somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকতা, মানবতা, মানবাধিকার এবং ধর্ম।

১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাস্তিকরা মানবতা এবং মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করে। তারা বলে নাস্তিকতা যদি ধর্ম হয় তবে সে ধর্মের নাম মানবিকতা। এই মানবাধিকার জিনিসটা কোথা থেকে আসল? নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছ থেকে নয় কারণ তারাতো আল্লাহকে বিশ্বাস করেনা। তাহলে কি কোন দেশের সংবিধান থেকে এসেছে? কিন্তু সংবিধান তো মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে, প্রণয়ন তো করেনা। আচ্ছা ঠিক আছে তাদের সুবিধার্থে ধরে নিলাম যে মানুষ জন্মসূত্রে মানবাধিকার নিয়ে জন্মলাভ করে। তাহলেওতো প্রশ্ন থেকে যায়। কে ঠিক করে দেয় যে কোনগুলো মানবাধিকার? সরকার বা শাষক? সরকার যদি মানবাধিকার প্রণয়ন করতে পারে তাহলেতো সেটা তুলেও নিতে পারে। এভাবেতো এটাও বলা যায় হিটলার, মুসোলিনি কেউই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি, কারন যেখানে তারা তা প্রণয়নই করেনি সেখানে তা লঙ্ঘন করার প্রশ্ন উঠে কিভাবে?

তাহলে কিভাবে আসল মানবাধিকার? প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার শব্দটিইতো বিংশ শতাব্দীর আগে তেমন কোথাও ব্যাবহার করা হতনা। এখন নাস্তিকরা বলবেন যে মানবাধিকার ঠিক করে সমাজ বা জনগণ। যেমন, জনগণের বিদ্রোহে ১৬৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা পায় ইংলিশ 'বিল অফ রাইটস'। ১৭৮৮ সালের ফরাসী বিপ্লবের পর ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠা পায় মানবাধিকার আইন। এভাবেই ১৯৪৮ সালে আমেরিকা ঘোষোনা করে বৈশ্বিক মানবাধিকার এর কথা। তার মানে হচ্ছে মানবাধিকার আসে মানুষের ঠিক-বেঠিক নির্ণয় করার মোড়াল, আদর্শ বা নীতিবোধ থেকে।

আচ্ছা মেনে নিলাম। কিন্তু এসব মানবাধিকারের ব্যাপারেতো ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে প্রবল সমর্থন পাওয়া যায়। তাহলে মানবাধিকার সম্পর্কিত ধারণা ধর্মগ্রন্থ থেকে আসেনি সে কথাওতো ঠিকনা। আবার, মানবিক নাস্তিক ধর্ম প্রচলিত ধর্মগুলোর চাইতে শ্রেয় সে কথাই বা কিভাবে বলা যাবে? কারন যেখানে অধিকার এবং বিশেষত সমাধিকারের কথা বলা হচ্ছে সেখানে শুধু মানবের অধিকার নিয়ে কেন পক্ষপাতিত্ব থাকবে, কেন পশু পাখিও মানুষের সমান সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? মানুষের মত পশুপাখিওতো প্রকৃতিরই সৃষ্টি। আপনারা যদি পশু অধিকার আইনের কথা বলেন সেখানেতো পশুদেরকে মানুষের সমান অধিকার দিতে দেখিনা। তাহলে কি একথা বলা যায় যে বিবর্তনের আশীর্বাদে মানুষ পশু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হবার কারনে মানুষ বেশী অধিকারের দাবিদার? এ কথা মেনে নিলেতো মানবিকতা ধর্মের মধ্যেই আর সুবিচার খুঁজে পাওয়া যায়না। কারন মানুষ যেমন পশু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ঠিক তেমনি একজন মানুষ আরেকজন মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, সব মানুষ সমান নয়। মেধা, যোগ্যতা, শক্তি এবং সাহস এর বিচারে মানুষের নিজেদের মাঝে বিস্তর ব্যাবধান বিদ্যমান। তাহলে যোগ্য এবং শক্তিশালী মানুষরাতো আরেকটু বেশি অধিকারের ন্যায্য দাবিদার। মানবিকতার ধর্মতো তাহলে অমানবিক এবং পাশবিক এর মাঝামাঝি কিছু হয়ে গেল। ধর্মগ্রন্থগুলোর অবস্থানতো এব্যাপারে পরিষ্কার, মানুষ সৃষ্টির সেরা এবং বাকি সব সৃষ্টি মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। নাস্তিকতার ধর্ম এব্যাপারে কি বলে?

শুধুমাত্র মানবাধিকারই কি পারে পৃথিবী থেকে সকল দন্দ্ব, সঙ্ঘাত, দরিদ্রতা, অবিচার মুছে ফেলতে? এ বিষয়ে কথা বলার সময় বিভিন্ন সরকার, রাস্ট্র এবং ব্যাক্তির মতামতে কেন এত পার্থক্য থাকে? কিভাবে সবাই একটা ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারবে?

ধর্ম বিরোধিতা করতে গিয়ে নাস্তিকরা একটা রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড বা যার সাথে অন্য সাধারণ কিছুর তুলনা করা যায় এমন আদর্শ একটা ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কথা বলে। যেমন, আস্তিকরা যখন বলে এই মহাবিশ্ব, তারকারাজী, গ্রহ নক্ষত্র সবকিছু কত সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করছে যা স্রস্টার অস্তিত্বের প্রমাণ, তখন নাস্তিকরা বলে মহাবিশ্ব যে সুশৃঙ্খল তার রেফারেন্স কি, এই শৃঙ্খলতা হয়তো বিগ ব্যাং এর পর খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। তাহলেতো নাস্তিকদের যুক্তি দিয়ে একথাও জিজ্ঞেস যায় যে যেগুলোকে আমরা মানবাধিকার, নীতিবোধ ইত্যাদি বলে চিনি সেগুলোর রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড কি? মানুষের চিন্তা ভাবনা, ধ্যান ধারণাতো খুবই আপেক্ষিক একটা বিষয়। পারিপার্শ্বিকতার বিভিন্নতাভেদে এসবই পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন ১০/২০ বছর আগে সতিত্ব হারাবার চেয়ে বাংলার প্রায় সব মেয়েরা জীবনও দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু এখন সে রকম মেয়ের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, আবার পশ্চিমা দেশগুলোতে সতিত্বের ধারণাই মেয়েদের মাঝে নেই। এসব ব্যাপার বুঝতে হলে এপিজিনেটিক্স বিষয়টি জানতে হবে আর আমি এটির মত জটিল একটি বিষয়ে এখন পাঠককে টানতে চাচ্ছিনা। মূল কথায় ফিরে যাই। একজন সন্যাসী মানবাধিকার ব্যাপারটা যেভাবে দেখে একজন খুনী কিন্তু সেটা সেভাবে দেখেনা। সিজোফ্রেনিয়া নামে একটা মানসিক রোগ আছে যার রোগীরা অসামাজিক হয়ে যায়, উলটা পালটা জিনিস দেখে-শুনে(হেলুসিনেশন) এবং নিজেদের ছাড়া বাকি সবাইকে পাগল মনে করে, যেখানে আমরা বলি ওই রোগীরাই পাগল। এখন পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ যদি সিজোফ্রেনিক হয়ে যেত তাহলে কে নির্ধারণ করত কোন পক্ষ পাগল? এই রোগটা হয় খুব সামান্য একটা কারনে, মস্তিস্কে ডোপামিন নামের এক তরলের কম বা বেশী মাত্রার ক্ষরণে। তাহলে দেখুন কত সামান্য কারনে মানুষের চিন্তা চেতনা পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে সেখানে মানবিকতা, নীতিবোধ এসবযে ভাল তার রেফারেন্স আপনি কোথা থেকে পাবেন? নাস্তিকরা কিন্তু সিজোফ্রেনিকদের মত সংখ্যালঘু, এমন কি হতে পারেনা যে তারা আস্তিকতাকে অনুপযোগী বলে মনে করে অথচ তাদের নিজেদের মতবাদই অনুপযোগী?

মানুষ এবং মহাবিশ্ব সৃষ্টির পেছনে অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছেন আর তার সৃষ্টির সুশৃঙ্খলতা প্রমাণ করতে কোন রেফারেন্স লাগেনা। কারন, সামান্য ডোপামিনের ক্ষরণ সামান্য এদিক সেদিক হলে যেমন মানুষ পাগল হয়ে যায় তেমনি গ্রহ নক্ষত্রের সামান্য বিচ্যুতিও মহাবিশ্বে বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। তাহলে কে ঠিক করে দিল এই সঠিক মাত্রা যা যুগ যুগ ধরে এই সঠিক পর্যায়ে বজায় থাকছে? মানবাধিকারের ধারণা সর্বপ্রথম ধর্মগ্রন্থগুলো থেকেই পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন দেশের সংবিধানে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলতে গিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্বের কথাই বলা হয়েছে। আলোচনা শেষ করছি যুক্ত্রাস্ট্রের ফাউন্ডিং ডকুমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়েঃ

We hold these Truths to be self-evident, that all men are created equal, that they are endowed by their Creator with certain unalienable Rights, that among these are Life, Liberty and the Pursuit of Happiness. That to secure these rights, Governments are instituted among men.
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৪৩
১০৪টি মন্তব্য ৪৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×