয়ে এমন জানাশোনা যে ব্যক্তির বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তার কিছু না কিছু যোগাযোগ তো থাকতেই হয়। স্বাভাবিক এই প্রশ্ন থেকেই আবার অনুসন্ধান চলে। যোগাযোগের সূত্রটি কিছুটা বের হয়ে আসে। বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। ইংরেজি পত্রিকাটির নাম উইকলি ব্লিটজ।http://www.weeklyblitz.net/ ব্লিটজ পত্রিকাটির সম্পাদক সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী।

সুনীতা পাল এই শোয়েব চৌধুরীরর পত্রিকার নিয়মিত লেখেন। আরও মজার বিষয় শোয়েব চৌধুরীকে নিয়ে তিনি একাধিক লেখা লিখেছেন। আরও মজার বিষয় হলো, সুনীতা পাল যেসব পত্রিকায় লেখেন যেমন আমেরিকান ক্রনিকল বা গ্লোবাল পলিটিশিয়ান সেসব পত্রিকার নিয়মিত লেখকদের মধ্যে সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী অন্যতম। সুনীতা পাল ও সালউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর লেখার বিষয়, আগ্রহ প্রায় একই। সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী যেখানে বাংলাদেশ বিষয়ে নরম, সেখানেই সুনীতা পাল কঠোর। সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ও সুনীতা পাল দুজনেই চান বাংলাদেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিক এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করুক।

সুনিতা পাল এও বলেছেন যে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিৎ

এখন দেখা যাক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী লোকটি কে।

তার বায়োডাটায় দেখা যায় ১৯৯৫-১৯৯৯ পর্যন্ত তিনি এ-২১ টিভি চ্যানেলের এমডি ছিলেন। সেই টিভিটি ছিল বর্তমানে পলাতক মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের। তিনি ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন ২০০১-২০০২ সালে। তিনি শাহরিয়ার কবিরকে মোসাদ এজেন্ট বলে গালিগালাজ করেন তখন। তার তখনকার আর্টিকেল গুলো পরলেই তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বোঝা যায়। উনি তারপর ইনকিলাব টেলিভিশনের শেয়ার কিনে তার ডাইরেক্টর হন। কিন্তু তার পর টাকা পয়সা নিয়ে অন্যান্য ডাইরেক্টর, যারা তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন, তাদের সাথে গোলমাল লাগে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় ও গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী হয়।

এর পর ২০০৩ সালের নভেম্বরে তাকে বিমান বন্দরে গ্রেফতার করা হয় ইজরায়েলে যাওয়ার প্রাক্কালে । তার কাছে কাগজপত্র ছিল যে তিনি ওখানে একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আপনার যদি বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকে তাহলে দেখবেন যে সীল মারা আছে যে একটি দেশে শুধু আপনি যেতে পারবেন না তা হলো ইজরায়েল। অর্থাৎ তাকে ওই ক্লজে গ্রেফতার করা হয়। যদিও আগেই প্রভাবশালী একটি মহল উপরোক্ত কারনে তার উপর ক্ষেপে ছিল। তাকে এরপর জরুরী ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয় ও রাষ্টদ্রোহীতার মামলা করা হয়।

এরপর আন্তর্জাতিক এক চক্র তার মু্ক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় যার অগ্রভাগে ছিলেন ড: রিচার্ড বেনকিন । এই আমেরিকান ইহুদী লবিইস্ট শোয়েবের মুক্তির ই্স্যুতে বিভিন্ন খানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেখা শুরু করেন। মজার ব্যাপার হলো ২০০৬ সালে তাকে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার লবিইস্ট হিসেবে নিয়োগ দান করে

সালাউদ্দিন শোয়েব বর্তমানে বিচারাধীন তবে মুক্ত। তার বিচারের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে বাংলাদেশী সংবাদপত্রগুলো মৌণ থাকলেও ইজরায়েলী সংবাদপত্রগুলোকে সরব দেখা যায়।

সাজ্জাদ জহির যুক্তি দেখিয়েছেন যে সুনিতা পাল সালাউদ্দিন শোয়েবেরই ছদ্মনাম । আবার অন্যেরা বলেন যে তিনি বেনকিনেরই একটি সৃষ্টি এবং সুনীল নামের এক ভারতীয় নিউইয়র্ক থেকে এই ছদ্মনামে লিখে যাচ্ছেন।

এখন আমরা আবার আসি সুনিতা পালের লেখা প্রসঙ্গে। তিনি তার লেখায় যুক্তি ছাড়াই অনেক মতামত (কোন উৎস উল্লেখপূর্বক) দিয়ে থাকেন যা সবাইকে বিস্মিত করে। একজন বোবা কালা মহিলা কিভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে এত তথ্য পাচ্ছেন দেশের বাইরে থেকে এবং নিয়মিত (প্রায় প্রতিদিন) তা নিয়ে লিখেছেন সেটি বিস্ময়ের ব্যাপার। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশী আমেরিকান ব্লগার ম্যাশ প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন যে সুনিতা পাল তার ব্লগের লেখা থেকে কিছু অংশ বেমালুম মেরে তার আর্টিকেলে তুলে দিয়েছেন ম্যাশের কোন উল্লেখ ছাড়া। এরকম কত যায়গা থেকে তার চৌর্যবৃত্তি চলেছে তা এখন গবেষণার বিষয়। ম্যাশ জানিয়েছেন যে এই নকল লেখা প্রায় ডজনখানেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সুনিতা পাল আরাফাত রহমানের অসুস্থাবস্থা নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছেন, তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সম্পর্কে অনেক মন গড়া কথা বলেছেন, জেনারেল মইনকে ছেড়ে কথা বলেননি এবং হাসিনা পূত্র জয়ের বিরুদ্ধে কোনরুপ প্রমাণ না দেখিয়ে মনগড়া সব অভিযোগ করে যাচ্ছেন

তার লেখায় রয়েছে সেনাবাহিনীকে উসকে দেয়া যাতে তারা সাম্প্রতিক সরকারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট করা ও কাল্পনিক সব গল্প বানানো তার বৈশিষ্ট।

সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই (২৯ ডিসেম্বর ২০০৮) তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পেছনে লাগেন এবং এখনও তার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

একটি বিষয় নিশ্চিত যে তার সব কর্মকান্ড প্রমাণ করে যে সে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা ও শান্তির বিপক্ষে।

একজন বোবা কালা মহিলার পক্ষে এতটুকু করা মনে হয়না সম্ভব। কাজেই তিনি সত্যিকারের হলেও তার নাম ভাঙ্গিয়ে একটি মহল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে আর তাকে তুলে ধরছে বাংলাদেশের এক শ্রেণীর ট্যাবলয়েড পত্রিকা। সাধু সাবধান।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩২
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালিশ সমাচার (বালিশাতঙ্ক=বালিশ+আতংক) ;) B-) :P :P

লিখেছেন আমিই মিসিরআলি, ২৫ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৪:০৪



২০১৪তে আমার প্রথম পোষ্ট !
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা !! :) :)
শুভ সূচনা ২০১৪ !:#P !:#P !:#P !:#P

বালিশ বস্তুটির স্থান বিছানায় হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে যে ১০০ টি চিত্রকর্ম আপনাকে দেখতে হবে (চার)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে মে, ২০১৫ রাত ১২:২৩

জীবদ্দশায় কদর খুব কম শিল্পীই পেয়ে থাকেন৷ বিখ্যাত অনেক শিল্পী বিশ্ব জুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন মৃত্যুর পর৷ আমার একটা ডায়েরী আছে। দুই'শ সাদা পৃষ্ঠা দিয়ে দোকান ঠেকে বাঁধাই করেছি। একসময় আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি মশার জ্বালায় অস্থির? আসুন, খুব সহজেই ঘরে বসেই মশার ঔষধ বানাই।

লিখেছেন দিশেহারা আমি, ২৫ শে মে, ২০১৫ রাত ১:২৮


মশা নিধনের জন্য বিনামূল্যে এর চেয়ে সহজ পদ্ধতি আর হতে পারে না।

যা যা দরকারঃ


পাকের ঘরে যান । এক মুঠো দারুচিনি খুজে নিন।


হাঁড়ির পানিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ষণের দর্শন

লিখেছেন হঠাৎ ধুমকেতু, ২৫ শে মে, ২০১৫ রাত ২:০৫

তখন ক্লাস এইট বা নাইনে পড়ি। যৌবনের কুঁড়ি মাত্র ফুটছে। পত্রিকায় মূল আকর্ষণ খেলার পাতা। কিন্তু পত্রিকার ভেতরের পাতায় ছাপা হওয়া কিছু খবর লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তাম। ছোট ছোট কলামে ছাপা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়ে হইল না শেষ"

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ২৫ শে মে, ২০১৫ সকাল ১০:৫৬


"যেতে নাহি দিব'। হায়,
তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।"... ...বাকিটুকু পড়ুন

হ্যালোইন নাইটি

লিখেছেন কান্ডারি অথর্ব, ২৫ শে মে, ২০১৫ দুপুর ২:০০




শুনেছ, পৃথিবীতে নাকী রোদের সময় এখন ফুরিয়ে এসেছে !
পিরামিডের ভেতর জেগে থেকে সহস্রাব্দের রজনী কেটে গেছে;
মৃত্যুর শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা ফসিলের গায়ের;
হ্যালোইন নাইটিটি তবু এখনও রঙিন।

মুঠো খুলে উঁকি দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন