পুনরায় রৌদ্রহীন রৌদ্রে আমি, পথহীন পথে

প্রসংগ- হিন্দু ধর্ম

১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:২৪

শেয়ারঃ
0 0 0

‘হিন্দু ধর্ম’ নামে যেটা এখন প্রচলিত সেটার নাম আসলে ‘সনাতন ধর্ম’ বা ‘সনাতন আচার অনুষ্ঠান’ যেটা মূলত আর্যরা তাদের সাথে নিয়ে এসেছিল। লক্ষ্য করলে দেখবেন, গ্রীকদের অনেক দেব-দেবীর সাথে হিন্দু ধর্মের দেব-দেবীর মিল রয়েছে। গ্রীকদের প্রধান দেবতা ‘জিউস’ আর আর ‘ব্রক্ষা’র ভূমিকাও মূলত এক। আজ থেকে তিন-চার হাজার বছর আগে ভূ-মধ্যসাগরীয় এলাকার লোকজনের স্রষ্টা সম্পর্কে এরকম দেব-দেবী কেন্দ্রিক ধারণাই ছিল, আর্যদের মাধ্যমে যেটা উপমহাদেশে প্রবেশ করে।

‘হিন্দু’ শব্দটা এসেছে Indus বা সিন্ধু নদ থেকে- অর্থাৎ সিন্ধু নদ অববাহিকার লোকজন যে ধর্ম পালন করে তা বোঝাতেই ‘হিন্দু ধর্ম’ শব্দের উৎপত্তি। ভারতবর্ষ একটি বিশাল ভূ-খন্ড। আজ থেকে তিন-চার হাজার বছর আগে যে আচার-অনুষ্ঠান উপমহাদেশে এসেছিল কালের বিবর্তনে, বিভিন্ন মুনি-ঋষি এবং সেই সাথে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের প্রভাবে তা এক এক এলাকায় এক এক রকম রূপ লাভ করেছে। বাঙ্গালী হিন্দুর প্রধান উৎসব দূর্গা পূজা কিন্তু উত্তর ভারতে বা অন্যান্য জায়গায় পালন করা হয় না। সেখানে প্রধান উৎসব হল গণেশ পূজা। কিন্তু জিনিষটা একই- হিন্দু ধর্ম। অপরদিকে ব্রাক্ষ্য ধর্ম একেশ্বরবাদী এবং নিরাকার স্রষ্টায় বিশ্বাসী হলেও ব্রাক্ষ্যরা নিজেদের সংস্কারপন্থী হিন্দু ধর্মাবলম্বী মনে করে। এখানে পার্থক্যটা গড়ে উঠেছে মূলত ধর্মগ্রন্থকে কেন্দ্র করে যেটার উৎস উপনিষদ। এখানে ইসলামের সাথেও হিন্দু ধর্মের যোগসূত্র রয়েছে। বাংলাদেশের কবি গোলাম মোস্তফা উপনিষদ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করেছেন এবং তিনি দেখিয়েছেন উপনিষদে ‘আল্লাপনিষদ’ নামে একটি অংশ রয়েছে যেখানে সরাসরি আল্লাহর কথা বলা হয়েছে। বইটা এখনো পাওয়া যায়, নাম ভুলে গেছি- দেশে থাকতে অনেক আগে পড়েছিলাম। আপনারাও পড়ে নিতে পারেন।

মাহিরাহির পোস্টে কেউ একজন মন্তব্য করেছিলেন, যে ওরা নিরাকার স্রস্টাকেই বিভিন্ন রুপে উপাসনা করে। কথাটা ঠিকই। কারণটাও আরেকজন বলে দিয়েছেন নিরাকারের চাইতে সাকার রূপেই স্রষ্টাকে বেশী অনুভব করা যায়। কিন্তু এভাবেই আসলে পৌত্তলিকতার উৎপত্তি। মানুষ কিন্তু কখনোই এত বেকুব ছিল না যে নিজ হাতে মাটির তৈরী পুতুলের প্রাণ আছে বলে বিশ্বাস করত। বরং স্রষ্টার বিভিন্ন রুপ মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পনা করতে গিয়েই মূর্তিপূজার জন্ম হয়েছে। কিন্তু যেখানে স্রষ্টা নিজেই বলছেন (বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে) তিনি নিরাকার, সেখানে তাকে একটা কল্পিত রূপে উপাসনা করা, স্রষ্টাকেই অপমানিত করা, নয় কি?

যাই হোক সাকাররুপে নিরাকার স্রষ্টার উপাসনা হলেও, হিন্দু ধর্মে প্রধান যে সব দেব-দেবী এবং তাদের ভূমিকা রয়েছে তা নিম্নরূপ-

প্রচলিত ধর্মানুসারে তিনজন প্রধান দেবতা পৃথিবীকে শাসন করেন। এরা হলেন, ব্রক্ষা (creator), বিষ্ণু (preserver), শিব (destroyer)। তিন দেবতারই সঙ্গিনী বা দেবী রয়েছে। ব্রক্ষার সঙ্গিনী হলেন স্বরসতী (বিদ্যার দেবী), বিষ্ণুর সঙ্গিনী লক্ষী (বাণিজ্য দেবী) এবং শিবের সঙ্গিনী পার্বতী যাকে কালী বা দূর্গা নামেও পূজা করা হয়।

হিন্দু ধর্মে জাতিভেদ র‌যেছে এবং হিন্দু ধর্মানুযায়ী সব মানুষ সমান নয় (All men are not equal). এবং এটি একটি জাত ধর্ম অর্থাৎ আপনি জন্মের সময় যে অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন আপনার বর্ন পরিচয়ও তাই হবে অর্থাৎ ব্রাক্ষণের পুত্রই ব্রাক্ষণ হবে, শুদ্রের পূত্র কখনো ব্রাক্ষণ হবে না। সে জন্য অন্য ধর্মাবলম্বীরাও কখনো আগে হিন্দু হতে পারত না। বর্তমানে এ প্রথা সংস্কার করা হয়েছে, যদিও কনভার্টদেরকে নিম্ন বর্ণের হিন্দু হিসেবেই দেখা হয়। এ বিষয়ে একটা মজার ঘটনা মনে পড়ে গেল। বেশ আগের কথা, তবে আধুনিক সময়েরই। তখনো হিন্দু ধর্মে কনভার্ট নিষিদ্ধ ছিল। হিন্দু ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এক ঋষির কাছে ধর্ণা দিলেন, যে হিন্দু ধর্মে লোক সংখ্যা কমে আসছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের কনভার্টের সুযোগ দেয়া হোক। ঋষি প্রথমে রাজী ছিলেন না, অনেক গাই-গুই করে রাজি হলেন, কিন্তু ফতোয়া দিলেন, কনভার্টদের গোবর-জল খাইয়ে শুদ্ধ করতে হবে। আমার খুব জানার ইচ্ছা যারা কনভার্ট হন, তাদের আসলেই গোবর-জল খাওয়ানো হয় কি না।

জাতের প্রসঙ্গে বলছিলাম, এটার একটা স্তরবিন্যাস বা hierarchy আছে। এটা মূলত কর্মভিত্তিক। প্রথম বা উচু স্তরে আছে ব্রাক্ষনরা। এরা হচ্ছে পুরোহিত। পূজা-অর্চনা করে যেহেতু স্রষ্টার প্রত্যক্ষ সেবা করে, এদের অবস্থান তাই সবচেয়ে উচুতে। দ্বিতীয় স্তরে আছে- ক্ষত্রিয়-রা। এরা মূলত যোদ্ধা। প্রাচীণকালে এদের কাজ ছিল যুদ্ধ করে ব্রাক্ষণদের রক্ষা করা, যাতে পূজা-অর্চনায় কোন বিঘ্ন না হয়। এরপর ছিল বৈশ্য, শূদ্র- এরা কর্মজীবি মনে হয় তাঁতী, জেলে এই সব। এদের কাজ হল ব্রাক্ষন ও ক্ষত্রিয়দের সেবা করা- তার মাধ্যমেই এদের পূণ্য লাভ হত। এছাড়া পরবর্তীতে চাকুরীজিবী এক শ্রেণীর উদ্ভব হয়- এরা হল কায়স্থ। এর বাইরে আছে গোত্রহীন (casteless) নিম্নবর্ণের হিন্দু যাদের বলা হয় অস্পৃশ্য (untouchables)। মুসলমান বা বিধর্মীদেরকেও হিন্দু ধর্মে এ চোখে দেখা হয়। নিশ্চয়ই আগের যুগের গল্পে পড়েছেন, মুসলমানের বাসায় বর্ণ হিন্দু পা দিত না বা ছোঁয়া লাগাত না। যুগে যুগে বর্ন হিন্দুরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে এবং এখনো করছে (কিছুদিন আগেও বর্ণ হিন্দুদের অত্যাচারে, অনেক নিম্ন বর্ণের হিন্দু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছে)। মহাত্মা গান্ধী ভালবেসে অস্পৃশ্যদের ডাকতেন, ‘হরিজন’- অর্থাৎ 'যারা হরি বা স্রষ্টার লোক' এবং তিনিই প্রথম অস্পৃশ্যদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেন এবং আজীবন করে গেছেন।

আধুনিক ও উচচ-শিক্ষিত হিন্দুরা যদিও এখন এসব জাত-পাত মানেন না, কিন্তু মধ্যবিত্ত ও মধ্য-শিক্ষিত সমাজে এর প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। ’৪৭ এর দেশভাগের পর মূলত বর্নহিন্দুরাই ওপারে পাড়ি জমিয়েছিলেন। যারা এপারে রয়ে গিয়েছিলেন তারা ছিলেন মূলত নিম্ন বর্ণের হিন্দু। পশ্চিমবংগের হিন্দুরা শুনেছি এ জন্য বাংলাদেশী হিন্দুদের খাটো চোখে দেখেন। তবে বাংলাদেশী নিম্ন বর্ণের হিন্দুরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আখেরে লাভবান হয়েছেন। মুসলিম অধ্যুষিত সমাজে জাত-পাতের বালাই না থাকায় সামাজিক অবস্থানে তারা উপরে চলে আসতে পেরেছেন। পক্ষান্তরে, পশ্চিমবঙ্গে শুনেছি চাটুয্যে-বাড়ুয্যে-দের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ব্লগের পশ্চিমবঙ্গের বন্ধুরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় কিন্তু বাংলাদেশের মুসলমানদেরও লাভ হয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ফারসী-উর্দুর প্রভাবাধীন যে আশরাফ-আতরাফ দ্বন্দ্ব মুসলমানদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল তা পাকিস্তান আমলেও জিইয়ে ছিল। কিন্ত বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় এদেশে সেই দ্বন্দ্ব হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেছে। কাজেই, আসুন হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলি।

শেষ করছি, হিন্দু ধর্মের পুনর্জন্ম মতবাদ দিয়ে। সাধারণ বিশ্বাস হল, মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় তার কর্ম (deeds) দ্বারা, যেটাকে পশ্চিমে এখন ঢং করে karma বলা হয়। মানুষের দেহ ভস্ম হলেও আত্মার মৃত্যু হয় না। যে আত্মা এ জন্মে ভাল কাজ করে, পরের জন্মে সে আরো ভাল জীবন লাভ করে। যে আত্মা এ জন্মে পাপ করে, পাপের শাস্তিস্বরুপ পরের জন্মে নিম্ন শ্রেণীর জীবন লাভ করে এবং একের পর এক খারাপ জীবন নিয়ে সে জন্মাতেই থাকে। এটাকেই বলে জন্ম-চক্র (circle of rebirth). ভাল আত্মাগুলো এক সময় এই চক্র থেকে মুক্তিপায় যাকে বলে ‘মোক্ষলাভ’ এবং এটাই একজন ধার্মিক হিন্দুর জীবনের মূল উদ্দেশ্য। ‘মোক্ষ’ শব্দের অর্থ হল freedom.

(আমি পৃথিবীর সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। কাজেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোন ধর্মকে হেয় করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। যদি কেউ তা মনে করেন, তবে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত)

 

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৪:২৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৪২
শাইরি বলেছেন: তথ্যপূর্ণ লেখার জন্য ধন্যবাদ।

"হিন্দুদের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তেত্রিশ কোটি দেব-দেবী রয়েছেন।" - উৎস উল্লেখ করলে ভাল হয়।
২. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৪২
নেই মানুষ বলেছেন: good job. i expect a good n creative discussion on this post. hope everyone will erite their(would have been more if ther wer refrences)
৩. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৪৩
নেই মানুষ বলেছেন: hope evry1 will write their views , n share their knowledge on this topic to let us kno more. 5 (would hav been more if ther wer refrences)
৪. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৫২
নাসিম আহমেদ বলেছেন: ভাল হয়েছে। অনেক কিছু জানা গেল। আর একটু ভালোকরে দেখলে দেখাযাবে হিন্দু বা মুসলমানের সংখ্যা ক্রমে কমে আসছে। এখন একটা ধর্মের প্রতিই মানুষের ঝোঁক বেশী... capitalism...পুঁজি...নিজের পকেট ভর, নিজেকে নিয়ে ভাব!
৫. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:০৪
আশেক ইব্রাহীম বলেছেন: আর একটু ভালো করে দেখলে দেখা যাবে, ক্যাপিটালিজম এর উপর ভর করেই ধর্মের এত পসার। পুজির তো একটাই উদ্দেশ্য বরাবরই শ্রম শোষণ আর মুনাফা বাড়ানো আর সেটাকে আড়াল করার জন্য একটা মুখোশও দরকার.........
৬. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:১৪
সোনার বাংলা বলেছেন: অনেক সুন্দর লিখেছেন।
আশাকরি সবাই সুন্দর ভাবে আলোচনা করবে।
ধন্যবাদ>৫
৭. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:২৪
সোনার বাংলা বলেছেন: "হিন্দুদের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তেত্রিশ কোটি দেব-দেবী রয়েছেন।" - উৎস উল্লেখ করলে ভাল হয়।

সহমত@শাইরি।
৮. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৪:৪০
তানভীর বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্য এবং রেটিং এর জন্য।

শাইরি আপনি বলার পর উৎস খুঁজতে গিয়ে নতুন তথ্য জানলাম। 'তেত্রিশ কোটি' আসলে একটা symbolic expression। এখানে দেখুন
সবার কাছ থেকে আরো নতুন কিছু জানতে পারব- এ আশা করছি।
৯. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৫:১২
তানভীর বলেছেন: আগে মনে করা হত পৃথিবীতে তেত্রিশ কোটি বা ৩৩০ মিলিয়ন মানুষ ছিল এবং যেহেতু সবার আত্মার মধ্যেই স্রষ্টা বসবাস করেন, তাই 'তেত্রিশ কোটি দেবতা' এরকম একটা প্রবাদ গড়ে উঠেছিল। আমিও এটাকে আগে দেব-দেবীর মোট সংখ্যা মনে করতাম।
@শাইরি, সোনার বাংলা।
আমার লাইনটা তাই মুছে দিলাম। ধন্যবাদ।

১০. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৮:১২
অশ্রু বলেছেন: পশ্চিম বাঙ্গের দাদারা দুর্গাপুজা শুরু করেচে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর। আনন্দ উৎসব হিসেবে সেখানে তারা মজা করে তাদের বেইমানির
১২. ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:৪৩
তানভীর বলেছেন: ধন্যবাদ, আউটসাইডার।
১৭. ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ২:০৭
সাধারন বলেছেন: সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ে তো মীরজাফর গং দের ই
উৎসব করার কথা,হিন্দুরা আসলো কোথা থেকে?এরকম ভালো এবং তথ্যমূলক পোষ্টে কি ক্যাচাল না লাগাইলে হয়না?নাকি ক্যাচাল লাগানোটা মজ্জার ভেতর ঢুকে গেছে?@অশ্রু
১৮. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:২৬
ব্লগারু বলেছেন: আপনাদের (বাংলাদেশী) বাংলা ভাষা উচ্চারণ বরই বিশ্রী। বিশেষ করে "জোনাকি" বাবুর ভাষা ! আপনারা কী বাড়ী তে ও এভাবে কখা বলেন?? ভারতীয় বাঙালীরা বাংলাদেশী টি.ভি. চ্যানেল এ আপনাদের কখ্য ভাষা সুনে হাসে। আমার কান্না পায।
১৯. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৩:০৬
তানভীর বলেছেন: ব্লগারু বাবু, আমাদের কাছেও আপনাদের কথ্য ভাষা বড় বিশ্রী ঠেকে। মনে হয় মেকি। আমরা তো চাষা-ভূষা মানুষ। তাই চাষা-ভূষার ভাষায় কথা কই। আপনারা তো সব ব্রাক্ষণ, আমরা হলাম গিয়ে সবাই ছোট জাত, অজ্ঞাতকুলশীল। হে হে হে।
২০. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৩:২৫
রাগিব বলেছেন: তানভীর ভাই, এইসব কিপ্টে দাদাদের কতা হুইন্না কাজ নাই। ভারতে এরা সবচাইতে অবহেলিত, বাংলা ভাষাকে কমেডিয়ানদের ভাষায় পরিণত করেছে হিন্দিভাষীরা। জাতীয় সঙ্গীত যাগো বাংলা বলতে কষ্ট হয়, হেরা কইতাসে এই কতা!! মছকরা আরকি।
২১. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৩:৩৮
তানভীর বলেছেন: এইখানে আইছে অতিথি, কি আর করা। ওদের তো যাওয়ার-ও জায়গা নাই। বাঙ্গালীও পুরা হইতে পারে না, ভারতীয় হওনের লাইগগা; আবার ভারতীয় হইতে চাইলেও হিন্দিভাষীগুলা পাত্তা দেয় না। বড় দুষ্কে আছে ব্লগারুরা...আহ হা রে।
২২. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৪১
ব্লগারু বলেছেন: "তানভীর" বাবু কে উদ্দেশ্য করে বলছি... আপনার লেখা পরে দ্বীধাগ্রস্থ। আপনি আমাকে বিদ্রুপ করলেন, না কি নিজেদের করলেন বুঝতে পারলাম না।
তবে একটা কখা বলি- আপনাদের দূঃখ দেওযা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমার মনেহযেছিল বাংলা ভাষা বাংলাভাষার মত করে বল্লে সুনতে ভাল লাগে, তাই ব্লগ টি করেছিলাম।
আমার আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ আছে - দয়াকরে কথায কথায "উচুজাত নিছুজাত" টানবেন না। আমাদের পরিচয আমরা মানুষ, তারপর বাঙালী, হিন্দু বা মুসলিম নয।
২৩. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৪৯
রাগিব বলেছেন: কত্তা, আমগো বাশা বাংলা না, এইডা কিতা কইতাসেন? আন্নের বাশাই বাংলা, কেডায় কইলো, কোন হান থাইক্কা আইসসা লিক্ষা দিসে আফনেরে? আন্নেগো বাশা হুইনা আমরা হাছাহাছি করি, এইডা কি আফনে ঝান্তেন না?

জমিদারবাবুগো দিন শ্যাশ। বাশা না পোশাইলে অন্য রাস্তা দ্যাহেন। বাংলা বাশায় কতা কইতে তো আবার ভারতে মানা আছে, জাতীয় সঙ্গীদডারেও ইন্দি বানাইয়া ফেলতে হইসে, তয় আফনে আবার বাঙ্গালী বলেন কুন ছুতায়? তামসা।
২৪. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:৫৮
যীশূ বলেছেন: তানভীর, ভালো লিখেছেন। মোটামুটি এই বিষয়গুলো আমিও জানতাম। তবু একসাথে এমন চমৎকার উপস্থাপনটা ভালো হয়েছে।

ব্লগারু, আপনি কোন উচ্চারনের কথা বলছেন? হ্যাঁ, কিছু অনুষ্ঠানে কিছু ইদানীং কালের উপস্থাপক বাংলাটা খানিকটা ইংরেজীর মতো করে উচ্চারণ করে। সেগুলো শুনে আমাদের এ বাংলারও অনেকের কান্না পায়।
২৫. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৩৯
ব্লগারু বলেছেন: "পথিক" বাবু কে উদ্দেশ্য করে বলছি... আপনার লেখা পরে অনেক নথ্য নতুন করে যানতে পারলাম। ধর্মগত ভাবে আমি হিন্দু ব্রাক্ষণ। এই ২৪ বছরের জীবনে আমার মা বাবা কে হিন্দু, মুসলিম ভেদ করতে দেখিনি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ও খুবই উন্মুক্ত প্রকৃতির মানুষ। আমার আনেক মুসলিম বন্ধু আছে। ওরা আমার বাড়ীতে আসে, মা আনেক দিন "আপনাদের দেশের ইলিশ" রেধে ওদের খাইযেছে। আমরা এক সাথে দূগাঠাকুর দেখতে যাই।
আপনি ঠিকই বলেছেন - হিন্দু ধর্মে জাতিভেদ র‌যেছে।
জাতিভেদ ছারাও আনেক প্রথা র‌যেছে যা মানা যায় না। তবে আমার মনেহয় ভাল জিনিস গুলোকে গ্রহন কে খারাপ গুলোকে ত্যাগ করা উচিত।
আপনি যদি হিন্দু ধর্ম সম্বন্ধে যানতে চান তাহলে "গীতা" পরুন। আপনার অনেক ভুল ধারনা দুর হবে।
ওহ! হ্যা ! একটা কথা বলতে ভুলেই গেলাম!
হিন্দু ধর্মও কিন্তু এক ঈশ্বরবাদ এ বিশ্বসি। আপনারা মনে করেন হিন্দু ধর্মে "তেত্রিশ কোটি দেব-দেবী" রযেছে। কথাটা আংশিক ভাবে ভুল। "গীতা" মতে হিন্দু ধর্মে ভগবান একজন। তিনি হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। আর বাকীরা হলেন দেবতা। বাকিদের মদ্ধে ব্রক্ষা, বিষ্ণু, শিব ও রযেছে। দেবতারা আমাদের মতই মায়া, মোহ, কাম দ্বারা প্রভাবিত। দেতারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কছুই করতে পারে না।
২৭. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৭
তানভীর বলেছেন: ব্লগারু, আপনারে বামুন কইলাম, নিজে ছোট জাত হইলাম- তাও আপনের পছন্দ হইলো না! বাংলাদেশে আমরা সবাই মানুষকে মানুষ-ই মনে করি, আপনারা কেউ কেউ জাত-পাত মানেন, তাই একটু টিটকারী করি আর কি।

ব্লগারু বাবু, আপনার 'ইলিশ দিন, ত্রাণ নিন' পোস্টটা খুবই অরুচিকর। ওটা পড়লে যে কেউ মনে করবে, আপনি আমাদের 'দুঃখ দিতেই এখানে এসেছেন'। বাংলাদেশ আপনাদের পশ্চিমবংগ নয় যে আমাদের ভারতের ত্রাণের দরকার হবে।

হিন্দু ধর্মের একেশ্বরবাদিতার কথা পোস্টে উল্লেখ আছে। বোধহয় খেয়াল করেন নি। যেটা আপনি হিন্দু হয়েও জানেন না তা হল, দেবতা-রা আসলে এক স্রষ্টারই ভিন্ন ভিন্ন রূপ। এখানে দেখুন
তেত্রিশ কোটি দেব-দেবী সম্পর্কেও মন্তব্যে বলা হয়েছে যে এটা আসলে একটা symbolic expression.
২৮. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৮
ব্লগারু বলেছেন: তানভীর বাবু, আপনি বোধহয় খেয়াল করেন নি - আমি হিন্দু ধর্ম নিযে যা লিখেছি তা "ভাগবত গীতা" এর উপর ভিিও করে। আপনি বোধহয় যানেন "ভাগবত গীতা" হিন্দু ধর্মগ্রন্থ। আপনি হিন্দু না হয়েও, হিন্দু ধর্মের প্রতি যে আগ্রহ ও শ্রদ্ধা প্রদশন করেছেন সেটা নিশ্চই প্রশংসার দাবী রাখে।।
২৯. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩৩
ব্লগারু বলেছেন: "আমাদের ইলিশ দিন ত্রাণ নিন" পোস্ট টির জন্যে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃক্ষীত। পোস্ট টি ডিলিট করে দিয়েছি।
৩০. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৪৭
তানভীর বলেছেন: ব্লগারু, সামহোয়ার ইনে স্বাগতম। আমাদের ভাষা, আমাদের দেশ- আমাদের কাছে অনেক প্রিয়। এগুলো নিয়ে কটাক্ষ না করে ব্লগে আপনার স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনী, কিংবা আপনার দেশের সাথে আমাদের দেশের সম্প্রীতি কি করে আরো বাড়ানো যেতে পারে ইত্যাদি তুলে ধরুন। সবাই তখন আপনার পাশেই থাকবে। ইলিশ পোস্ট নিয়ে আপনার দুঃখ প্রকাশের জন্য মন্তব্য থেকে আমি পোস্ট-টা মুছে দিলাম।
৩১. ২০ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ২:০৭
খারেজি বলেছেন: তানভীর, অল্প কয়েকটা কথা বলা দরকার। তা না হলে ভুল বোঝাবুঝি হবে।
আল্লাপনিষদ অনেক পরবর্তীকালের রচনা। প্রাচীন উপনিষদগুলোতে আল্লাহর উল্লেখ নেই। প্রাচীন বেদগুলোতেও নয়। রেফারেন্স হিসেবে গোলাম মোস্তফাকে ব্যবহার করা বিবেচকের কাজ হবে না।

আকার-নিরাকারের দ্বন্দ্ব থেকে ইসলামও পূর্ণ মুক্ত নয়। ইমাম হাম্বল মনে করেন আল্লাহকে বান্দারা দেখতে পাবে... তার আকৃতি আছে।

শিয়া মুসলমানরা অবশ্য অধিকাংশই মনে করেন তিনি নিরাকার।

মুতাজিলিরা মনে করেন তিনি নিরাকার।

আবু হানীফা মধ্যপন্থী।



আর গ্রিক প্রাচীন ধর্মগুলোর সাথে হিন্দু ধর্মের মিল এটুকুই যে উভয়েই মানুষের আদিম কল্পনার ফলাফল। তাই সাদৃশ্য।


প্রাচীন ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস অবশ্য দেখিয়েছেন অধিকাংশ গ্রিক দেবতা মিশরীয় ঐতিহ্য থেকে এসেছে।


আর একেশ্বর এর ধারণার আগেই পৌত্তলিকতার জন্ম।

একেশ্বর এর ধারণার জন্য যে অ্যাবসট্রাকসন এর মানসিক ক্ষমতার প্রয়োজন হয়, সভ্যতায় তার বিকাশ অনেক, অ-নে-ক পরে। প্রায় সকল ধর্মেই শেষ পর্যায়ে একজন চূড়ান্ত ঈশ্বরের জন্ম হয়েছ।

সাদৃশ্য নিয়েই যদি ভাবতে চান, (ই)ব্রা হি ম এর সাথে ব্র হ মা নাম এর সাদৃশ্য নিয়ে ভাবুন। উভয় মিথ এর জন্ম মেসোপটেমিয়ায়।
৩২. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৭
ম্দু বলেছেন: হিন্দু ধর্মে জাতিভেদ র‌যেছে এবং হিন্দু ধর্মানুযায়ী সব মানুষ সমান নয় (All men are not equal). এবং এটি একটি জাত ধর্ম অর্থাৎ আপনি জন্মের সময় যে অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন আপনার বর্ন পরিচয়ও তাই হবে ""

জাতের প্রসঙ্গে বলছিলাম, এটার একটা স্তরবিন্যাস বা hierarchy আছে। ""এটা মূলত কর্মভিত্তিক"""?????




confused????
৩৩. ১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৮
ম্দু বলেছেন: গীতা" পরুন। আপনার অনেক ভুল ধারনা দুর হবে।
৩৬. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৪৫
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: হিন্দু ধর্ম আচার সর্বস্বতা ছাড়া কিছু নয়।।
এর মধ্যে মানবিকতার চেয়ে বড় হয়ে উঠে প্রথা।

আর
তানভীর শব্দটা ব্রাক্ষ্য হবেনা। হবে ব্রাহ্ম। (হ+ম)
৩৭. ০৫ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:৩৭
নষ্ট কবি বলেছেন: গীতা" পরুন। আপনার অনেক ভুল ধারনা দুর হবে

 

মোট সময় লেগেছে ১.১০৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ফুরায় বেলা, ফুরায় খেলা, সন্ধ্যা হয়ে আসে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই