অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী
আমি তোমাদেরই কোন একজন ।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার প্রিয় পোস্ট

টুকিটাকি ভাবনাগুলো

সেইসব বীরঙ্গণা এবং যুদ্ধশিশুর কথা

১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪০ |

শেয়ারঃ
0 0

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ছিল যেন এক মৃত্যুপুরী, শয়তানের লকলকে জিভে চাটা এক নড়ক। লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ২ লাখেরও বেশী নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়া হয়েছে।



সুজান ব্রাউন মিলার তার Against Our Will: Men, Women and Rape বইটিতে লিখেছেন যে ধর্ষণকৃত নারীদের সৌন্দর্য দেখে বাছা হত এমন নয়। আট বছর বয়সী মেয়েশিশু থেকে ৭৫ বছরের বুড়ী পর্যন্ত পাক বর্বর হায়েনা থেকে রেহাই পায়নি। কোন কোন নারীকে সারা রাত ধরে গণ ধর্ষণ করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কন্টিজেন্টের চীফ জে. একে নিয়াজী দম্ভ নিয়ে বলেছিলেন "আপনারা কি ভাবে আশা করেন একজন সৈন্য পূর্ব পাকিস্তানে থাকবে যুদ্ধ করবে আর মারা যাবে এবং সেক্স করবে ঝিলমে গিয়ে?" (ইস্ট পাকিস্তান, দ্য এন্ড গেম - ব্রীগেডিয়ার এ আর সিদ্দিক )। এসব সেনাদের হাতে নারীদের তুলে দিত রাজাকার আলবদরেরা।

যুদ্ধ শেষ হবার পরে এই সব ধর্ষিতা নারী এবং তাদের গর্ভের অগণিত যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু তাদের সম্মান দিয়ে বলেন তারা আমার মেয়ে। তাদের বীরঙ্গণা ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। কিন্তু তাদের অবস্থা ছিল অবর্ণনীয়। অনেকে সামাজিক গন্জনা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে।

এনবিসি নিউজ আর্কাইভে সেই সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট আছে।


আমেরিকা থেকে ডাক্তাররা আসে গর্ভপাত করাতে।



এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৫০০০০ থেকে ১৭০০০০ বীরঙ্গনাকে গর্ভপাত করানো হয়েছে সরকারী মাতৃসদনে ও সনাতনী দাই ইত্যাদি দ্বারা।

এর পরেও অনেক যুদ্ধশিশু জন্মেছে। মাদার তেরেসা ১৯৭২ সালে এসে বেশ কিছু শিশুকে দত্তকের মাধ্যমে কানাডা, ফ্রান্স, সুইডেন ইত্যাদি দেশে পাঠান। এর পেছনে সরকারী চাপও ছিল। বঙ্গবন্ধু নাকি বলেছিলেন পাকিস্তানী হায়েনাদের রক্ত আছে এমন শিশুদের আমরা দেশে থাকতে দেব না।

১৯৭২ সালের ২৯শে মে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে:

Bangladesh government, at instigation of US social workers, is setting up a legal machinery for international adoption of child victims of occupation and war, including unwanted offspring of women raped by Pakistani soldiers;

কত শিশু বাইরে গেছে এভাবে তার হিসেব নেই। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের দিকে এই যুদ্ধশিশুর ব্যাপারটি ধামাচাপা পড়ে যায়।

মাসুদা ভাট্টি ইউরোপে অবস্থানরত এক বীরঙ্গণার কথা লিখেছেন। সেটি পড়ে অনেক মন খারাপ হয়ে রয়েছে তাই এখানে কিয়দংশ তুলে দিচ্ছি :

কথা শুরু হয়েছিল ২৫শে মার্চের রাত নিয়ে, ২৬ মার্চের সকালে চলে গেলেন আনা।ট্রাকে করে আমাদের নিয়ে এলো ওরা। আমরা কয়েকজন, দু’একজন মুখ চেনা। কেউ কারো দিকে তাকাতে পারছিলাম না। কোথায় এলাম বুঝিনি, ঢাকার শহরতো ভালো করে চিনি না। একটা মেয়েকে দেখলাম হাতে করে কোরআন শরীফ নিয়ে এসেছে।থর থর করে কাঁপছে। কাঁদছে অঝোরে, শব্দহীন। আসলে আমরা সবাই কাঁদছিলাম, অথচ কেউই শব্দ করে নয়, আমরা মনে হয় শব্দ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।

তারপর যেখানে এলাম, সেখানে লাইন ধরে অনেকগুলো রুম।আমাদের একই রুমে রাখা হলো। তখন দুপুর হবে মনে হয়, তখন ওরা এলো, একের পর এক। কিছু বলার সুযোগ দেয়নি, একের পর এক, আমরা মাত্র ছয় কি সাতজন। আর ওরা সংখ্যায় কতো ছিল এখন আর মনে করতে পারি না, তবে চাইও না।

“জানেন, আমরা প্রতিদিন কোরআন পড়তাম। ওরা তাও মানতো না। ছুঁড়ে ফেলে দিতো। পরে শুনেছি যে, ওরা নাকি মসজিদে ঢুকেও মানুষ হত্যা করেছে। জানেন, আমার আর কোনও আনুষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি বিশ্বাস নেই। এরপর নিজেকে আমি ধর্ম থেকে সরিয়ে নিয়েছি”।

মাসুদা ভাট্টি লিখেছেন:

১৯৭১ সালে যেসব পাকিস্তানী সৈন্য বাংলাদেশে লুটতরাজ, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে তারা তো কেউই ধর্মে অবিশ্বাসী ছিল না, বরং তারা সকলেই ছিল ধর্মপ্রান মুসলিম। ১৯৭১ সালের নয়মাস ধরে চলা যুদ্ধে একটি মাস ছিল রমজান মাস। সেই মাসেও কিন্তু পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী ধর্ষণের মতো গর্হিত কাজ করেছে, কি করেনি? তখন কিন্তু ধর্ম তাদের এই অনাচার থেকে রুখতে পারেনি। তার মানে তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল যে, তারা যা করছে তা আসলে ইসলামকে রক্ষায়। সেদিক দিয়ে বিচার করতে গেলে, ১৯৭১ আসলে আর কিছুই নয়, ধর্মের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা আর নারী ধর্ষণের চূড়ান্ত উদাহরণ।

আনার মতো এরকম অনেক মেয়ে, একাত্তরে যাদেরকে পাকিস্তানীরা “গণিমতের মাল” হিসেবে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে, স্বাধীন দেশে আমরা তাদেরকে নিয়ে বিব্রত বোধ করেছি। আমি নিশ্চিত ১৯৭১ যদি তখন না হয়ে এই ২০০৯ সালেও হতো আর একই ঘটনার শিকার হতো বাঙালি নারী, আমাদের মানসিকতার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আমরা দেখতে পেতাম না। আনার মতো বাংলার শেফালি, রত্না, চম্পা বা অন্য যে কাউকেই এরকম বিদেশে এসে নাম পরিবর্তন করতে হতো, নয়তো দেশেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হতো।

এইসব বীরদের এবং এই সব যুদ্ধশিশুদের সম্পর্কে কি আমাদের সচেতন হওয়া উচিৎ না?

আরও পড়ুন:
* একাত্তরে নারীরা
* বীরঙ্গণার গল্প
*বীরঙ্গণাদের কষ্ট
* তারা বীর, বীরঙ্গণা নয়

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ওয়েবলগ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


১৮টি মন্তব্য

১. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৪

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: তাদের জন্য সমবেদনা

২. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৫

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: সংবাদপত্রের এই রিপোর্টটা আগে দেখিনি কখনো। ক্লিপটা দেখবো এখন। ফিরে দেখা একাত্তরে রাশেদেরও একটি সংকলিত লেখা আছে এই বিষয়ে। সেখানে "নারীর যুদ্ধ : যুদ্ধের নারীরা" অংশে আরো কয়েকটি ভালো লেখা আছে। ওইসবের লিংকও এ লেখায় তুলে রাখতে পারেন।

৩. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৮

রেজওয়ান বলেছেন: ও হ্যা সংবাদপত্রের লিন্কটি এখানে:

Click This Link

গুগল নিউজ আর্কাইভে এরকম আরও অনেক পুরোন রিপোর্ট সংরক্ষিত আছে।

৪. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:২২

ভেবে ভেবে বলি বলেছেন: এ এক সীমাহীন যন্ত্রণার নাম। এই যন্ত্রণার দাগ কোনোদিন ঘুচবে না। এই ভয়াবহ জ্বালা কোনোদিন নিভবে না। আমরা আর কিছু না পারি, এই মানুষগুলোকে যেন তাদের প্রাপ্য সম্মান টুকু দিতে পারি।

৫. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৩৮

মিছে মন্ডল বলেছেন: এরপরও রাজাকার ও পাকিস্তানিদের গালি দিলে দোষ হবে?

৬. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৩২

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: রেজওয়ান ভাই @
জেনোসাইড বাংলাদেশের বই-জার্নাল সেকশনে কিছু লিংক অকার্যকর হয়ে আছে। যেমন শাহরিয়ার কবির ও হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের লিংক দুটি। * এছাড়া Archer K Blood - The Cruel Birth of Bangladesh: Memoirs of an American Diplomat এবং Back in ‘ 71 US policy revisited - Imtiaz Ahmed (Himal South Asian May, 2006)

৭. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:৫৬

ফারহান দাউদ বলেছেন: কি আর বলবো? আমরা আর কিছু না পারি, এই মানুষগুলোকে যেন তাদের প্রাপ্য সম্মান টুকু দিতে পারি।

৮. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:১২

বিডি আইডল বলেছেন: প্লাস সহ প্রিয়তে...ব্লগে এই নিয়ে একটা বেশ ভালো লেখা এসছিল এর আগে...

৯. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

মাহবুব সুমন বলেছেন: স্বাধীনতা পরিবর্তি সময়ে এই মানুষগুলো জন্য বলারমতো কিছুই কি করা হয়েছিলো ?
বীরঙ্গণা উপাধী দিয়ে গাল ভরা বড় বড় কথা ও আশ্বাষ দিয়ে পরমুহুর্তে সেটা ভুলে যাওয়া আর তাদের নিয়ে ফিচার লেখা।

ক্লিপগুলো দেখেছি আগেই। নিজের কাছে নিজেকে ছোট লাগে এসব দেখলে, বড় বড় কথাতো বলি কিন্তউ কাজের কাজ কিছুই করি না :(

১০. ১২ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:১২

আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: মাসুদা ভাট্টির লেখাটা আগেই পড়েছিলাম।

নিজেই একটা পোষ্ট দিবো ভেবেছিলাম।যাহোক মুক্তিযু্দ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া এই নির্মমতার প্রতি ধীরগতিতে হলে আলো পড়ছে এইটাই আশার কথা।

১১. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:২৫

তনুজা বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ
যে নির্মম সত্য সামনে দাঁড়ালে স্বাধীন রাষ্ট্র ও নাগরিকের নীরবতা ক্ষমার অযোগ্য আত্মপ্রবঞ্চণা মনে হয়, সেটাকে মনে করালেন

১২. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:৩৯

সন্ন্যাসী কবি বলেছেন:

সে সব মা বোনদের জন্য সমবেদনা রইলো। জীবন যুদ্ধ না জানি তারা আরো
কত বন্চনার শিকার হয়েছে। একন পর্যন্ত যারা বেঁচে আছে। দেশের মানুষের উচিত শুধু প্রতিকী সম্মান নয় বাস্তব তাদের জন্য কিছু করা।

মাসুদা ভাট্টি এবং আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১৩. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৬:২২

কঁাকন বলেছেন: পাকিস্থানিদের রক্ত সেইসব শিশুদের আমরা আমাদের মাঝে স্থান দেইনাই অথচ তাদের দোসরদের গাড়িতে আমাদের পতাকা উড়াইছি আমাদের অক্ষমতা ক্ষমার অযোগ্য

ভালো থাকুন

১৪. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৫৩

মেঘবালক অর্ভনীড় বলেছেন: অসাধারণ এক লেখনি

১৫. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:০৬

রেজওয়ান শুভ বলেছেন: কি বলবো ভাই ... বলার কিছু নাই !!!!!

১৬. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৬

গোলন্দাজ বলেছেন: মিছে মন্ডল বলেছেন: এরপরও রাজাকার ও পাকিস্তানিদের গালি দিলে দোষ হবে?

১৭. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১১

স্বপ্নকথক বলেছেন: ধিক শতো ধিক

১৮. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৮

বাংলার হিরু বলেছেন: যোদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই

 

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন